শারীয়াত

From Sunnipedia
(Redirected from শরীয়ত)
Jump to: navigation, search

শারীআঃ এবং শার' অর্থ জলাশয়ে কিংবা কূপে যাইবার পথ, অনুসরনীয় স্পষ্ট পথ । পারিভাষিক অর্থে ইসলামের আইন-কানুন । ইহার বহুবচন 'শারাই" দ্বারা ইসলামী শারীয়াতের প্রতিটি বিধান বুঝাইলেও শব্দটি কার্যত শারীয়াত অর্থেই ব্যবহৃত হয় । শারি' (বিধানদাতা) শব্দ পারিভাষিক অর্থে রাসূল কারীম (সঃ) কে বুঝায় কারন তিনি শারীয়াতের প্রচারক । তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইহা দ্বারা আল্লাহকে বুঝায় । কারন তিনিই প্রকৃত বিধানদাতা । "মাশরু" শব্দ দ্বারা যে সমস্ত বিষয় ইসলামে বিধিবদ্ধ হইয়াছে, তাহা বুঝায় । যাহা কিছু শারীয়াতের সহিত সম্পর্কিত অথবা যাহা উহার সহিত সঙ্গতি রাখে অথবা যাহা শারীয়াতসঙ্গত তাহাকে শারঈ বলে ।[1]

হযরত আদম আলাইহিচ্ছালাম হতে হযরত মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম পর্যন্ত নবী রছূলগণের দ্বীন এক ও অভিন্ন। এর মধ্যে কোন পার্থক্য ও বিভেদ নেই। কিন্তু হুকুম অর্থাৎ বিধিবিধান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে কিছু কিছু পার্থক্য দেখা যায়। যেমন- কোন রছুলের উম্মতের উপর এক ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে, কারো উপর দু-ওয়াক্ত নামাজ, আবার কারো উপর তিন ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়েছে। আর উম্মতে মুহাম্মাদীর উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়েছে। কোন রছুলের উপর জোহরের নামাজ, কারো উপর আছরের নামাজ, আবার কারো উপর ঈশার নামাজ ফরজ করা হয়েছে। ছওম বা রোজার মধ্যেও তেমনি। কোন রছুলের উপর মাসে ১টি রোজা আবার কোন রছুলের উপর মাসে ৩টি রোজা ফরজ হয়েছে। উম্মতে মুহাম্মাদীর উপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়েছে। মূলকথা ঈমান, ছলাত, ছওম, যাকাত প্রত্যেক নবী রছুলের উপর ফরজ ছিল কিন্তু ওয়াক্ত, সময় ও পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য ছিল।

আয়াতুল কুরসী

হুকুম সমুহ যে রছুলের উপর নাজিল হতো, শরীয়াত সে রছুলের নামে পরিচিতি লাভ করত। যেমন শরীয়াতে ইবরাহীমী, শরীয়াতে মুছাবী, শরীয়াতে ঈছাবী, শরীয়াতে মুহাম্মাদী। এ সম্পর্কে আল্লাহ রব্বুল আলামীন কোরআন মাজীদে এরশাদ করেছেন –

(৪৮) আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি শরীয়াত বা বিধান ও একটি পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে তাদের সকলকে এক উম্মত করে দিতেন। কিন্তু তিনি এরূপ করেননি - যাতে তোমাদেরকে যে শরীয়াত দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব তোমরা দ্রুত উপকারী বিষয়ের দিকে এগিয়ে যাও।

— ছুরা মায়িদাহ

অন্যদিকে যিনি যে রছুলের দ্বীনের অনুসারী ছিলেন তিনি সেই রছুলের উম্মাত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। যেমন- উম্মাতে মুছাবী, উম্মাতে ঈছাবী ও উম্মাতে মুহাম্মাদী। কোন রছুলের উপর নতুন শরীয়াত নাযিল হলে আগের শরীয়াত রহিত হয়ে যেত এবং রছূল থেকে নতুন শরীয়াত প্রতিষ্ঠিত হতো।
সবশেষে হযরত মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লামের উপর নতুন শরীয়াত নাজিল হওয়ার কারণে অন্য সকল শরীয়াত রহিত হয়ে গেছে। রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বলেছেন -

যার হাতে আমার জীবন রয়েছে তার কছম, এ সময় যদি তোমাদের কাছে তাওরাতের নবী মুছাও প্রকাশ পেত আর তোমরা আমাকে বাদ দিয়ে তার ইত্তেবা বা অনুসরণ করতে, তাহলে তোমরা সঠিক পথ হতে গোমরাহ হয়ে যেতে। এমন কি মুছা জীবিত থেকে আমার নবুয়াতের যামানা পেত তা হলে অবশ্য সে আমার অনুসরণ করত।

— দারেমী, কানঝুল উম্মাল, হাদীছ নং- ১০১২, মেশকাত , হাদীছ নং- ১৮৪

এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লা কোরআন মাজীদে এরশাদ করেছেন-

(১৬) আমি বনী ইছরাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নবুয়ত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে পবিত্র রিজিকও দান করেছিলাম এবং বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্বও দিয়েছিলাম। (১৭) আরও দিয়েছিলাম তাদেরকে দ্বীনের সুস্পষ্ট প্রমানাদি। এরপর তারা জ্ঞান লাভ করার পর পরস্পর জেদের বশবর্তী হয়ে একে অপরের সঙ্গে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা যে সব বিষয়ে মতভেদ করত, তোমার রব কিয়ামতের দিন তার ফয়ছালা করে দেবেন। (১৮) এরপর আমি তোমাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। অতএব তুমি এর অনুসরণ কর এবং অজ্ঞানদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। যালিমরা একে অপরের বন্ধু আর আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু। (২০) এটা মানুষের জন্যে জ্ঞানের কথা এবং বিশ্বাসীদের জন্যে হেদায়েত ও রহমত

— ছুরা জাছিয়াহ

[2]

তথ্যসূত্র

  1. সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)
  2. আদ্‌ দ্বীন (লেখকঃ মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান)