এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

শবে বরাত সমর্থনে হাদীস সমূহ 5

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
হাদীস নম্বর ২

হযরত আবূ মূসা আল আশআরী (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ নিসফে শাবানের রাত থেকে আবির্ভূত হন । সেই রাতে মুশরিক অথবা হিংসুক ছাড়া সকলকেই ক্ষমা করে দেন ।

নোট
  • ইবনু মাজাহ, "মুহাম্মদ ইবনু ইয়াজিদ" (২৭৩ হিঃ), আস সুনান (বৈরুত, দারুল ফিক্‌র), শাবানের মধ্য রাতের মর্যাদা অনুচ্ছেদ, পৃঃ ১০১, হাদীস নং ১৩৯০
  • বায়হাকী, আহমদ ইবনুল হুসাইন (৪৫৮ হিঃ) "ফাজায়েলুল আওকাত" গ্রন্থে আবুল আসওয়াদ আল মিসরীর সূত্রে বর্ননা করেছেন । মাকতাবাতুল মানারাহ, মক্কা মুকাররামাহ্‌, প্রকাশকাল ১৪১০ হিঃ), পৃঃ ১৩৩, হাদিস নং ২৯ ।
  • "হাফেজ আশ শিহাব আহমদ বিন আবু বকর আল বুসীরি" "মিসবাহুজ জুজাযাহ" ১ম খন্ড, ৪৪২ পৃঃ, হাদিস নং ৪৮৭
  • বায়হাকী, আহমাদ ইবনুল হুসাইন (৪৫৮ হিঃ) "শুয়াবুল ঈমান" (দারুস সালাফিয়া ইয়ানবু প্রকাশকাল ১৪২৩ হিঃ, ২০০৩ ইং), ৩য় খন্ড
  • বাযযার তাঁর মুসনাদে
  • ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে
  • ইমাম হাইছামী তাঁর মাজমাউয যাওয়ায়েদে
  • ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে
  • ইমাম তাবরানী তাঁর কাবীরে সংকলন করেছেন।
  • নাসির উদ্দিন আলবানী তাঁর সঙ্কলিত "সহিহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব" ৩য় খন্ড, হাদীস নং ২৭১৮
  • আস সুন্নাহ, "হাফেজ আবু আসেম সিলসিতুল আহাদিছ ছহীহা", ৩য় খন্ড, পৃঃ ১৩১

হাদিসটির সনদ পর্যালোচনা

হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) এর অভিমতঃ

এ হাদিসটি ইমাম ইবনে মাজাহ (রহঃ) তের উস্তাদ রাশেদ বিন সায়ীদ বিন রাশেদ আর রামালীর সূত্রে বর্ননা করেছেন । তাঁর সম্পর্কে হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) “তাহযীবুত তাহযীব” কিতাবে বলেন

তিনি দশ তবকার বিশুদ্ধ হাদীস বর্ননাকারী ছিলেন ।

— “তাহযীবুত তাহযীব” ইবনু হাজার আসকালানী, আহমাদ ইবনু আলী ইবনি হাজার (৮৫২ হিঃ), ৩য় খন্ড ১৯৬ পৃঃ

ইবনে সাদের অভিমতঃ

এই সনদের অপর রাবীর নাম হচ্ছে আলীদ বিন মুসলিম আল কুরাশী তাঁর সম্পর্কে ইবনু সাদ বলেন

তিনি হচ্ছেন নির্ভরযোগ্য ও অধিক হাদীস বর্ননাকারী ।

— “তাহযীবুত তাহযীব” ইবনু হাজার আসকালানী, আহমাদ ইবনু আলী ইবনি হাজার (৮৫২ হিঃ), ১১তম খন্ড ১৩৪ পৃঃ

ইবনু হাজার বলেনঃ

তিনি একজন ছিক্বাহ রাবী। মুদাল্লাস রেওয়ায়েত অধিক করেছেন।

— তাহযীবুত তাহযীবঃ খ-২, পৃ-২৮৯; খ-১১, পৃ-১৩৪

  • ابن لهيعة ইবনু লাহীআহ। যার সম্পর্কে হাফিয হাইসামী এর বরাতে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর হাদীছ হাসান।
দাহহাক বিন আয়মানঃ

হাফেয ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) তাঁর সম্পর্কে বলেনঃ

তিনি অপরিচিত ।

— “তাহযীবুত তাহযীব” ইবনু হাজার আসকালানী, আহমাদ ইবনু আলী ইবনি হাজার (৮৫২ হিঃ), ৪র্থ খন্ড ৪৮৯ পৃঃ

হাফেয জাহাবী (রহঃ) বলেন

তাঁর পরিচিতি জানা নেই ।

— “মিযানুল ইতিদাল” আব্দুর রহিম ইরাকী ৮০৬ হিঃ ২য় খন্ড ৩২২ পৃঃ

দাহহাক বিন আব্দুর রহমান ইবনে আরযব (রঃ)

তিনি একজন জলীলুল কদর তাবেয়ী এবং বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য রাবী । তাঁর সম্পর্কে ইবনে হাজার আসকালানী বলেন

তিনি তৃতীয় তবকার একজন নির্ভরযোগ্য রাবী ।

— “তাহযীবুত তাহযীব” ইবনু হাজার আসকালানী, আহমাদ ইবনু আলী ইবনি হাজার (৮৫২ হিঃ), ৪র্থ খন্ড ৩৯২ পৃঃ

হাজেয আহমাদ সজলী বলেনঃ

মূলকথাঃ দাহহাক বিন আব্দুর রহমান ইবনে আরযব (রঃ) নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী ছিলেন । ইবনে সায়াদ তাঁর আত্‌ তাবাকাতুল উলার মধ্যে উল্লেখ করেন । তিনি বসরার তাবেয়ী ছিলেন । অন্য বর্ননায় আছে তিনি কালীলুল হাদীস ছিলেন ।

— “তাহযীবুত তাহযীব” ইবনু হাজার আসকালানী, আহমাদ ইবনু আলী ইবনি হাজার (৮৫২ হিঃ), ৪র্থ খন্ড ২১২ পৃঃ

হাফেয আহমাদ আজলী (রহঃ) বলেন,

মূলকথাঃ তিনি একজন তাবেয়ী ও হাদীসের নির্ভরযোগ্য রাবী ।

— “মিযানুল ইতিদাল” আব্দুর রহিম ইরাকী ৮০৬ হিঃ ১৩তম খন্ড ২৭১ পৃঃ

হযরত আবু মূসা আশয়ারীঃ

তিনি একজন জলীলুল কদর সাহাবী ছিলেন ।

ফায়েদাঃ

এ হাদীসে “দাহহাক বিন আয়মান” ছাড়া বাকী সকল রাবী সিকাহ্‌ বা বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য । তবে এটা হতে পারে তিনি ইমাম ইবনে মাজাহর নিকট বিশ্বস্ত ও পরিচিত ছিলেন । এ ছাড়াও এ হাদীসটি অপর সনদেও বর্নিত আছে । হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্নিত থাকার কারনে হাসান হাদীসের মর্যাদায় পৌছেছে ।

হাদীসের সমালোচক নাসির উদ্দিন আলবানী বলেনঃ

ইমাম ইবনে মাজাহ (রহঃ) কর্তৃক হযরত আবু মূসা আশয়ারী (রাঃ) সূত্রে বর্নিত হাদীসটি সহীহ লি গাইরিহী ।

— সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব” নাসির উদ্দিন আলবানী ৩য় খন্ড, হাদিস নং ২৭৬৮

হাদীছটির অবস্থান

উল্লেখিত পর্যালোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, এই হাদীছের সনদে শুধু মাত্র একজন রাবী অর্থাৎ জাহহাক ইবনু আইমান মাজহূল তথা অপরিচিত। এছাড়া অবশিষ্ট সকল রাবী নির্ভরযোগ্য। আর ইবনু লাহীআর হাদীছ হাসান স্তরের। (এ ক্ষেত্রে) শুধুমাত্র একজন রাবী এর পরিচয় জানা না থাকলে মূল হাদীছ প্রমাণিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনরূপ অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে না। কারণ এই হাদীছের অনুকূলে ও সমর্থনে আরও হাদীছ তো অবশ্যই পাওয়া যায়। আর আমরা শুরুতে একথা বলে আসছিলাম যে, যঈফ রেওয়ায়েত যদি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়, তাহলে ‘হাসান’ স্তরে উন্নীত হয়।

এ জন্যই সমকালীন হাদীছ পর্যালোচক আল্লামা নাসির উদ্দীন আলবানী আবু মূসা আশআরী (রঃ) এর হাদীছকে صحيح سنن ابن ماجه গ্রন্থে হাসান হিসেবে প্রমাণিত করেছেন।[1]

সার কথা

হযরত আবু মূসা আশআরী (রঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটিতে একজন অজ্ঞাত রাবী আছেন। কিন্তু যেহেতু এই হাদীছের সমর্থনে হযরত মুয়ায বিন জাবাল (রঃ), হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রঃ), হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রঃ) এর শক্তিশালী সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে, তাই উসূলে হাদীসের নীতিমালা অনুযায়ী হাদীসটি দুর্বল হবে না, হাসান হয়ে যাবে।

এজন্যই আহলে হাদীছ বা সালাফীদের অন্যতম গণ্যমান্য ব্যক্তি আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন এবং তাঁর সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহতে উল্লেখ করে প্রমাণও করেছেন।

তথ্যসূত্র

  1. সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ, আলবানীঃ খ- ১, পৃ- ২৩৩
  • শরীয়ার কষ্টিপাথরে শবে বরাত (লেখকঃ মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গনি সালেহী)
  • sunni-encyclopedia.blogspot.com