এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

মিরাজের প্রথম পর্যায়

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মিরাজের ধারাবাহিক বর্ননা
  • মিরাজের প্রথম পর্যায়

মিরাজ

  • মিরাজের ধারাবাহিক বর্ননা

রজব চাদের ২৭ তারিখ সোমবার পূর্ব রাত্রের শেষাংশে নবী করিম (দঃ) বায়তুল্লায় অবস্থিত বিবি উম্মেহানী (রাঃ) এর ঘরে অবস্থান করছিলেন । বিবি উম্মেহানী (রাঃ) ছিলেন আবু তালেবের কন্যা এবং নবী করিম (দঃ) এর দুধবোন । উক্ত গৃহটি ছিল বর্তমান হেরেম শরীফের ভিতরে পশ্চিম দিকে । হযরত জিবরাইল (আঃ) ঘরের ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে নূরের পাখা দিয়ে, অন্য রেওয়ায়েত মোতাবেক-গণ্ডদেশ দিয়ে নবী করিম (দঃ) এর কদম মোবারকের তালুতে স্পর্শ করতেই হুযুরের তন্দ্রা টুটে যায় । জিবরাইল (আঃ) আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে দাওয়াত জানালেন এবং নবীজীকে যমযমের কাছে নিয়ে গেলেন । সিনা মোবারক বিদীর্ন করে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করে নূর এবং হেকমত দিয়ে পরিপূর্ন করলেন । এভাবে মহাশূন্যে ভ্রমণের প্রস্ততিপর্ব শেষ করলেন ।

নিকটেই বোরাক দণ্ডায়মান ছিল । বোরাকের আকৃতি ছিল অদ্ভুত ধরনের । গাধার চেয়ে উঁচু, খচ্চরের চেয়ে নীচু, মুখমন্ডল মানুষের চেহারাসদৃশ, পা উটের পায়ের মত এবং পিঠের কেশর ঘোড়ার মত (রুহুল বয়ান-সুরা ইসরা) । মূলতঃ বোরাক ছিল বেহেস্তী বাহন- যার গতি ছিল দৃষ্টি সীমান্তে মাত্র এক কদম । নবী করিম (দঃ) বোরাকে সওয়ার হওয়ার চেষ্টা করতেই বোরাক নড়াচড়া শুরু করলো । জিব্রাইল (আঃ) বললেন- "তোমার পিঠে সৃষ্টির সেরা মহামানব সওয়ার হচ্ছেন- সুতরাং তুমি স্থির হয়ে যাও "। বোরাক বলল, কাল হাশরের দিনে নবী করিম (দঃ) আমার জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে শাফাআত করবেন বলে ওয়াদ করলে আমি স্থির হবো । নবী করিম (দঃ) ওয়াদা করলেন । বোরাক স্থির হলো । তিনি বোরাকে সওয়ার হলেন । জিব্রাইল (আঃ) সামনে লাগাম ধরে, মিকাইল (আঃ) রিকাব ধরে এবং ইস্রাফিল (আঃ) পিছনে পিছনে আগ্রসর হলেন । পিছনে সত্তর হাজার ফেরেস্তার মিছিল । এ যেন দুলহার সাথে বরযাত্রী । প্রকৃতপক্ষে নবী করিম (দঃ) ছিলেন আরশের দুলহা (তাফসীরে রুহুল বয়ান) ।

মক্কা শরীফ থেকে রওনা দিয়ে পথিমধ্যে মদিনার রওযা মোবারকের স্থানে গিয়ে বোরাক থামল । জিবরাইলের ইশারায় তথায় তিনি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন । এভাবে ইছা (আঃ) এর জন্মস্থান বাইতুল লাহাম এবং মাদ্‌ইয়ান নামক স্থানে শুয়াইব (আঃ) এর গৃহের কাছে বোরাক থেকে নেমে নবী করিম (দঃ) দু’রাকাত করে নামায আদায় করলেন । এজন্যই বরকতময় স্থানে নামায আদায় করা ছুন্নত । এই শিক্ষাই এখানে রয়েছে । নবী করিম (দঃ) এরশাদ করনে, আমি বোরাক থেকে দেখতে পেলাম- হযরত মুছা (আঃ) তাঁর মাযারে (জর্দানে) দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন ।

