এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

যে সকল কারণে রোযা না রাখা জায়েয

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মাসআলাঃ

কেহ যদি এমন রোগাক্রান্ত হয় যে, যদি রোযা রাখে, তবে (ক) রোগ বাড়িয়া যাইবে, (খ) রোগ দুরারোগ্য হইয়া যাইবে, (গ) জীবন হারাইবার আশঙ্কা হয়, তবে তাহার জন্য তখন রোযা না রাখিয়া আরোগ্য লাভ করার পর ক্বাযা রাখা দুরুস্ত আছে । কিন্তু শুধু নিজের কাল্পনিক খেয়ালে রোযা ছাড়া জায়েয নহে, যখন কোন মুসলমান দ্বীনদার চিকিৎসক সার্টিফিকেট (সাক্ষ্য) দিবেন যে, রোযা তোমার ক্ষতি করিবে, তখন রোযা ছাড়া জায়য হইবে ।

মাসআলাঃ

চিকিৎসক, ডাক্তার বা কবিরাজ যদি কাফের (অমুসলমান) হয়, অথবা এমন মুসলমান হয় যে, দ্বীন ঈমানের পরওয়া রাখে না, তবে তাহার কথায় রোযা ছাড়া যাইবে না ।

মাসআলাঃ

রোগী যদি নিজেই বহুদর্শী জ্ঞানী হয় এবং বারবার পরীক্ষা দ্বারা প্রমানিত হইয়া থাকে যে, এই রোগে রোযা রাখিলে নিশ্চিত ক্ষতি হইবে এবং মনেও এইরূপ সাক্ষ্য দেয়, তবে নিজের মনের সাক্ষ্যের উপর রোযা ছাড়িতে পারে । কিন্তু যদি নিজে ভুক্তভোগী জ্ঞানী না হয়, তবে শুধু কাল্পনিক খেয়ালের কোনই মুল্য নাই । কাল্পনিক খেয়ালে বশীভুত হইয়া কিছুতেই রোযা ছাড়িবে না । এইরূপ অবস্থায় দ্বীনদার চিকিৎসকের সাক্ষ্য (সনদ) ব্যতিরেকে রোযা ছাড়িলে কাফ্‌ফারা দিতে হইবে । রোযা না রাখিলে গোনাহ্‌ হইবে ।

মাসআলাঃ

রোগ আরোগ্য হওয়ার পর যে দুরবলতা থাকে, সেই দুরবল অবস্থায় যদি রোযা রাখিলে পুনরায় রোগাক্রান্ত হওয়ার প্রবল আশংকা থাকে, তবে সে অবস্থায় রোযা না রাকাহ জায়েয আছে ।

মাসআলাঃ

যে ব্যক্তি বাড়ী হইতে ৪৮ মাইল বা তার দূরবর্তী স্থানে যাইবার এরাদা করিয়া নিজ বাসস্থানের লোকদের সীমা অতিক্রম করিয়াছে, তাহাকে শরীঅতের পরিভাষায় ‘মুসাফির’ বলে । অবশ্য যাহারা শরীঅত অনুসারে মুসাফির তাহারা সফরে থাকাকালীন রোযা ছাড়িয়া দিয়া অন্য সময় রাখিতে পারে ।

মাসআলাঃ

শরয়ী সফরে যদি কোন কষ্ট না হয়, যেমন গাড়ীতে ভ্রমন করিতেছে, ধারণা এই যে, সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ী পৌঁছাইয়া যাইব, কিংবা সঙ্গে আরামের দ্রব্য আছে । তবে রোযা রাখাই উত্তম, কিন্তু না রাখিলে গোনাহ্‌ হইবে না ; অবশ্য রমযানের ফযীলত পাইবে না । যদি রোযা রাখিতে কষ্ট হয়, তবে রোযা না রাখায় ভাল ।

মাসআলাঃ

যদি কেহ পীড়িতাবস্থায় মারা যায়, অথবা শরয়ী সফরেই মৃত্যু হয়, তবে যে কয়টি রোযা এই রোগের অথবা এই সফরের জন্য ছুটিয়াছে, আখেরাতে তাহার জন্য দায়ী হইবে না । কেননা, সে ক্বাযা রাখিবার সময় পায় নাই ।

মাসআলাঃ

কেহ পীড়িতাবস্থায় ১০টি রোযা ছাড়িয়াছে এবং ৫ দিন ভাল থাকিয়া মৃত্যু হইল, এখন ৫ টি রোযা মাফ পাইবে, কিন্তু পাঁচ দিন ভাল ছিল অথচ ক্বাযা রোযা রাখে নাই, সেই পাঁচটি রোযার জন্য দায়ী হইবে এবং কিয়ামতের হিসাবের সময় তাহার জন্য ধর পাকড় হইবে । আর যদি আরোগ্য হওয়ার পর পূর্ণ দশ দিন ভাল থাকিয়া থাকে, তবে পূর্ণ দশটি রোযার জন্যই হইবে এবং কিয়ামতের দিন ধর পাকড় হইবে । কাজেই কাহারও যদি এইরূপ অবস্থা হয় তবে তাহার মৃত্যুর আলামত দেখিলে তাহার মাল থাকিলে বাকী রোযার ফিদ্‌ইয়া আদায় করার জন্য অছিয়ত করিয়া যাওয়া উচিত (মাল থাকা স্বত্বেও যদি অছিয়ত না করে, তবে শক্ত গোনাহ্‌গার হইবে ।) ফিদ্‌য়ার বয়ান সামনে আসিতেছে ।

মাসআলাঃ

এইরূপ যদি কেহ শরীয় সফরের মাঝে রোজা না রাখে এবং বাড়ীতে ফিরিয়া কয়েকদিনের মাঝে মারা যায়, তবে যে কয় দিন বাড়ীতে আসিয়া ভাল রহিয়াছে, সেই কয় দিনের জন্য ধর পাকড় হইবে, সে কয়টি রোযার ফিদ্‌ইয়ার জন্য অছিয়ত করিয়া যাওয়া তাহার উপর ওয়াজিব । যে কয়দিন বাড়ী রহিয়াছে, রোযা যদি তাহা অপেক্ষা বেশী ছুটিয়া থাকে, তবে বেশী রোযার ফিদ্‌ইয়া তাহার উপর ওয়াজিব নহে ।

মাসআলাঃ

শরীয় সফরে বাহির হওয়ার পর যদি বিদেশে কোন স্থানে ১৫ দিন বা তাহার বেশী অবস্থান করিবার নিয়্যত করে, তবে সেখানে থাকাকালে রোযা ছাড়া দুরুস্ত নহে । কেননা, কমপক্ষে ১৫ দিন কোন স্থানে অবস্থান করার নিয়্যত করিলে শরা’ অনুসারে সে মুক্কীম হইয়া যায়, মুসাফির থাকে না । অবশ্য যদি ১৫ দিনের কম থাকার নিয়্যত করে, তবে রোযা না রাখা জায়েয আছে ।

মাসআলাঃ

গর্ভবতী মেয়েলোকের অথবা সদ্যপ্রসুত শিশুর স্তন্যদায়িনী মেয়েলোকের রোযা রাখিলে রোযা যদি নিজের বা শিশুর জীবনের আশঙ্কার কারণ হয়, তবে তাহাদের জন্য রোযা না রাখা দুরুস্ত আছে। তাহারা পরে অন্য সময় ক্বাযা রাখিয়া লইবে । অবশ্য যদি স্বামী মালদার হয় এবং অন্য কোন ধাত্রী রাখিয়া শিশুকে দুধ পান করাইতে পারে, তবে মায়ের জন্য রোযা ছাড়া জায়েয নহে । কিন্তু যদি শিশু এমন হয় তাহার মায়ের দুধ ছাড়া অন্যর দুধ মুখেই লয় না, তবে (শিশুর দুধের জন্য) মায়ের রোযা না রাখা দুরুস্ত আছে ।

মাসআলাঃ

কোন মেয়েলোক ধাত্রীর চাকুরী লইয়াছে । তাহাকে কোন বড় লোকের ছেলেকে দুধ পান করাইতে হয়, অন্যথায় শিশু বাচে না । এই অবস্থায় যদি রমযান মাস আসিয়া পড়ে, তবে তাহার জন্য তখন রোযা না রাখিয়া পড়ে ক্বাযা রাখা দুরুস্ত আছে ।

মাসআলাঃ

মেয়েলোকের যদি রোযার মধ্যে হায়েয বা নেফাস উপস্থিত হয়, তবে তদবস্থায় রোযা রাখা দুরুস্ত নহে, পরে রাখিবে ।

মাসআলাঃ

রাত্রে যদি মেয়েলোকের হায়েয বন্ধ হয়, তবে সকালে রোযা ছাড়িবে না, রোযার পর(?) যদি রাত্রে গোসল নাও করে, তবুও রোযা ছাড়িতে পাড়িবে না । আর যদি ছোব্‌হে ছাদেক হওয়ার পর রক্ত বন্ধ হয়, তবে রোযার নিয়্যত করা জায়েয হইবে না । অবশ্য দিন ভরিয়া কিছু পানাহার করা দুরুস্ত নাই । সারাদিন রোযাদারের মত থাকিবে ।

মাসআলাঃ

যদি কেহ রমযান শরীফে দিনের বেলায় নূতন মুসলমান হয় বা বালেগ হয়, তবে তাহাদের জন্য অবশিষ্ট দিন কিছু খাওয়া দাওয়া করা দুরুস্ত নহে, কিন্তু যদি কিছু খায়, তবে যে দিনের বেলায় বালেগ হইয়াছে বা নূতন মুসলমান হইয়াছে, তাহার ঐ দিনের ক্বাযা ওয়াজিব নহে ।

মাসআলাঃ

কেহ যদি সফরের কারণে রোযার নিয়্যত না করে, কিন্তু কিছু খাওয়া দাওয়ার পূর্বে দুপুরের এক ঘন্টা পর বাড়ী পৌছিয়া যায়, অথবা কোন স্থানে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়্যত করে, তবে তাহার ঐ সময় রোযার নিয়্যত করিতে হইবে ।

[ মাসআলাঃ কেহ রোযার নিয়্যত করার পর যদি সফর শুরু করে, তবে তাহার জন্য ঐ রোযাটি ছাড়িয়া দেওয়া জায়েয নহে । এইরুপে যে ব্যক্তি সকাল বেলায় সফরে যাইবে তাহার জন্য রোযার নিয়্যত না করা জায়েয নহে । এইরূপে মুছাফের যদি রোযার নিয়্যত করিয়া থাকে, তবে তাহার জন্য ঐ রোযাটি ছাড়া জায়েয নহে । ]

তথ্যসূত্র

  • বেহেস্তী জেওর (লেখকঃ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ))