মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ























রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর ইলমে গায়েব ছিল । এটা সুন্নি জামায়াতের আক্বীদা । এটা হাদীস, কুরআন ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত ।

কোরআনঃ

আল্লাহ্‌ তা’আলা কোরআন পাকে বলেনঃ

আল্লাহ ছাড়া আসমান জমিনের কেউ গায়েব জানে না

অন্য আয়াতে আছে

তাঁর অদৃশ্য বিষয়ের খবর কারো কাছে প্রকাশ করেন না, তবে যে রাসূলের প্রতি তিনি সদয় হন (তাকে প্রকাশ করেন)

একইভাবে মহান আল্লাহ পাক কোরআনের অপর আয়াতে বলেনঃ

আল্লাহ তো গায়েবের খবর দেন না, তবে এর জন্য যে রাসূলকে চান নির্ধারিত করেন

আমাদেরকে কোরআনের সকল আয়াতের উপরই পূর্ন বিশ্বাস করতে হবে । অপর আয়াতে বলেনঃ

তিনি (মুহাম্মাদ (সঃ)) গায়েবের ব্যাপারে কৃপণ নন

এবং আল্লাহ্‌ নাযিল করলেন আপনার উপর কোরআন এবং হিকমত এবং তিনি আপনাকে শিক্ষা দিলেন যা আপনার জানা ছিল না এবং সত্যিই আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ বিরাট ।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,

এতো গায়েবের খবর, যা আপনার নিকট প্রেরণ করি । অথচ আপনি ঐ সময় তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা সবাই মিলে ষড়যন্ত্রহ পাকাচ্ছিল

এ ছিল গায়েবেরই খবর, যা আপনার কাছে ওহী স্বরূপ পাঠাই । আপনি তো ঐ সময় তাদের নিকট ছিলেন না যখন তারা তাদের কলম তুলে লটারী করছিল - কে মরিয়ম এর লালন পালন করবে । আপনি তখন তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা পরস্পর ঝগড়া করছিল ।

হাদীসঃ

হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) হতে বর্নিত । তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ্‌ যার প্রতি কল্যাণ ইচ্ছা করেন, তাঁকে দ্বীনের তত্ত্ব-গভীর প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমি বণ্টনকারী এবং আল্লাহ্‌ দান করে থাকেন ।

— মুসলিম

এই দান ও বণ্টন কিয়ামত অবধি চলতে থাকবে । হায়াত অবস্থায় যে প্রকার বণ্টন চলেছিল, ওফাতের পরও সে প্রকার বণ্টন চলতে থাকবে । তরীকত সে বন্টনেরই বিকাশ । মুয়ায বিন জাবাল (রাঃ) সূত্রে তিরমিযী বর্নিত হাদসের একস্থানে আছে- রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন,

তখন আল্লাহ পাককে দেখলাম তাঁর করতল আমার দু'কাধেঁর মাঝখানে রাখলেন । এতে আমি তাঁর আঙ্গুলের ডলার শীতলতা আমার দুই দুধের মাঝখানে অনুভব করলাম । এতে আমার সামনে সব কিছুই সুস্পষ্ট হয়ে গেল, আমি সবকিছু জেনে নিলাম ।

অপর বর্ননায় আছে

তখন আমি পূর্ব পশ্চিমের মধ্যে যা আছে সব কিছুর জ্ঞান লাভ করলাম ।

হযরত উমর (রাঃ) হতে বর্নিত । তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) দাঁড়াবার মত দাঁড়ালেন (সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত) তিনি আমাদেরকে সৃষ্টির প্রারম্ভ হতে শুরু করে বেহেশতীরা বেহেশতে স্ব স্ব মঞ্জিলে ও দোযখীরা দোযখে স্ব স্ব মঞ্জিলে দাখেল হওয়া পর্যন্ত সব কিছু বললেন । যে তা কণ্ঠস্থ করে রাখল, সে তা সংরক্ষিত রাখল এবং যে তা ভুলে গেল, সে তা ভুলেই গেল ।

— বুখারী

কাফির শত্রু মুসলমানদের উপর পরাক্রান্ত হবে না, কিন্তু মুসলমানে মুসলমানে শত্রুবশত যুদ্ধ বিগ্রহ চলতে থাকবে ।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা) হতে বর্নিত,তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আমার হিজরত হতে ষাট বৎসরের মাথায় হোসাইন শহীদ হবে ।

— রেওয়ায়েতে তাবরানী ফিল কাবীর

মুসনাদে ইমাম আহমাদ (রাঃ) এর হাদীস ও তাবাকাতে ইবনে সা'দ এবং মুসনাদে কবীর আত্‌-তাবারানীতে আবূযর গিফারী (রাঃ) থেকে সহিহ সনদে বর্নিত হাদিস ও আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আবূ ইয়ালা, ইবনে মানী ও তাবরানীর হাদীসে বর্ণিত আছে

আমাদের রাসুলুল্ললাহ (সঃ) এমন অবস্থায় রেখে গেছেন যে, আকাশে কোন পাখী তাঁর ডানা ঝাপটালে সে সম্পরকেও আমাদের জ্ঞান দিয়ে গেছেন ।

বুখারী ও মুসলিম শরীফে কুসুফের হাদীসে বলা আছে,

যে জিনিস আমি কখনো দেখি নি, তা আমাকে আমার এ অবস্থান থেকে দেখানো হয়েছে ।

তাব্‌রানী তাঁর গ্রন্থে এবং নাঈম বিন হাম্মাদ 'কিতাবুল ফিতান' এ এবং আবু নাঈম তাঁর 'হিলইয়া' গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) এর সূত্রে নবী (সঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ননা করেন যে,

তিনি বলেন, "আল্লাহ আমার জন্য দুনিয়াকে তুলে ধরলেন, তখন আমি তাঁর প্রতি তাকিয়ে দেখে নিলাম যা কিছু কিয়ামত পর্যন্ত এখানে হবে এমনি সুস্পষ্টভাবে দেখলাম, যেন আমি আমার হাতের এ তালু দেখছি"