মিলাদ সম্পর্কে মক্কা শরীফের প্রাচীন ফতোয়া

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
প্রশ্নঃ আল্লাহ তায়ালা অসীম রহমত আপনার উপর বর্ষিত হোক । নিম্নে বর্নিত বিষয়ে আপনার অভিমত ও ফতোয়া কি ?

" মিলাদ শরীফ পাঠ করা - বিশেষ করে নবী করিম সাল্লাল্লাহয় আলাইহে ওয়াসাল্লামের পবিত্র জন্ম বৃত্তান্ত পাঠকালে কিয়াম করে সম্মান প্রদর্শন করা , মিলাদের জন্য দিন তারিখ নিদিষ্ট করা , মিলাদ মজলিস কে সাজানো , আতর গোলাপ ও খুশবু ব্যাভার করা। কুরআন শরীফ হতে সুরা ক্বেরাত পাঠ করা এবং মুসলমানদের জন্য খানাপিনা (তাবারুক) তৈরি করা - এই ভাবে অনুষ্ঠান করা জায়েয কিনা এবং অনুষ্ঠানকারীগন এতো সাওয়াবের অধিকারী হবেন কিনা ? বর্ণনা করে আল্লাহর পক্ষ হতে পুরস্কৃত হোন " । - আব্দুর রহীম তুর্কমানী - হিন্দুস্তান ,১২৮৮ হিজরি ।

মক্কা শরীফের ফতোয়াদাতাগনের জবাব ও ফতোয়াঃ

জেনে নিন - উপরে বর্নিত নিয়মে (কিয়াম) মিলাদ শরীফের অনুষ্ঠান করা মোস্তাহসান ও মুস্তাহাব । আল্লাহ ও সমস্ত মুসলমানের নিকট ইহা উত্তম । ইহার অস্বীকারকারীগন বিদআতপন্থী ও গোমরাহ্‌ । হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্নিত হুজুর (দঃ) -এর হাদিস আছে -

মুসলমান যে কাজকে পছন্দনীয় বলে বিবেচনা করেন-তা আল্লাহর নিকটও পছন্দনীয় । (মুসলিম)

এখানে মুসলমান বলতে ঐ সমস্ত মুসলমানকে বুঝায়-যারা কামেল মুসলমান । যেমন পরিপুর্ন আমলকারী উলামা , বিশেষ করে আরবেরদেশ , মিশর , সিরিয়া ,তুরস্ক ও স্পেন-ইত্যাদি দেশের উলামাগন সলফে সালেহীনদের যুগ থেকে অদ্যবধি (১২৮৮ হিঃ) সকলেই মিলাদ কেয়াম কে মুস্তাহসান, উত্তম ও পছন্দনীয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন । সর্বযুগের উলামাগনের স্বীকৃতির কারনে মিলাদও কিয়ামের বিষয় বরহক । উহা গোমরাহী হতে পারে না । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

আমার উম্মত গোমরাহ বিষয়ে একমত হতে পারে না (আল হাদিস)

সুতরাং যারা মিলাদ ও কিয়াম কে অস্বিকার করবে-শরিয়তের বিচারকের উপর তাদের যথাযথ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব ।

মক্কা শরিফের ফতোয়াদাতা মুফতীগনের স্বাক্ষর ও সিলমোহর
১। আল্লামা আব্দুর রহমান সিরাজ ।
২।আল্লামা আহনদ দাহলান ।
৩।আল্লামা হাসান ।
৪। আল্লামা আব্দুর রহমান জামাল ।
৫। আল্লামা হাসান তৈয়ব।
৬।আল্লামা সোলায়মান ঈছা ।
৭। আল্লামা আহমদ দাগেস্তানী ।
৮। আল্লামা আব্ডুল কাদের সামস ।
৯। আল্লামা আব্দুর রহমান আফেন্দী ।
১০। আল্লামা আব্দুল কাদের সানখিনী।
১১। আল্লামা মুহাম্মদ শারকী ।
১২ । আল্লামা আব্দুল কাদের খোকীর ।
১৩। আল্লামা ইবরাহিম আলফিতান।
১৪। আল্লামা মুহাম্মদ জারুল্লাহ ।
১৫। আল্লামা আব্দুল মুত্তালিব ।
১৬। আললামা কামাল আহমেদ ।
১৭। আল্লামা মুহাম্মাদ ছায়ীদ আল-আদাবি ।
১৮। আল্লামা আলি জাওহাদ ।
১৯। আল্লামা সৈয়দ আব্দুল্লাহ কোশাক।
২০। আল্লামা হোসাইন আরব।
২১ । আল্লামা ইব্রাহিম নওমুছি।
২২। আল্লামা আহমদ আমিন।
২৩। আল্লামা শেখ ফারূক ।
২৪। আল্লামা আব্দুর রহমান আযমী ।
২৫। আল্লামা আব্দুল্লাহ মাশশাত ।
২৬। আল্লামা আব্দুল্লাহ কুম্মাশী।
২৮। আল্লামা মুহাম্মদ বা-বাসীল।
২৯। আল্লামা মুহাম্মদ সিয়ুনী।
৩০। আল্লামা মুহাম্মদ সালেহ জাওয়ারী।
৩১। আল্লামা আব্দুল্লাহ জাওয়ারী।
৩২। আল্লামা মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ ।
৩৩। আল্লামা আহমদ আল মিনহিরাভী ।
৩৪ । আল্লামা সোলাইমান উকবা ।
৩৫। আল্লামা সৈয়দ শাত্বী ওমর ।
৩৬। আল্লামা আব্দুল হামিদ দাগেস্তানী ।
৩৭। আল্লামা মুস্তফা আফীফী ।
৩৮। আল্লামা মানসুর।
৩৯ । আল্লামা মিনশাবী ।
৪০। আল্লামা মুহাম্মদ রাযী ।

(১২৮৮ হিজরী) ।

তথ্যসূত্র

  • আল্লামা আব্দুর রহীম তুর্কমানী (রহঃ) ১২৮৮ হিজরী সনে মক্কা ও মদিনা এবং জেদ্দাহ ও হাদিদার উলামায়ে কেরামের দ্বারা মিলাদ ও কিয়াম সম্পর্কে একটি ফতোয়া লিখিয়ে হিন্দুস্তানে নিয়ে আসেন এবং নিজ গ্রন্থ " রাওয়াতুন নাঈম " -এর শেষাংশে ছেপে প্রকাশ করেন । ( আনওয়ারে ছাতেয়া দেখুন )
  • মিলাদ ও কিয়ামের বিধান (লেখকঃ অধ্যক্ষ এম এ জলিল (রহঃ))