এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

মুহাম্মাদ (সঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

আল্লাহ্ তা‘য়ালা ইরশাদ করেছেন :

لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا

অর্থ : যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে উত্তম আদর্শ নিহীত আছে।

উল্লেখ্য যে, কোন মানুষের জীবন যতই ঐতিহাসিক হোক না কেন, যতক্ষণ না তার মধ্যে মানবিক গুণাবলী পরিপূর্ণতা লাভ করে, ততক্ষণ তা আমাদের জন্য আদর্শ হতে পারে না। আবার কোনো জীবনে পূর্ণাংগ মানবিক গুণাবলীর সমাবেশ ও তা যাবতীয় ত্রুটিমুক্ত তখনই প্রমাণিত হতে পারে, যখন তার সমগ্র অংশ আমাদের সামনে থাকে। বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহুর্ত তাঁর যামানার লোকদের সামনে ছিল এবং তাঁর ইন্তিকালের পর বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় তা পুরোপুরি সংরক্ষিত আছে। তাঁর জীবনের সামান্যতম অংশও এমন নেই যে, ঐ সময় তিনি তাঁর দেশবাসীর দৃষ্টি সীমার বাইরে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতে লিপ্ত ছিলেন।

তাঁর জন্ম, দুধপান, শৈশব, কৈশোর, যৌবন, ব্যবসায়ে যোগদান, চলাফেরা, বিবাহ, নবূওত পূর্বকালের বন্ধুবান্ধব, কুরাইশদের সাথে যুদ্ধ ও চুক্তিতে অংশ গ্রহণ, ‘আল্-আমীন’ উপাধি লাভ, কাবা ঘরে প্রস্তর বা হাজরে আস্ওয়াদ স্থাপন, ধীরে ধীরে নির্জন প্রিয়তা, হেরা গুহায় নি:সংগ অবস্থান, ওহী অবতরণ, ইসলামের দাওয়াত দান, প্রচার অভিযান, বিরোধীতা, তায়েফ সফর, মি‘রাজ, হিজরত, যুদ্ধ, হুদায়বিয়ার সন্ধি, বিভিন্ন দেশে ইসলামের দাওয়াত নামা প্রেরণ, ইসলাম প্রচার, দ্বীনকে পূর্ণতা প্রদান, বিদায় হজ্জ ইন্তিকাল-এর মধ্যে কোন সময়টি দুনিয়াবাসীর দৃষ্টি সীমার আড়ালে আছে? তাঁর কোন অবস্থাটি সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ অজ্ঞ? সত্য-মিথ্যা ভুল-নির্ভুল প্রত্যেকটি বিষয়ই পৃথকভাবে মওজুদ আছে এবং প্রত্যেকেই তা জানতে পারে।

তাঁর (স.) জীবন চরিত্র যেভাবে জন্ম থেকে ওফাত পর্যন্ত লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত আছে, পৃথিবীর অন্য কোন মহান ব্যক্তির জীবনী এভাবে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত হয়নি। কারো জীবন চরিত্র এতো ভাষায় রচিত হয়নি এবং এতো বেশী পঠিত ও হয়নি। মানব ইতিহাসে তিনি যে বিস্ময়কর অবদান রেখে গেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত তা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হবে না। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ৫৭০ খৃষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার সুব্হে সাদিকের সময়, আরবের মক্কা নগরীতে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবূওত প্রাপ্তির আগেই তাঁর কাওমের কাছে আল-আমীন বা বিশ্বস্ত হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন। যা ছিল তাঁর ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও সত্যবাদিতার ফল। এসব ছাড়া ও তাঁর চরিত্রে ছিল সমুদয় মানবীয় সদগুণের সমাবেশ; যেমন- করুনা, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা ও শান্তিবাদিতা। আধ্যাত্মিকতার সাথে কর্মব্যস্ততাও ছিল তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনিই ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, রহমাতুল্লিল আলামীন।

আরব ভূখন্ডে তাঁর জন্ম হয়েছিল এমন এক যুগে, যখন তা নিমজ্জিত ছিল অশিক্ষা, কুসংস্কার, গোষ্ঠীগত হানাহানি, নির্মম দাস প্রথা, নারীর প্রতি চরম বৈষম্যসহ নানারকম সামাজিক অনাচারে। সেই নৈরাজ্যকর অমানিশায় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব ঘটে আলোর দিশারীরূপে। তিনি অন্যায়, অবিচার ও অজ্ঞতার আঁধার থেকে মানুষকে পরিচালিত করেন সত্য ও ন্যায়ের পথে। ইসলামের সেই আলো, সারা বিশ্বকে আলোকিত করেছিল।

বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন সারা জাহানের সকলের নবী বা রাসূল হিসাবে। তাঁর আগমণের ফলে পূর্ববর্তী সব ধর্ম মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে। অন্য ধর্মের লোকদের তিনি ঘৃণা করতেন না। তাঁর সত্য ও ন্যায়ের আদর্শ ছিল- সর্বমানবিক। আজকের পৃথিবীতে যে হিংস্র হানাহানি চলছে, তা থেকে পরিত্রানের পথ রয়েছে এই মহান ব্যক্তির প্রদর্শিত শান্তি ও সমঝোতার পথে।

তাঁর সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন মনিষীদের সূচিন্তিত মত হলো
  • জর্জ বার্নাড’শ:

বিশ্ববাসী- যদি তোমরা নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে চাও এবং সর্বাঙ্গীন সুন্দর জীবন ব্যবস্থা কামনা কর, তবে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণভার মুহাম্মদ (স.)-এর হাতে ছেড়ে দাও।

  • টলষ্টয় :

আমি মুহাম্মদ (স.) থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর আগে দুনিয়া ভ্রান্তির আঁধারে আচ্ছাদিত ছিল। তিনি সে আধারে আলো হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন। আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য যে, মুহাম্মদ (স.)-এর তাব্লীগ ও হিদায়েত যথার্থ ছিল।

  • পাদরী ওয়ারলেস :

মুসলমানদের যে কুরআন সম্মত ধর্ম বিধান রয়েছে, তাহলো শান্তি ও নিরাপত্তার।

  • মসিয়ে সেন্ট হিলার :

মুসলমানদের পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ (স.) অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ও সুহৃদয় লোক ছিলেন। আর ইসলামই শুধু এ মর্যাদার অধিকারী যে, উহা অতি অল্প সময়ের মধ্যেই কোটি কোটি মানুষকে আপন করে নিয়েছে। আর আজ আমরা তার তাৎপর্য অনুধাবন করছি। ইসলামের এ তাৎপর্য বিশ্বকে সমুজ্জ্বল করেছে।

উল্লেখ্য যে, বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সারা পৃথিবীর জন্য রহমতস্বরূপ। তাঁর ৬৩ বছরের মহান জীবনের প্রতিটি ক্ষণ ও মুহুর্তের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যম মন্ডিত । তাঁর মহান জীবনাদর্শের পরতে পরতে মানব জাতি খুঁজে পাবে সুন্দর অনুপম আদর্শ।