যেসব কারনে রোযা ভঙ্গ হয় বা ভঙ্গ হয় না

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
রোজা


  • রোজার মাসআলা

  • মাসআলাঃ

রোযা রাখিয়া যদি রোযার কথা ভুলিয়া কিছু খাইয়া ফেলে, কিংবা ভুলে স্বামী-সহবাস হইয়া যায়, রোযার কথা মাত্রই স্মরণ না আসে, তবে তাহাতে রোযা ভঙ্গ হয় না । যদি ভুলে পেট ভরিয়াও পানাহার করে, কিংবা ভুলে কয়েকবার পানাহার করে, তবুও রোযা ভঙ্গ হয় না । (কিন্তু খাওয়া শুরু করার পর স্মরণ হইলে তৎক্ষণাৎ খাওয়া বন্ধ করিতে হইবে । কিছু জিনিস গিলিয়া ফেলিলেও রোযা ভঙ্গ হইয়া যাইবে ।)

  • মাসআলাঃ

কোন রোযাদারকে ভুলবশতঃ খাইতে দেখিলে যদি রোজাদার সবল হয় এবং রোযা রাখিতে কষ্ট না হয়, তবে তাহাকে স্মরণ করাইয়া দেওয়া ওয়াজিব । কিন্তু যদি রোযা রাখিবার মত শক্তি তাহার না থাকে, তবে স্মরণ করাইবে না; তাহাকে খাইতে দিবে ।

  • মাসআলাঃ

রোযা রাখিয়া দিনে ঘুমাইলে বা স্বপ্নদোষ হইলে (বা স্বপ্নে কিছু খাইলে) রোযা ভঙ্গ হয় না ।

  • মাসআলাঃ

রোযা রাখিয়া সুরমা বা তেল লাগান অথবা খুশবুর গরান লওয়া দুরস্ত আছে । এমন কি, চোখে সুরমা লাগাইলে যদি থুথু কিংবা শ্লেষ্মায় সুরমার রঙ দেখা যায়, তবুও রোযা ভঙ্গ হয় না, মাকরুহ্‌ও হয় না ।

  • মাসআলাঃ

রোযা রাখিয়া দিনের বেলায় স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে শোয়া, হাত লাগান বা পেয়ার করা সমস্তই দুরস্ত, কিনত যদি কামভাব প্রবল হইয়া স্ত্রীসহবাসের আশঙ্কা হয়, তবে এরূপ করা মাকরুহ । (এই জন্যই জওয়ান স্বামী-স্ত্রীর জন্য রোযা রাখিয়া চুম্বন অথবা কোলাকুলি করা মাকরুহ। কিন্তু যে সব বৃদ্ধের মনে চাঞ্চল্য আসে না তাহাদের জন্য মাকরুহ নবে।)

  • মাসআলাঃ

আপনাআপনি যদি হলকুমের মধ্যে মাছি, ধোঁয়া বা ধুলা চলিয়া যায়, তবে তাহাতে রোযা ভঙ্গ হয় না; কিন্তু ইচ্ছাপূর্বক এরূপ এরূপ করিলে রোযা ভঙ্গ হইবে ।

  • মাসআলাঃ

লোবান বা আগরবাতি জ্বালাইয়া তাহার ধোঁয়া গ্রহণ করিলে রোযা ভঙ্গ হইয়া যাবে । এইরূপে যদি কেহ বিড়ি সিগারেট অথবা হুক্কার ধোঁয়া পান করে তবে তাহার রোযা ভঙ্গ হইয়া যাইবে । কিন্তু গোলাপ, কেওড়া ফুল, আতর ইত্যাদি যে সব খোশবুতে ধোঁয়া নাই, তাহার ঘ্রাণ লওয়া দুরস্ত আছে ।

  • মাসআলাঃ

দাঁতের ফাঁকে যদি কোন খাদ্যদ্রব্য আট্‌কিয়া থাকে এবং খেলাল বা জিহ্বার দ্বারা তাহা বাহির করিয়া গিলিয়া ফেলে, মুখের বাহির না করে এবং ঐ খাদ্যদ্রব্য একটি বুটের পরিমাণ অথবা তদপেক্ষা অধিক হয়, তবে রোযা ভঙ্গ হইয়া যাইবে । আর যদি একটি বুট অপেক্ষা কম হয় তবে রোযা ভঙ্গ হইবে না, কিন্তু যদি মুখ হইতে বাহিরে আনিয়া তারপর গিলে, তবে তাহা বুট হইতে কম হইলেও রোযা ভঙ্গ হইয়া যাইবে ।

