জন্মগ্রহণ থেকে ওহী প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) - অন্যান্য

  • মুহাম্মাদ (সঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

জন্ম 

৫৭০ খৃষ্টাব্দের ১২ রবিউল আওয়াল, ইংরেজী ২৯ শে আগষ্ট সোমবার, সুব্হে সাদিকের সময় আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে বিশ্ব জাহান ও মানবের শান্তি ও কল্যাণের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেন।

মাতার নামঃ আমেনা।
পিতার নামঃ আবদুল্লাহ, যিনি তাঁর সন্তান জন্ম নেওয়ার আগেই ইন্তিকাল করেন।
দুধপান 

কুরায়েশদের রীতি ছিল যে, মা নিজে বাচ্চাকে দুধপান করাতেন না; বরং ভিন্ন গোত্র ও বস্তির ধাত্রী-মাতা এসে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দুধ পান করাবার জন্য শিশুকে নিয়ে যেত।

  • শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুদিন নিজ মাতার স্তন্য পান করেন। এরপর হযরত আমেনা তাঁকে পেশাদার দাইমা না আসা পর্যন্ত ছাওবীয়া নাম্নী এক মহিলার কাছে দুধ পান করাতে দেন।
  • কিছু দিন পর বণী সা‘আদের দাইমার বহর মক্কায় আসে এবং হালিমা বিন্তে জুয়ায়েব শিশু নবীর চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে দুধপান করাবার জন্য গ্রহণ করে।
মুজিযা

শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালিমার শুকনো স্তনে দুধ খাওয়ার জন্য মুখ লাগাবার সাথে সাথেই তা থেকে প্রচুর দুধ বের হয়, যা পান করে তিনি পরিতৃপ্ত হন এবং তার নিজের বাচ্চারও পেট ভরে যায়।

  • তার উটনীও ছিল দুর্বল ও শুকনো, স্তন ও দুধে ভরে যায়। তারা দু’জনে পেট ভরে সে দুধপান করার পরও অবশিষ্ট থেকে যায়।

হালিমার স্বামী বলে :

হালিমা! আল্লাহর কসম! তুমি এক ভাগ্যবান শিশু নিয়ে এসেছ!

  • হালীমার উটনী ছিল খুবই দুর্বল। কিন্তু সে যখন শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোলে নিয়ে সে উটে চড়লো, তখন

সে এতো দ্রুত ছুটলো যে, সব উট তার পেছনে পড়ে রইলো। তারা হালীমাকে জিজ্ঞাসা করলো:

হালীমা! এটা কি সে উটনী নয়, যেটায় চড়ে আসার সময় তুমি সবার পেছনে ছিলে? এখন যাবার সময় তো দেখছি, তুমি সবার আগে চলে যাচ্ছ!

  • হালীমা-দম্পতি লক্ষ্য করলো, শিশু নবীর কারণে তাদের সংসারে কেবল বরকত আর বরকত, তাদের দু:খ, কষ্ট, অভাব অনটন দূর হয়ে গেল।
  • হালীমা যখন শিশু নবীকে দুধ পান করাতেন, তখন তিনি তাঁর একটি মাত্র স্তন হতে দুধ পান করতেন এবং দ্বিতীয় স্তনটি তিনি তার দুধ ভাইয়ের জন্য রেখে দিতেন। (সুব্হানাল্লাহ!)
দুধপান শেষ - ৫৭২ খৃষ্টাব্দ, বয়স ২ বছর

দুধপানের সময় সীমা পার হওয়ার পর হালীমা শিশু নবীকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মক্কায় নিয়ে যান এবং তাঁর আম্মা হযরত আমেনাকে বলেন:

আমার ইচ্ছা যে, আপনি ‘মুহাম্মদ’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরেকটু বড় হওয়া পর্যন্ত আমার কাছে থাকতে দিন। আমার আশংকা যে, মক্কার বর্তমান আবহাওয়া তাঁর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

হযরত আমেনা প্রথমে রাজী না হলেও হালীমার বারবার অনুরোধ ও পীড়াপীড়িতে অবশেষে রাজী হন। হালীমা মহাখুশী হয়ে শিশু নবী (স.)-কে নিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে যান।

বক্ষবিদারণ - ৫৭৪ খৃষ্টাব্দ, বয়স ৪ বছর।

এ সময় শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অন্যান্য শিশুদের সাথে মাঠে বকরী চরাচ্ছিলেন, তখন হযরত জিব্রাইল (আ.) আসেন এবং তাঁকে চিত করে শোয়ায়ে তাঁর বুক ফেঁড়ে কলিজা বের করেন এবং তা পরিষ্কার করে ধুয়ে যথাস্থানে রেখে, সব ঠিকঠাক করে দিয়ে চলে যান। এ দৃশ্য দেখে অন্যান্য শিশুরা হালীমাকে গিয়ে এ খবর দেয়। হালীমা ও তার স্বামী ছুটে গিয়ে দেখেন, শিশু নবী (স.) শংকিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। কী ঘটেছিল তা তারা শুনতে চাইলে তিনি বলেন :

আমার কাছে দু’জন লোক আসে এবং আমাকে চিত করে শুইয়ে দেয়। তারপর আমার বুক ফেঁড়ে কী যেন বের করে। এরপর তা বুকে ঢুকিয়ে ঠিকঠাক করে দিয়ে চলে যায়।

হযরত আমেনার কাছে প্রত্যাবর্তন - ৫৭৫ খৃষ্টাব্দ, বয়স ৫ বছর।

উপরোক্ত ঘটনায় হালীমা-দম্পতি খুবই ভয় পায় এবং শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কায় নিয়ে তাঁর মায়ের হাতে সোপর্দ করে ফিরে যায়।[1]

মাতা আমেনার সাথে মদীনায় গমণ - ৫৭৬ খৃষ্টাব্দ, বয়স ৬ বছর।

যখন শিশু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ৬ বছর হয়, তখন আমেনা তাঁকে নিয়ে মদীনায় যান। এ সময় তাঁর সাথে তাঁর দাসী উম্মে আয়মানও ছিল।

আমেনার ইন্তিকাল - ৫৭৭ খৃষ্টাব্দ।

কিছুদিন মদীনায় থাকার পর আমেনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে মক্কায় ফেরার পথে মদীনার সন্নিকটে ‘আবওয়া’ নামক স্থানে ইন্তিকাল করেন। উম্মে আয়মান তাঁকে আবওয়াতে দাফন করে চির ইয়াতিম শিশু নবী (স.)-কে সান্তনা দিতে দিতে মক্কায় পৌঁছে যায়।

দাদা আব্দুল মুত্তালিবের প্রতিপালন ও তাঁর ইন্তিকাল - ৫৭৮ খৃষ্টাব্দ, বয়স ৮ বছর।

মাতার ইন্তিকালের পর তিনি দাদা আব্দুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিন হন। দাদা তাঁকে খুবই ভালবাসতেন। তিনি সব সময় তাঁকে সাথে সাথে রাখতেন এবং নিজ সন্তানের চেয়ে বেশী আদর করতেন। তবে মাত্র দু’বছর পার হতেই দাদা আব্দুল মুত্তালিব ইন্তিকাল করেন। এ সময় শিশু নবী (স.)-এর বয়স মাত্র ৮ (আট) বছর।[2]

চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে - ৫৭৮ খৃষ্টাব্দ থেকে, বয়স ৮ বছর।

দাদা আব্দুল মুত্তালিব ইনতিকালের সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর পুত্র আবু তালেবের তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করে যান। তিনি ইয়াতিম ভাতিজাকে নিজের সন্তানদের থেকে বেশী ভালবাসতেন ও আদর করতেন।

মু‘জিযা

আবু তালেব তাঁর ভাইদের মধ্যে গরীব ও বিত্তহীন ছিলেন। অথচ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর ঘরে আসেন, তখন তাঁর সব অভাব অনটন দূর হয়ে যায়। তিনি সব সময় তাঁকে সাথে রাখতেন, এমনকি শোবার সময়ও তাঁকে সাথে নিয়ে ঘুমাতেন।

দ্বিতীয়বার বক্ষ বিদারণ - ৫৮০ খৃষ্টাব্দ; বয়স ১০ বছর।
চাচা আবু তালেবের সাথে সিরিয়া সফর - ৫৮২ খৃষ্টাব্দ, বয়স - ১২ বছর

এ সময় আবু তালেব ব্যবসার জন্য সিরিয়া সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিশোর নবী (স.) তাঁর সাথে সফরে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, আবু তালেব তাকে সাথে নিয়ে নেন।

বোহীরার[3] ভবিষ্যদ্বাণী

সিরিয়া সীমান্তে ‘বুসরা’ নামে একটি শহর ছিল। সেখানে ছিল খৃষ্টানদের একটি গীর্জা। যার পাদ্রীর নাম ছিল ‘বোহীরা’ যিনি জানতেন, আখেরী উম্মতের নবী শীঘ্রই আসবেন। এ কুরায়েশ কাফেলা যখন তাঁর গীর্জার কাছে আসে, তখন তিনি দেখতে পান, এক খন্ড মেঘ ঐ কাফেলার এক কিশোরের মাথার ওপর ছায়া দিচ্ছে। বোহীরা আখেরী নবীর যে সব নিদর্শন পড়ছিল, তাতে ‘তাঁকে মেঘ ছায়া দেবে’ বলে উল্লেখ ছিল। তিনি তখন তাঁর চাচাকে বলেন : আপনার ভাতিজাকে নিয়ে দেশে ফিরে যান। ইয়াহুদীদের থেকে তাঁকে হিফাজত করবেন। তারা সুযোগ পেলে তাঁর ক্ষতি করবে। ইনি শেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল। [4]

ফিজার যুদ্ধ - ৫৮৪ খৃষ্টাব্দ, বয়স - ১৪ বছর

উকাযের মেলা থেকেই ফিজার যুদ্ধের উৎপত্তি হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচাদের সাথে এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তবে তিনি নিজে অস্ত্র ধারণ করেননি। যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে তীর কুঁড়িয়ে চাচাদের হাতে দিতেন।

হারবুল ফিজার বা ফিজার যুদ্ধের সমাপ্তি এবং ‘হিল্ফুল ফুযুল’ নামক জাতি সংঘে যোগদান - ৫৮৭ খৃষ্টাব্দ, বয়স - ১৭ বছর
  • হিল্ফুল ফুযুল গঠন - ফিজার যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় যুবায়র, আবদুল্লাহ ইবন জুদ্আনের গৃহে একটি সভা আহবান করেন। সে সভায় বনূ হাশিম, বনূ যুহ্রা প্রভৃতি গোত্রের বিশিষ্ট কুরায়শগণ অংশ গ্রহণ করে এবং একটি সেবক সংঘ গঠন করে। এ সংঘের সদস্যগণ যে সব কাজ করার জন্য শপথ গ্রহণ করেছিল, তা ছিল
১. আমরা দেশের অশান্তি দূর করবো।
২. আমরা মুসাফিরদের জান-মাল রক্ষা করবো,
৩. আমরা গরীব দু:খীদের সাহায্য করবো এবং আমরা
৪. শক্তিশালীদের দুর্বলদের উপর অত্যাচার করতে দেব না। [5]

এ সংগঠনটি ইসলামের আত্মপ্রকাশ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর কোন প্রয়োজন ছিল না।

ব্যবসা - ৫৮৮ থেকে ৫৯২ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত নবী (স.) বিভিন্ন ব্যক্তির সংগে ব্যবসা করেন।
খাদিজার ব্যবসা পরিচালনা - ৫৯৩ খৃষ্টাব্দ; বয়স - ২৩ বছর।
আবু বকর (রা.)-এর সাথে ব্যবসা - ৫৯৪ খৃষ্টাব্দ; বয়স - ২৪ বছর

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর (রা.)-এর সাথে ব্যবসা উপলক্ষে দ্বিতীয়বার সিরিয়া গমন করেন।

হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে বিবাহ - ৫৯৫ খৃষ্টাব্দ; বয়স - ২৫ বছর

খাদিজা (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সততা ও গুণাবলী শুনে মুগ্ধ হন এবং তাঁর ব্যবসার দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পন করেন। বিবি খাদিজা তাঁর সুযোগ্য ও বিশ্বস্ত গোলাম মায়সারাকে নবী (স.)-এর সাথে পাঠান। এ বাণিজ্যিক কাফেলা সিরিয়া গমণ করে। ব্যবসায় প্রচুর লাভ হয়, যাতে খাদীজা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাঁকে প্রতিশ্রুত পুরস্কার প্রদান করেন।

বিবাহ 

বিবাহের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল ২৫ বছর এবং হযরত খাদীজার বয়স ছিল ৪০ বছর। উল্লেখ্য যে, প্রথমে হযরত খাদিজার বিবাহ হয়েছিল আবূ হালা ইবনে জারারার সাথে তাঁর ঔরশে খাদীজার গর্ভে দু’টি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে, যাদের নাম ছিল- হিন্দ ও হারিস। আবূ হালার মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার খাদিজার বিবাহ হয় আতীক ইবন আয়িযের সাথে। তাঁর ঔরসে খাদীজার গর্ভে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়, যার নামও ছিল হিন্দ। এরপর তিনি বিধবা অবস্থায় জীবন যাপন করছিলেন। অনেকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি অনেকের কাছে মুহাম্মদ (স.)-এর গুণ গরিমার কথা শুনেছিলেন। এবার ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবাদে নিজে ও তাঁর সততা ও প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হন এবং নিজের সহচরী ও আত্মীয়া নাফীসার দ্বারা নিজেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। উভয় পক্ষের মুরুব্বীদের উপস্থিতিতে, যথাসময়ে এ বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। হযরত খাদীজা ৬৫ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন; তখন নবী (স.)-এর বয়স ছিল ৫০ বছর। খাদীজা যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেননি। অবশ্য তাঁর মৃত্যুর পর শেষ বয়সে তিনি কর্তব্যের খাতিরে অনেক বিবাহ করেছিলেন।

আল্-আমীন উপাধি লাভ - ৬০০ খৃষ্টাব্দ, বয়স - ৩০ বছর

এ সময় মহানবী (স.)-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা হযরত যয়নবের জন্ম হয়। একই বছর হযরত আলী (রা.) জন্মগ্রহণ করেন।

কা’বা ঘর সংস্কার - ৬০৫ খৃষ্টাব্দ; বয়স - ৩৫ বছর

এ ঘর সর্বপ্রথম আদম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে, ফিরিশতাদের সহযোগিতায় নির্মাণ করেন। নূহ (আ.)-এর সময় বিশ্বব্যাপী প্লাবনে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। পরে হযরত ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আ.) এ ঘর তৈরী করেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার কারণে কা’বার দেয়াল জরাজীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়ে। মক্কার অধিবাসীরা এ ঘর পুনরায় নির্মাণ করার জন্য একমত হয়ে কাজ শুরু করে। এ সময় নবী করীম (স.)-এর বয়স ছিল পয়ত্রিশ বছর। তিনি ও অন্যদের সাথে এ ঘর নির্মাণে শরীক হন। অল্প দিনের মধ্যে দেয়াল উঁচু হলে হাজরে আসওয়াদ বা কৃষ্ণ পাথর [6] স্থাপন করা নিয়ে মক্কাবাসীদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এমন কি ব্যাপারটি যুদ্ধের মাধ্যমে ফয়সালা হবে, এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন সবার শ্রদ্ধেয় নেতা আবু উমাইয়া ইবনে মুগীরা দাঁড়িয়ে বলে :

হে কুরায়শরা, তোমরা যুদ্ধে লিপ্ত হয়ো না। আমার প্রস্তাব, আগামী কাল সকালে ‘বাবে সাফা’ (হারামের এক দরজা) দিয়ে যে হারামে প্রবেশ করবে, তার হাতে তোমরা এটি মীমাংসার ভার দেবে এবং তার ফয়সালা মেনে নেবে।

পরদিন সকালে সাফার দরজা দিয়ে যিনি হারামে প্রবেশ করেন, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁকে দেখে সবাই খুশী হয়ে বললো :

আল-আমীন এসেছে, আল-আমীন এসেছে। আমরা তাঁর ফয়সালা মেনে নেব।

সব কিছু শুনে তিনি একটি চাদর আনতে বললেন, তিনি চাদরটি বিছিয়ে নিজ হাতে ‘হাজরে আসওয়াদ’ তুলে চাদরের ওপর রেখে, সব গোত্রের এক-একজন লোককে চাদর ধরতে বলে। সবাই মিলে এটি যথাস্থানে আনলে নবী (স.) এটি নিজ হাতে উঠিয়ে স্থানমত স্থাপন করেন। এতে সবাই খুশী হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। [7]

ওহীর পূর্বাভাস - ৬০৭ খৃষ্টাব্দ, বয়স - ৩৭ বছর।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রা.)-এর প্রতিপালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি প্রায়ই চিন্তাযুক্ত থাকতেন এবং তাঁর কাওমকে কিভাবে হিদায়াত করবেন, তা নিয়ে ভাবতেন। গারে হেরাতে গিয়ে তিনি আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হতেন। এভাবে অনেক দিন, মাস ও বছর পার হতে যায়।

তথ্যসূত্র

  1. ইবনে হিশাম, ইবনে সাআদ, ইবনে খালদুন, ইবনে কাছীর, আল্ বিদায়া ওয়ান নিহায়া
  2. তাবাকাতে ইবনে সা‘আদ ও ইবনে হিশাম
  3. তাকে বুহায়রাও বলা হয়
  4. সীরাতে হালাবিয়া
  5. কাজী মুহাম্মদ সুলায়মান মনসূর পুরী, রাহমাতুল্লিল আলামীন, ১ম খন্ডড, পৃস্ঠা-৪৭
  6. হযরত আদম (আ.) জান্নাত থেকে আসার সময় এ পাথরটি সাথে নিয়ে আসেন। এটি সাদা ছিল। মানুষের গুনাহ টেনে নেওয়ায়, এটি কাল হয়ে গেছে। কাবার গায়ে এটি লাগান আছে।
  7. সীরাতে হালবিয়া ও ইবনে হিশাম
  • বিশ্বনবীঃ সন-ভিত্তিক জীবন তথ্য! (লেখকঃ ডক্টর আ.ফ.ম. আবু বকর সিদ্দীক)