এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

রোকানা পালোয়ান

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
শিক্ষনীয় ইসলামী ঘটনাসমূহ 1









  • রোকানা পালোয়ান




















বনী হাশেম গোত্রে রোকানা নামে এক মুশরিক পালায়োন ছিল। সে খুব শক্তিশালী ও সাহসী ছিল। ওকে কেউ পরাভূত করতে পারেনি। সে ইজম নামে এক জংগলে থাকতো, ওখানে ছাগল চড়াতো এবং খুবই সম্পদশালী ছিল। একদিন হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একাকী সেই জংগল দিয়ে যাচ্ছিল। রোকানা তাঁকে দেখে সামনে এস বললো, হে মুহাম্মাদ! তুমিতো সেই ব্যক্তি, যে আমাদের দেবতা লাত ও উজ্জার কুৎসা রটনা কর এবং ঘৃনা কর এবং স্বীয় এক খোদার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর। তোমার প্রতি যদি আমার সহানুভূতি না থাকতো, তাহলে আজ আমি তোমাকে মেরে ফেলতাম। যাক আমার সাথে কুস্তি লড়তে এসো, তুমি তোমার খোদাকে ডাক আর আমি আমার লাত উজ্জাকে ডাকতেছি। দেখি, তোমার খোদার কাছে কত শক্তি আছে।

হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরমালেন, তুমি যদি সত্যি কুস্তি লড়তে চাও, তাহলে চল, আমি প্রস্তুত আছি। রোকানা এ জবাব শুনে হতভম্ব হয়ে গেল। পরে ভীষণ অহংকারের সাথে কুস্তি লড়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেল। হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম ধাক্কায় ওকে ফেলে দিলেন এবং ওর বুকের উপর বসে গেলেন। রোকানা জীবনে এই প্রথমবার ধরাশয়ী হয়ে বড় লজ্জিত ও আশ্চর্যাম্বিত হয়ে গেল। সে বললো, হে মুহাম্মাদ! আমার বুক থেকে উঠে যাও। আমার লাত ও উজ্জাত আমার দিকে খেয়াল করেনি। আর একবার কুস্তি লড়ার সুযোগ দাও। হুযূর ওর বুক থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন। রোকানাও দ্বিতীয়বার কুস্তির জন্য দাঁড়ালো। এবারও রোকানাকে চোখের পলকে ফেলে দিলেন। রোকানা বললো, হে মুহাম্মাদ! মনে হয় আজ আমার লাত ও উজ্জাত আমার উপর নারাজ। তোমার খোদা তোমাকে সাহায্য করতেছে। যাক চল, আর একবার লড়ে দেখি। এবার লাত ও উজ্জাত নিশ্চয় আমাকে সাহায্য করবে। হুযূর তৃতীয় বারও কুস্তি লড়ার জন্য রাজি হয়ে গেলেন এবং তৃতীয় বারও ওকে পরাভূত করলেন। এবার রোকানা লজ্জিত হলো এবং বললো, হে মুহাম্মাদ! আমার ছাগলগুলোর মধ্যে থেকে যতটি চাও নিয়ে যাও। হুযূর ফরমালেন রোকানা আমার তোমার সম্পদের প্রয়োজন নেই। তবে মুসলমান হয়ে যাও, যাতে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পার। সে বললো, হে মুহাম্মাদ! মুসলমানতো হয়ে যেতে পারি কিন্ত মনে সংকোচবোধ হচ্ছে মদীনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মহিলারা ও শিশুরা বলবে যে এত বড় পালোয়ান পরাজিত হলো এবং মুসলমান হয়ে গেল। তোমার সম্পদ নিয়ে তুমি থাক, এ বলে হুযূর ফিরে চলে আসলেন।

এদিকে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাদিআল্লাহু আনহুমা) তাঁর তালাশে বের হলেন এবং হুযূর ইজমের জংগলের দিকে তাশরীফ নিয়ে যাওয়ার কথা শুনে খুবই চিন্তিত ছিলেন। কেননা ওদিকে রোকানা পালোয়ান থাকে, হয়তো হুযূরকে কষ্ট দিতে পারে। যাই হোক হুযূরকে ফিরে আসতে দেখে উভয়ে হুযূরের খেদমতে হজির হলেন এবং আরয করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ! আপনি ওদিকে কেন গেলেন, আপনি কি জানেন না যে ওদিকে ইসলামের পরম শত্রু রোকানা থাকে? হুযূর এটা শুনে মুচকি হেসে বললেন, যখন আমার আল্লাহ সব সময় আমার সাথে আছে, তখন রোকানাকে ভয় করার কি আছে? রোকানার বাহাদুরির কাহিনী শুন-এ বলে তিনি সমস্ত কাহিনী শুনালেন। হযরত ছিদ্দিকে আকবর ও ওমরে ফারুক এ ঘটনা শুনে খুবই খুশী হলেন এবং আরয করলেন, হুযূর সে এমন পালোয়ান ছিল যে আজ পর্যন্ত ওকে কেউ ফেলতে পারেনি। ওকে ফেলাটা একমাত্র আল্লাহর রসূলের কাজ।

সবকঃ

আমাদের হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক ফযীলত ও কামালিয়াতের ভান্ডার। দুনিয়ার কোন শক্তি হুযূরের সামনে অটল থাকতে পারে না। বিরোধীতাকারীরাও হুযূরের ফযীলত ও কামালিয়াত সম্পর্কে জ্ঞাত কিন্ত দুনিয়াবী লজ্জার কারনে স্বীকার করে না।

তথ্যসূত্র

  • আবু দাউদ ২০ পৃঃ ২ জিঃ
  • ইসলামের বাস্তব কাহিনী - ১ম খন্ড