এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

যাকাতের গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মাসআলা
* যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তাবলী
* যাকাত আদায় করিবার নিয়ম
* জমিনে উৎপন্ন দ্রব্যের যাকাত
* যাকাতের গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি
আলোচনা
* যাকাত
  • মাসআলাঃ

মালদার লোকের জন্য যাকাত খাওয়া বা তাহাকে যাকাত দেওয়া জায়েয নহে । [ সে মালদার পুরুষ হউক বা স্ত্রী হউক, বালেগ হউক বা না বালেগ হউক ।] মালদার দুই প্রকারঃ এক প্রকার মালদার যাহার উপর যাকাত ওয়াজিব হয়; যেমন, যাহার নিকট ৫২।।০ তোলা রুপা বা ৭।।০ তোলা সোনা আছে বা ঐ মূল্যের দোকানদারীর মাল আসবাব আছে, তাহার উপর যাকাত, ফেৎরা ও কোরবানী ওয়াজিব হইবে। সে যাকাত খাইতে পারিবে না, তাহাকে দিলে যাকাত আদায় হইবে না। দ্বিতীয় প্রকার মালদারঃ যাহার উপর যাকাত ওয়াজিব নহে; যেমন যাহার নিকট উপরোক্ত তিন প্রকার মাল নাই বটে; কিন্তু হাজতে আছলিয়া অর্থাৎ, দৈনন্দিন জীবন যাপনোপযোগী আবশ্যকীয় মাল আসবাব ব্যতিরেক উপরোক্ত মূল্যের অন্য কোন মাল আছে, তাহার উপর যাকাত ওয়াজিব নহে; ( কিন্তু ফেৎরা ও কোরবানী ওয়াজিব। তাহার জন্য যাকাত, ফেৎরা, মান্নতের মাল,কাফ্‌ফারার মাল, জিযিয়া, কোরবানীর চামড়ার পয়সা ইত্যাদি ছদ্‌কায়ে ওয়াজিবার মাল খাওয়া জায়েয নহে। )

  • মাসআলাঃ

যাহার নিকট নেছাব পরিমাণ মাল নাই বরং অল্প কিছু মাল আছে কিংবা কিছুই নাই, এমনকি এক দিনের খোরাকীও নাই, এমন লোককে গরীব বলে। ইহাদিগকে যাকাত দেওয়া দুরুস্ত আছে, ইহাদের যাকাত লওয়ায়ও দুরুস্ত আছে। অর্থাৎ গরীব উহাকে বলে, যাহার নিকট কিছু মাল সম্পত্তি আছে, কিন্তু নেছাব পর্যন্ত পৌঁছে নাই ( যাকাতের নেছাবও নহে, ফেৎরা, কোরবানীর নেছাবও নহে )। কিংবা যাহার নিকট কিছুই নাই, এমনকি একদিনের খোরাকও নাই, ইহাদিগকে যাকাত দেওয়া দুরুস্থ আছে এবং তাঁহাদের যাকাত লেওয়াও দুরুস্ত আছে ।

  • মাসআলাঃ

বড় বড় ডেগ, বড় বড় বিছানাপত্র বা বর বড় শামিয়ানা, যাহা দৈনন্দিন কাজে লাগে না, বৎসরে দুই বৎসরে শাদী বিবাহের সময় কখনও কাজে লাগে; এই সব জিনিসকে হাজাতে আছলিয়ার মাঝে গন্য করা হয় না ।

  • মাসআলাঃ

বসতঘর বা দালান, পরিধানের কাপড়, কামকাজ করার জন্য নওকর চাকর, বড় গৃহস্থের আসবাবপত্র, আলেম ও তালেবে ইলমের কিতাব, এই সবকে হাজাতে আছলিয়ার মাঝে গন্য করা হয়।

  • মাসআলাঃ

যাহার নিকট দশ পাঁচটি বাড়ী আছে, যাহার কেরায়া দ্বারা সে জীবিকা নির্বাহ করে, অথবা এক আধ খানা গ্রাম আছে, কিন্তু পরিবারবর্গের খরচ এত বেশী যে, তাহার আয়ের দ্বারা ব্যয় নির্বাহ হয় নাঃ বরং অনেক কষ্টে জীবন যাপন করিতে হয় এবং তাহার নিকট অন্য কোন জিনিসও যাকাত বা ফেৎরা ওয়াজিব হওয়ার উপযুক্ত নাই, এমন লোককে যাকাতের পয়সা দেওয়া জায়েয আছে।

  • মাসআলাঃ

মনে করুন, কাহারও নিকট হাজার টাকা আছে, কিন্তু আবার হাজার টাকা বা তাহা অপেক্ষা বেশী দেনাও আছে, এরুপ লোককে যাকাত দেয়া জায়েয আছে। আর যদি যত টাকা জমা আছে, দেনা তাহার চেয়ে কম হয় এবং দেনা আদায় করিয়া দিলে মালেকে নেছাব না থাকে, তবে তাহাকেও যাকাত দেওয়া জায়েয আছে। যদি দেনা আদায় করিবার পর মালেকে নেছাব থাকে, তবে তাহাকে যাকাত দেওয়া বা তাহার জন্য যাকাত খাওয়া জায়েয নহে।

  • মাসআলাঃ

কেহ হয়ত বাড়ীতে খুব ধনী, কিন্তু বিদেশে এমন মুছিবতে পড়িয়াছে যে, বাড়ী পর্যন্ত পৌঁছাইবার বা তথা হইতে টাকা আনাইয়া খরচ চালাইবার কোনই উপায় নাই, এইরূপ লোককে যাকাত দেওয়া জায়েয আছে। এইরূপ কোন লোক হজ্জ করিতে গিয়া পথিমধ্যে যদি অভাবে পড়ে, তাহাকেও যাকাত দেওয়া জায়েয আছে। (এইরূপ ধণী হওয়া স্বত্বেও যে ব্যক্তি অভাবে পড়ে তাহাকে “ইবনোস্‌সনীল” বলে । ইবনোস্‌সবীলকে যাকাত দেওয়া জায়েয আছে ।)

  • মাসআলাঃ

যাকাত অমুসলমানকে দেওয়া জায়েয নাই। যাকাত, ওশর , ফেৎরা, মান্নত, কাফ্‌ফারা ইত্যাদি ছদ্‌কায়ে ওয়াজিবার মাল মুসলমানকেই দিতে হইবে । ছদকায়ে নাফেলা অমুসলমানকেও দেওয়া জায়েয আছে ।

  • মাসআলাঃ

( যাকাত ইত্যাদি সর্বপ্রকার ছদ্‌কায়ে ওয়াজিবার হুকুম এই যে, কোন গরীবকে মালেক বানাইয়া দিতে হইবে ।) কোন গরীবকে মালেক না বানাইয়া যদি কেহ যাকাতের পয়সা দ্বারা মসজিদ বা মাদ্রাসার ঘর নির্মাণ করে বা উহার বিছানা খরিদ করে বা কোন মৃত ব্যক্তির কাফনে খরচ করে বা তাহার দেনা পরিশোধ, তবে যাকাত আদায় হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

নিজের যাকাত ( সর্বপ্রকার ছদ্‌কায়ে ওয়াজিবা ) নিজের মা, বাপ, দাদা, দাদী, নানা, নানী পরদাদা ইত্যাদি অর্থাৎ, যাহাদের দ্বারা তাহার জন্ম হইয়াছে, তাহাদিগকে দেওয়া জায়েয নহে। এইরূপ ছেলে, মেয়ে, পোতা, পুতি, নাতি, নাতনী এবং ঊহাদের বংশধরগণ যাঁহারা তাহার ঐরসে জন্মিয়াছে তাহাদিগকে যাকাত দেওয়া জায়েয নহে । স্বামী নিজের স্ত্রীকে এবং স্ত্রী নিজের স্বামীকেও যাকাত দিতে পারিবে না ।

  • মাসআলাঃ

এ ব্যতীত চাচা, মামু, খালা, ভাই, ভগ্নী, ফুফু, ভাগিনেয়, ভাতিজা, সতাল মা, শ্বাশুড়ী ইত্যাদি রেশ্‌তাদারগনকে যাকাত দেওয়া জায়েয আছে ।

  • মাসআলাঃ

না-বালেগ সন্তানের বাপ যদি মালদার হয়, তবে ঐ না-বালেগ সন্তানকে যাকাত দেওয়া জায়েয নহে। বালেগ সন্তান যদি নিজে মালদার না হয়, তবে শুধু তাহার বাপ মালদার হওয়ায় তাহকে যাকাত দেওয়া দুরুস্ত হইবে ।

  • মাসআলাঃ

না-বালেগ সন্তানের বাপ মালদার নহে; কিন্তু মা মালদার তবে তাঁহাদের ঐ না বালেগ সন্তানকে যাকাত দেওয়া দুরুস্ত হইবে।

  • মাসআলাঃ

সাইয়্যেদকে (মা ফাতেমার বংশধরকে), হযরত আলীর বংশধরকে, এরুপে যাঁহারা হযরত আব্বাছ, হযরত জাফর (রাঃ), হযরত আক্কীল, হযরত হারেস ইব্‌নে আবদুল মোত্তালেব প্রমুখদের বংশধর তাহাদিগকে যাকাত দেওয়া দুরুস্ত নাই এবং ওয়াজিব ছদ্‌কাও দেওয়া জায়েয নাই । যেমন, মান্নত, কাফ্‌ফারা, ছদ্‌কায়ে ফেৎর । এগুলো ব্যাতীত অন্যান্য ছদ্‌কা খয়রাত দান করা দুরুস্ত আছে।

  • মাসআলাঃ

বাড়ীর চাকর বা চাকরানীকে যাকাত দেওয়া দুরুস্ত আছে, কিন্তু বেতনের মধ্যে গনিয়া দিলা যাকাত আদায় হইবে না । অবশ্য ধার্য বেতন দেওয়ার পর বখশীশ স্বরূপ যদি দেয় এবং মনে যাকাতের নিয়্যত রাখে, তবে যাকাত আদায় হইয়া যাইবে।

  • মাসআলাঃ

দুধ মাকে বা দুধ ছেলেকে যাকাত দেওয়া দুরুস্ত আছে।

  • মাসআলাঃ

কোন মেয়েলোকের এক হাজার টাকার মহর আছে , কিন্তু তাহার স্বামী গরীব, মহরের টাকা দেবার মত শক্তি তাহার নাই, অথবা শক্তি আছে কিন্তু তলব করা স্বত্বেও সে দেয় না, অথবা মেয়েলোকটি তাহার মহরের টাকা সম্পূর্ণ মা’ফ করিয়া দিয়েছে, (এ ব্যতীত জেওরপাতি বা অন্য কোন দিক দিয়াও সে মালদার নহে ) এরুপ মেয়েলোককে যাকাত দেওয়া জায়েয আছে। অবশ্য যদি স্বামী ধনী হয় এবং মহ্‌রের টাকা তলব করিলে দেয়, তবে ঐ মেয়েলোককে যাকাত দেওয়া দুরুস্ত নাই।

  • মাসআলাঃ

যাকাতের মুস্তাহেক (লওয়ার যোগ্য) মনে করিয়া যদি কোন অপরিচিত লোককে যাকাত দেওয়ার পর জানা যায় যে, সে যাকাতের মুস্তাহেক নহে সাইয়্যদ বা মালদার, কিংবা অন্ধকার রাত্রে যাকাত দেওয়ার পর জানিতে পারিল যে, সে তাহার মা, মেয়ে বা নিজের এমন কোন রেশ্‌তাদার, যাহাকে যাকাত দেওয়া দুরুস্ত নহে, তবে তাহার যাকাত আদায় হইয়া যাইবে, ( কিন্তু যে নিয়াছে তাহার জন্য ঐ পয়সা হালাল হইবে না;) যদি সে জানিতে পারে যে, ইহা যাকাতের পয়সা তবে ফেরত দেওয়া ওয়াজিব হইবে। এইরূপ অপরিচিত লোককে দেওয়ার পর যদি জানা যায় যে, যাহাকে যাকাত দেওয়া হইয়াছে সে মুসলমান নহে , কাফের, তবে যাকাত আদায় হইবে না , পুনরায় দিতে হইবে ।

  • মাসআলাঃ

যদি কাহারও উপর সন্দেহ হয়, যে সে হয়ত মালদার হইতে পারে, তবে সন্দেহের পাত্রকে যাকাত দিবে না । বাস্তবিক অভাবগ্রস্ত কি না তাহা জানিয়া তারপর যাকাত দিবে। সত্যই অভাবগ্রস্ত কিনা, তাহা না জানিয়া যদি কোন সন্দেহের পাত্রকে যাকাত দেওয়া হয় এবং দেলে গাওয়াহী দেয় যে,সে অভাবগ্রস্ত, তবে যাকাত আদায় হইয়া গিয়াছে। আর যদি দিলে গাওয়াহী দেয় যে, সে মালদার, তবে যাকাত আদায় হইবে না; আবার যাকাত দিতে হইবে। আর যদি দেওয়ার পর জানা গিয়া থাকে যে, বাস্তবিক পক্ষে সে গরীব ছিল, তবুও যাকাত আদায় হইয়া যাইবে।

  • মাসআলাঃ

যাকাত দিবার সময় আত্মীয়-স্বজনের কথা মনে করিবে এবং তাহাদিগকে দিবে। কিন্তু নিজের আত্মীয়-স্বজনকে দিবার সময় যাকাতের কথা শুধু মনে মনে নিয়ত করিবে, তাঁহাদের সামনে যাকাতের কথা উল্লেখ করিবে না । কারণ হয়ত লজ্জা পাইতে পারে। হাদীস শরীফে আছে, “নিজের আত্মীয়কে খয়রাত দিলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়”। একে ত খয়রাতের সওয়াব, দ্বিতীয়তঃ আত্মীয়র উপকার অ অভাব মোচন করার সওয়াব । নিজের আত্মীয়দের অভাব মোচনের পর যাহা বাকী থাকিবে, তাহা অন্য লোককে দিবে।

  • মাসআলাঃ

এক শহরের যাকাত অন্য শহরে পাঠান মাকরুহ্‌। কিন্তু যদি নিজের অভাবগ্রস্ত কোন আত্মীয় অন্য শহরে থাকে, অথবা অন্য শহরের লোক এ শহর অপেক্ষা বেশী অভাবগ্রস্ত হয়, অথবা অন্য শহরে দ্বীন ইসলামের খেদমত বেশী হয়, তবে তথায় পাঠাইয়া দেওয়া মাকরুহ্‌ নহে। কেননা, যাকাত খরাতের দ্বারা তালেবে এল্‌মগনের এবং দ্বীনই খাদেম আলেমগনের সাহায্য করাতে অনেক বেশী সওয়াব পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র

  • বেহেস্তী জেওর (লেখকঃ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ))