এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

রোযার কাফ্‌ফারা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
  • মাসআলাঃ

রমযান শরীফের রোযা ভাঙ্গিয়া ফেলিলে একাধারে দুই মাস অর্থাৎ ৬০টি রোযা রাখিতে হইবে । কিছু কিছু করিয়া রাখা দুরুস্ত নাই । একলাগা ৬০টি রোযা রাখিতে হইবে । যদি মাঝখানে ঘটনাক্রমে দুই একদিনও বাদ পড়ে, তবে তাহার পর হইতে আবার ৬০টি গণনা করিয়া পূর্ণ করিতে হইবে, পূর্বেরগুলি হিসাবে ধরা যাইবে না । এমন কি, এই ৬০ দিনের মধ্য ঈদের বা কোরবানীর দিনও আসে, তবুও কাফ্‌ফারা আদায় হইবে না, পূর্বের গুলি বাদ দিয়া উহার পর হইতে ৬০টি পূর্ণ করিতে হইবে । অবশ্য এই ৬০ দিনের মাঝে যদি মেয়েলোকের হায়েয আসে তবে, তবে তাহা মা’ফ ; কিন্তু হায়েয হইতে পাক হইবার পরদিন হইতে আবার রোযা রাখিতে হইবে এবং ৬০টি রোযা পূর্ণ করিতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

নেফাসের কারনে যদি মাঝে রোযা ভাঙ্গা পড়ে, তবে কাফ্‌ফারা আদায় হইবে না । নেফাস হইতে পাক হওয়ার পর ৬০টি পূর্ণ করিবে । নেফাসের পূর্বে যদি কিছু রোযা রাখিয়া থাকে, তাহা গণনায় ধরা যাইবে না ।

  • মাসআলাঃ

রোগের কারনে যদি মাঝ রোযা ভাঙ্গা পড়ে, তবে আরোগ্য হওয়ার পর নুতনভাবে ৬০টি রোযা পূর্ণ করিতে হইবে ।

  • মাসআলাঃ

যদি মাঝে রমযানের মাস আসে, তবুও কাফ্‌ফারা আদায় হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

যদি কাহারও কাফ্‌ফারা রোযা রাখার শক্তি না থাকে, তবে রমযানের শরীফের একটি রোযা ভাঙ্গিলে তাহার পরিবর্তে ৬০ জন মিস্‌কীনকে দুই বেলা খুব পেট ভরিয়া খাওয়াইতে হইবে ।

  • মাসআলাঃ

যদি এই ৬০ জনের মধ্যে কয়েকজন এমন অল্প বয়স্ক থাকে যে, তাহারা পূর্ণ খোরাক খাইতে পারে না, তবে তাহাদিগকে হিসাবে ধরা যাইবে না। তাহাদের পরিবর্তে অন্য পূর্ণ খোরাক খানেওয়ালা মিসকীনকে আবার খাওয়াইতে হইবে।

  • মাসআলাঃ

যদি গমের রুটি হয়, তবে শুধু রুটি খাওয়ানও দুরুস্ত আছে, আর যদি যব, বজরা, ভুট্টা ইত্যদির রুটি বা ভাত হয়, তবে উহার সহিত কিছু ভাল তরকারী দেওয়া উচিত । যাহাতে রুটি ভাত খাইতে পারে ।

  • মাসআলাঃ

পাকান খাদ্য না খাওয়াইয়া যদি ৬০ জন মিসকীঙ্কে গম বা তার আটা দেয়, তাহাও জায়েয আছে । কিন্তু প্রত্যেক মিসকীনকে ছদ্‌কায়ে ফেৎর পরিমান দিতে হইবে । ছদ্‌কায়ে ফেৎরের বর্ণনা যাকাত অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য ।

  • মাসআলাঃ

যদি এই পরিমান গম দেয় তাহাও জায়েয আছে ।

  • মাসআলাঃ

কিন্তু যদি সে তাহার কাফ্‌ফারা আদায় করিবার জন্য কাহাকেও অনুমতি দেয় বা আদেশ করে এবং তারপর সেই ব্যক্তি আদায় করিয়া দেয়, তবে তাহার কাফ্‌ফারা আদায় হইয়া যাইবে । যাহার উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হইয়াছে তাহার বিনা অনুমতিতে যদি অন্য কেহ তাহার কাফ্‌ফারা আদায় করিয়া দেয়, তবে তাহাতে কাফ্‌ফারা আদায় হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

যদি একজন মিস্‌কীনকে ৬- দিন সকাল বিকাল পেট ভরিয়া খাওয়াইয়া দেয় বা একই জনকে ৬০ দিন ৬০ বার (ছ্‌দকায়ে ফেৎর পরিমান) গম বা তাহার মুল্য দেয় তাহাতে কাফ্‌ফারা আদায় হইয়া যাইবে ।

  • মাসআলাঃ

যদি ৬০ দিন পর্যন্ত খাওয়াইবার বা মুল্য দিবার সময় মাঝখানে ২/১ দিন বাকী পড়ে, তবে তাহাতে কোন ক্ষতি নাই । (একাধারে ৬০ দিন না হইলেও সর্বশুদ্ধ ৬০ দিন খাওয়ান হইলে বা মুল্য দেওয়া হইলে তাহাতেই চলিবে) ।

  • মাসআলাঃ

৬০ দিনের আটা বা গম অথবা তাহার মুল্য হিসাব করিয়া একই দিন একজন মিস্‌কীনকে দেওয়া দুরুস্ত নাই । (দিলে মাত্র একদিনের কাফ্‌ফারা আদায় হইবে, বাকী ৫৯ দিনের পুনরায় আদায় করিতে হইবে ।) এইরূপে যদি এক দিন একজন মিস্‌কী্নকে ৬০ বার দেয়, তবুও মাত্র একদিনেরই কাফ্‌ফারা আদায় হইবে, বাকী ৫৯ দিনের পুনরায় আদায় করিতে হইবে। সারকথা এই যে, একদিন একজন গরীবকে একটি রোযার বিনিময় অধিক দিলে তাহার হিসাব ধরা যাইবে না, মাত্র এক দিনেরই ধরা যাইবে ।

  • মাসআলাঃ

কোন মিসকীনকে ছ্‌দকায়ে ফেৎর পরিমাণের কম দিলে কাফ্‌ফারা আদায় হইবে না ।

  • মাসআলাঃ

যদি একই রমযানের ২ বা ৩টি রোযা ভাঙ্গিয়া থাকে, তবে একটি কাফ্‌ফারাই ওয়াজিব হইবে । (কিন্তু যে কয়টি রোযা ভাঙ্গিয়াছে সেই কয়টির ক্বাযা করিতে হইবে। যদি দুই রমযানের দুইটি রোযা ভাঙ্গিয়া থাকে, তবে একটি কাফ্‌ফারা যথেষ্ট হইবে না, দুইটি কাফ্‌ফারা আদায় করিতে হইবে ।)

তথ্যসূত্র

  • বেহেস্তী জেওর (লেখকঃ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ))