মুহাম্মদ (সঃ) এর এলমে গায়েবঃ হযরত আলী (রাঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ




















  • মুহাম্মদ (সঃ) এর এলমে গায়েবঃ হযরত আলী (রাঃ)



হযরত আবু রাফি’ (রা:)-এর স্ত্রী হযরত সালমা (রা:) থেকে আত্ তাবারানী বর্ণনা করেন, যিনি বলেন:

আমি (এখনো) নিজেকে মহানবী (দ:)-এর হুযূরে (উপস্থিতিতে) দেখতে পাচ্ছি যখন তিনি বলেন, ‘বেহেশতী এক ব্যক্তি এক্ষণে তোমাদের সামনে উপস্থিত হবে।’ আর দেখো! আমি কারো পদশব্দ শুনতে পাই, অতঃপর হযরত আলী (ক:) (মজলিশে) হাজির হন।

নোট
  • হযরত রাফি’ (রা:)-এর স্ত্রী হযরত সালমা (রা:) থেকে আত্ তাবারানী নিজ ‘আল-কবীর’পুস্তকে (২৪:৩০১)।
  • দেখুন আল-হায়তামী (৯:১৫৬-১৫৭ #১৪৬৯৩)।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা:) থেকে আল-হাকিম ও আল-বায়হাকী বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আমরা একবার রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর সাথে ছিলাম; এমন সময় তাঁর স্যান্ডেলের ফিতা ছিঁড়ে যায়। হযরত আলী (ক:) তা সারাতে পেছনে পড়ে থাকেন। এমতাবস্থায় নবী পাক (দ:) কিছু দূর হাঁটার পর এরশাদ ফরমান, ‘সত্য হলো, তোমাদের মাঝে কেউ একজন কুরআন মজীদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ (তাফসীর) নিয়ে জেহাদ (কঠিন সাধনা, সংগ্রাম) করবে, যেমনিভাবে আমি সংগ্রাম করেছি এর নাযেল (অবতীর্ণ) হওয়া নিয়ে।’ হযরত আবু বকর (রা:) জিজ্ঞেস করেন, ‘সেই ব্যক্তি কি আমি?’ হুযূর পূর নূর (দ:) উত্তরে ’না’ বলেন। অতঃপর হযরত উমর (রা:) জিজ্ঞেস করেন, ‘তাহলে কি আমি?’ রাসূলে করীম (দ:) এরশাদ ফরমান, ‘না, ওই স্যান্ডেল মেরামতকারী (খাসিফ আন-না’আল)।’

নোট
  • হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা:) হতে সহীহ সনদে ইমাম আহমদ বর্ণিত, যা বিবৃত করেছেন আল-হায়তামী (৯:১৩৩);
  • ‘আল-আরনাওত’ (১৫:৩৮৫ #৬৯৩৭)-এর বর্ণনানুযায়ী সহীহ সনদে ইবনে হিব্বান-ও;
  • এটাকে সহীহ বলেছেন আল-হাকিম (৩:১২২),
  • আর আয্ যাহাবী নিজ ‘তালখিস আল-’এলাল আল-মুতানাহিয়া কেতাবে (পৃষ্ঠা ১৮) বলেন: “এই হাদীসের সনদ ভাল।”
  • এই হাদীস আরও বর্ণনা করেছেন আল-বাগাবী তাঁর ‘শারহ আল-সুন্নাহ’ গ্রন্থে (১০:২৩৩),
  • আবু এয়ালা স্বরচিত ‘মুসনাদ’ বইয়ে (#১০৮৬), সাঈদ ইবনে মনসুর তাঁর ‘সুনান’ পুস্তকে,
  • ইবনে আবি শায়বা (১২:৬৪),
  • আবু নুয়াইম নিজ ‘হিলইয়া’ কেতাবে, এবং
  • আল-বায়হাকী তাঁর ‘দালাইল আন্ নুবুওয়া’ গ্রন্থে (৬:৪৩৫) ও ‘শুয়াবুল ঈমান’ পুস্তকে।

আবু ইয়ালা ও আল-হাকিম নির্ভরযোগ্য রওয়ায়াত হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করে হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেন যে

মহানবী (দ:) হযরত আলী (ক:)-কে বলেন: “বাস্তবিকই তুমি আমার (বেসালের) পরে কঠিন সংগ্রাম/সাধনায় লিপ্ত হবে।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “আমার ধর্মকে নিরাপদে রেখে?” বিশ্বনবী (দ:) এরশাদ করেন, “হ্যাঁ।”

নোট
  • হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে আল-হাকিম (৩:১৪০=৩:১৫১) এবং
  • ‘মুরসাল’ হিসেবে ইবনে আবি শায়বা (৬:৩৭২ #৩২১১৭)।

হযরত আলী (ক:) থেকে আত্ তাবারানী বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

হযূর পূর নূর (দ:) আমার কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছেন যে আমাকে বিশ্বাসঘাতক, প্রতারক/ধোকাবাজ ও ধর্মচ্যুত (আল-নাকিসীন ওয়াল-ক্কাসিতীন ওয়াল-মারিক্কীন)-দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।

নোট
  • হযরত আলী (ক:) হতে হযরত আলী ইবনে রাবেয়া (রা:) এবং তাঁর কাছ থেকে আল-বাযযার, আর আবু ইয়ালা (১:৩৯৭ #৫১৯)-এর সনদে রয়েছেন আল-রাবী’ ইবনে সাহল যিনি দুর্বল।
  • দেখুন - ইবনে হাজর রচিত ‘লিসান আল-মিযান’ (২:৪৪৬ #১৮২৭); তবে ইবনে হাজর এর অর্থকে সত্য হিসেবে বিবেচনা করেন।
  • একে হযরত আম্মার ইবনে এয়াসের (রা:)-এর বর্ণিত বলেও উদ্ধৃত করেন আবু এয়ালা (৩:১৯৪ #১৬২৩)।

আল-হুমায়দী, আল-হাকিম এবং অন্যান্য হাদীসবেত্তা হযরত আবুল আসওয়াদ (আল-দুয়ালী) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

হযরত আলী (ক:) রেকাবে (অশ্বে পা রাখার স্থানে) পা রাখামাত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা:) এসে তাঁকে বলেন, ‘ইরাকবাসীদের কাছে যাবেন না! যদি যান, তাহলে তরবারির আঘাতসমূহ আপনার ওপর পড়বে।’ হযরত আলী (ক:) উত্তর দেন, ‘আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আপনার এ কথা বলার আগে মহানবী (দ:)-ও একই কথা বলেছেন’।

নোট
  • হযরত আলী (ক:) হতে হযরত আবুল আসওয়াদ (রা:) হতে আল-হুমায়দী তাঁর ’মুসনাদ’ গ্রন্থে (১:৩০ #৫৩),
  • আল-বাযযার (২:২৯৫-২৯৬ #৭১৮),
  • আবু ইয়ালা (১:৩৮১ #৪৯১),
  • আত্ তাবারানী নিজ ‘আল-আহাদ’ পুস্তকে (১:১৪৪ #১৭২),
  • ইবনে হিব্বান (১৫:১২৭ #৬৭৩৩), এবং
  • আল-হাকিম (৩:১৪০=১৯৯০ সংস্করণের ৩:১৫১);
গ্রহনযোগ্যতা

এঁদের সবার এসনাদে শিয়াপন্থী আবদুল মালিক ইবনে আ’য়ান থাকায় আয্ যাহাবী এটাকে দুর্বল বলেছেন, তবে একে শক্তিশালী বিবেচনা করেছেন আল-হায়তামী (৯:১৩৮) এবং ’হাসান’ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন আল-আরনাওত; অপর দিকে জিয়া আল-মাকদেসী একে বিশুদ্ধ রওয়ায়াত বলে মত প্রকাশ করেন তাঁর প্রণীত ‘আল-মুখতারা’ গ্রন্থে (২:১২৮-১২৯ #৪৯৮)। আবু নুয়াইম হযরত আলী (ক:) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (দ:) আমাকে বল্লেন, ‘(ভবিষ্যতে) অনেক ফিতনা-ফাসাদ হবে এবং তোমার লোকেরা তোমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবে।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি আমাকে (ওই সময়) কী করার নির্দেশ দেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘কেতাব (কুরআন মজীদ) অনুযায়ী শাসন করো’।

নোট
  • হযরত আলী (ক:) হতে দুর্বল বর্ণনাকারী শিয়াপন্থী আল-হারিস ইবনে আব্দিল্লাহ আল-আ’ওয়ার বর্ণিত এবং
  • আত্ তাবারানী কৃত ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে (২:২৯-৩০ #১১৩২) ও আল-সগীর পুস্তকে (২:১৭৪ #৯৭৮) উদ্ধৃত যার মধ্যে শেষোক্ত কেতাবের এসনাদে রয়েছেন আতা’ ইবনে মুসলিম আল-খাফফাফ যিনি আল-উকায়লী প্রণীত আল-দু’আফা বইয়ের (৩:৪০৫ #১১৪৩) ভাষ্যানুযায়ী দুর্বল রাবী।

আল-বায়হাকী হযরত আলী (ক:) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

(হযরত) ফাতেমা (রা:)-এর পাণি গ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হয় মহানবী (দ:)-এর কাছে (কিন্তু তিনি তা নাকচ করেন); এমতাবস্থায় আমার এক দাসী (যাকে পরবর্তীকালে মুক্ত করা হয়) আমাকে বলে, ‘আপনি কি শুনেছেন হযরত ফাতেমা (রা:)-এর বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল? তাহলে এ ব্যাপারে (পাণি গ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে) মহানবী (দ:)-এর সাথে দেখা করায় আপনাকে বাধা দিচ্ছে কী?’ আমি নবী পাক (দ:)-এর সাথে দেখা করতে গেলাম, আর তাঁর চেহারা মোবারক ওই সময় সৌম্য ভাবময় ছিল। আমি তাঁর সামনে দাঁড়াতেই ভয়ে স্থির হয়ে গেলাম। আল্লাহর শপথ, আমি একটি কথাও বলতে পারলাম না। রাসূলুল্লাহ (দ:) ফরমালেন, ‘কী কারণে তোমার এখানে আসা, বলো?’ আমি চুপ রইলাম। অতঃপর তিনি বল্লেন, ‘হয়তো তুমি ফাতেমার পাণি গ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে এসেছ?’ আমি বল্লাম, জ্বি।

নোট
  • হযরত আলী (ক:) থেকে বর্ণনা করেছেন আল-বায়হাকী তাঁর ‘আল-সুনান আল-কুবরা’ কেতাবে (৭:২৩৪ #১৪১২৯) এবং
  • আল-দুলাবী নিজ ‘আল-যুররিয়্যা আল-তাহেরা’ পুস্তকে (পৃষ্ঠা ৬৪), যা ’কানয’ গ্রন্থে (#৩৭৭৫৪) বিবৃত হয়েছে।

আল-হাকিম নির্ভরযোগ্য রওয়ায়াত হিসেবে এবং আবু নুয়াইম হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসের (রা:) থেকে বর্ণনা করেন যে

রাসূলে করীম (দ:) হযরত আলী (ক:)-কে বলেন: “মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধী হলো সে-ই, যে ব্যক্তি তোমার এখানে (কপালের পাশে দেখিয়ে বলেন) আঘাত করবে, যতোক্ষণ না রক্তে এটা (দাড়ি দেখিয়ে বলেন) ভিজে যায়।

Script errorনোট

এই রওয়ায়াত এসেছে -

  • (১) হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসের (রা:) হতে বিশুদ্ধ সনদে, যা বিবৃত হয়েছে
    • ইমাম সৈয়ুতী কৃত ‘তারিখ আল-খুলাফা’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৭৩),
    • ইমাম আহমদ প্রণীত ’মুসনাদ’ কেতাবে,
    • আন-নাসাঈ লিখিত ‘আল-সুনান আল-কুবরা’ পুস্তকে (৫:১৫৩ #৮৫৩৮),
    • আবু নুয়াইমের রচিত ‘দালাইল আন-নুবুওয়া’ বইয়ে (পৃষ্ঠা ৫৫২-৫৫৩ #৪৯০), এবং
    • আল-হাকিম (৩:১৪০-১৪১),
    • আর এ ছাড়াও সনদের মধ্যে একজন বর্ণনাকারীর অনুপস্থিতিতে হযরত আম্মার (রা:) হতে তাবেঈ আল-বাযযার (৪:২৫৪ #১৪২৪);
  • (২) হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রা:) হতে
    • আবু নুয়াইম নিজ ‘দালাইল’ পুস্তকে (পৃষ্ঠা ৫৫৩ #৪৯১)
    • দেখুন আস-সৈয়ুতীর ‘খাসাইসুল কুবরা’ (২:৪২০);
  • (৩) হযরত আলী (ক:) হতে শিয়াপন্থী সালাবা ইবনে ইয়াযিদ আল-হিম্মানী রওয়ায়াতকৃত এবং লিপিবদ্ধ রয়েছে
    • ইবনে সা’আদ (৩:৩৪),
    • ইবনে আবি হাতিম,
    • আবু নুয়াইম কৃত ’দালাইল’ (পৃষ্ঠা ৫৫২ #৪৮৯),
    • ইবনে আবদিল বারর প্রণীত ‘আল-এস্তিয়াব’ (৩:৬০), এবং
    • আল-নুয়াইরী লিখিত ‘নিহায়াত আল-আরব’ (২০:২১১);
  • (৪) হযরত আলী (ক:) হতে সুহাইব, যা লিপিবদ্ধ আছে
    • আত্ তাবারানীর ‘আল-কবীর’ গ্রন্থে (৮:৩৮-৩৯ #৭৩১১),
    • ইবনে আবদিল বারর-এর ’আল-এস্তিয়াব’ পুস্তকে (৩:১১২৫),
    • ইবনে আসাকির,
    • আল-রুয়ানী,
    • ইবনে মারদুইয়াহ, এবং
    • আবু ইয়ালা (১:৩৭৭ #৪৮৫)।
    • দেখুন - ’কানয’ (#৩৬৫৬৩, #৩৬৫৭৭-৮, #৩৬৫৮৭), ইবনুল জাওযীর ‘সিফাতুস্ সাফওয়া’ (১:৩৩২), এবং আল-হায়তামী (৯:১৩৬);
  • (৫) হযরত আলী (ক:) হতে হাইয়ান আল-আসাদী, যা লিপিবদ্ধ আছে আল-হাকিমে (৩:১৪২); এবং
  • (৬) মওকুফ বর্ণনা - হযরত আলী (ক:) হতে যায়দ ইবনে ওয়াহব, যা লিপিবদ্ধ করেছেন
    • আল-হাকিম (৩:১৪৩) ও
    • ইবনে আবি আসিম নিজ ‘আল-যুহদ’ কেতাবে (পৃষ্ঠা ১৩২)।
    • আল-তালিদী এই বর্ণনা তাঁর ‘তাহযিব আল-খাসাইস’ পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করেন নি।

আবু নুয়াইম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন জাবের ইবনে সামুরা ও সুহাইব থেকে। আল-হাকিম রওয়ায়াত করেন হযরত আনাস (রা:)-এর কথা, তিনি বলেন:

আমি রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর সাথে অসুস্থ হযরত আলী (ক:)-কে দেখতে যাই, যিনি শয্যাশায়ী ছিলেন; এই সময় হযরত আবু বকর (রা:) ও হযরত উমর (রা:)-ও তাঁকে দেখতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের একজন অপরজনকে বলছিলেন, “আমার মনে হয় না তিনি বাঁচবেন।” এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (দ:) এরশাদ ফরমান: “নিশ্চয় সে শাহাদাত ছাড়া মারা যাবে না এবং তার অন্তর যতোক্ষণ না তিক্ত হবে ততোক্ষণ সে মৃত্যুবরণ করবে না।”

নোট
  • আল-হাকিম (৩:১৩৯=১৯৯০ সংস্করণের ৩:১৫৫); অবশ্য এই বর্ণনাকে আয্ যাহাবী ‘সম্পূর্ণ ত্রুটিযুক্ত’ (ওয়াহিন) বলেছেন।

আল-হাকিম বর্ণনা করেন হযরত সাওর ইবনে মিজযা’আ (রা:) থেকে, তিনি বলেন:

উটের (যুদ্ধের) দিবসে আমি হযরত তালহা (রা:)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, আর ওই সময় তিনি (মাটিতে শায়িত অবস্থায়) প্রায় ইন্তেকাল করার পর্যায়ে ছিলেন। তিনি আমাকে বল্লেন, ‘তুমি কোন্ পক্ষ?’ আমি উত্তর দিলাম, ‘ঈমানদারদের খলীফার বন্ধুদের দলে।’ তিনি বল্লেন, ‘তোমার হাত বাড়িয়ে দাও যাতে আমি তোমার কাছে আনুগত্যের শপথ নিতে পারি।’ আমি আমার হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং তিনি আমার প্রতি আনুগত্যের শপথ নিলেন। এর পরপরই তিনি ইন্তেকাল করলেন, আর আমিও হযরত আলী (ক:)-এর কাছে ফেরত গিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বল্লাম। তিনি বল্লেন, ‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ! রাসূলুল্লাহ (দ:) সত্য বলেছিলেন এই মর্মে যে আল্লাহতা’লা তালহাকে আমার প্রতি দৃঢ় আনুগত্যের শপথ গ্রহণ ছাড়া বেহেশতে নেবেন না’।

নোট
  • আল-হাকিম (১৯৯০ সংস্করণের ৩:৪২১); তবে ইবনে হাজর তাঁর ’আল-আতরাফ’ (এতরাফ আল-মুসনাদ আল-মু’তালী বি আতরাফ আল-মুসনাদ আল-হাম্বলী) পুস্তকে এটাকে ‘অত্যন্ত দুর্বল সনদ’ বলেছেন যা বিবৃত হয়েছে ‘কানয’পুস্তকে (#৩১৬৪৬)।

আল-বায়হাকী রওয়ায়াত করেন ইবনে এসহাকের মাধ্যমে, তিনি বলেন:

এয়াযিদ ইবনে সুফিয়ান আমার কাছে বর্ণনা করেন মোহাম্মদ ইবনে কাআব হতে এই মর্মে যে, হুদায়বিয়ার সন্ধিতে রাসূলে করীম (দ:)-এর কাতেব বা লেখক ছিলেন হযরত আলী (ক:); হুযূর পাক (দ:) তাঁকে বলেন, ‘লেখো, এগুলো মোহাম্মদ ইবনে আবদিল্লাহ (দ:) ও সোহায়ল ইবনে উমরের মধ্যকার সন্ধির শর্তাবলী।’ হযরত আলী এটা লিখতে রাজি হলেন না। তিনি ’আল্লাহর প্রেরিত রাসূল’ বাক্যটি ছাড়া এই সন্ধিপত্র লিখতে সম্মত ছিলেন না। এমতাবস্থায় নবী পাক (দ:) তাঁকে বলেন, ‘এটা লেখো, কেননা নিশ্চয় তুমি অনুরূপ কিছু ভোগ করবে এবং অন্যায় আচরণের শিকার হবে’।

নোট
  • আল-বায়হাকীর ‘দালাইল’ গ্রন্থে উদ্ধৃত যা ‘মাগাযী’পুস্তকে ইবনে এসহাকের বর্ণনার অনুসরণে লিপিবদ্ধ;
  • দেখুন - আস্ সৈয়ুতী কৃত ‘খাসাইসে কুবরা’ (১:১৮৮),
  • ’সীরাতে হালাবিয়্যা’ (২:৭০৭), এবং
  • আল-খুযাঈ প্রণীত ‘তাখরিজাত আল-দেলালাত’ (১৯৯৫ সংস্করণের ১৭৮ পৃষ্ঠা=১৯৮৫ সংস্করণের ১৮৮ পৃষ্ঠা)।

আর এটাই ঘটেছিল সিফফিন যুদ্ধের পরে হযরত আলী (ক:) ও হযরত মোআবিয়া (রা:)-এর মধ্যকার সন্ধির সময়। ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ তাঁর ’মুসনাদ’ গ্রন্থের পরিশিষ্টে এবং এর পাশাপাশি আল-বাযযার, আবু এয়ালা ও আল-হাকিম হযরত আলী (ক:) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

মহানবী (দ:) আমাকে বলেন, ‘তোমার সাথে হযরত ঈসা (আ:)-এর এক সাদৃশ্য আছে; ইহুদীরা তাঁকে এতো ঘৃণা করেছিল যে তারা তাঁর মাকে অপবাদ দিয়েছিল; আর খৃষ্টানরা এতো ভালোবেসেছে যে তারা তাঁকে এমন মর্যাদার আসনে আসীন করেছে যা তাঁর নয়’।

নোট
  • আবু মরইয়াম এবং আবু আল-বখতারী কিংবা আবদুল্লাহ ইবনে সালামা - এই দু’জনের কোনো একজন থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ নিজ ‘আল-সুন্নাহ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৩৩-২৩৪ #১২৬৬-১২৬৮),
  • আল-হারিস ইবনে আব্দিল্লাহ হতে ইবনে আব্দিল বারর তাঁর ‘আল-এস্তিয়াব’ কেতাবে (৩:৩৭),
  • আল-নুওয়াইরী স্বরচিত ‘নিহায়াত আল-আরব’ পুস্তকে (২০:৫) এবং
  • আবু আল-হাদিদ কৃত ‘শরহে নাজহ আল-বালাগা’ (১:৩৭২)।

হযরত আলী (ক:) বলেন:

আমার ব্যাপারে (আকিদাগত কারণে) দুই ধরনের লোক ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে - আমার প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণকারী যারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটায়; দ্বিতীয়ত যারা অতি ভক্তিসহ আমার মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা করে।

নোট
  • এটা বর্ণনা করেছেন হযরত আলী (ক:) হতে আবু এয়ালা তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে (১:৪০৬ #৫৩৪) এবং
  • ইমাম আহমদও দুইটি দুর্বল সনদে নিজ ‘মুসনাদ’ কেতাবে - যাকে চিরাচরিত উদারতায় ‘হাসান’ বলেছেন শায়খ আহমদ শাকির (২:১৬৭-১৬৮ #১৩৭৭-১৩৭৮);
  • আল-হাকিম (৩:১২৩)-ও এর সনদকে সহীহ বলেছেন, তবে আয্ যাহাবী এর দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করেন এতে আল-হাকাম ইবনে আব্দিল মালিক থাকার কারণে; একই মত পোষণ করেন ইবনুল জাওযী নিজ ‘আল-এলাল আল-মুতানাহিয়া’ পুস্তকে (১:২২৭ #৩৫৭)।
  • আল-হায়তামী স্বরচিত ‘মজমাউল যাওয়াইদ’ গ্রন্থে (৯:১৩৩) একই কারণে ওপরের সকল এসনাদের দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করেন, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে আল-বাযযার এটা বর্ণনা করেছেন তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে।
  • অনুরূপ দুর্বল সনদে এটা বর্ণনা করেন আল-বায়হাকী নিজ ‘আল-সুনান আল-কুবরা’ পুস্তকে (৫:১৩৭ #৮৪৮৮) এবং
  • ইমাম আহমদ তাঁর ‘ফযাইলে সাহাবা’ কেতাবে (২:৬৩৯ #১০৮৭, ২:৭১৩ #১২২১, ২:৭১৩ #১২২২)।

আত্ তাবারানী ও আবু নুয়াইম হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (দ:) হযরত আলী (ক:)-কে বলেন, ‘তোমাকে নেতৃত্ব ও খেলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করা হবে; আর নিশ্চয় এটা (হযরত আলী ক:-এর দাড়ি মোবারক) ওর (সে’র মোবারকের) দ্বারা লাল রংয়ে রঙ্গীন হবে’।

নোট
  • হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রা:) থেকে বর্ণনা করেছেন আত্ তাবারানী নিজ ‘আল-কবীর’ (২:২৪৭ #২০৩৮) ও ’আল-আওসাত’ (৭:২১৮ #৭৩১৮) গ্রন্থগুলোতে;
  • তবে আল-হায়তামী (৯:১৩৬) অভিমত পোষণ করেন যে উভয়ের সনদ খুবই দুর্বল। শেষাংশের জন্যে ’ইবনে ইয়াসের (রা:) থেকে বর্নিত হাদিসের নোট’ দেখুন।

