যখন সালাত সমাপ্ত করিবে তখন দাঁড়াইয়া, বসিয়া এবং শুইয়া আল্লাহ্‌কে স্মরণ করিবে

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

যখন তোমরা সালাত সমাপ্ত করিবে তখন দাঁড়াইয়া, বসিয়া এবং শুইয়া আল্লাহ্‌কে স্মরণ করিবে, নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা বিশ্বাসীদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।

— সুরা নিসা, আয়াত ১০৩

ব্যাখ্যাঃ দন্ডায়মান অবস্থায়, উপবিষ্ট অবস্থায় এবং শায়িত অবস্থায় আলাহকে স্মরণ করার অর্থ প্রতিটি মুহর্ত আলাহর স্মরণে রত থাকা। উম্মতজননী হজরত আয়শা সিদ্দিকা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রসুললাহ্ স. সব সময় আলাহর স্মরণে মগ্ন থাকতেন। আবু দাউদ। উলেখ্য, কোরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াতে, বিভিন্ন হাদিসে উলেখিত সার্বক্ষণিক জিকিরের উদ্দেশ্য কলবী জিকির। মুখে সর্বক্ষণ জিকির করা তো সম্ভবই নয়।

তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের প্রভুপালককে ডাক; তিনি যালিমদিগকে পছন্দ করেন না

— সুরা আ’রাফ, আয়াত ৫৫

ব্যাখ্যাঃ এখানকার ‘খুফইয়াতান’ শব্দটির অর্থ গোপন ইবাদত, যা বিশুদ্ধচিত্ততার সঙ্গে সম্পাদিত হয় এবং যা আত্মম্ভরিতা থেকে মুক্ত। উল্লেখ্য, আত্মম্ভরিতামুক্ত এবং শুদ্ধসংকল্প-সম্বলিত না হলে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য কোনো ইবাদতই আলাহ্পাকের দরবারে গৃহীত হয় না।

হজরত আবু হোরায়রার বর্ণনায় এসেছে, রসুল স. বলেছেন, আলাহ্ সুবহানাহু তায়ালা এরশাদ করেন, আমি আমার বান্দার ধারণার অনুকল। যদি সে আমাকে গোপনে (মনে মনে ) স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে স্মরণ করি গোপনে। যদি সে আমাকে দলবদ্ধভাবে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে স্মরণ করি পবিত্র ও মর্যাদাশালী দলের মধ্যে (ফেরেশতাদের সঙ্গে)।

— বোখারী, মুসলিম

এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় প্রকার জিকির সিদ্ধ। কেউ কেউ বলেছেন, এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, প্রকাশ্য ও সশব্দ জিকিরই উত্তম । কিন্তু কথাটি ঠিক নয় । বরং এখানে একথাই প্রমাণিত হয় যে, নীরব ও সরব উভয় প্রকার জিকির গ্রহণীয় । বরং এখানে নীরব স্মরণকে সরব স্মরণাপেক্ষা প্রাধান্য প্রদান করা হয়েছে। [1]

তথ্যসূত্র

  1. আল্লাহ্‌র জিকির (লেখকঃ মুহাম্মাদ মামুনুর রশীদ)