মুহাম্মাদ (সঃ) নূর সমর্থনে দলিল সমূহ 8

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

ইমাম কাজী আয়ায (রহ:) তাঁর প্রণীত ‘শেফা শরীফ’ গ্রন্থে মহানবী (দ:)-এর সুউচ্চ বংশ পরিচয় ও তার শ্রেষ্ঠত্ব-বিষয়ক অধ্যায়ে বলেন:

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বর্ণনা করেন যে,

আল্লাহতা’লা হযরত আদম (আ:)-কে সৃষ্টি করারও ২০০০ বছর আগে মহানবী (দ:)-এর রূহ মোবারক মহান প্রভুর হুযূরে (উপস্থিতিতে) নূরের আকৃতিতে অস্তিত্বশীল ছিলেন। ওই নূর খোদাতা’লার প্রশংসা ও বন্দনা করতেন, আর ফেরেশতাকুল ওই নূরের প্রশংসা করতেন। আল্লাহতা’লা যখন হযরত আদম (আ:)-কে সৃষ্টি করেন, তখন তিনি ওই নূরকে আদম (আ:)-এর পবিত্র কোমরের পেছনের দিকে বিচ্ছুরণ করেন।

ইমাম সৈয়ুতী (রহ:) নিজ ‘মানাহিল আল্ সাফা’ (পৃষ্ঠা ৫৩ #১২৮) পুস্তকে বলেন:

(ওপরের বর্ণনাটি) ইবনে আবি উমর আল-’আদানী তাঁর ‘মুসনাদ’ কেতাবে উদ্ধৃত করেছেন।

'তাখরিজ আহাদীস শরহ আল-মাওয়াকিফ’ (পৃষ্ঠা ৩২ #১২) গ্রন্থে ইমাম সৈয়ুতী (রহ:) এটি উদ্ধৃত করেন এভাবে:

আল্লাহতা’লার উপস্থিতিতে কুরাইশ ছিল একটি নূর।

ইবনে আল-কাততান তাঁর ‘আহকাম’ কেতাবে (১:১২) এই বর্ণনা ভিন্ন আকারে পেশ করেন, যদিও আবদুল্লাহ আল-গিমারী নিজ ‘এরশাদ আত্ তালেব’ পুস্তকে একে বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন:

আলী ইবনে হুসাইন (রহ:) তাঁর পিতা ইমাম হসাইন (রা:) হতে, তিনি তাঁর পিতা হযরত আলী (ক:) হতে বর্ণনা করেন যে,

হুযূর পাক (দ:) এরশাদ ফরমান, ‘আল্লাহতা’লা হযরত আদম (আ:)-কে সৃষ্টি করার চৌদ্দ হাজার বছর আগে আমি ছিলাম মহান প্রভুর উপস্থিতিতে একটি নূর (আলো)’।

  • অনুরূপ বর্ণনাসমূহ লিপিবদ্ধ আছে ইমাম আহমদ (রহ:)-এর ‘ফযায়েলে সাহাবা’ (২:৬৬৩ #১১৩০),
  • ইমাম যাহাবী (রহ:)-এর ‘মিযান আল-এ’তেদাল’ (১:২৩৫), এবং
  • ইবনে জারির তাবারীর ’আল-রিয়াদ আল-নাদিরা’ (২:১৬৪, ৩:১৫৪) বইগুলোতে।

ওপরের বর্ণনার সাথে সম্পৃক্ত হলো নিচের বর্ণনাগুলো:

হযরত ’আমর ইবনে ’আবাসা (রা:) রওয়ায়াত করেন যে মহানবী (দ:) এরশাদ করেছেন,

নিশ্চয় আল্লাহতা’লা তাঁর বান্দাদের সৃষ্টি করার দু’হাজার বছর আগে তাদের রূহ ফুঁকেছিলেন। অতঃপর তাদের মধ্যে যারা একে অপরকে চেনতে পেরেছিল, তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ হয়; যারা চেনতে পারে নি, তারা দূরে সরে থাকে।

নোটঃ
  • ইমাম সৈয়ুতী (রহ:) নিজ ‘তাখরিজ আহাদীস শরহ আল-মাওয়াকিফ’ (পৃষ্ঠা ৩১ #১০) গ্রন্থে বলেন যে এই বর্ণনা ইবনে মানদাহ উদ্ধৃত করেছিলেন, যদিও ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী (রহ:) এটিকে ভীষণ দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করেন।


যিনি (আল্লাহ) দেখেন আপনাকে (রাসূল-দ:) যখন আপনি দণ্ডায়মান হন (নামাযে, দোয়ায় কিংবা কোনো স্থানে); এবং নামাযীদের মধ্যে আপনার পরিদর্শনার্থে ভ্রমণকেও

— সূরা শুয়ারা, ২১৮-৯ আয়াত

আল কুরআনের এই আয়াতের মধ্যে ‘তাক্কাল্লুবাক’ (আপনার পরিদর্শনার্থে ভ্রমণ) শব্দটিকে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে:

আপনার পূর্বপুরুষদের ঔরসে আপনার (পৃথিবীতে) শুভাগমন।

নোটঃ
  • এটা হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেছেন আল-হাকিম নিজ ‘আল-মুস্তাদরাক’ (২:৩৩৮) কেতাবে এবং
  • এই ব্যাখ্যা সমর্থন করেছেন ইবনে মারদাওয়াঈ, আল-রাযী, ইমাম সৈয়ুতী ও অন্যান্য জ্ঞান বিশারদ।

আল-শেহরেস্তানী স্বরচিত ‘আল-মিলাল ওয়ান্ নিহাল’ কেতাবে (২:২৩৮) বলেন:

মহানবী (দ:)-এর নূর হযরত ইবরাহীম (আ:) থেকে হযরত ইসমাঈল (আ:) পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এরপর তাঁর আওলাদে পাকের মাধ্যমে আবদুল মুত্তালিবের কাছে আসে......আর এই নূরের বরকতে (আশীর্বাদে) আল্লাহতা’লা বাদশাহ আবরাহার অনিষ্ট দূর করে দেন (ওয়া বি-বারাকাতি যালিক আল-নূর দাফা’ আল্লাহু তা’লা শাররা আবরাহা)

নোটঃ
  • ইমাম সৈয়ুতী (রহ:) তাঁর অনেক বইয়ে ওপরের এই বর্ণনা উদ্ধৃত করেন; উদাহরণস্বরূপ, ‘মাসালিক আল-হুনাফা’ (পৃষ্ঠা ৪০-১), ’আল-দুরূজ আল-মুনিফা’ (পৃষ্ঠা ১৬) এবং ‘আল-তা’যিম ওয়া আল-মিন্না’ (পৃষ্ঠা ৫৫)। মহানবী (দ:)-এর বাবা-মা যে সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামাবৃন্দ কর্তৃক বেহেশতী হিসেবে বিবেচিত, তার ভিত্তি প্রমাণ করতেই তিনি এ বইগুলো রচনা করেন।

আল-যুহরী বর্ণনা করেন:

‘আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল মোত্তালিব ছিলেন কুরাইশ বংশীয় পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে সুদর্শন। একদিন তিনি কোথাও বের হলে তাঁকে কুরাইশ বংশের এক দল রমনী দেখতে পান।

তাদের একজন বলেন, “ওহে কুরাইশ নারীকুল! তোমাদের মধ্যে কে এই যুবককে বিয়ে করবে এবং ফলশ্রুতিতে তাঁর দু’চোখের মাঝখানে অবস্থিত নূর (জ্যোতি) লাভ করবে?” সত্যি তাঁর দু’চোখের মাঝখানে আলো প্রভা ছড়াচ্ছিল। অতঃপর আমেনা বিনতে ওয়াহব ইবনে আবদিল মানাফ ইবনে যুহরার সাথে তাঁর বিয়ে হয়; তাঁদের ঘরেই মহানবী (দ:)-এর আবির্ভাব হয়।

নোটঃ
  • আল-বায়হাকী (রহ:) এটি বর্ণনা করেন তাঁর ‘দালাইল আন্ নবুওয়া’ পুস্তকে (১:৮৭);
  • তাবারী নিজ ‘তারিখ’ (২:২৪৩) কেতাবে;
  • ইবনুল জওযী স্বরচিত ‘’আল-ওয়াফা’ বইয়ে (পৃষ্ঠা ৮২-৩, আবওয়াবে বেদাএয়াতি নাবিই-ইনা ১৬ নং অধ্যায়)।
  • ইবনে হিশামও অনুরূপ একটা বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন, তবে ওর সনদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে (গুইলওমে অনুবাদ, পৃষ্ঠা ৬৮-৯ দেখুন)।

এ মর্মে অভিযোগ করা হয় যে, বনূ আসাদ গোত্রের এক নারী, যিনি ওয়ারাকা ইবনে নাওফালের বোন, তিনি আবদুল্লাহর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন; কিন্তু আবদুল্লাহ আমেনা বিনতে ওয়াহবকে বিয়ে করেন। অতঃপর তিনি আমেনার সঙ্গ ত্যাগ করে বিয়ের প্রস্তাবকারিনী ওই মহিলার কাছে যান এবং তাকে জিজ্ঞেস করেন কেন তিনি একদিন আগে বিয়ের প্রস্তাব দেননি। এর প্রত্যুত্তরে ওই মহিলা তাঁকে বলেন, যে জ্যোতি তিনি আগের দিন দেখেছিলেন, তা আবদুল্লাহকে ত্যাগ করেছে; আর তাই তাঁকে ওই মহিলার এখন কোনো প্রয়োজন নেই। মহিলা তাঁকে বলেন,

তুমি যখন আমাকে অতিক্রম করছিলে, তখন তোমার দু’চোখের মাঝখানে একটি নূরের সাদা ঝলক ছিল। আমি তোমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করে আমেনাকে বিয়ে করলে; ওই নূর আমেনা নিয়ে গিয়েছে।

তথ্যসূত্র