শবে বরাতের হাদিস সমর্থনে মুহাদ্দিসগণ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

শবেবরাত সম্পর্কিত হাদীছের বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, শবে বরাত সম্পর্কীয় হাদীছগুলো সূত্রের দিক দিয়ে বিভিন্ন স্তরের। কিছু হাদীছ হাসান (حسن) কিছু হাদীছ মুরসাল (مرسل) এবং কিছু হাদীছ যঈফ (ضعيف) স্তরের। কিন্তু এসব হাদীছকে সমষ্টিগত মিলালে হাদীছ শাস্ত্রের উসূল ও মূলনীতি অনুযায়ী হাদীছগুলো সহীহ কিংবা হাসান-এর (যা সহীহ'ই বটে) স্তরে উন্নীত হয়। আর এর দ্বারাই শবে বরাতের ভিত্তি ও ফযীলতের প্রমাণ মিলে। যা হঠকারিতা ছাড়া অন্য কোনভাবে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। মুহাদ্দিছগণ যদিও কোন কোন হাদীছের দোষ ত্রুটি আলোকপাত করেছেন কিন্তু কেউ সেগুলোকে ভিত্তিহীন জাল হাদীছ বা অগ্রহণযোগ্য হাদীছ বলেন নি। যেহেতু প্রতিটি হাদীছ পরস্পর পরস্পরের জন্য সহযোগী স্বরুপ, সেহেতু মুহাদ্দিছীনে কেরামের সমালোচনামূলক এজাতীয় হাদীছ প্রমাণের জন্য কখনো অন্তরায় হতে পারে না। সর্বোপরি হাদীছগুলো যেহেতু ফাযাইলে আমাল এর সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই হাদীছ শাস্ত্রের মূলনীতির দৃষ্টিকোণে এ বিষয়ে উদারতা প্রদর্শনের অবকাশ আছে এবং এর উপর আমল করার ক্ষেত্রে অমান্য করার কোন সুযোগ নেই।

অতএব উল্লেখিত বিস্তারিত পর্যালোচনার পর আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, শবে বরাতের সংশ্লিষ্ট এসব হাদীছ সহীহ। কিংবা অন্তত হাসান যা দলীল হিসেবে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। এর পরেও কেউ যদি চোখ বন্ধ করে বলে দেয় যে, শবে বরাতের হাদীছগুলো মওজু বা জাল কিংবা নিতান্তই দুর্বল অথবা এ উক্তি করে বসে যে, শবে বরাতের ফজীলতের কোন ভিত্তি নেই। তাহলে সে ব্যক্তি হাদীছ ও হাদীছের মূলনীতি সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ, সরাসরি স্পষ্ট ভুলে লিপ্ত এবং এ ধরণের উক্তি সহীহ ও হাসান হাদীছকে নয় শুধু বরং পুরো হাদীছশাস্ত্রকে অস্বীকার করারই নামান্তর।

শবেবরাতের হাদীছগুলোর ব্যাপারে মুহাদ্দিছীনে কেরামের অগ্রগণ্য ও চূড়ান্ত অভিমতঃ

প্রথম অভিমতঃ আল্লামা মুবারকপুরী

একারণেই হাফিয মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনু আব্দির রহিম আল মুবারকপূরী বলেছেনঃ

জেনে রাখো যে, শবে বরাতের ফযীলত সম্পর্কে বিভিন্ন ধরণের হাদীছ এসেছে। যার ফলে শরীয়তে তার ভিত্তি আছে বলে বুঝা যায়। তন্মধ্য থেকে আলোচ্য অধ্যায়ের হাদীছ এবং আয়শা (রঃ) এর হাদীছ, মুআয (রঃ) এর হাদীছ, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রঃ) এর হাদীছ এবং আলী (রঃ) এর হাদীছ। সুতরাং এসব হাদীছের সমষ্টি তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণস্বরূপ যারা শরীয়তের মধ্যে শবে বরাতের কোন ভিত্তি নেই বলে মনে করে।

— তুহফাতুল আহওয়াজীঃ খ-৩, পৃ-৪৪২, ১৩৫৩, দারুল ফিকির

দ্বিতীয় অভিমতঃ আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহঃ)

মুহাদ্দিছুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহঃ) বলেনঃ

এ রাতটি বরাতের রাত। রাতটির ফজীলত সম্পর্কে সহীহ হাদীছসমূহে এসেছে।আলারফুস শাযীঃ পৃ-১৫৬

তৃতীয় অভিমতঃ নাসির উদ্দীন আলবানী

নাসিরুদ্দীন আলবানী শবে বরাত সম্পর্কীয় সকল হাদীছ এক সাথে করে সেগুলোর সনদ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন এবং পর্যালোচনার শেষে তার সার নির্যাস পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেছেন এভাবেঃ

সারকথা হলো এ সকল সূত্রের সমষ্টির কারণে (শবে বরাত সম্পর্কীয়) হাদীছ নিঃসন্দেহে সহীহ। কোন হাদীছ অত্যধিক দুর্বলতা থেকে নিরাপদ হলে এর চেয়ে কম সূত্রের মাধ্যমে সহীহ প্রমাণিত হয়। যেমনটি আয়শা (রঃ) এর বর্ণিত হাদীছটি যা অত্যধিক দুর্বলতা থেকে নিরাপদ। সুতরাং কাসেমী হাদীছ পর্যালোচক ও সমালোচকদের থেকে নকল ইসলাহুল মাসাজিদ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, শবে বরাতের ফযীলত সম্পর্কে কোন সহীহ হাদীছ নেই। তার এ কথার উপর আস্থা রাখা উচিত নয়।

— সিলসিলাতুল আহাদিসা সহীহাঃ খ-৩, পৃ- ১৮৩

চতুর্থ অভিমতঃ শাইখ শুয়াইব আল আরনাউত

সময়কালীন বিশিষ্ট হাদীছ পর্যালোচক শাইখ শুয়াইব আল আর নাউত মুসনাদে আহমদের টীকায় আব্দুল্লাহ বিন আমর (রঃ) কর্তৃক শবে বরাতের হাদীছটির উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেনঃ

হাদীছটি তার সহযোগী হাদীছগুলো দ্বারা সহীহ বলে বিবেচিত। সহযোগী হাদীছগুলো হচ্ছে

  • আয়শা (রঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ
  • মুআয বিন জাবাল (রঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ
  • আবু মূসা আল আশআরী (রঃ) এর হাদীছ
  • আবু বকর (রঃ) এর হাদীছ
  • আবু ছালাবাহ আল খুশানী (রঃ) এর হাদীছ
  • আবু হুরায়রা (রঃ) এর হাদীছ
  • আউফ বিন মালিক এর হাদীছ

এ সকল সহায়ক বা সমর্থক হাদীছের প্রত্যেকটির সূত্রের মধ্যে যদিও কিছু অসুবিধা আছে তবে এসব হাদীছের সমষ্টি দ্বারা মূল হাদীছ সহীহ ও শক্তিশালী বলে সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং কাসেমী (রহঃ) হাদীছ পর্যালোচক ও সমালোচকদের থেকে ইসলাহুল মাসাজিদ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, মধ্য শা'বানের রাতের ফজীলত সম্পর্কে সহীহ হাদীছ নেই এর অর্থ হলো এ ব্যাপারে কোন হাদীছ সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নেই। কিন্তু সবগুলো হাদীছের সমষ্টিগত সূত্রের দ্বারা হাদীছগুলো পরস্পরে শক্তিশালী ও মজবুত হয়ে বিষয়টি প্রমাণিত এতে কোন সন্দেহ নেই।

— মুসনাদে আহমদঃ খ-১১, পৃ-১৬, ৬৬৪২

পঞ্চম অভিমতঃ আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যা বলেনঃ

এ রাতের ফজীলতে বেশ কিছু মরফূ হাদীস এবং আছার বর্ণিত আছে যে প্রমাণ করে যে এ রাতটি ফজীলতপূর্ণ। পূর্ববর্তীদের কেউ কেউ এ রাতে বিশেষভাবে সালাত আদায় করতেন। ... যে মতের উপর আমাদের মাযহাবের বা অন্যান্য মাযহাবের বহু সংখ্যক বরং বেশিরভাগ আলেম রয়েছেন তা হলো এই রাতটি অন্যান্য রাতের উপর ফজীলত রাখে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এর স্পষ্ট কথার মাধ্যমে এটিই জানা যায়। আর যেহেতু এ বিষয়ে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং পূর্ববর্তীদের আমল সেসকল হাদীসকে সত্যয়ন করে।

— ইক্তিদাউস সিরাত আল মুস্তাকিম

তথ্যসূত্র