মুহাম্মদ (সঃ) এর এলমে গায়েবঃ হযরত উসমান (রাঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ



















  • মুহাম্মদ (সঃ) এর এলমে গায়েবঃ হযরত উসমান (রাঃ)




আত্ তাবারানী হযরত যায়দ ইবনে সাবেত (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, যিনি বলেন যে

মহানবী (দ:)-কে তিনি বলতে শুনেছেন: “উসমান আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল যখন একজন ফেরেশতা আমার সাথে ছিল। ওই ফেরেশতা বল্লো, ‘ইনি একজন শহীদ; তাঁর লোকেরা তাঁকে হত্যা করবে। সত্যি, তিনি (মহত্ত্বে) আমাদেরকে (অর্থাৎ, ফেরেশতাকুলকে) লজ্জায় ফেলে দিয়েছেন’।

নোট
  • হযরত যায়দ (রা:) থেকে আত্ তাবারানী তাঁর ‘আল-কবীর’ পুস্তকে (৫:১৫৯) বর্ণনা করেছেন; তবে যে সনদ তিনি পেশ করেছেন, আল-হায়তামী (৯:৮২)-এর ভাষ্যানুযায়ী তাতে রাবী (বর্ণনাকারী) মোহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-ওয়াসাউইসী একজন জাল হাদীস পরিবেশক।

আল-বায়হাকী হযরত আবু হোরায়রা (রা:) থেকে একটি বর্ণনা, যেটিকে আল-হাকিম বিশুদ্ধ বলেছেন, তা রওয়ায়াত করেন, যা’তে হযরত উসমান (রা:) যখন তাঁর ঘরে অবরুদ্ধ ছিলেন তখন হযরত আবু হোরায়রা (রা:) বলেন:

আমি মহানবী (দ:)-কে বলতে শুনেছি: ‘একটি ফিতনা-ফাসাদ (ভবিষ্যতে) হবে।’ আমরা বল্লাম, ‘এয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! আমরা তখন কী করবো বলে আপনি হুকুম দেন?’ তিনি হযরত উসমান (রা:)-এর দিকে ইঙ্গিত করে উত্তর দিলেন, ‘(তোমাদের) খলীফা ও তার বন্ধুদের সাথে থাকবে’।

নোট
  • হযরত আবু হোরায়রা (রা:) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আল-হাকিম (৩:৯৯=১৯৯০ সংস্করণের ৩:১০৫; ৪:৪৩৪=৪:৪৮০) এবং আয্ যাহাবী একে বিশুদ্ধ বলেছেন;
  • এটি আরও বর্ণনা করেন ইবনে আবি শায়বা (১০:৩৬৩ #৩২০৪৯),
  • আত্ তাবারানী নিজ ‘আল-আওসাত’গ্রন্থে (৯:১৭৫ #৯৪৫৭),
  • ইবনে আবি আসিম তাঁর ‘আস্ সুন্নাহ’ বইয়ে (২:৫৮৭ #১২৭৮) এবং
  • বায়হাকী স্বরচিত ‘আল-এ’তেকাদ’ কেতাবে (পৃষ্ঠা ৩৬৮)।

ইবনে মাজাহ, আল-হাকিম বিশুদ্ধ হিসেবে, আল-বায়হাকী ও আবু নুয়াইম হযরত আয়েশাহ (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (দ:) হযরত উসমান (রা:)-কে ডেকে একান্তে আলাপ করেন, যার দরুণ তাঁর চেহারায় পরিবর্তন আসে। (পরবর্তীকালে) ঘরে অবরুদ্ধ হবার দিন আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করি, ‘আপনি কি এর বিরুদ্ধে লড়বেন না?’ খলীফা বল্লেন, ‘না! রাসূলে পাক (দ:) আমার কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছেন (যেন আমার শাহাদাতের সময় আমি না লড়ি); আমি ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) ওয়াফা (পূরণ) করবো’।

নোট
  • হযরত উসমান (রা:)-এর মুক্ত করে দেয়া গোলাম হযরত আবু সাহলা (রা:) থেকে বর্ণনা করেন আত্ তিরমিযী (হাসান সহীহ গরিব),
  • ইমাম আহমদ তাঁর ‘মুসনাদ’ ও ’ফযাইলে সাহাবা’ পুস্তকে (১:৪৯৪),
  • ইবনে মাজাহ,
  • ইবনে হিব্বান,
  • আল-হাকিম (১৯৯০ সংস্করণের ৩:১০৬),
  • ইবনে সা’আদ (৩:৬৬),
  • আবু এয়ালা নিজ ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে (৮:২৩৪), এবং
  • সহীহ সনদে আল-বাযযার (২:৬০)।

ইবনে আদি ও ইবনে আসাকির হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, ‍যিনি বলেন:

মহানবী (দ:) বলেন, ’ওহে উসমান! আমার (বেসালের) পরে তোমার কাছে খেলাফতের ভার ন্যস্ত করা হবে, কিন্তু মোনাফেকরা চাইবে যেন তুমি তা ত্যাগ করো। তুমি ত্যাগ করো না, বরং রোযা রেখো যাতে তুমি আমার সাথে (ওই রোযা) ভাঙ্গতে পারো’।

নোট
  • হযরত আনাস (রা:) থেকে ইবনে আসাকির নিজ ‘তারিখে দামেশক’ (৩৯:২৯০),
  • ইবনে আদি তাঁর ‘আল-কামিল’ (৩:২৭); এবং
  • আয্ যাহাবী স্বরচিত ’মিযান’ গ্রন্থে (২:৪২৪) যা’তে দুর্বল সনদ আবু আল-রাহহাল খালেদ ইবনে মোহাম্মদ আল-আনসারী, যিনি এর একমাত্র বর্ণনাকারীও।

আল-হাকিম বিশুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করে হযরত মুররাহ ইবনে কাআব (রা:) থেকে বর্ণনা করেন এবং ইবনে মাজাহ-ও তাঁর থেকে রওয়ায়াত করেন, তিনি বলেন:

আমি রাসূলুল্লাহ (দ:)-কে একটি পরীক্ষার কথা বলতে শুনেছি যখন এক ব্যক্তি তাঁর জুব্বা পরে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এরশাদ করেন, ‘এই ব্যক্তি ওই সময় সঠিক পথ অনুসরণ করবে।’ আমি ওই ব্যক্তিকে দেখতে গেলাম এবং দেখলাম তিনি হযরত উসমান (রা:)।

নোট
  • হযরত কা‘আব ইবনে মুররা আল-বাহযী (রা:) থেকে আত্ তাবারানী (হাসান সহীহ),
  • দুর্বল সনদে ইবনে মাজাহ,
  • বেশ কিছু বিশুদ্ধ সনদে ইমাম আহমদ তাঁর ’মুসনাদ’ ও ‘ফযায়েলে সাহাবা’ কেতাবে (১:৪৫০),
  • আল-হাকিম (১৯৯০ সংস্করণের ৩:১০৯, ৪:৪৭৯ সহীহ),
  • তিনটি সনদে ইবনে আবি শায়বা (৬:৩৬০ #৩২০২৫-৩২০২৬, ৭:৪৪২ #৩৭০৯০),
  • আত্ তাবারানী নিজ ‘আল-কবীর’ গ্রন্থে (১৯:১৬১-১৬২ #৩৫৯, #৩৬২, ২০:৩১৫ #৭৫০), এবং
  • নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ স্বরচিত ‘আল-ফিতান’ পুস্তকে (১:১৭৪ #৪৬১)

আল-হাকিম হযরত আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, যিনি বলেন যে

মহানবী (দ:) তাঁদেরকে বলেছিলেন হযরত উসমান (রা:)-এর রক্তের ফোঁটা কুরআন মজীদের “হে মাহবুব! অদূর ভবিষ্যতে আল্লাহই তাদের দিক থেকে আপনার জন্যে যথেষ্ট হবেন” (২:১৩৭) আয়াতটির ওপর পড়বে; আর তাই ঘটেছিল।

নোট
  • হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে আল-হাকিম বর্ণিত (৩:১০৩=১৯৯০ সংস্করণের ৩:১১০),
  • আল-যুবায়র ইবনে আবদিল্লাহর দাদী হতে আত্ তাবারী নিজ ‘তারিখ’ কেতাবে (২:৬৭১),
  • ‘উমরা বিনতে আবদ্ আল-রহমান হতে ইবনে আবি হাতিম তাঁর ‘আল-জারহ ওয়াল তা’দিল’পুস্তকে (৪:১৭৯ #৭৮০), এবং
  • ওয়াসসাব হতে ইবনে সাআদ (৩:৭২)।

মুহাদ্দীস আল-সিলাফী হযরত হুযায়ফা (রা:) থেকে বর্ণনা করেন,

তিনি বলেন: “ফিতনার আরম্ভ হযরত উসমান (রা:)-কে শহীদ করার মাধ্যমে এবং শেষ হবে মসীহ-বিরোধী (অর্থাৎ, দাজ্জাল)-এর আবির্ভাব দ্বারা।সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! হযরত উসমান (রা:)-এর হত্যাকারীদের প্রতি কেউই এক সরষে দানা পরিমাণ মহব্বত অন্তরে লালন করে মৃত্যুবরণ করবে না; তবে হ্যাঁ, সে দাজ্জালের দেখা যদি তার জীবনে পায়, তাহলে সে তাকে অনুসরণ করবে, নতুবা সে তার কবরে দাজ্জালকে বিশ্বাস করবে।

নোট
  • হযরত হুযায়ফা (রা:) থেকে দু’টি বর্ণনানুক্রমে ইবনে আবি শায়বা (৭:২৬৪ #৩৫৯১৯-৩৫৯২০)।
  • এটা স্পষ্ট যে হযরত হুযায়ফা (রা:) মহানবী (দ:)-এর কাছ থেকে এ কথা শুনেছিলেন, কেননা এ ধরনের কথা মতামতের ভিত্তিতে বলা যায় না।

আত্ তাবারানী সহীহ সনদে হযরত (আবু) মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আমরা কোনো জ্বেহাদে মহানবী (দ:)-এর সাথে ছিলাম যখন মুসলমানদের খাদ্য সংকট দেখা দেয়। আমি তাঁদের মুখমন্ডলে হতাশার ছাপ দেখতে পাই, আর এর বিপরীতে মোনাফেকদের চেহারায় দেখি আনন্দ। এই পরিস্থিতি দেখে রাসূলুল্লাহ (দ:) বলেন, ‘আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, আল্লাহ তোমাদের জন্যে খাবার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত সূর্য অস্তমিত হবে না।’ হযরত উসমান (রা:) আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (দ:)-এর ইচ্ছা নিশ্চিত জেনে চৌদ্দটি সওয়ার-ভর্তি খাবার এনে ওর মধ্যে নয়টি মহানবী (দ:)-এর খেদমতে পেশ করেন। মুসলমানদের চেহারায় খুশির ভাব ফুটে ওঠে, পক্ষান্তরে মোনাফেকদের মুখ ভার হয়ে যায়। আমি দেখতে পাই মহানবী (দ:) (দোয়ায়) হাত তোলেন যতোক্ষণ না তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখা যায়; তিনি হযরত উসমান (রা:)-এর জন্যে এমন দোয়া করেন, যা আমি ইতিপূর্বে আর কারো জন্যেই তাঁকে করতে দেখি নি।

নোট
  • হযরত ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে নয়, বরং হযরত আবু মাসউদ (রা:) থেকে ইমাম আহমদ তাঁর ‘ফযায়েলে সাহাবা’ কেতাবে (১:২৩৪ #২৮৭), এবং
  • আত্ তাবারানী দুর্বল সনদে সাঈদ ইবনে মোহাম্মদ আল-ওয়াররাক হতে নিজ ‘আল-কবীর’(১৭:২৪৯-২৫০ #৬৯৪) ও ‘আল-আওসাত’ (৭:১৯৫-১৯৬ #৭২৫৫) গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত; যদিও আল-হায়তামী (৯:৮৫-৯৬=৯:১১৩-১১৫ #১৪৫২৩, #১৪৫৬০) ইমাম তাবারানী (রহ:)-এর সনদকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

আল-বায়হাকী হযরত উরওয়া (রা:) থেকে রওয়ায়াত করেন যে

মহানবী (দ:) যখন হুদায়বিযায় উপস্থিত হন, তখন তিনি হযরত উসমান (রা:)-কে কুরাইশদের কাছে পাঠান এ কথা বলে, “তাদেরকে বলো, আমরা যুদ্ধ করতে আসি নি, শুধু ওমরাহ হজ্জ্ব ও ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে এসেছি।” তিনি আরও আদেশ করেন যেন হযরত উসমান (রা:) মক্কাবাসী ঈমানদার নর-নারীদেরকে আসন্ন বিজয়ের খোশ-খবরী দেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সেখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে তাঁদের ধর্ম-বিশ্বাস যে আর উপহাসের বিষয় হবে না, তাও জানাতে। হযরত উসমান (রা:) কুরাইশদের কাছে হুযূর পাক (দ:)-এর বার্তা পৌঁছে দেন, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং যুদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। এমতাবস্থায় রাসূলে খোদা (দ:) সকল মুসলমানকে সমবেত করেন এবং আনুগত্যের শপথ নেন।

এই সময় কেউ একজন উচ্চস্বরে বলেন, ”দেখো, নিশ্চয় জিবরীল আমীন এখানে মহানবী (দ:)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছেন।” মুসলমানগণও তখন নবী পাক (দ:)-কে ছেড়ে না যাবার অঙ্গীকার করেন। আল্লাহর মহিমায় এতে মূর্তি পূজারীরা ভয় পেয়ে যায় এবং এর দরুণ তারা ইতিপূর্বে যতো মুসলমানকে বন্দি করেছিল, তাঁদের সবাইকে ছেড়ে দেয়, আর সন্ধি স্থাপনের প্রস্তাব দেয়।

হযরত উসমান (রা:)-এর প্রত্যাবর্তনের আগে হোদায়বিয়ায় অবস্থানকালে মুসলমানগণ বলাবলি করতে থাকেন যে তিনি কাবায় পৌঁছে তওয়াফ করেছেন; এমতাবস্থায় হুযূর পূর নূর (দ:) বলেন, “আমরা অবরুদ্ধ থাকাকালীন আমি মনে করি না উসমান (কাবাকে) তওয়াফ করবে।” তিনি ফিরে এলে পরে মানুষেরা তাঁকে বলেন, “আপনি কাবার তাওয়াফ করেছেন।” হযরত উসমান (রা:) উত্তর দেন: “এই চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দাও! সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! মহানবী (দ:)-কে হুদায়বিয়ায় রেখে আমি ওখানে এক বছরের জন্যে বসতি স্থাপন করলেও মহানবী (দ:)-এর আগে আমি কাবাকে তাওয়াফ করতাম না। কুরাইশ গোত্র আমাকে তা করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু আমি তা ফিরিয়ে দেই।” অতঃপর মুসলমানগণ বলেন, “রাসূলুল্লাহ (দ:)-ই আমাদের মাঝে আল্লাহকে সবচেয়ে ভাল জানেন এবং তিনি-ই সর্বোত্তম মতের অধিকারী।”

নোট
  • হযরত ‘উরওয়া (রা:) থেকে এটি বর্ণনা করেন ইবনে আসাকির নিজ ‘তারিখে দিমাশ্ক’ গ্রন্থে (৩৯:৭৬-৭৮),
  • আল-বায়হাকী তাঁর ‘আস্ সুনান আল-কুবরা’ পুস্তকে (৯:২১৮-২২১), এবং
  • ইবনে আবি শায়বা; এ ছাড়া আংশিকভাবে ইবনে সা’আদ (২:৯৭)।
  • দেখুন - ইবনে কাসীরের তাফসীর (৪:১৮৭), কানয (#৩০১৫২), এবং ‘আওন আল-মা’বুদ (৭:২৮৯)।

তথ্যসূত্র

  • মহানবী (দ:)-এর অদৃশ্য জ্ঞানবিষয়ক ৮০টি হাদীস-[ইমাম কাজী ইউসুফ নাবহানী (রহ:)-এর ৯০০ পৃষ্ঠাব্যাপী গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহি আ’লাল আ’লামীন ফী মো’জেযাতে সাইয়্যেদিল মুরসালীন (১৩১৭ হিজরী/১৮৯৯ খৃষ্টাব্দ) হতে সংগৃহীত]-মূল: শায়খ ড: জিবরীল ফুয়াদ হাদ্দাদ দামেশকী-অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
  • sufi-hearth.blogspot.com