শরীর পাক

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

আল্লাহ তাআ’লা কোরআন মাজীদে এরশাদ করেছেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ۚ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর, মাথা মুছেহ কর এবং পদযুগল গিটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও ।

— সূরা মাইদা

উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআ’লা নামাজের জন্যে পবিত্র হতে হুকুম করেছেন। আল্লাহ তাআ’লা পবিত্র। অপবিত্রতার বিন্দু মাত্রও তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত তার নৈকট্য পাওয়া কোন মতেই সম্ভব নয়। এ কারণে নামাজের জন্যে পবিত্রতা অর্জন শর্ত করা হয়েছে।

শরীর পাক বা পবিত্র করা কয়েক প্রকার
১। শরীরের কোন জায়গায় নাজাছাতে গলীজা যেমন মানুষের পায়খানা লাগলে তা পবিত্র করা।
২। নাজাছাতে খফীফা যেমন- হালাল পশু পাখীর পায়খানা বা কেবলমাত্র মায়ের দুধ পানকারী ছেলে-মেয়েদের পেশাব লাগলে তা শরীর থেকে পাক করা।
৩। স্বামী স্ত্রীর মিলনে, স্বপ্নে বা জাগ্রত অবস্থায় শুক্রপাত হলে শরীর নাপাক হয়ে যায়। এ অবস্থায় শরীর পাক করার জন্য গোছল করা ফরজ।
৪। পেশাব পায়খানার বেগ থাকলে তা সেরে আসা। কারণ পেশাব পায়খানার বেগ নিয়ে নামাজ শুরু করলে নামাজে মন বসে না, নামাজের একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নামাজ মাকরুহ হয়। এ জন্যে জামায়াত শুরু অবস্থায় ও পেশাব পায়খানার হাজত আগে পূর্ণ করতে হয়।
৫। পেশাব পায়খানার রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হলে, পাথর বা কৃমি বেরুলে, মুখ ভরে বমি হলে, মুখের লালার সঙ্গে ফোঁটা পরিমানের বেশী রক্ত পড়লে, শরীরের কোন স্থান থেকে রক্ত, পুঁজ বা দূর্গন্ধযুক্ত রস গড়িয়ে গেলে অথবা ঘুমিয়ে পড়লে শরীর নাপাক হয়। এ অবস্থায় নামাজের জন্য পানি দিয়ে অযু করা অথবা পানি না পাওয়া গেলে মাটি বা মাটি জাতীয় জিনিষ দিয়ে তায়াম্‌মুম করা ফরজ।
৬। মেয়েদের মাসিক হায়েজ হলে অথবা সন্তান হওয়ার পরে নেফাছ এর রক্তস্রাব হলে শরীর নাপাক হয়। হায়েজ বা নেফাছ বন্ধ হলে শরীর পাক করার জন্য গোছল করা ফরজ।

তথ্যসূত্র

  • নামাজ প্রশিক্ষণ (লেখকঃ মাহবুবুর রহমান, প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ, প্রতাপনগর আবূবকর সিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা, সাতক্ষীরা)