সর্বপ্রথম মিলাদ ও কেয়াম কে করেছিলেন ?

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

পবিত্র মিলাদুন্নবীর ইতিহাস অতি প্রাচিন । মিলাদুন্নবীর সুচনা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন । রোজে আজলে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামকে নিয়ে আল্লাহ এই মিলাদের আয়োজন করেছিলেন । নবী গনের মহাসম্মেলন ডেকে মিলাদুন্নবী আয়োজক স্বয়ং আল্লাহ । তিনি নিজে ছিলেন মীরে মাজলিস বা সভাপতি । সকল নবীগন ছিলেন শ্রোতা । ঐ মজলিসের উদ্দেশ্য ছিল হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লামের বেলাদাত, শান ও মান অন্যান্য নবীগনের সামনে তুলে ধরা এবং তাঁদের থেকে তাঁর উপর ঈমান আনয়ন ও সাহায্য সমর্থনের প্রতিশ্রুতি আদায় করা । কোরআন মজিদের ৩য় পারা সুরা আলে এমরানে ৮১-৮২ নং আয়াতে মধ্যে আল্লাহ তায়ালা ঐ মিলাদুন্নবী মাহফিলের কথা উল্লেখ করেছেন । নবীজীর সম্মানে এটাই ছিল প্রথম মিলাদ মাহফিল এবং মিলাদ মাহফিলের উদ্যোগ্ক্তা ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা । সুতরাং মিলাদে মাহফিল আনুষ্ঠান হচ্ছে আল্লাহর সুন্নত বা তরিকা । ঐ মজলিসে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম ও উপস্থিত ছিলেন । ঐ মজলিসে স্বয়ং আল্লাহ নবীজীর শুধু আবির্ভাব বা মিলাদের উপরই গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন । সিরাতুন্নবীর উপর কোন আলোচনা সে দিন হয়নি । সমস্ত নবীগন খোদার দরবারে দন্ডায় মান থেকে মিলাদ শুনেছেন এবং কিয়াম করেছেন । কেননা খোদার দরবারে বসার কোন অবকাশ নেই । পরিবেশটি ছিল আদবের ।

মিলাদ পাঠকারী ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ এবং কিয়ম কারীগন ছিলেন আমবিয়ায়ে কেরাম ।

এই মিলাদ ও কিয়াম কোরআনের " ইকতেদো উন নস " দ্বারা প্রমানিত হলো : উল্লেখ্য যে কোরআনে মজিদের "নস" চার প্রকার যথা : ইবারত , দালালত , ইশারাও ইক্কতিজা ।উক্ত চার প্রকার দ্বারাই দলিল সাবেত হয় । ( নুরূল আনওয়ার দেখুন ) নিম্নে উল্লেখিত আয়াতের মধ্যে ইবারতের দ্বারা প্রমানিত হয়েছে অঙ্গীকার / দালালাতের দ্বারা নবীগনের মাহফিল , ইশারার দ্বারা মিলাদের ব আবির্ভাবের এবং ইকতিজার দ্বারা কিয়ামের প্রমানিত হয়েছে ।

সুতরং মিলাদুন্নবী মহফিল কেয়াম নবীগনের সম্মিলিত সুন্নাত ও ইজামায়ে আম্বিয়া দ্বারা প্রতিষ্ঠিত । কোরআন মজিদে আলে এমরানের আয়াত ৮১-৮২ উল্লেখ করা হলো : আল্লাহ বলেন ( ৮১ )

হে প্রিয় রাসুল ! আপনি স্মরণ করূন ঐ দিনের কথা , যখন আল্লাহ তায়ালা সমস্ত নবীগন থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন এ কথার উপর যে , যখন আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দিয়ে দুনিয়ায় প্রেরন করবো ; তারপর তোমাদের কাছে আমার মহান রাসুল যাবেন এবং তোমাদের নবু্যত ও কিতাবের সত্যতার সাক্ষ্য প্রদান করবেন , তখন তোমরা অবশ্য অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে

আল্লাহ বলেন

তোমরা কি এ সব কথার উপর অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহন করে নিয়েছো ( তখন ) তাঁরা সকলেই সমস্বরে বলেছিলেন, ----আমরা অঙ্গিকার করছি ।

আল্লাহ বলেন

তাহলে তোমরা পরস্পর সাক্ষি থাক । আর আমি ও তোমাদের সাথে মহাসাক্ষী রইলাম ।


অত:পর যে কোন লোক এই অঙ্গীকার থেকে ফিরে যাবে- সেই নফরমান (কাফের )

উক্ত দুটি আয়াতে মধ্যে নবী করিম (দ) -এর ব্যাপারে ১০ টি বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে । যথা :

১ । এই ঐতিহসিক মিলাদ সম্মেলনের ঘটনাবলীর প্রতি রাসুলে কারিম (দ) -এর দৃষ্টি আকর্ষণ । যেহেতু নবী করিম (দ) ঐ সময়ে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ।
২। আল্লাহ কর্তৃক অন্যান্য আম্বিয়ায়ে কেরামের নিকট থেকে নবীজীর শানে অঙ্গীকার আদায় ।
৩। নবীগনের রমরমা রাজত্বকালে এই মহান নবীর আগমন হলে তাঁর উপর ঈমান আনতে হবে ।
৪। তাঁর আগমন হবে অন্যান্য নবীগনেরর সত্যতর দলীল স্বরূপ ।
৫। ঐ সময়ে নবীগনের নবুয়ত স্থগিত রেখে- নবীজীর উপর ঈমান আনয়ন করতে হবে ।
৬।নবীজীকে সর্বাবস্থায় পুর্ন সাহায্য সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার আদায় ।জীবনের বিনিময়ে এই সাহায্য হতে হবে নি:শর্তভাবে ।
৭। নবীগনের স্বীকৃতি প্রদান ।
৮। পরস্পর সাক্ষী হওয়া ।
৯। সকলের উপরে আল্লাহ মহাসাক্ষী ।
১০ । ওয়াদা ভঙ্গের পরিনাম - নাফরমান ও কাফের ।

১০ নং দফায় নবীগনের উম্মত তথা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের পরিনতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে । কেননা নবীগগনের অস্বীকারের প্রশ্নই উঠে না । অস্বীকার করেছেন ইয়াহুদী ও নাসারাগন । সুতরাং তারাই কাফের ।

তথ্যসূত্র

  • মিলাদ ও কিয়ামের বিধান (লেখকঃ অধ্যক্ষ এম এ জলিল (রহঃ))