আল-বুখারী ও মুসলিম হযরত সালামা (ইবনে আমির) ইবনে আল-আকওয়া (রহ:)-এর কথা উদ্ধৃত করেন, যিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (দ:) খায়বারে অবস্থানকালে হযরত আলী (ক:) চোখের পীড়ার কারণে সেখানে তাঁর সাথে যেতে পারেন নি। তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে পেছনে পড়ে থাকি এবং হুযূর পাক (দ:)-এর সাথে না যাই?’ তাই তিনি বেরিয়ে পড়েন এবং মহানবী (দ:)-এর সাথে গিয়ে যোগ দেন। খায়বারের যুদ্ধের আগের রাতে রাসূলে খোদা (দ:) বলেন, ‘আমি শপথ করে বলছি যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (দ:) ভালোবাসেন এমন কাউকে আগামীকাল আমি পতাকা প্রদান করবো, যার ওসীলায় আল্লাহ বিজয় দান করবেন।’ আর দেখো! অপ্রত্যাশিতভাবে হযরত আলী (ক:) আমাদের মাঝে আগমন করেন। সবাই বলেন, ‘এই তো আলী!’ এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (দ:) তাঁকে পতাকা হস্তান্তর করেন এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে বিজয় মন্ঞ্জুর করেন।

নোট
  • সর্ব-হযরত সালামা ইবনে আল-আকওয়া’ (রা:), সাহল ইবনে সা’আদ (রা:) ও আবু হোরায়রা (রা:) থেকে আল-বুখারী, মুসলিম ও ইমাম আহমদ

(আল-বুখারী এবং) মুসলিম এটা হযরত সালামা ইবনে আল-আকওয়া’ [1] হতে ভিন্ন শব্দ চয়নে বর্ণনা করেন, যা ওপরের বিবরণের সাথে যুক্ত:

অতঃপর রাসূলে খোদা (দ:) হযরত আলী (ক:)-এর চোখে তাঁর পবিত্র থুথু মোবারক নিক্ষেপ করেন এবং তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আল-হারিস ও আবু নুয়াইম আরেকটি ভিন্ন বর্ণনায় হযরত সালামা (রা:)-কে উদ্ধৃত করেন:

এমতাবস্থায় হযরত আলী (ক:) পতাকা নিয়ে দুর্গের ঠিক নিচে (মাটিতে) পুঁতে দেন, যা দেখে জনৈক ইহুদী দুর্গের সর্বোচ্চ স্থান থেকে নিচে তাঁর দিকে তাকিয়ে বলে, ‘আপনি কে?’ তিনি উত্তর দেন, ‘আলী।’ ইহুদী বলে, ‘মূসা (আ:)-এর প্রতি অবতীর্ণ ঐশী গ্রন্থের শপথ, আপনারা বিজয়ী হবেন (’উলুতুম)।’ আল্লাহতা’লা বিজয় দান না করা পর্যন্ত হযরত আলী (ক:) আর পিছু হটেন নি।

নোট
  • হযরত সালামা হতে ইবনে হিশাম কৃত ‘সীরাহ’ (৪:৩০৫-৩০৬) এবং
  • ইবনে হিব্বান প্রণীত ‘আল-সিক্কাত’ (২:১৩)।

আবু নুয়াইম বলেন,

এতে ইশারা রয়েছে যে ইহুদীরা তাদের (ঐশী) কেতাবের বদৌলতে আগাম জানে কাকে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পাঠানো হবে এবং বিজয় মন্ঞ্জুর করা হবে।

এই বর্ণনা সর্ব-হযরত ইবনে উমর (রা:), ইবনে আব্বাস (রা:), সা’আদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা:), আবু হোরায়ারা (রা:), আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা:), এমরান ইবনে হুসাইন (রা:), জাবের (রা:) এবং আবু লায়লা আল-আনসারী (রা:)-এর কাছ থেকেও এসেছে। সবগুলোই আবু নুয়াইম রওয়ায়াত করেছেন, আর তাতে মহানবী (দ:) কর্তৃক হযরত আলী (ক:)-এর চোখ মোবারকে পবিত্র থুথু নিক্ষেপ ও চোখ ভাল হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিবৃত হয়েছে। [2] হযরত বুরায়দা (রা:) থেকে আল-বায়হাকী ও আবু নুয়াইম বর্ণনা করেন যে মহানবী (দ:) বলেন:

“আমি শপথ করে বলছি, কাল আমি যার হাতে পতাকা দেবো সে আল্লাহকে ভালোবাসে এবং তাঁর রাসূল (দ:)-কেও, আর সে তা (নিজ) ক্ষমতাবলে নেবে।” এ কথা তিনি এমন সময় বলেন, যখন হযরত আলী (ক:) সেখানে ছিলেন না। কুরাইশ গোত্র পতাকার জন্যে প্রতিযোগিতা আরম্ভ করে; ঠিক তখনি হযরত আলী (ক:) চোখের পীড়া নিয়ে উটের পিঠে চড়ে সেখানে উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ (দ:) তাঁকে বলেন, “কাছে এসো।” তিনি এলে তাঁর পবিত্র চোখে হুযূর পাক (দ:) নিজ থুথু মোবারক নিক্ষেপ করেন এবং তাঁর হাতে পতাকা দেন। হযরত আলী (ক:) বেসাল হওয়া অবধি আর কখনোই তাঁর পবিত্র চোখ পীড়িত হয় নি।

নোট
  • এই বর্ণনা আত্ তাবারীর নিজ ‘তারিখ’ গ্রন্থে (২:১৩৭)।

ইমাম আহমদ, আবু এয়ালা, আল-বায়হাকী ও আবু নুয়াইম বর্ণনা করেন হযরত আলী (ক:) হতে, যিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (দ:) আমার দু’চোখে যে দিন খাইবারে থুথু নিক্ষেপ করেন, সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত ওতে আর কোনো রকম পীড়া বা জ্বালা-পোড়া অনুভব করি নি।

নোট
  • আত্ তাবারানী, সাঈদ ইবনে মানসুর, ইবনে আবি শায়বা এবং আত্ তাবারী যিনি এটাকে বিশুদ্ধ বলেছেন তিনিও বর্ণনা করেন;
  • ইমাম আহমদ ও আবু এয়ালার বর্ণনায় শক্তিশালী ‘রাবী’দের এসনাদ বিদ্যমান বলে মত দিয়েছেন আল-হায়তামী ও ইবনে কাসীর নিজ ‘আল-বেদায়া’ পুস্তকে, এবং
  • আল-বায়হাকী তাঁর ‘দালাইল’ কেতাবে;
  • দেখুন - কানয (#৩৫৪৬৭-৩৫৪৬৮)।

অপর এক বর্ণনায় হযরত আবু লায়লা (রা:) হযরত আলী (ক:)-কে জিজ্ঞেস করেন কেন তিনি গ্রীষ্মের বস্ত্র শীতে এবং শীতের বস্ত্র গ্রীষ্মে পরেন। তিনি উত্তরে বলেন,

খায়বরের দিবসে আমার চোখ দুটো যখন পীড়াগ্রস্ত ছিল, তখন হুযূর পাক (দ:) আমাকে তলব করেন। আমি তাঁকে বলি, ‘এয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! আমার চক্ষু পীড়া দেখা দিয়েছে।’ তিনি আমার চোখে ফুঁ দিয়ে দোয়া করেন, ‘এয়া আল্লাহ! তার (আলীর) কাছ থেকে ঠান্ডা ও গরম অপসারণ করুন।’ ওই দিন থেকে আমি আর শীত বা গরম অনুভব করি নি।

  • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবি লায়লা (রা:) হতে দুর্বল সনদে ইমাম আহমদ ও ইবনে মাজাহ এটা বর্ণনা করেছেন।

ইবনে এসহাক বর্ণনা করেন হযরত আম্মার ইবনে এয়াসের (রা:) হতে, যিনি বলেন:

আল-’উশায়রা সফরে আমি ও হযরত আলী (ক:) এক সাথে ছিলাম। যখন নবী পাক (দ:) সওয়ার থেকে অবতরণ করেন, তখন আমরা বনূ মিদলাজ গোত্রের মানুষদেরকে দেখি তাদের একটি ঝর্ণা ও খেজুর বাগানে (খামারের) কাজে ব্যস্ত। হযরত আলী ইবনে আবি তালেব (ক:) আমাকে বলেন, ‘ওহে আবু আল-এয়াকযান! আমরা এই লোকদেরকে তাদের কাজে দেখতে গেলে কেমন হয়?’ আমি তাঁকে বলি, ‘আপনার যা মর্জি হয়।’ এমতাবস্থায় আমরা তাদের কাজ দেখতে যাই এবং বেশ কিছু সময় সেখানে অতিবাহিত করি। এরপর আমাদের (সম্ভবত সফরজনিত ক্লান্তির কারণে) ঘুম পায় এবং আমরা দু’জন কিছু দূরে নিম্নভূমিতে অবস্থিত একটি বালিয়াড়ি পেয়ে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ি। আল্লাহর শপথ! আমাদের আর কেউ ঘুম থেকে ওঠান নি স্বয়ং মহানবী (দ:) ছাড়া, ‍যিনি তাঁর কদম মোবারক দ্বারা আমাদের (স্পর্শ করে) জাগান। আমরা বালি দ্বারা আবৃত হয়ে গিয়েছিলাম। ওই দিন মহানবী (দ:) হযরত আলী ইবনে আবি তালেব (ক:)-কে বালি দ্বারা আবৃত দেখে বলেন, ‘ওহে আবু তোরাব (বালির মানুষ)! আমি কি তোমাকে সবচেয়ে বদমায়েশ দু’জন ব্যক্তি সম্পর্কে বলবো না?’ আমরা বল্লাম, ‘এয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! অনুগ্রহ করে আমাদের বলুন।’ তিনি উত্তর দেন, ‘সামুদ গোত্রের সেই ফর্সা লোকটি যার দ্বারা মাদী উটের হাঁটুর পেছনের দিকের পেশিতন্তু কাটা পড়ে সেটা খোঁড়া হয়ে গিয়েছিল; আর ওহে আলী, দ্বিতীয় লোকটি হবে তোমার এখানে আঘাতকারী।’ এ কথা বলার সময় তিনি হযরত আলী (ক:)-এর কপালের এক পাশে তাঁর পবিত্র হাত রাখেন এবং এরপর হযরত আলী (ক:)-এর দাড়ি মোবারকে হাত রেখে আরও বলেন, ‘যতোক্ষণ না এটা (রক্তে) ভিজে যায়’।

নোট

হযরত আম্মার (রা:) থেকে এটা বর্ণনা করেন

  • ইবনে হিশাম (৩:১৪৪),
  • ইমাম আহমদ নিজ ’মুসনাদ’ (৩০:২৫৬-২৬৭ #১৮৩২১, #১৮৩২৬ হাসান লি-গায়রিহ) ও ‘ফযায়েলে সাহাবা’ পুস্তকে (২:৬৮৭),
  • আল-বাযযার (#১৪১৭),
  • আল-বুখারী তাঁর ‘আল-তারিখ আল-সগীর’ কেতাবে (১:৭১),
  • আত্ তাহাবী স্বরচিত ‘শরহ মুশকিল আল-আসার’ (#৮১১),
  • আদ্ দুলাবী তাঁর ‘আল-আসমা’ওয়াল কুনা’ গ্রন্থে (২:১৬৩),
  • আত্ তাবারী নিজ ‘তারিখ’ কেতাবে (২:১৪),
  • আবু নুয়াইম তাঁর ‘হিলইয়া’ (১:১৪১) ও ‘মা’আরিফাত আস্ সাহাবা’ পুস্তকে (#৬৭৫),
  • আল-হাকিম (৩:১৪১=১৯৯০ সংস্করণের ৩:১৫১),
  • আল-বায়হাকী স্বরচিত ‘দালাইল আন্ নুবুওয়া’ গ্রন্থে (৩:১২-১৩), এবং অন্যান্যরা;
  • দেখুন - আল-হায়তামী ৯:১৩৬)।

পরবর্তীকালে রাসূলুল্লাহ (দ:) যেভাবে বর্ণনা করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই আল্লাহতা’লার ইচ্ছায় হযরত আলী (ক:)-এর শাহাদাত হয় শেষ জমানার সবচেয়ে বদমায়েশ লোক আবদুর রহমান ইবনে মুলজাম আল-মুরাদীর দ্বারা। আল-বায়হাকী হযরত আলী (ক:) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

হুযূর পূর নূর (দ:) আমাকে বলেন, ‘আমার (বেসালের) পরে তোমার ঔরসে এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে যাকে আমি আমার নাম ও কুনইয়া (বংশীয় ধারার নাম) প্রদান করলাম’।

এটা তিনি মোহাম্মদ ইবনে আল-হানাফিয়্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন। [3]
নোট
  • এটা বর্ণনা করেছেন ইবনে সা’আদ (৫:৯২),
  • ইবনে আসাকির, এবং
  • আল-বায়হাকী নিজ ‘দালাইল’ পুস্তকে;
  • তবে ইবনে আল-জওযীর মতে এর সনদ দুর্বল;
  • দেখুন - ‘কানযুল ‘উম্মাল’ (#৩৪৩৩০, #৩৭৮৫৪, #৩৭৮৫৮)।

তথ্যসূত্র

  1. প্রকৃতপক্ষে সাহল ইবনে সা’আদ
  2. সম্ভবত আবু নুয়াইমের ‘মা’রেফাত আল-সাহাবা ওয়া ফাদলিহিম’ শীর্ষক পুস্তকে।
  3. অর্থাৎ, মোহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবি তালেব।
  • মহানবী (দ:)-এর অদৃশ্য জ্ঞানবিষয়ক ৮০টি হাদীস-[ইমাম কাজী ইউসুফ নাবহানী (রহ:)-এর ৯০০ পৃষ্ঠাব্যাপী গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহি আ’লাল আ’লামীন ফী মো’জেযাতে সাইয়্যেদিল মুরসালীন (১৩১৭ হিজরী/১৮৯৯ খৃষ্টাব্দ) হতে সংগৃহীত]-মূল: শায়খ ড: জিবরীল ফুয়াদ হাদ্দাদ দামেশকী-অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
  • sufi-hearth.blogspot.com