এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

শবে বরাত সমর্থনে হাদীস সমূহ 4

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

হযরত আয়শা (রঃ) বলেন, এক রাতে আমি হুযুর (সঃ) কে বিছানাতে পেলাম না। তাই তাঁকে খোজ করার উদ্দেশ্যে বের হলাম। তখন দেখতে পেলাম তিনি জান্নাতুন বাকীতে আছেন। আমাকে দেখে তিনি বলে উঠেন, তুমি কি এই আশংকা করছো যে, আল্লাহ এবং তাঁর রসূল (সঃ) তোমার সাথে অবিচার করবে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধারণা করেছিলাম আপনি অন্য কোন স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ নিয়েছেন। হুযুর (সঃ) বললেন, শা’বানের পনের তারিখ রাতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে তাশরীফ নেন এবং বনু কালব গোত্রের ভেড়া-বকরির পশমগুলোর চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে তিনি মাফ করে দেন।

নোটঃ
  • ইমাম তিরমিযী তাঁর তিরমিযী শরীফে
  • ইমাম ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে
  • ইমাম বায়হাকী তাঁর শুয়াবুল ঈমানে
  • ইমাম ইবনে আবী শাইবাহ তাঁর মুসান্নাফে
  • ইমাম বগবী তাঁর শরহেস সুন্নাহয়
  • ইবনে আহমদ তাঁর মুসনাদে সংকলন করেছেন।

হাদীসটির মান

হাদীছটির সনদের অবস্থানঃ
  • ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীছটির সনদ পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ

হযরত আয়শা (রঃ) এর হাদীছটি আমরা শুধুমাত্র হাজ্জাজ এর সূত্রে পাই। আর আমি ইমাম বুখারী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি হাদীছটিকে দুর্বল বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনু আবি কাসীর উরওয়া থেকে হাদীছটি শ্রবণ করেননি। আর হাজ্জাজও ইয়াহইয়া থেকে শ্রবণ করেননি।

ইমাম তিরমিযীর এই বক্তব্য থেকে বুঝা যায় যে, ইমাম বুখারী (রহঃ) হাদীছটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। দুর্বল হওয়ার কারণ হচ্ছে যেহেতু হাদীসের সনদে দুই জায়গাতে ইনক্বিতা (রাবীর সাথে সাক্ষাত না হওয়া বা রেওয়ায়েত শ্রবণ না করা) পাওয়া গেছে। আর তা এভাবে যে, প্রথমত হাজ্জাজ ইবনু আরতাত ইয়াহইয়া ইবনু আবি কাসীর থেকে হাদীছটি শুনেননি। দ্বিতীয়ত, ইয়াহইয়া নিজে উরওয়াহ থেকে হাদীছটি শ্রবণ করেন নি।

উক্ত উক্তির পর্যালোচনাঃ

ইমাম বুখারী (রহঃ) এর উক্ত মতামতের ব্যাপারে আমাদের সবিনয় বক্তব্য হলো, হাজ্জাজ যে ইয়াহইয়া থেকে শ্রবণ লাভ করেননি এই ব্যাপারে মুহাদ্দিছীনে কেরামের মাঝে কোন মতবিরোধ নেই, তবে ইয়াহইয়া যে উরওয়া থেকে শ্রবণ লাভ করেননি, এটা সর্বজনস্বীকৃত কথা নয়। কারণ, ইবনু মঈন প্রমূখ প্রমাণ করেছেন যে, উরওয়া থেকে ইয়াহইয়া শ্রবণ লাভ করেছেন। যেমনঃ আল্লামা যুরকানী বলেনঃ

হাজ্জাজ ইয়াহইয়া থেকে শ্রবণ না করার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। কিন্তু ইয়াহইয়া উরওয়া থেকে শ্রবণ করার বিষয়টিও আবু যুরআহ ও আবু হাতিম প্রত্যাখান করেছেন। আর ইবনু মঈন তা প্রমাণ করেছেন। প্রত্যাখানের চেয়ে প্রমাণই অগ্রগণ্য।

— মারিফুস সুনান, আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ ইউসুফ বিননুরীঃ খ-৫, পৃ-৪২০

আমরা যখন কোন কিছুর প্রমাণ পাই না, তখন তাকে ঠিক মনে করি না; কিন্তু এরপর যখন প্রমাণ পাই, তখন তা সঠিক বলে রায় দিই। এখানেও একই ঘটনা ঘটেছে, আবু যুরআহ ও আবু হাতিম প্রমাণ পান নি বলে তা গ্রহণ করেন নি; কিন্তু ইবনু মঈন প্রমাণ পেয়েছেন তাই গ্রহণ করেছেন। তাই যেহেতু আমাদের কাছে এখন প্রমাণ আছে, অতএব আমাদেরকে প্রমাণটিই গ্রহণ করতে হবে।

অতএব উক্ত ব্যখ্যার আলোকে ইনক্বিতা কেবল এক জায়গাতে থাকে। পরন্ত হানাফী মাযহাবের মুহাদ্দিছীনের মতে এ ধরণের ইনক্বিতা মূল হাদীছ প্রমাণ করার ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। যেহেতু তার অন্য রাবীগণতো ছিক্বাহ। অন্য হাদীছের মাধ্যমে তার সমর্থনও বিদ্যমান। এই কারণেই ইবনু হিব্বান তার সহীহ নামক গ্রন্থে হযরত আয়শা (রঃ) এর এই হাদীছটি হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমনঃ শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যাতে এসেছেঃ

শবে বরাতের ফযীলত সম্পর্কে বহু হাদীছ এসেছে। অধিকাংশরা সেগুলোকে যঈফ বিবেচনা করছেন। ইবনু হিব্বান কয়েকটিকে সহীহ বলেছেন। কিছু হাদীছকে উদারতা প্রদর্শন পূর্বক সহীহ বলেছেন। আর কিছু হাদীছ হাসান হলেও সহীহ বলে দিয়েছেন এবং নিজ সহীহ নামক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। কেননা উভয়টি দ্বারা (সহীহ ও হাসান) দলীল পেশ করা যায়। হযরত আয়শা (রঃ) এর বর্ণিত উক্ত হাদীছটিও এ ধরনেরই।

— শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যাতঃ খ-৭, পৃ-৪৪১

এমনকি হযরত আয়শা (রঃ) এর এই হাদীছটি ইমাম তিরমিযী ছাড়াও

  • ইমাম ইবনু মাযাহ তাঁর সুনান-এ
  • ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ তাঁর মুসান্নফ-এ
  • ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ এ
  • ইমাম বায়হাকী শুআবুল ঈমান ও ফাযাইলে আওক্বাত অধ্যায়-এ এবং
  • ইমাম বগভী তাঁর শরহুস সুন্নাহ এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু এসব বড় বড় মুহাদ্দিছের মধ্য থেকে কেউই হাদীছটি জাল বলেন নি কিংবা অত্যাধিক দুর্বলও বলেননি বরং হাদীছটির সনদের সমস্ত রাবী ছিক্বাহ এবং অন্য আরো হাদীছের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় হাদীছটি শক্তিশালী হয়ে যায়। সুতরাং নিঃসন্দেহে হাদীছটি হাসান এবং সহীহ লিগাইরিহী এর স্তরের।

  • মুসনাদে আহমদের মুহাক্কিক বিশিষ্ট হাদীছ পর্যালোচক হামযা আহমদ আয যায়্যান উক্ত হাদীছ সম্পর্কে পরিষ্কার মন্তব্য করেছেন

اسناده حسن

হাদীছের সূত্র হাসানের স্তরের।

— দেখুনঃ মুসনাদে আহমদের টীকা

  • ইমাম বায়হাকী (রহঃ) উক্ত হাদীছটি সংকলন করার পর বলেনঃ

এ হাদীছের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে হযরত আয়শা, আবু বকর সিদ্দীক এবং হযরত আবু মূসা আশআরী কর্তৃক বর্ণিত হাদীছসমূহ। সুতরাং আলোচ্য হাদীছটি এসকল হাদীছের সমর্থনে সহীহ বলে সাব্যস্ত। তাই শায়খ হামজা আহমদ আযযায়্যান হাদীছটিকে اسناده حسن বলে মন্তব্য করেছেন।

সার কথাঃ

হযরত আয়শা (রঃ) এর উপরোক্ত হাদীসটিতে এক জায়গায় ইনতিক্বা পাওয়া যায় আর অনেক বড় বড় ইমাম ও মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে বিশেষ করে হানাফী মাযহাবের মুহাদ্দিসীনের কাছে এ ধরণের ইনতিক্বা মূল হাদীস প্রমাণের ক্ষেত্রে অন্তরায় নয় যদি হাদীসের অন্য রাবীগণ ছিক্বাহ হন। শায়খ আলবানী (রহঃ) নিজেও এই হাদীসের সমস্ত রাবীকে বিশ্বস্ত বলেছেন।[1]

অতএব, হাদীসটি হাসান পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম সুয়ূতী তদীয় ‘জামিউস সগীর’ গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।

দ্বিতীয়ত, এ হাদীসের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং এর সমর্থনে অনেক হাদীস পাওয়া যায়। যেমনঃ আবু বকর ছিদ্দীক (রঃ) এর সহীহ হাদীছ, হযরত মুয়ায বিন জাবাল (রঃ) এর সহীহ হাদীস, হযরত আবু মুসা আশআরী (রঃ) এর হাসান হাদীছ। এমনকি খোদ হযরত আয়েশা (রঃ) থেকেই বিভিন্ন সূত্রে হাদীছের বিভিন্ন কিতাবেই এই হাদীছটি বর্ণিত আছে। তাই সবকিছু একত্রে করে এ কথা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, হাদীসটি হাসান পর্যায়ের।

ইমাম বায়হাকী, আল্লামা যুরকানী, ইমাম সুয়ুতী, ইমাম ইবনু হিব্বান, শায়খ হামযা আহমদ আয যায়্যান প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ হাদীছটির হাসান হওয়াতে সত্যায়ন করেছেন।

তৃতীয়ত, এরপরও যদি কেউ হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করতে চান, তবুও এই হাদীছটি গ্রহণ করা যাবে। কারণ ফাজায়েলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীছ গ্রহণ করা যায়, এতে ইমামগণের ইজমা আছে।

তথ্যসূত্র

  1. সিলসিলাতুস আহাদিসা সহীহা