মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ 7

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ






  • এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ 7

















কোরআন থেকে দলিল ১১

وَتَفْصِيْلَ الْكِتَابِ لَارَيْبَ فِيْهِ

এবং লওহে মাহফুজে যা কিছু লিখা আছে কুরআনে তার বিস্তৃত বিবরণ রয়েছে । এতে কোন সন্দেহ নেই ।

তাফসীরে জালালাইনে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে

এ কুরআন হচ্ছে শরীয়ত ও হাকীকতের প্রমাণিত বিষয়সমূহের বিশ্লেষণ। তাবীলাতে নজমিয়া তে উল্লেখিত আছে যে, কুরআনে সে সমস্ত বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, যা অদৃষ্টে আছে, এবং যা সেই কিতাবে (লওহ মাহফুজ) লিপিবদ্ধ রয়েছে, যেখানে কোনরূপ রদবলের অবকাশ নেই। কেননা এটা অনাদি ও অনন্ত।

উপরোক্ত আয়াত ও ব্যাখ্যা সমূহ থেকে প্রমাণিত হলো যে, কুরআন শরীফে শরীয়তের অনুশাসন সমূহ ও সমস্ত জ্ঞান মওজুদ আছে। এ আয়াতে থেকে আরও বোঝা গেল যে, কুরআন শরীফে পুরা লওহ মাহফুজের বিস্তারিত বিবরণ আছে আর লওহে মাহফুজ হচ্ছে সমস্ত জ্ঞানের আকর। কুরআনেই উল্লেখিত আছে

وَلَارَطَبٍ وَّلَايَابِسٍ الَّفِىْ كِتَابٍ مُّبِيْن

এবং কুরআনে আরও এরশাদ করা হয়েছে-

اَلرَّحْمنُ عَلَّمَ الْقُرْاَنْ

সুতরাং, লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ সমস্ত কিছুর জ্ঞান হুযুর পুর নুর আলাইহিস সালামের রয়েছে। কেননা, কুরআন হচ্ছে লওহ মাহফুজেরই বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ।



কোরআন থেকে দলিল ১২

مَاكَانَ حَدِيْثًا يُفْتَرى وَلكِنَّ تَصْدِيْقَ الَّذِىْ بَيْنَ

এ কোন বানোওয়াট কথা নয়, এতে রয়েছে আল্লাহর আগের উক্তি সমূহের সত্যায়ন ও প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা।

তাফসীরে খাযেনে এ আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করা হয়েছে

হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম! আপনার নিকট অবতীর্ণ এ কুরআনে রয়েছে সবকিছুর বিশদ বিবরণ, হালাল-হারাম, শাস্তি বিধান, আহকাম, কাহিনী সমূহ, উপদেশাবলী ও উদাহরণসমূহ, মোট কথা, যা কিছু আপনার প্রয়োজন হয় আর এগুলো ছাড়াও ধর্মীয় ও পার্থিব কর্মকান্ডের বান্দাদের যে সমস্ত বিষয়াদি প্রয়োজন হয় সবকিছুর বিবরণ ওই কুরআনেই পাওয়া যাবে।

তাফসীরে হুসাইনীতে আছে

দ্বীন-দুনিয়ার প্রয়োজনীয় সবকিছুর বর্ণনা এ কুরআনের মধ্যে আছে। ইবনে সুরাকা প্রণীত কিতাবুল ইজাযে আছে- জগতে এমন কোন কিছু নেই, যা কুরআনের মধ্যে নেই।



কোরআন থেকে দলিল ১৩

اَلرَّحْمنُ عَلَّمَالْقُرْ اَنْ خَلَقَ الْاِنْسَانَ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ

দয়াবান আল্লাহ তাআলা স্বীয় মাহবুবকে কুরআন শিখিয়েছেন মানবতার প্রাণতুল্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে সৃষ্টির পূর্বাপর সব কিছুর তাৎপর্য বাতলে দিয়েছেন।

তাফসীরে মাআলেমুত তানযীল ও হুসাইনীতে এ আয়াতে ব্যাখা করা হয়েছে নিম্নরূপ

আল্লাহ তাআলা মানবজাতি তথা মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে পূর্ববতী ও পরবর্তী সমস্ত বিষয়ের বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন।

তাফসীরে খাযেনে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছেঃ

বলা হয়েছে যে, উক্ত আয়াতে ইনসান বলতে হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কে বোঝানো হয়েছে তাঁকে পুর্ববর্তী ও পরবর্তী সব বিষয়ের বিবরণ শিক্ষা দেয়া হয়েছে। কেননা, তাঁকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের ও কিয়ামতের দিন সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে

তাফসীরে রূহুল বয়ানে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে

আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী আলাইহিস সালামকে কুরআন ও স্বীয় প্রভুত্বের রহস্যাবলীর জ্ঞান দান করেছেন, যেমন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ফরমাচ্ছেন- وَعَلَّمَكَ مَالَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ

সে সব বিষয় আপনাকে শিখিয়েছেন যা আপনি জানতে না।

তাফসীরে মাদারেকে এ আয়াতে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে

ইনসাল বলতে মানবজাতি বা আদম (আলাইহিস সালাম) বা হুযুর আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে।

মায়ালেমুত তানযীলে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বল হয়েছে

বলা হয়েছে যে, এ আয়াতে الِنْسَانُ ইনসান বলতে হুযুর আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে এবং بَيَانُ বয়ান বলতে একথাই বোঝানো হয়েছে যে, তাঁকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লা আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ঐ সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান দান করা হয়েছে, যা তিনি জানতেন না।

তাফসীরে হুসাইনীতে এ আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে

অথবা এ কথা বোঝানো হয়েছে, যে, মহান আল্লাহ হুযুর আলাইহিস সালামের সত্ত্বাকে সৃষ্টি করেছেন, এবং তাঁকে যা কিছু হয়েছে বা হবে সেসমস্ত বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছেন।

উল্লেখিত আয়াত ও উহাদের তাফসীর সমূহ থেকে বোঝা গেল যে, কুরআনের মধ্যে সবকিছু আছে এবং এর পরিপূর্ণ জ্ঞান হুযুর আলাইহিস সালামকে প্রদান করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র