মুহাম্মাদ (সঃ) নূর সমর্থনে দলিল সমূহ 9

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

বর্ণিত আছে যে,

হযরত জাবের ইবনে আব্দিল্লাহ (রা:) হুযূর পাক (দ:)-এর কাছে আরয করেন: “এয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! আপনার জন্যে আমার পিতা-মাতা কুরবান হোন। আল্লাহ সবার আগে কী/কাকে সৃষ্টি করেছিলেন তা আমাদের বলুন।”

মহানবী (দ:) এরশাদ ফরমান: ”ওহে জাবের! আল্লাহ সর্বপ্রথম তাঁর নূর হতে তোমাদের নবী (দ:)-এর নূর সৃষ্টি করেছিলেন, আর ওই নূর তাঁর কুদরতের মাঝে অবস্থান করেন ততোক্ষণ, যতোক্ষণ মহান প্রভু ইচ্ছা করেন; ওই সময়ে অস্তিত্ব না ছিল লওহের, না ছিল কলমের, না বেহেশতের, না দোযখের, না জাহান্নামের, না ফেরেশতার, না আসমানের, না জমিনের। আর যখন আল্লাহতা’লা তামাম মাখলুকাত সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি ওই নূরকে চারভাগে বিভক্ত করলেন: প্রথমটি দ্বারা বানালেন কলম; দ্বিতীয়টি দ্বারা লওহ; তৃতীয়টি দ্বারা আরশ; এবং চতুর্থটি দ্বারা বাকি সব কিছু।”

উলামায়ে ইসলামের মাঝে এই বর্ণনার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বিভিন্ন রকমের। তাঁদের বক্তব্য নিম্নে দেয়া হলো
  • ভারতীয় হাদীসবেত্তা আবদূল হক দেহেলভী (ইনতেকাল ১০৫২ হিজরী) এই বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন নিজ পারসিক ‘মাদারিজুন্ নবুওয়াত’ পুস্তকে (২:২, মাকতাবা আল-নূরিয়্যা সংস্করণ, সাখোর) এবং বলেন যে এটা সহীহ (বিশুদ্ধ)।
  • অপর ভারতীয় আলেম আবদুল হাই লৌক্ষ্মভী স্বরচিত ‘আল-আসার আল-মারফু’আ ফী আল-আখবার আল-মওদু’আ’ (পৃষ্ঠা ৩৩-৪, লাহোর সংস্করণ) গ্রন্থে এর উদ্ধৃতি দেন এবং বলেন,

নূরে মোহাম্মদীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আবদ আল-রাযযাক (রহ:)-এর বর্ণনায়, যা’তে এর পাশাপাশি রয়েছে সমগ্র সৃষ্টিকুলের ওপরে ওর সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার।

  • ’আল মাওয়াহিব আল লাদুন্নিয়া’ (১:৫৫) গ্রন্থে লিপিবদ্ধ ইমাম কসতলানী (রহ:)-এর ভাষ্যানুযায়ী হযরত আবদ্ আল-রাযযাক (বেসাল-২১১ হিজরী) তাঁর রচিত ‘মুসান্নাফ’ কেতাবে ওপরের ঘটনাটি বর্ণনা করেন; ইমাম যুরকানী মালেকীও এটি বর্ণনা করেন নিজ ‘শরহে মাওয়াহিব’ পুস্তকে (মাতবা’আ আল-’আমিরা, কায়রো সংস্করণের ১:৫৬)। হযরত ‘আবদ্ আল-রাযযাক (রহ:)-এর রওয়ায়াতের বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ-ই নেই। ইমাম বুখারী (রহ:) তাঁর কাছ থেকে ১২০টি এবং ইমাম মুসলিম (রহ:) ৪০০টি বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
  • আহমদ আবেদীন শামী (বেসাল-১৩২০ হিজরী), যিনি হানাফী আলেম ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (রহ:)-এর ছেলে, তিনি ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী (রহ:)-এর কৃত ‘আন-নি’মাত আল-কুবরা ‘আলাল ’আলম ফী মওলিদে সাইয়্যেদে ওয়ালাদে আদম’ পুস্তকের ব্যাখ্যামূলক বইয়ে এই হাদীসটি দলিল হিসেবে পেশ করেন। ইমাম ইউসুফ নাবহানী (রহ:) তাঁর ‘জওয়াহির আল-বিহার’ কেতাবে (৩:৩৫৪) এর উদ্ধৃতি দেন।
  • ইমাম কসতলানী (রহ:)-এর ‘মাওয়াহিব’ থেকে পুরো হাদীসখানা উদ্ধৃত করেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ আজলুনী (ইন্তেকাল-১১৬২ হিজরী) নিজ ’কাশফ আল-খাফা’ গ্রন্থে (মাকতাবাত আল-গাযযালী, বৈরুত সংস্করণের ১:২৬৫)।
  • সাইয়্যেদ মাহমুদ আলুসী তাঁর কৃত ‘তাফসীরে রুহুল মাআনী’ (বৈরুত সংস্করণের ১৭:১০৫) কেতাবে বলেন,

সবার প্রতি বিশ্বনবী (দ:)-এর রহমত (খোদায়ী করুণা) হওয়ার বিষয়টি সম্পৃক্ত রয়েছে এই বাস্তবতার সাথে যে, তিনি-ই সৃষ্টির প্রাক্ লগ্ন থেকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্যে ঐশী করুণাধারার মাধ্যম/মধ্যস্থতাকারী (ওয়াসিতাত্ আল-ফায়দ আল-এলাহী ‘আলাল মুমকিনাত্ ‘আলা হাসাব আল-কাওয়াবিল); আর এ কারণেই তাঁর নূর (জ্যোতি)-কে সর্বপ্রথমে সৃষ্টি করা হয়, যেমনিভাবে বর্ণিত হয়েছে হাদীসে, ‘ওহে জাবের, আল্লাহ সর্বপ্রথম তোমাদের নবী (দ:)-এর নূরকে সৃষ্টি করেন’; আরও এরশাদ হয়েছে, ’আল্লাহ দাতা, আমি বণ্টনকারী’ (আল-কাসেম #২৬১ দেখুন)। সূফীবৃন্দ, আল্লাহ তাঁদের ভেদের রহস্যের পবিত্রতা দিন, এই অধ্যায় সম্পর্কে অনেক কিছূ বলেছেন।

আলুসী ‘রুহুল মাআনী’ (৮:৭১) পুস্তকের অন্য আরেকটি এবারতে হযরত জাবের (রা:)-এর হাদীসটি দলিল হিসেবে পেশ করেন।
  • সাইয়েদ আবুল হাসান আহমদ ইবনে আবদিল্লাহ (বেসাল-৩য় হিজরী শতক) নিজ ‘আল-আনওয়ার ফী মওলিদ আন্ নবী মোহাম্মদ ‘আলাইহে আল-সালাত আল-সালাম’ কেতাবে (নাজাফ সংস্করণের ৫ পৃষ্ঠায়) হযরত আলী (ক:) থেকে নিম্নের হাদীসটি বর্ণনা করেন; নবী পাক (দ:) এরশাদ ফরমান:

আল্লাহ (অনন্তকালে) ছিলেন এবং তাঁর সাথে কেউ ছিল না; তিনি সর্বপ্রথম তাঁর মাহবুবের নূর সৃষ্টি করেন; এর ৪০০০ বছরের মধ্যে না সৃষ্টি করা হয়েছিল পানি, না আরশ, না কুরসী, না লওহ, না কলম, না বেহেশত, না দোযখ, না পর্দা, না মেঘমালা, না আদম, না হাওয়া।

  • ইমাম যুরকানী মালেকী (রহ:)-এর ‘শরহে মাওয়াহিব’ (মাতবা’আ আল-আমিরা কায়রো সংস্করণের ১:৫৬) এবং দিয়ারবকরীর ’তারিখ আল-খামিস’ (১:২০) বইগুলোর ভাষ্যানুযায়ী ইমাম বায়হাকী (বেসাল-৪৫৮ হিজরী) ভিন্ন শব্দচয়ন দ্বারা এটি বর্ণনা করেন নিজ ‘দালাইল আন-নবুওয়া’ গ্রন্থে।
  • মোহাম্মদ ইবনে আহমদ ফাসী (ইন্তেকাল-১০৫২ হিজরী) তাঁর ‘মাতালি আল-মাসাররাত’ পুস্তকে (মাতবা’আ আল-তাযিয়্যা সংস্করণের ২১০, ২২১ পৃষ্ঠায়) এই হাদীস দলিল হিসেরে উদ্ধৃত করেন এবং বলেন: “এই বর্ণনাগুলো সকল সৃষ্টির ওপরে হুযূর পাক (দ:)-এর শ্রেষ্ঠত্ব (আওয়ালিয়্যা) ও অগ্রাধিকার সাব্যস্ত করে, আর এও প্রতিভাত করে যে তিনি তাদের কারণ (সাবাব)।
  • আব্দুল্লাহ গুমারী নিজ ‘এরশাদ আত্ তালেব আল্ নাজিব ইলা মা ফী আল-মাওলিদ আন্ নাবাউয়ী মিন আল-আকাযিব’ (দারুল ফুরকান সংস্করণের ৯-১২ পৃষ্ঠা) পুস্তকে ইমাম সৈয়ুতী (রহ:)-এর বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করেন যে উপরোক্ত হাদীসের কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ নেই; তিনি বলেন, “এতে ইমাম সৈয়ুতীর পক্ষ থেকে চরম শিথিলতা দৃশ্যমান হয়, যা থেকে তাঁকে আমি ঊর্ধ্বে ভাবতাম। প্রথমতঃ এই হাদীস আবদুর রাযযাকের ‘মুসান্নাফ’ কেতাবে উপস্থিত নেই, অন্যান্য হাদীসের বইপত্রেও নেই। দ্বিতীয়তঃ এই হাদীসের কোনো এসনাদ (বর্ণনাকারীদের পরম্পরা) নেই। তৃতীয়তঃ তিনি হাদীসের বাকি অংশ উল্লেখ করেন নি। দিয়ারবকরীর ‘তারিখ’ গ্রন্থে এ কথা বলা হয়েছে এবং যে কেউ হাদীসটি পড়লেই নিশ্চিত হবেন যে এটি মহানবী (দ:) সম্পর্কে একটি মিথ্যা।” আল-গোমারীর এই অতিরন্ঞ্জিত সিদ্ধান্ত যে নাকচ; তা এই বাস্তবতা দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, দিয়ারবকরী নিজেই এটিকে মিথ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন নি যখন তিনি তাঁর বইয়ের প্রারম্ভে হাদীসটি উদ্ধৃত করেন
  • শায়খ আবদুল কাদের জিলানী (বেসাল-৫৬১ হিজরী) তাঁর ‘সিররুল আসরার ফী মা ইয়াহতাজু ইলাইহ আল-আবরার’ (লাহোর সংস্করণের পৃষ্ঠা ১২-১৪) কেতাবে এর উদ্ধৃতি দেন।
  • আলী ইবনে বুরহান আল-দ্বীন আল-হালাবী (ইনতেকাল-১০৪৪ হিজরী) নিজ ‘সীরাহ’ (মাকতাবা ইসলামিয়্যা বৈরুত সংস্করণের ১:৩১) পুস্তকে এ হাদীস দলিল হিসেবে পেশ করেন এবং এরপর বলেন,

(সৃষ্টিতে) যা কিছু অস্তিত্বশীল, মহানবী (দ:) যে সবার মূল এ হাদীস তাই প্রমাণ করে; আর আল্লাহ-ই সবচেয়ে ভাল জানেন।

  • ইসমাইল হাক্কী (ইন্তেকাল-১১৩৭ হিজরী) তাঁর ‘তাফসীরে রুহুল বয়ান’ শীর্ষক কেতাবে এই হাদীসকে দলিল হিসেবে পেশ করেন এবং বলেন:

জেনে রাখুন, ওহে জ্ঞানী-গুণীজন, আল্লাহ সর্বপ্রথম যে বস্তু সৃষ্টি করেন, তা আপনাদের মহানবী (দ:)-এর নূর.........আর তিনিই হলেন সকল সৃষ্টির অস্তিত্বশীল হবার কারণ এবং তাদের সবার প্রতি আল্লাহতা’লার পক্ষ থেকে করুণা........আর তিনি না হলে ওপরের ও নিচের জগতসমূহ সৃষ্টি করা হতো না।

ইমাম ইউসুফ নাবহানী এই হাদীসের উদ্ধৃতি দেন নিজ ‘জওয়াহির আল-বিহার’ গ্রন্থে (১১২৫ পৃষ্ঠা)।
  • ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী (বেসাল-১১৩৭ হিজরী) স্বরচিত ‘ফাতাওয়ায়ে হাদীসিয়্যা’ পুস্তকে (বাবা কায়রো সংস্করণের ২৪৭ পৃষ্ঠা) বলেন যে হযরত আব্দুর রাযযাক এ হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি এটি মহানবী (দ:)-এর মওলিদ-বিষয়ক নিজ কাব্যগ্রন্থ ‘আন-নি’মাতুল কুবরা’-এর ৩য় পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত করেন।
  • মোহাম্মদ ইবনে আল-হাজ্জ আল-আবদারী (ইন্তেকাল-৭৩৬ হিজরী) নিজ ‘আল-মাদখাল’ কেতাবে (দারুল কিতাব আল-আরবী বৈরুত সংস্করণের ২:৩৪) আল-খতিব আবু আল-রাবি’ মুহাম্মদ ইবনে আল-লায়েস প্রণীত ‘শেফা আস্ সুদূর’ গ্রন্থ হতে এর উদ্ধৃতি দেন, যা’তে আল-লায়েস বলেন,

আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেন তা মহানবী (দ:)-এর নূর; আর ওই নূর অস্তিত্ব পেয়েই আল্লাহর প্রতি সেজদা করেন। আল্লাহ ওই নূরকে চার ভাগে বিভক্ত করেন এবং ওর প্রথম অংশ দ্বারা আরশ, দ্বিতীয়টি দ্বারা কলম, তৃতীয়টি দ্বারা লওহ এবং চতুর্থটি খণ্ডিত করে বাকি সৃষ্টি জগতকে অস্তিত্ব দেন। অতএব, আরশের নূর সৃষ্ট হয়েছে রাসূলে পাক (দ:)-এর নূর থেকে; কলমের নূরও তাঁর নূর থেকে; লওহের নূরও তাঁর নূর থেকে; দিনের আলো, জ্ঞানের আলো, সূর্য ও চাঁদের আলো, এবং দৃষ্টিশক্তি ও দূরদৃষ্টি সবই তাঁর নূর হতে সৃষ্টি করা হয়েছে।

  • ভারত উপমহাদেশের ওহাবী-প্রভাবিত দেওবন্দী মতবাদের গুরুদের অন্যতম শাহ মোহাম্মদ ইসমাঈল দেহেলভী নিজ ‘এক রওযাহ’ শীর্ষক চটি পুস্তিকায় (মালটা সংস্করণের ১১ পৃষ্ঠা) লিখেছে:

বর্ণনার ইশারা অনুযায়ী, ‘আল্লাহ সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেন আমার (হুযূরের) নূর’।

  • সোলায়মান জামাল (ইনতেকাল-১২০৪ হিজরী) ইমাম বুসিরী (রহ:)-এর ওপর কৃত তাঁর ব্যাখ্যামূলক কেতাব ‘আল-ফুতুহাত আল-আহমদিয়্যা বি আল-মিনাহ আল-মোহাম্মদিয়্যা’ (হেজাযী কায়রো সংস্করণের ৬ পৃষ্ঠা)-এ এই হাদীস দলিল হিসেবে উদ্ধৃত করেন।
  • ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দী ওহাবী গুরুদের অন্যতম রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী তার কৃত ‘ফতোওয়ায়ে রশীদিয়্যা’ পুস্তকে (করাচী সংস্করণের ১৫৭ পৃষ্ঠায়) লিখেছে যে এই হাদীস “নির্ভরযোগ্য সংকলনগুলোতে পাওয়া যায় নি, তবে শায়খ আবদুল হক্ক দেহেলভী এর কিছু প্রামাণ্য ভিত্তি থাকায় একে উদ্ধৃত করেছেন।” আসলে শায়খ আবদুল হক্ক দেহেলেভী (রহ:) শুধু এর উদ্ধৃতি-ই দেন নি, তিনি আরও বলেছেন যে এই হাদীস সহীহ (নির্ভুল)
  • আবদুল করীম জিলি নিজ ‘নামুস আল-আ’যম ওয়া আল-কামুস আল-আকদাম ফী মা’রেফত কদর আল-বানী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম’ গ্রন্থে এই হাদীসের উদ্ধৃতি দেন। ইমাম নাবহানী (রহ:)-ও এটি বর্ণনা করেন তাঁর ‘জওয়াহির আল-বিহার’ কেতাবে।
  • উমর ইবনে আহমদ খারপুতী (ইনতেকাল-১২৯৯ হিজরী) ইমাম বুসিরী (রহ:)-এর ওপর কৃত নিজ ব্যাখ্যামূলক ‘শরহে কাসিদাত আল-বুরদা’ বইয়ে (করাচী সংস্করণের ৭৩ পৃষ্ঠায়) এর উদ্ধৃতি দেন।
  • শায়খ মোহাম্মদ ইবনে আলাউয়ী মালেকী আল-হাসানী (রহ:) মোল্লা আলী কারীর মীলাদ-বিষয়ক পুস্তকের ওপর লেখা নিজ ব্যাখ্যামূলক ‘হাশিয়াত আল-মাওলিদ আল-রাওয়ী ফী আল-মাওলিদ আল-নববী’ (পৃষ্ঠা ৪০) শীর্ষক কেতাবে বলেন,

হযরত জাবের (রা:)-এর সনদ প্রশ্নাতীত, তবে উলামা-এ-কেরাম এই হাদীসের মূল অংশের স্বাতন্ত্র্যের কারণে এতে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। ইমাম বায়হাকী (রহ:) কিছু ভিন্নতাসহ এই হাদীস বর্ণনা করেন।

অতঃপর শায়খ আলাউয়ী মালেকী (রহ:) এ রকম বেশ কিছু বর্ণনা পেশ করে মহানবী (দ:)-এর নূর হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করেন।
  • ইমাম ইউসুফ ইবনে ইসমাঈল নাবহানী (রহ:) তাঁর প্রণীত ‘আল-আনওয়ার আল-মোহাম্মদিয়্যা (পৃষ্ঠা ১৩), ‘জওয়াহির আল-বিহার’ (বাবা কায়রো সংস্করণ, ১১২৫ বা ৪:২২০ পৃষ্ঠা) এবং ‘হুজ্জাত-আল্লাহ আলাল আলামীন’ (২৮ পৃষ্ঠা) বইগুলোতে এ হাদীসের উদ্ধৃতি দেন।
  • মওলানা আবদুল গনী নাবলুসী (বেসাল-১১৪৩ হিজরী) নিজ ‘হাদিকাতুন্ নদীয়া’ (মাকতাবা আল-নূরীয়্যা, ফয়সালাবাদ সংস্করণের ২:৩৭৫) কেতাবে বলেন,

মহানবী (দ:) সবার জন্যে সর্বজনীন সরদার; আর কেনই বা হবেন না - যখন সমস্ত সৃষ্টি-ই তাঁর নূর থেকে সৃষ্ট, যা (আলোচ্য) সহীহ হাদীসে বিবৃত হয়েছে।

  • হযরত নিযামউদ্দীন ইবনে হাসান নিশাপুরী (বেসাল-৭২৮ হিজরী) স্বরচিত ‘গারাইব আল-কুরআন’ শীর্ষক তাফসীরগ্রন্থে (কায়রোর বাবা সংস্করণের ৮:৬৬) “এবং আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি-ই সর্বপ্রথম আত্মসমর্পণ করি (অর্থাৎ, প্রথম মুসলমান হই)” - কুরআন মজীদের এই আয়াতের (৩৯:১২) ব্যাখ্যাকালে হাদীসটির উদ্ধৃতি দেন।
  • মোল্লা আলী ইবনে সুলতান আল-কারী (ইনতেকাল-১০১৪ হিজরী) নিজ ‘আল-মাওলিদ আল-রাওয়ী ফী আল-মাওলিদ আল-নববী’ (পৃষ্ঠা ৪০) পুস্তকে পুরো হাদীসটি বর্ণনা করেন; এ বইটি শায়খ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আলাউয়ী আল-মালেকী সম্পাদনা করেছেন।
  • ইমাম আহমদ ইবনে মোহাম্মদ কসতলানী (বেসাল-৯২৩ হিজরী) তাঁর প্রণীত ‘আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া’ গ্রন্থে এই হাদীস বর্ণনা করেন (ইমাম যুরকানী মালেকীর ব্যাখ্যাসম্বলিত কেতাবের ১:৫৫)।
  • শায়খ ইউসুফ আল-সাইয়্যেদ হাশিম আল-রেফাঈ’ তাঁর কৃত ‘আদিল্লাত আহল আস-সুন্নাহ ওয়াল জামা’আ আল-মুসাম্মা আল-রাদ্দ আল-মোহকাম আল-মানী’ শীর্ষক পুস্তকে (২২ পৃষ্ঠায়) এর হাওয়ালা দেন এবং বলেন, “আবদুর রাযযাক এটি বর্ণনা করেছেন।
  • ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দী ওহাবীদের নেতা আশরাফ আলী থানভী স্বরচিত ‘নশরুত্ তৈয়ব’ (উর্দুতে লাহোর সংস্করণের ৬ এবং ২১৫ পৃষ্ঠা) পুস্তকে এই হাদীস আবদুর রাযযাকের সূত্রে বর্ণনা করে এবং এটাকে নির্ভরযোগ্য বলে।
  • ইমাম যুরকানী মালেকী নিজ ‘শরহে মাওয়াহিব’ কেতাবে (মাতবা’আ আল-আমিরা, কায়রো সংস্করণের ১:৫৬) এই হাদীসের উদ্ধৃতি দেন এবং একে আবদুর রাযযাকের ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে বর্ণিত বলে জানান।
  • ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দী ওহাবীদের নেতা এহসান এলাহী যাহির, যাকে লাহোরের সুন্নীভিত্তিক বেরেলভী সিলসিলা শত্রু হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে, সে তার ‘হাদিয়্যাত আল-মাহদী’ (শিয়ালকোট সংস্করণের ৫৬ পৃষ্ঠা) বইয়ে বলে:

আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি আরম্ভ করেন ’আল-নূর আল-মোহাম্মদিয়া’ তথা মহানবী (দ:)-এর নূর দ্বারা; অতঃপর তিনি আরশ সৃষ্টি করেন পানির ওপর; এরপর বাতাস এবং একে একে ’নূন’, ’কলম’, লওহ এবং মস্তিষ্ক সৃষ্টি করেন। অতএব, মহানবী (দ:)-এর নূর আসমান ও জমিনে যা কিছু বিরাজমান তা সৃষ্টিতে মৌলিক উপাদান বলে সাব্যস্ত হয়.....আর হাদীসে আমাদের কাছে যা বিবৃত হয়েছে, তাতে (বোঝা যায়) আল্লাহতা’লা প্রথমে কলম সৃষ্টি করেন; আরও প্রথমে সৃষ্টি করেন মস্তিষ্ক; এর দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে তা হলো আপেক্ষিক বা তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্ব।

মহানবী (দ:)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার ও সাথীদের প্রতিও শান্তি ও খোদায়ী আশীর্বাদ বর্ষিত হোক।

তথ্যসূত্র