মুহাম্মাদ (সঃ) নূর সমর্থনে দলিল সমূহ 7

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বর্ণনা করেন যে রাসূলে খোদা (দ:) সেজদারত অবস্থায় আরয করেন:

”এয়া আল্লাহ! আপনি আমার কলবে (অন্তরে) নূর (আলো/জ্যোতি) স্থাপন করুন; আরও স্থাপন করুন আমার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিতে, আমার ডানে ও বামে, আমার সামনে ও পেছনে, ওপরে ও নিচে; আমার জন্যে নূর সৃষ্টি করুন।”

অথবা তিনি বলেন, “আমাকে নূর (আলো) করুন।”

হযরত সালামা (রা:) বলেন,

আমি কুরাইব (রা:)-এর দেখা পাই এবং তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:)-কে উদ্ধৃত করেন, ‍যিনি বলেন:

“আমি আমার খালা মায়মুনা (রা:)-এর সাথে ছিলাম; এমন সময় রাসূলুল্লাহ (দ:) সেখানে আসেন এবং ওই হাদীসের বাকি অংশ ব্যক্ত করেন, যা গুনদার বর্ণনা করেছিলেন, আর নিঃসন্দেহে এই কথাও যোগ করেন, “আমাকে নূর (আলো) করুন।”

নোটঃ
  • ইমাম মুসলিম (রহ:) এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থের ‘সালাত আল-মুসাফিরীন’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেন।
  • ইমাম আহমদ (রহ:)-ও নিজ ’মুসনাদ’ কেতাবে শক্তিশালী সনদে এটি বর্ণনা করেন, তবে ওপরে উদ্ধৃত প্রথম রওয়ায়াতের বিপরীত দিক হতে; যার ফলে হুজূর (দ:)-এর ভাষ্য এ রকম হয়: “আর আমাকে নূর (আলো) করুন”, অথবা তিনি বলেছিলেন, “আমার জন্যে নূর সৃষ্টি করুন।”
  • ইমাম ইবনে হাজর (রহ:) তাঁর ‘ফাতহুল বারী’ (১৯৮৯ ইং সংস্করণ, ১১:১৪২) কেতাবে ইবনে আবি আসিমের রচিত ‘কেতাব আল-দু’আ’-এর উদ্ধৃতি দেন যা’তে বিবৃত হয়েছে: “আর আমাকে মন্ঞ্জুর করুন নূরের ওপর নূর” (ওয়া হাবলী নূরান ‘আলা নূর)।

মহানবী (দ:)-এর শরীর মোবারকের অন্যান্য অংশের কথা উল্লেখকারী এই হাদীসের আরও বহু নির্ভরযোগ্য বর্ণনা রয়েছে। ইমাম ইবনে হাজর বলেন যে ইমাম আবু বকর ইবনে আরবী (রহ:)-এর হিসেবমতে সমস্ত বর্ণনায় হুজূর পূর নূর (দ:)-এর নিজের জন্যে প্রার্থিত নূরের সংখ্যা ২৫টি। এগুলো নিম্নরূপ:

  • মহানবী (দ:)-এর কলবে নূর
  • জিহ্বায় নূর
  • শ্রবণশক্তিতে নূর
  • দৃষ্টিতে নূর
  • ডানে, বামে, সামনে, পেছনে, ওপরে এবং নিচে নূর
  • আত্মাতে নূর
  • বক্ষে নূর
  • পেশীতে নূর
  • মাংসে নূর
  • রক্তে নূর
  • চুলে নূর
  • চামড়ায় নূর
  • হাড়ে নূর
  • রওযায় নূর
  • ”আমার জন্যে আলো বৃদ্ধি করুন”
  • ”আমায় অসীম আলো দিন”
  • ”আমায় আলোর ওপর আলো দিন”
  • ”আমায় আলো করুন”।

মহানবী (দ:) সর্বপ্রথম তাঁর মায়ের কাছে দেখা দেন নূর তথা উজ্জ্বল জ্যোতির আকৃতিতে যা তাঁর মায়ের সামনে দুনিয়াকে এমনই আলোকিত করে যে তিনি মক্কায় অবস্থান করে সিরিয়ার প্রাসাদগুলোও স্পষ্ট দেখতে পান:

এরবাদ ইবনে সারিয়া (রা:) ও আবু এমামা (রা:) বলেন যে রাসূলুল্লাহ (দ:) এরশাদ করেন,

“আমি হলাম আমার পিতা (পূর্বপুরুষ) ইবরাহীম (আ:)-এর দোয়া, এবং আমার ভাই ঈসা (আ:)-এর দেয়া শুভসংবাদ। যে রাতে ধরাধামে আমার শুভাগমন হয়, আমার মা এমনই এক নূর দেখতে পেয়েছিলেন যা দামেশ্কের দূর্গগুলো আলোকিত করেছিল এবং আমার মা ওই আলোর রৌশনিতে সেগুলো দেখেছিলেন।”

নোটঃ
  • ওপরের এই হাদীস বর্ণনা করেছেন আল্ হাকিম (রহ:) তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ পুস্তকে (২:৬১৬-১৭),
  • ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:) নিজ ‘মুসনাদ’ কেতাবে (৪:১৮৪), এবং
  • ইমাম বায়হাকী (রহ:) স্বরচিত ‘দালাইল আল-নবুওয়া’ গ্রন্থে (১:১১০, ২:৮)।
  • ইবনুল জওযী এটি উদ্ধৃত করেন ‘আল ওয়াফা’ কেতাবে (পৃষ্ঠা ৯১, বেদায়াত নাবিই-ইনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২১তম অধ্যায়) এবং
  • ইবনে কাসির ‘মাওলিদে রাসূলিল্লাহ’ ও ’তাফসীরে কাসির’ (৪:৩৬০) গ্রন্থগুলোতে।
  • ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী শাফেয়ী (রহ:) এই বর্ণনা নিজ ‘মজমা’ আল-যাওয়াইদ (৮:২২১) কেতাবে উদ্ধৃত করে বলেন যে ইমাম তাবারানী (রহ:) এবং ইমাম আহমদ হাম্বল (রহ:)-ও এটি বর্ণনা করেছেন; আর ইমাম আহমদ (রহ:)-এর সনদ ‘হাসান’ (উত্তম)।

ইবনে ইসহাক তাঁর কৃত প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের ইতিহাস পুস্তকে ইবনে হিশামের সার-সংক্ষেপমূলক ‘সীরাতে রাসূল-আল্লাহ’ (দারুল উইফাক্ক সংস্করণ, ১/২:১৬৬) বইয়ের অনুরূপ কিন্তু দীর্ঘ বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন; ইবনে ইসহাক বলেন:

সাওর ইবনে ইয়াযিদ আমার কাছে বর্ণনা করেন কোনো এক আলেমের কাছ থেকে প্রাপ্ত হয়ে, যিনি আমার মনে হয় খালেদ ইবনে মা’দান আল-কালা’ঈ হবেন; বর্ণনামতে একবার সাহাবীদের একটি ছোট দল হুজূর পূর নূর (দ:)-এর কাছে আরয করেন, ’এয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! আমাদেরকে আপনার সম্পর্কে বলুন।’

তিনি উত্তর দেন, ”আমি হলাম আমার পিতা (পূর্বপুরুষ) ইবরাহীম (আ:)-এর দোয়া, এবং আমার ভাই ঈসা (আ:)-এর প্রদত্ত শুভসংবাদ; আর সেই নূর যা আমার মা আমার জন্মকালীন সময়ে দেখেছিলেন তাঁর থেকে বিচ্ছুরিত হয়ে সিরিয়ার দূর্গগুলোকে আলোকিত করেছিল। আমার (শৈশবকালীন) যত্ন নিয়েছিল বনু সা’য়াদ ইবনে বকর। আমি যখন আমার এক ভাইয়ের সাথে আমাদের ঘরের পাশে অবস্থান করছিলাম, তখন দু’জন ব্যক্তি (ফেরেশতা) ধবধবে সাদা পোষাকে আমার কাছে আসেন; তাঁদের হাতে ছিল বরফ (তুষার)-ভর্তি একটি পাত্র। তাঁরা আমার বক্ষ বিদীর্ণ করেন এবং হৃদযন্ত্র বের করে তা খোলেন, আর তা থেকে এটি কালো পিণ্ড বের করে ফেলে দেন। অতঃপর তাঁরা আমার হৃদযন্ত্র ও বক্ষকে ওই বরফ দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করেন। এরপর তাঁদের একজন অপরজনকে বলেন, ‘এঁকে ওনার জাতির দশজনের সাথে (পাল্লায়) ওজন দাও।’ তা দেয়া হলে আমি ওই দশজনের চেয়ে ভারি হই। ওই দু’জনের প্রথম জন আবার বলেন, ‘তাঁর জাতির এক’শ জনের সাথে ওজন দাও।’ তা করা হলে আমি আবারও ভারি হই। এমতাবস্থায় প্রথম জন আবার বলেন, ‘এক হাজার জনের সাথে এবার ওজন দাও।’ তা করা হলে এবারও আমি ভারি হই। অতঃপর তিনি বলেন, ‘তাঁকে ছেড়ে দাও! কেননা, আল্লাহর শপথ, তুমি যদি তাঁকে তাঁর সমগ্র জাতির সাথে ওজন দিতে, তাও তিনি ওজনে ভারি হতেন।’

[ইবনে জারির তাবারীর বর্ণনায় আরও যুক্ত আছে: “তাঁরা এরপর আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কপালে দু’চোখের মাঝখানে চুম্বন করেন এবং বলেন, ‘এয়া হাবীব (দ:)! ভয় পাবেন না; নিশ্চয় আপনি যদি জানতেন সে ভালাই সম্পর্কে যা আপনার দ্বারা হতে যাচ্ছে, তাহলে আপনি খুশি (সন্তুষ্ট) হতেন’]।”

নোটঃ
  • এই বিবরণ তাবারীর ইতিহাসেও লিপিবদ্ধ আছে।
  • সাওর ইবনে ইয়াযিদ এবং খালেদ ইবনে মা’দান দু’জনই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যাঁদের কাছ থেকে ইমাম বুখারী (রহ:) ও অন্যান্য হাদীসবেত্তা হাদীস গ্রহণ করেছেন।

তথ্যসূত্র