যদি ভুলিয়া যাও, তবে তোমার প্রভূপালককে স্মরণ করিও

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

যদি ভুলিয়া যাও, তবে তোমার প্রভুপালককে স্মরণ করিও।

— সুরা কাহফ, আয়াত ২৪

ব্যাখ্যাঃ

কথাটির অর্থ- হে আমার রসুল! আপনি যদি ইনশাআল্লাহ্ বলা ছাড়া কোনো কথা বা কাজের ঘোষণা দেন, তবে আলাহ তায়ালার প্রশংসা বর্ণনা ও ক্ষমাপ্রার্থনার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করবেন। অথবা এমতো অনবধানতার কারণে আলাহর বিরাগভাজনতার কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত হবেন। কিংবা এই উদ্দেশ্যে আলাহকে স্মরণ করবেন, যেনো তিনি আপনার বিস্মৃতিপ্রবণতাকে দূর করে দেন এবং আপনার স্মরণশক্তিকে করে দেন প্রখর।

ইকরামা বলেছেন, আলোচ্য আয়াতের মাধ্যমে এই মর্মে সদুপদেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন তোমরা রাগান্বিত হও তখন আলাহ্কে স্মরণ কোরো। ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, ইঞ্জিল শরীফে উলেখিত হয়েছে, হে আদম সন্তান! তোমরা রাগান্বিত হলে আমাকে স্মরণ কোরো (তাহলে রাগ কমে যাবে)। এরকম যদি করো, তবে আমার রোষতপ্ত অবস্থায়ও আমি তোমাদের স্মরণ করবো (ক্ষমা করবো তোমাদের অপারগতাকে)।

জুহাক ও সুদ্দী বলেছেন, আলোচ্য আয়াতের নির্দেশনাটি নামাজের হুকুমের সাথে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ এখানে বলা হয়েছে- নামাজের মধ্যে যদি তোমরা কোনো করণীয় আমলের কথা ভুলে যাও, তবে আল্লাহকে স্মরণ কোরো। কথাটির অর্থ এরকমও হতে পারে যে- নামাজ পাঠের কথা যদি তোমরা ভুলে যাও, তবে স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে নামাজ আদায় করে নিও। হজরত আনাস কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, রসুলেপাক স. আজ্ঞা করেছেন,

যে ব্যক্তি নামাজ পড়তে ভুলে যায়, সে যেনো স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করে নেয়।

— বাগবী, বোখারী, মুসলিম, আহমদ, তিরমিজি।

নাসাঈর বর্ণনায় বিষয়টি উলেখিত হয়েছে এভাবে- বিস্মৃতি অথবা নিদ্রার কারণে যদি কারো নামাজ যথাসময়ে পঠিত না হয়, তবে তার কর্তব্য হবে, স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে তার বাদ পড়ে যাওয়া নামাজ আদায় করে নেবে।

সুফিয়ানে কেরাম আলোচ্য আয়াত সম্পর্কে এক সারগর্ভ আলোচনা উপস্থাপন করেছেন। তাঁদের মতে এই আয়াতের মর্মার্থ এরূপ- যখন তোমরা আলাহকে ছেড়ে অন্য কিছুর স্মরণে লিপ্ত হও, তখন আলাহর কথা স্মরণ কোরো বিশুদ্ধ অন্তরে। তাঁরা আরো বলেন, গাইরুল্লাহর স্মরণ থেকে পরিপূর্ণরূপে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিশুদ্ধ হৃদয়ে আলাহকে স্মরণ করা যায় না। কারণ মানুষের কলব একটিই। সুতরাং একথা কিছুতেই বলা যায় না যে, কলবে একই সঙ্গে জাগ্রত থাকবে আল্লাহ এবং গাইরুল্লাহর (আলাহ্ ছাড়া অন্য সকলকিছুর) স্মরণ। ক্বলবকে যদি আল্লাহর ভালোবাসায় পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করা যায় তাহলে নিশ্বাস-প্রশ্বাসও রঞ্জিত হবে আল্লাহর ভালোবাসায় ও স্মরণে। এই অবস্থার নাম ফানায়ে ক্বলব (ক্বলবের অস্তিত্ব বিস্মতি)। এই ফানায়ে কলব অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সুফিয়ানে কেরাম কাউকে তওহীদপন্থী বা এক আল্লাহয় বিশ্বাস স্থাপনকারী মনে করেন না। আমি বলি, সুফিয়ানে কেরামের ব্যাখ্যাই কোরআন মজীদের স্পষ্ট বর্ণনা, আরবী ব্যাকরণ এবং অভিধানের অনুকূল। দেখুন, এখানে প্রথমে বলা হয়েছে ‘যদি ভুলে যাও’। তারপর বলা হয়েছে ‘তোমার প্রভুপালককে স্মরণ কোরো’। এভাবে এখানে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, বিস্মরণ ও স্মরণ (গাফলত ও জিকির) বিপরীতধর্মী দুটি বিষয়। এ দুটোর একত্রায়ণ সম্ভবই নয়। সুতরাং এ দুটো ক্রিয়ার একটিকে প্রত্যক্ষ অর্থে, আর একটিকে পরোক্ষ অর্থে গ্রহণ করতে হবে, যেনো কোনো অযথার্থ অর্থ গ্রহণ না করতে হয়। অতএব একথা মানতেই হবে যে, এক্ষেত্রে সুফিয়ানে কেরামের বক্তব্য সঠিক ও বাস্তবোচিত। [1]

তথ্যসূত্র

  1. আল্লাহ্‌র জিকির (লেখকঃ মুহাম্মাদ মামুনুর রশীদ)