মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ 5

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ




  • এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ 5



















কোরআন থেকে দলিল ৭

وَعَلَّمَكَ مَالَمْ تَكُنْ تَعْلَمْ وَكَانَ فَضْلُ اللهِ عَلَيْكَ عَظِيْمًا

এবং আপনাকে শিখিয়ে দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না। আপনার উপর আল্লাহর এটি বড় মেহেরবাণী ।

তাফসীরে জালালাইন এ আয়াতের তাফসীরে লিখা হয়েছেঃ

اَىْ مِنَ الْاَحْكَامِ وَالْغَيْبِ

যা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) জানতেন না ,তা হচ্ছে ধর্মের অনুশাসন ও অদৃশ্য বিষয়াদি ।

তাফসীরে কাবীরে আছেঃ

اَنْزَلَ اللهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَاطْلَعَكَ عَلى اَسْرَارِهِمَا وَوَافَقَكَ عَلى حَقَائِقِهِمَا

অথাৎঃ আল্লাহ তা’আলা আপনার উপর কুরআন ও হিকমত (জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শন) অবতীর্ণ করেছেন, উহাদের গুপ্ত ভেদসমূহ উদ্ভাসিত করেছেন এবং উহাদের হাকীকত সমুহ সম্পর্কে ও আপনাকে অবহিত করেছেন ।

‘তাফসীরে খাযেনে’ উল্লেখিত আছেঃ

শরীয়তের আহকাম ও ধর্মীয় বিষয়াদি আপনাকে শিখিয়েছেন । বলা হয়েছে যে, আপনাকে ইলমে গায়বের আওতাভূক্ত সে সমস্ত বিষয়াদিও শিখিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না । আরও বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো আপনাকে রহস্যবৃত, গোপণীয় বিষয়সমূহ শিখিয়েছেন অন্তরের লুকায়িত বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেছেন মুনাফিকদের ধোকাবাজি ও বাওতাবাজি সম্পর্কে অবহিত করেছেন ।

তাফসীরে মাদারেকে আছেঃ

مِنْ اُمَوْرُ الدِّيْنِ وَالشَّرَ ائِعِ اَوْمِنْ خَفِيَّاتِ الْاُمُوْرِ وَضَمَائِرِ الْقُلُوْبِ

দ্বীন ও শরীয়তের বিষয়সমূহ শিখিয়েছেন আপনাকে এবং গোপণীয় বিষয়াদি ও মানুষের অন্তরের গোপণীয় ভেদ ইত্যাদিও শিখিয়ে দিয়েছেন

তাফসীরে হুসাইনী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বাহরুল হাকায়েক এ উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে

এটা হচ্ছে পূর্ববর্তী যাবতীয বিষয়ের জ্ঞান যা আল্লাহ তাআলা হুযুর আলাহিস সালামকে পবিত্র মেরাজ রজনীতে দান করেছিলেন । এ মর্মে মেরাজের হাদীছে উল্লেখিত আছে আমি আরশের নিচে ছিলাম তখন একটি ফোটা আমার কণ্ঠনালীতে ঢেলে দেওয়া হল এর পর আমি অতীত ও ভবিষ্যতের সমস্ত ঘটনাবলীর জ্ঞান লাভ করলাম ।

জামেউল বয়ান তাফসীর গ্রন্থে আছে

قَبْلَ فُزُوْلِ ذلِكَ مِنْ حَفِّيِتِ الْاُمُوْرِ

অর্থাৎ আপনাকে সে সমস্ত বিষয় আল্লাহ বলে দিয়েছেন যা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার আগে আপনার জানা ছিল না ।

এ আয়াত ও বর্ণিত ব্যাখ্যা সমূহ থেকে বোঝা গেল যে হুযুর আলাহিস সালামকে আতীত ও ভবিষ্যতের সমস্ত ঘটনাবলী সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল । আরবী ভাষায় مَا শব্দটি ব্যাপকতা প্রকাশের নিমিত্তে ব্যবহৃত হয় । তাই উক্ত আয়াত থেকে বোঝা গেল যে শরীয়তের বিধি বিধান দুনিয়ার সমস্ত ঘটনাবলী মানুষের ঈমানী অবস্থা ইত্যাদি,যা কিছু তার জানা ছিল না তাকে সম্যকরূপে অবগত করান হয় । কেবলমাত্র ‘ধর্মীয় বিধানাবলীর’ জ্ঞান দান করা হয়েছিল” আয়াতের এরুপ সীমিত অর্থ গ্রহণ করা মনগড়া ভাবার্থ গ্রহণ করার নামান্তর যা কুরআন হাদীছ ও উম্মতের আকীদার পরিপন্থী । এ সম্বন্ধে সামনে আলোচনা হবে ।



কোরআন থেকে দলিল ৮

مَافَرَّطْنَا فِى الْكِتَابِ مِنْ شَئْ اِنَّ الْقُرْانَ مُشْتَمِلٌ عَلى جَمِيْعِ الْاَحْوَالِ

আমি এ কিতাবে (কুরআনে) কিছু বাদ দিইনি কুরআন করীমে সমস্ত অবস্থার বিবরণ রয়েছে ।

তাফসীরে আনওয়ারুত তনযীলে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছেঃ

কিতাব শব্দ দ্বার লওহে মাহফুজকেই নির্দেশ করা হয়েছে । কেননা এ লওহে মহফুজে জগতের সমস্ত কিছুই উল্লেখিত, প্রত্যেক প্রকাশ্য, সুক্ষ্ম বিষয় বা বস্তু এমনকি কোন জীব জন্তু বা জড় পদার্থের কথাও বাদ দেয়া হয়নি ।

তাফসীরে আরায়েসুল বয়ানে এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসংগে বলা হয়েছেঃ

কিতাবে সৃষ্টিকুলের কোন কিছুরই কথা বাদ রাখা হয়নি কিন্তু মারেফতের আলোকে মদদপুষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া তা কারো দৃষ্টি গোচর হয় না ।

প্রখ্যাত ইমাম শারানী (রহমতুল্লাহে আলাইহে) তবকাতে কুবরার মধ্যে লিখেছেন (ইদখালুস সেনান গ্রন্থের ৫৫পৃঃ হতে সংগৃহীত ।)

যদি আল্লাহ তা’আলা তোমাদের হৃদয়ের তালাবদ্ধ প্রকোষ্টের তালা খুলে দেন তাহলে তোমরা কুরআনের জ্ঞানভাণ্ডারের সন্ধান পাবে এবং কুরাআন ভিন্ন অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হতে হবে না । কেননা কুরআনের মধ্যে অস্তিত্ববান সব কিছুই বিধৃত আছে। আল্লাহ তা’আলা ফরমান এমন কিছু নেই যা আমি কুরআনে বর্ণনা করিনি ।

এ আয়াতে ও এর বর্ণিত তাফসীর সমূহ থেকে বোঝা গেল যে কিতাবের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত অবস্থার কথা বিদ্যমান আছে। কিতাব বলতে কুরআন বা লওহে মাহফুজকে বোঝানো হয়েছে। কুরআন হোক বা লওহে মাহফুজ হোক উভয়ের জ্ঞান হুযুর আলইহিস সলামের আছে। এ সম্পর্কে সামনে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ফলস্বরূপ দুনিয়াও আখিরাতের যাবতীয় বিষয় হুযুর আলইহিস সলামের জানা আছে । কেননা কুরআন ও লওহে মাহফুজ সমস্ত জ্ঞানের আধার উভয়টি সম্পর্কে হুযুর পুরনুর (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) ওয়াকিবহাল ।

তথ্যসূত্র