অতঃপর জিবরাইল (আঃ) বায়তুল মোকাদ্দাছ মসজিদের সামনে বোরাক থামালেন । সমস্ত নবীগণ পূর্ব হতেই সেখানে স্বশরীরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন । জিবরাইল (আঃ) বোরাককে রশি দিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাছে ছাখ্‌রা নামক পবিত্র পাথরের সাথে বাঁধলেন এবং আযান দিলেন । সমস্ত নবীগণ (আঃ) নামাযের জন্য দাঁড়ালেন । হযরত জিবরাইল (আঃ) নবী করিম (দঃ) কে মোসল্লাতে দাঁড় করিয়ে ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করলেন । হুযুর (দঃ) সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম ও সত্তর হাজার ফেরেশতাকে নিয়ে দু’রাকাত নামায আদায় করলেন ।

তখনো কিন্তু নামায ফরজ হয়নি । প্রশ্ন জাগে- নামাযের আদেশ নাযিল হওয়ার পূর্বে হুযুর (দঃ) কিভাবে ইমামতি করলেন ? বুঝা গেল- তিনি নামাযের নিয়ম কানুন পূর্বেই জানতেন । নামাযের তা’লীম তিনি পূর্বেই পেয়েছিলেন; তানযীল বা নাযিল হয়েছে পরে । আজকে প্রমাণিত হলো- নবী করিম (দঃ) হলেন ইমামুল মোরছালিন ও নবীউল আম্বিয়া (আঃ) । নামায শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় নবীগণ নিজেদের পরিচয় দিয়ে বক্তব্য পেশ করলেন । সর্বশেষ সভাপতি (মীর মজলিস) হিসাবে ভাষণ রাখলেন নবী করিম (দঃ) । তাঁর ভাষণে আল্লাহ্‌ তাআলার প্রশংসা করে তিনি বললেন- “আল্লাহ্‌ পাক আমাকে আদম সন্তানগণের মধ্যে সর্দার, আখেরি নবী ও রাহ্‌মাতুল্লিল আলামীন বানিয়ে প্রেরণ করেছন”

দ্রষ্টব্যঃ

এখানে একটি আকীদার প্রশ্ন জড়িত আছে । তা হলো- আম্বিয়ায়ে কেরামগণের মধ্যে চারজন ব্যতীত আর সকলেই ইতিপূর্বে ইন্তিকাল করেছেন এবং তাঁদের রওযা মোবারকও বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত । যে চারজন নবী জীবিত, তারা হচ্ছেন- হযরত ইদ্রিস (আঃ) বেহেস্তে, হযরত ইছা (আঃ) আকাশে, হযরত খিজির (আঃ) জলভাগের দায়িত্বে এবং হযরত ইলিয়াছ (আঃ) স্থলভাগের দায়িত্বে । জীবিত ও ইন্তিকালপ্রাপ্ত সকল আম্বিয়ায়ে কেরাম (আঃ) বিভিন্ন স্থান থেকে মুহুর্তের মধ্যে কিভাবে স্বশরীরে বায়তুল মোকাদ্দাছে উপস্থিত হলেন ?

তাফসীরে রুহুল বয়ানে এ প্রশ্নের উত্তর এভাবে দেয়া হয়েছে- “জীবিত চারজন নবীকে আল্লাহ্‌ তা’আলা স্বশরীরে এবং ইন্তিকাল প্রাপ্ত আম্বিয়ায়ে কেরামগনকে মেছালী শরীরে বায়তুল মোকাদ্দাছে উপস্থিত করেছিলেন”। কিন্তু অন্যান্য গ্রন্থে স্বশরীরে উপস্থিতির কথা উল্লেখ আছে । কেননা, নবীগণ অষ্ট অঙ্গ দ্বারা সিজদা করেছিলেন । নবীগণ ও ওলীগন মেছালী শরীর ধারণ করে মুহুর্তের মধ্যে আসমান জমিন ভ্রমণ করতে পারেন এবং জীবিত লোকদের মতই সব কিছু শুনতে ও দেখতে পারেন (মিরকাত ও তাইছির গ্রন্থ) । আধুনিক থিউসফীতেও (আধ্যাত্নবাদ) একথা স্বীকৃত । ফিজিক্যাল বডি, ইথিক্যাল বডি, কস্যাল বডি, এস্ট্রাল বডি- ইত্যাদি রূপ ধারণ করা একই দেহের পক্ষে সম্ভব এবং বাস্তব বলেও আধুনিক থিউসোফীর বিজ্ঞানীগণ স্বীকার করেছেন । আমরা মুসলমান । আল্লাহর কুদরত ও প্রদত্ত ক্ষমতার উপর আমাদের ঈমান নির্ভরশীল । এ বিষয়ে কবি গোলাম মোস্তফার বিশ্বনবী বইখানায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ।

তথ্যসূত্র

  • নূরনবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (লেখকঃ অধ্যক্ষ হাফেয মুহাম্মদ আব্দুল জলিল (রহঃ) (এম এম, এম এ, বিসিএস))