এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

শবে বরাত সমর্থনে হাদীস সমূহ 6

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

হযরত আবু ছা’লাবাহ আল খুশানী (রঃ) থেকে বর্ণিত রসূল (সঃ) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের পনের তারিখ রাতে স্বীয় বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন। অতঃপর মুমিনগণকে ক্ষমা করেন, কাফিরদেরকে সুযোগ দেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে তাদের বিদ্বেষ পরিত্যাগ করা পর্যন্ত অবকাশ দেন।

নোটঃ

১। ইমাম বায়হাকী তাঁর শুয়াবুল ঈমানে ২। ইমাম তাবরানী তাঁর কাবীরে ৩। ইমাম হাইছামী তাঁর মাজমাউয যাওয়ায়েদে সংকলন করেছেন।

হাদীসটির মান

  • হাফিয যকী উদ্দীন আল মুনযিরী হাদীছটিকে বর্ণনা করার পর বলেনঃ

ইমাম বায়হাকী (রহঃ) বলেছেনঃ এই হাদীছের সনদে মাকহূল এবং আবু ছা’লাবাহ এর মাঝখানে ইরসাল (রাবী এর বিলুপ্তি) রয়েছে।

আর আমরা ভূমিকাতে (উসূলে হাদীসের নীতিমালায়, ৮ম পর্ব) উল্লেখ করেছিলাম যে, হানাফী ও মালেকী মুহাদ্দিছদের মতে মুরসাল হাদীছ সহীহ এবং প্রমাণ পেশ করার যোগ্য।

  • এ হাদীছের সূত্রে একজন রাবী রয়েছেন, আল আহওয়াজ ইবনু হাকীম। তাঁর ব্যাপারে হাফেজ হায়ছামী মন্তব্য করেন এভাবেঃ

হাফিয হাইছামী বলেনঃ উক্ত হাদীছ তাবরানী বর্ণনা করেছেন। তার সনদে আহওয়াস ইবনু হাকীম নামক একজন রাবী আছেন। তিনি দুর্বল।

— মাজমাউয যাওয়ায়েদঃ খ-৮, পৃ-৬৫

অন্য দিকে তার ব্যাপারে শায়খে বুখারী আলী ইবনু মাদীনী বলেনঃ

والاحوص ثقة

আহওয়াস নির্ভরযোগ্য।

— তাহযীবুল কামাল

সর্বাধিক উত্তম মন্তব্য করলেন ইমাম দারাকুতনী (রহঃ)। তিনি বলেনঃ

والاحوص يعتبر اذا حدث عنه ثقة

আহওয়াস হতে যখন নির্ভরযোগ্য রাবী রেওয়ায়েত নিবেন তখন সে হাদীছ গ্রহণযোগ্য হবে।

সুতরাং এখানে আহওয়াস থেকে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান আল মোহারেবী নামক রাবী যিনি সর্বসম্মতিক্রমে নির্ভরযোগ্য। কাজেই আহওয়াসের কারণে আলোচ্য হাদীছের সূত্রকে দুর্বল বলার কোন অবকাশ নেই। সূত্রের অন্যান্য রাবীগণ ছিক্বাহ। তবে এ সূত্রের মধ্যে মাকহূল রাবী এবং হাদীছ বর্ণনাকারী সাহাবী উভয়ের মাঝে একজন রাবী বিলুপ্ত। অথাৎ রেওয়াতটি মুরসাল। এছাড়া অন্য কোন সমস্যা এ সূত্রে নেই। এ ধরণের হাদীছের সমর্থনে আরো হাদীছ বিদ্যমান থাকায় হাদীছটি সহীহ বলে বিবেচ্য। নূন্যতম হাদীছটি মুরসাল যা হানাফী ও মালেকী মুহাদ্দিছদের নিকট গ্রহণযোগ্য বলে সাব্যস্ত।

সারকথাঃ

হাফিয হাইছামী এর বক্তব্য দ্বারা বুঝা যায় যে, এই হাদীছের সনদে একজন দুর্বল রাবী আছে, তিনি ছাড়া অন্যান্য রাবীগণ ছিক্বাহ। এই দৃষ্টিকোণে যদিও হাদীছটি দুর্বল। কিন্তু তার সমর্থনে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রঃ), হযরত মুয়ায বিন জাবাল (রঃ), হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর (রঃ) এর সহীহ হাদীছসহ আরো হাদীছ থাকায় উসূলে হাদীছের নীতিমালা অনুযায়ী হাদীছটি আর দুর্বল থাকে না।

আহলে হাদীস/সালাফী ভাইদের কাছে প্রশ্ন ও দাওয়াতঃ
  • প্রথমত, উপরে বর্ণিত তিনটি হাদীসের প্রথমটির সনদ হাসান পর্যায়ের, আর বাকী দুইটি কিছুটা দুর্বল।
  • দ্বিতীয়ত, হাদীস গুলোর সমর্থনে আরও অনেক হাদীস থাকায় উসূলে হাদীসের নীতিমালা অনুযায়ী এই হাদীস গুলো হাসান বা সহীহের পর্যায়ে চলে আসে।
  • তৃতীয়ত, হাদীসগুলো কিছুটা দুর্বল হলেও ফাজায়েলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীছ গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য। এটি উসূলে হাদীসের অন্যতম একটি নীতিমালা।

অনেক বড় বড় মুহাদ্দিসরাই এই হাদীস গুলোর তাহকীক করেছেন এবং এগুলোকে সামষ্টিকভাবে হাসান বলে রায় দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র