  • মাসআলাঃ

মুখের থুথু যত বেশীই হউক না কেন তাহা গিলিলে রোযার কোনই ক্ষতি হয় না ।

  • মাসআলাঃ

শেষ রাত্রে সেহ্‌রী খাওয়ার পর যদি কেহ পান খায়, তবে ছোব্‌হে সাদেকের পূর্বেই উত্তমরূপে কুল্লি করিয়া মুখ ছাফ করিয়া লওয়া উচিৎ । উত্তমরূপে কুল্লি করার পরও যদি সকালে থুথু কিছু লাল দেখায়, তবে তাহাতে রোযা ভঙ্গ হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

রাত্রে যদি গোসল ফরয হয়, তবে ছোব্‌হে ছাদেকের পূর্বেই গোসল করিয়া লওয়া উচিত; কিন্তু কেহ যদি গোসল করিতে দেরী করে,কিংবা সারা দিন গোসল নাও করে, তবে তাহাতে রোযা ভঙ্গ হইবে না। অবশ্য ফরয গোসল অকারনে দেরীতে করিলে তজ্জন্য পৃথক গোনাহ্‌ হইবে।

  • মাসআলাঃ

নাকের শ্লেষ্মা জোরে টানার কারনে যদি হলকুমে চলিয়া যায়, তবে তাহাতে রোযা নষ্ট হয় না। এইরূপে মুখের লালা টানিয়া গিলিয়া ফেলিলেও রোযা নষ্ট হয় না।

  • মাসআলাঃ

যদি কেহ সেহ্‌রী খাইয়া পান মুখে দিয়া চিবাইতে চিবাইতে ঘুমাইয়া পরে এবং পান মুখে থাকা অবস্থাতেই রাত্রি প্রভাত হইয়া যায়, তবে তাহার রোযা শুদ্ধ হবে না। এই রোযা ভাঙ্গিতে পারিবে না বটে, কিন্তু উহার পরিবর্তে একটি রোযা ক্বাযা রাখিতে হইবে, কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হইবে না।

  • মাসআলাঃ

কুল্লি করার সময় যদি (অসতর্কতাবশতঃ রোযার কথা সরন থাকা স্বত্বেও) হলকুমের মধ্যে পানি চলিয়া যায়,(অথবা ডুব দিয়া গোসল করিবার সময় হঠাৎ নাক বা মুখ দিয়া হলকুমের ভিতর চলিয়া যায়,) তবে রোযা ভঙ্গ হইবে। (কিন্তু পানাহার করিতে পারিবে না।) এই রোযা ক্বাযা করা ওয়াজিব, কাফ্‌ফারা ওয়াজিব নহে।

  • মাসআলাঃ

আপনা আপনি যদি বমি হইয়া যায়, তবে বেশী হউক কি কম হউক, তাহাতে রোযা নষ্ট হয় না। তবে যদি ইচ্ছা করিয়া মুখ ভরিয়া বমি করে, তবে রোযা নষ্ট হইয়া যায়, অল্প বমি করিলে রোযা নষ্ট হয় না।

  • মাসআলাঃ

যদি আপনাআপনি সামান্য বমি হয় এবং আপনাআপনি হলকুমের ভিতর চলিয়া যায়, তাহাতে রোযা নষ্ট হইবে না। অবশ্য যদি ইচ্ছাপূর্বক গিলে, তবে পরিমানে কম হইলেও (বমি) রোযা নষ্ট হইয়া যাইবে, (অথবা যদি বেশী পরিমান আপনাআপনি হলকুমের নিচে চলিয়া যায়, তবে রোযা নষ্ট হইয়া যাইবে। কিন্তু পানাহার করিবে না।)

  • মাসআলাঃ

যদি কেহ একটি কঙ্কর অথবা লোহার (বা সীসার) গুলি (অথবা একটি পয়সা গিলিয়া ফেলে অর্থাৎ) এমন কোন জিনিস গিলিয়া ফেলে যাহা লোকে সাধারণতঃ খাদ্যরুপে খায় না বা ঔষধরুপেও সেবন করে না, তবে তাহাতে রোযা ভঙ্গ হইয়া যাইবে বটে, কিন্তু কাফ্‌ফারা দিতে হইবে না। শুধু একটি রোযার পরিবর্তে আর একটি রোযা ক্বাযা করিতে হইবে । আর যদি এমন কোন জিনিশ গিলিয়া ফেলে, যাহা লোকে খাদ্যরুপে খায়, অথবা পানীয়রুপে পান করে, বা ঔষধরুপে সেবন করে, তবে তাহাকে কবাযাও রাখিতে হইবে এবং কাফ্‌ফারাও দিতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

রোযা রাখিয়া দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করিলে এমন কি পুরুষের খৎনা স্থান স্ত্রীর যোনি দ্বারে প্রবেশ করিলে বীর্যপাত হউক বা না হউক রোযা ভঙ্গ হইবে, ক্বাযা এবং কাফ্‌ফার উভয়ই ওয়াজিব হইবে।

  • মাসআলাঃ

স্বামী যদি স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে পুরুষাঙ্গের খৎনা স্থান পর্যন্ত প্রবেশ করায়, তবুও উভয়ের রোযা ভঙ্গ হইবে । কাফ্‌ফার, ক্বাযা উভয়ই ওয়াজিব হইবে ।

  • মাসআলাঃ

রমযান শরীফের রোযা রাখিয়া ভাঙ্গিলে কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হয় । রমযান ছাড়া অন্য কোন রোযা ভাঙ্গিলে রোযা ওয়াজিব হয় না, যেরূপেই ভাঙ্গুক, যদিও রমযানের ক্বাযা রোযা রাখিয়া ভাঙ্গে। অবশ্য যদি রাত্রে রোযার নিয়্যত না করে, কিংবা রোযা ভাঙ্গার পর ওই দিনই হায়েয আসে, তবে ওই ভাঙ্গার কারনে কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হইবে না।

  • মাসআলাঃ

নাকে নস্যি টানিলে কিংবা কানে তেল ঢালিলে, অথবা পায়খানার জন্য ডুস লইলে রোযা ভঙ্গ হইয়া যায়, কিন্তু এইরূপ করিলে কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হইবে না, শুধু ক্বাযা করিতে হইবে । কানে পানি টপ্‌কাইলে তাহাতে রোযা ভঙ্গ হয় না ।

  • মাসআলাঃ

রোযা রাখা অবস্থায় পেশাবের রাস্তায় কোন ঔষধ রাখা অথবা তেল ইত্যাদি টপকান দুরুস্ত নাই। যদি কেহ ঔষধ রাখে, তবে রোযা ভঙ্গ হইবে এবং ক্বাযা ওয়াজিব হইবে, কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হইবে না।

  • মাসআলাঃ

ধাত্রী যদি প্রসূতির প্রস্রাব দ্বারে আঙ্গুল ঢুকায় কিংবা নিজেই নিজ যোনিতে আঙ্গুল ঢুকায়, অতঃপর সম্পূর্ণ আঙ্গুল বা কিয়দংশ বাহির করার পর আবার ঢুকায়, তবে রোযা ভঙ্গ হইয়া যাইবে । কিন্তু কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হইবে না। আর যদি বাহির করার পর আবার না ঢুকায় তবে রোযা ভঙ্গ হইবে না । অবশ্য যদি পানি ইত্যাদির দ্বারা আঙ্গুল ভিজা থাকে, তবে প্রথমবারে ঢুকাইলেই রোযা ভঙ্গ হইবে ।

  • মাসআলাঃ

দাঁত দিয়া রক্ত বাহির হইলে যদি থুতুর সঙ্গে সে রক্ত গিলিয়া ফেলে, তবে রোযা ভঙ্গ হইবে, কিন্তু যদি থুতুর চেয়ে কম হয় – যাহাতে রক্তের স্বাদ পাওয়া না যায়, তবে রোযা ভঙ্গ হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

কোন জিনিস জিহ্বার অগ্রভাগ দিয়া একটু স্বাদ দেখিয়া থুথু ফেলিয়া দিলে, রোযা ভঙ্গ হয় না । কিন্তু বিনা দরকারে এরুপ করা মাক্‌রুহ । অবশ্য যদি কাহারও স্বামী এত বড় যালেম এবং পাষান হৃদয় হয় যে ছালুনে নিমক একটু কম বেশী হইলে যুলুম করা শুরু করে, তাহার জন্য ছালুনে নুন দেখিয়া থুথু ফেলিয়া দেয়া দুরুস্ত আছে, মাক্‌রুহ নহে ।

  • মাসআলাঃ

রোযাবস্থায় শিশু সন্তানের খাওয়ার জন্য কোন জিনিস চিবাইয়া দেওয়া মাক্‌রুহ । অবশ্য শিশুর জীবন ওষ্ঠাগত হইলে এবং কেহ চিবাইয়া দেয়ার না থাকিলে, এইরূপ অবস্থায় চিবাইয়া দিয়া মুখ পরিষ্কার করিয়া ফেলা জায়েয আছে।

  • মাসআলাঃ

রোযা রাখিয়া দিনের বেলা কয়লা, বা মাজন (বা বালুর) দ্বারা দাঁত মাজা মাক্‌রুহ এবং ইহার কিছু অংশ যদি হলকুমের নিচে চলিয়া যায়, তবে রোযা ভঙ্গ হইয়া যাইবে । কাঁচা বা শুক্‌না মেস্‌ওয়াক দ্বারা দাঁত মাজা দুরুস্ত আছে । এমন কি, নিমের কাঁচা দালের মেস্‌ওয়াক দ্বারা মেস্‌ওয়াক করে এবং তাহার তিক্ততার স্বাদ মুখে অনুভব করে, তাহাতেও রোযার কোন ক্ষতি হইবে না, মাক্‌রুহও হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

কোন স্ত্রীলোক অসতর্ক অবস্থায় ঘুমাইয়াছে, কিংবা অজ্ঞান অবস্থায় পড়িয়া আছে, কেহ তাহার সহিত সহবাস করিলে তাহার রোযা ভঙ্গ হইবে এবং ক্বাযা ওয়াজিব হইবে । কিন্তু পুরুষের কাফ্‌ফারাও ওয়াজিব হইবে ।

  • মাসআলাঃ

ভুলে পানাহার করিলে রোযা যায় না, কিন্তু এইরূপ করার পর তাহার রোযা ভঙ্গ হইয়া গিয়াছে মনে করিয়া যদি কিছু খায়, তবে তাহার রোযা অবশ্য ভঙ্গ হইয়া ; কিন্তু শুধু ক্বাযা করিতে হইবে, কাফ্‌ফারা দিতে হইবে ।

  • মাসআলাঃ

কাহারও যদি আপনাআপনি বমি হয়, তাহাতে রোযা ভঙ্গ হয় না ।, কিন্তু রোযা ভঙ্গ হইয়া গিয়াছে মনে করিয়া যদি পরে কিছু খায়, তবে তাহার রোযা অবশ্যই টুটিয়া যাইবে ; কিন্তু শুধু ক্বাযা করিতে হইবে, কাফ্‌ফারা দিতে হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

যদি কেহ সুরমা অথবা তেল লাগাইয়া অজ্ঞতাবশতঃ মনে করে যে, তাহার রোযা ভাঙ্গিয়া গিয়াছে এবং এই কারনে ইচ্ছা করিয়া কিছু খাওয়া – দাওয়া করে, তবে ক্বাযা কাফ্‌ফারা উভয়ই ওয়াজিব হইবে ।

  • মাসআলাঃ

রমযান মাসে যদি কোন কারনবশতঃ যদি কাহারও রোযা ভাঙ্গিয়া যায়, তবুও দিনের বেলায় তাহার কিছু খাওয়া দুরুস্ত নহে, সমস্ত দিন রোযাদারের ন্যায় না খাইয়া থাকা তাহার ওপর উপর ওয়াজিব হইবে ।

  • মাসআলাঃ

যদি কেহ রমযানে রোযার নিয়্যতই করে নাই বলিয়া খাওয়া – দাওয়া করিতে থাকে, তাহার উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হইবে না। রোযার নিয়্যত করিয়া ভাঙ্গিলে কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হয়।

তথ্যসূত্র

  • বেহেস্তী জেওর (লেখকঃ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ))