রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)এর পরিচয়চিহ্ন ওরা বলে দিল

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 1




























  • রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)এর পরিচয়চিহ্ন ওরা বলে দিল

হযরত মুয়াবিয়া তাঁর পিতা আবূ সুফিয়ান (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ সুফিয়ান (রা) বলেছেন, “আমি এবং উমাইয়া ইব্ন আবূ ছল্ত ব্যবসায় উপলক্ষে সিরিয়া গেলাম। ওখানে উমাইয়া একদিন বলল, চল, এখানকার একজন খৃস্টান পন্ডিতের সাথে কথা বলি। আসমানী কিতাব সম্পর্কে তার অগাধ জ্ঞান। তাঁর কাছে অমারা প্রয়োজনীয় কিছু প্রশ্ন করব। আবূ সুফিয়ান বলেন, এ পন্ডিতকে আমার প্রশ্ন করার কিছুই নেই। উমাইয়া একাই গেল।

ফিরে এসে সে বর্ণনা করল, অনেক প্রশ্ন তাকে করলাম। বললাম, প্রতীক্ষিত নবী সম্পর্কে যা জানেন, বলুন। সে পন্ডিত বললেন, তিনি হবেন এক আরব। বললাম, কেমন আরব? বললেন, যে বায়তুল্লাহ্‌ হজ্জ করা হয় সে ঘরের অধিবাসী হবেন তিনি। কুরায়শ বংশ থেকে। বল্লাম, তাঁর কিছু গুণাবলি বলুন। তিনি বললেন, তিনি হবেন যুবক। যখন প্রৌঢ়ত্বের কাছাকাছি পৌঁছাবেন তখনই তাঁর নবুওয়াত প্রকাশিত হবে। তিনি জুলুম- অত্যচার ও গর্হিত ব্যাপার থেকে মুক্ত থাকবেন। অত্মীয়তার মর্যদা রক্ষা করবেন। অন্যকে তা করার হুকুম দেবেন। পিতা ও মাতা উভয় দিক দিয়েই সম্ভ্রান্ত হবেন। আর্থিক দিকে মদ্যবিত্ত হবেন। তাঁর সৈন্যশক্তির অধিকাংশই হবেন ফেরেশতা।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর আগমনের আলামত কি হবে ? তিনি বললেন, “ঈসা (আ)-এর তিরোধনের পর সিরিয়ার ত্রিশটি ভূমিকম্প হয়েছে। প্রতিটিই ছিল মহাবিপর্যয়কর। তাঁর আবির্ভাব হতে আর একটি মাত্র ভূমিকম্প বাকি। তাতেও মানুষের প্রচুর বির্পযয় ও দুঃখ হবে।

আবূ সুফিয়ন বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম! এসব কিছুই সত্য নয়। উমাইয়া বলল, আািম যার কসম খাই, তার কসম খেয়ে বলছি, অবশ্যই এসব সত্য। এরপর তারা দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু ফিরে আসার পথেই তাঁরা শুনতে পেলেন এক আশ্বরোহী খবর বলছে, তোমাদের চলে আসার পর পরই সিরিয়ার ভীষণ এক ভূমিকম্প হয়েছে, এতে অনেক মানুষ নিহত এবং আহত হয়েছে।

আবূ সুফিয়ান বলেন, এ খাবার পেয়ে উমাইয়া আমার কাছে এসে বলল, এখন ঐ খৃস্টান পন্ডিতের বক্তব্য সম্পর্কে তোমার কি মন্তব্য ? আমি বললাম, “আল্লাহর কসম ! তার কথা ঠিকই মনে হচ্ছে।” আমরা মক্কায় এলাম। ব্যবসায় সামগ্রী বিক্রয় করলাম । আবার ব্যবসায় জন্য ইয়ামন রওয়ানা হয়ে গেলাম। সেখানে পাঁচ মাস বাণিজ্য করে মক্কায় ফিরলাম। মক্কায় প্রায় মানুষেরই এ ব্যবসায়ে আমার কাছে পুঁজি দেওয়া ছিল। খবর পেয়ে মানুষজন কাছে আমার কাছে আসতে লাগল। ওরা এসে আমাকে সালাম করত আর তাদের দেওয়া পুঁজি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করত।

মুহাম্মদ (সা) আমার কাছে এলেন। (আমার কাছে তাঁরও দেওয়া পুঁজি ছিল) সালাম করলেন। তারপর সফরের অবস্থান ও হাল-হাকিকত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। নিজের পুঁজি সম্পর্কে কিছুই জানতে চাইলেন না।

আবূ সুফিয়ান তাঁর স্ত্রী হিন্দাকে বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি অবাক হই যে, কুরায়শদের প্রতিটি ব্যক্তিই নিজেদের পুঁজি ও হিসাব সম্পর্কে জানতে চাইল, কিন্তু মুহাম্মদ (সা) এ সফরে তাঁর বিনিয়োগ করা পুঁজি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন না। হিন্দা বলল, তুমি তো তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে কিছুই জান না। তিনি স্বয়ং আল্লাহর রাসূল হওয়ার বিশ্বাস রাখেন। আবূ সুফিয়ানের তখন খৃস্টান যাজকের বক্তব্য মনে পড়ল। এবং হিন্দাকে বললেন, তাঁর এ দাবি সম্পর্কে তিনি নিজেই ভাল অবগত। হিন্দা বলর, তিনি তো একথাই বলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল।

আমীর মুয়াবিয়া (রা) তাঁর পিতা আবূ সুফিয়ান থেকে আরও বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমরা গির্জা এলাকা বা ইলিয়ায় ছিলাম। উমাইয়া ইব্ন চলত আমাকে বলল, আবূ সুফিয়ান! ওতবা ইব্ন রাবিয়ার অবস্থা বল। আমি বললাম, বরং তুমি বল- আমি শুনি। উমাইয়া বলল, ওতবা পিতা ও মাতা উবয় দিক দিয়ে সম্ভান্ত। সে জুলুম-অত্যচার করা বা যে কোন অবৈধ কর্ম থেকে বেঁচে থাকে। আমি বললাম, সে ভদ্র ও চরিত্রবান। উমাইয়া বলল, তুমি কি তাঁকে কোন দোষারোপ কর ? বললাম, তুমি ভুল বুঝেছ। মানুষের বয়স যত বাড়ে ভদ্রতাবোধও তত বাড়ে। উমাইয়া বলল, তুমি ধীরে চিন্তা করে পরে কথা বল। আমি আসলে বলেছি, কিতাবে পাওয়া গেছে একজন নবী হবেন। তিনি আমাদের হাররার মধ্য থেকে হবেন। আমার বিশ্বাস ছিল, তিনি আবদে মানাফ থেকে হবেন। তাদের মাঝে গভীরভাবে চোখ বুলিয়ে ভাবলাম, এক উতবা ছাড়া আর কারও তেমন যোগ্যতা নেই। কিন্তু তুমি যখন উতবার বয়সের কথা উঠালে তখনই বুঝে ফেললাম উতবা সে প্রতিশ্রুত নবী নয়। তার বয়স চল্লিশ পার হয়ে গেল, তবু তার প্রতি ওহী নাযিল হয়নি।

আবূ সুফিয়ান বলেন, সফর থেকে ফিরে এলাম। শুনলাম মুহাম্মদ (সা)-এর প্রতি ওহী নাযিল শুরু হয়েছে। ব্যবসার জন্য আবার কাফেলার সাথে রওয়ানা হলাম। উমাইয়া পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। কিছুটা বিদ্রুপের স্বরে বললাম, উমাইয়া ! তোমার কথিত নবী তো শুনলাম অত্মপ্রকাশ করেছেন। উমাইয়া দৃঢ়কন্ঠে বলল, তিনি সত্য নবী। তুমি তাঁর অনুগামী হও। বিশ্বাস কর। তোমার সাথে আমিও তাঁর অনুগামী হব। আবূ সুফিয়ান ! যদি তাঁর বিরোধিতা কর, তবে জেনে রেখ একদিন ছাগলের বাচ্চার মতো বাঁধা অবস্থায় তুমি তাঁর দরবারে আনীত হবে। তখন তিনি তোমার ব্যাপারে নিজের মর্জিমত ফয়সালা করবেন। (খাসায়েসুল কোবরা)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)