এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

মুহাম্মাদ (সঃ) নূর

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

নবী করিম (সঃ) নূর হওয়ার অর্থ এটা নয় যে, তিনি আল্লাহ্‌র সত্ত্বাগত মূল দৈহিক নূরের অংশ বিশেষ । এবং এটাও নয় যে, তিনি রসূলের নূরের উৎস আল্লাহ্‌র সত্ত্বাগত মূলের নূর । এবং এটাও নয় যে, হুজুরের নূর আল্লাহ্‌র মত সত্ত্বাগত চিরস্থায়ী । এটাও নয় যে, রব্বুল আলামীন নবীর মধ্যে ঢুকে গেছেন । যাতে শিরক ও কুফরী সংঘটিত হয়ে যায় । বরং অর্থ ইহাই যে, হুজুর (সঃ) মাধ্যম বিহীন আল্লাহ্‌ থেকে ফয়েজ গ্রহণকারী । যেমন- একটি বাতি হতে দ্বিতীয় আর একটি বাতি জ্বালানোর পর দ্বিতীয় বাতি হতে আরও হাজার হাজার বাতি জ্বালান । অথবা একটি শিশা সূর্যের সামনে রাখুন, এতে শিশাটি জ্বলে উঠবে । তারপর ঐ শিশাটিকে ঐ শিশাগুলোর দিকে ফিরিয়ে দিন, যেগুলো অন্ধকারের মধ্যে অবস্থিত । এতে সমস্ত অন্ধকারস্থ শিশা জ্বলে উঠবে । এ কথা স্পষ্ট যে, প্রথমোক্ত শিশার মধ্যে সূর্য স্বয়ং এসে যেমন উপস্থিত হয়নি তেমনি সূর্যের অংশ বিশেষ শিশার মধ্যেও রাখা হয়নি । বরং শুধুমাত্র এটাই হয়েছে যে, প্রথম শিশা বিনা মাধ্যমে সূর্যের আলোকে আলোকিত হয়েছে এবং অবশিষ্ট সমস্ত শিশা ঐ শিশা হতে আলো লাভ করেছে । যদি প্রথম শিশাটি মধ্যস্থলে না হত তাহলে অবশিষ্ট সমস্ত শিশাগুলি অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে যেত । উদাহরণস্বরূপ এটা বুঝে নিন যা রাব্বুল আলামীন হযরত আদম (আঃ) সম্পর্কে বলেছেন-

আর যখন আমি তাঁকে ঠিক করলাম এবং তাঁর মধ্যে আমি আমার রুহ ফুকে দিলাম তখন তোমরা সকলেই তাঁর সামনে সিজদায় অবনত হবে ।

হযরত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে বলেন

তিনি (ঈসা (আঃ)) তাঁর রুহ ।

এ কারনে হযরত ঈসা (আঃ) কে “রুহুল্লাহ” বলা হয় । ইহার অর্থ এটা নয় যে, আদম (আঃ) ও ঈসা (আঃ) উভয়েই আল্লাহ্‌র রুহ এর টুকরো বা অংশ বিশেষ বা আল্লাহ্‌ তাঁদের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন ।

বরং আদমকে কোণ পিতামাতা ছাড়া এবং ঈসাকে পিতার মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহ্‌ তাঁদের মধ্যে রুহ দান করেন । অনুরূপ নবী করিম (সঃ) আল্লাহ্‌র ‘নূর’ হওয়ার অর্থ এটাই যে, তিনি সৃষ্টি জগতের কোণ মাধ্যম ব্যতীত প্রভু থেকে ফয়েজ লাভ করেন ।