সাহাবায়ে কিরামের জীবন থেকে দলিল

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মাযহাব



  • সাহাবায়ে কিরামের জীবন থেকে দলিল

নবী করীম (সঃ) এর তিরোধানের পর তাঁর পুণ্যাত্মা সাহাবায়ে কেরামের যুগে বিপুলভাবে তাকলীদ করা হতো । এর উদাহরণ এতো বেশী রয়েছে যে, সবগুলো একত্রিত করা হলে তা বিশাল একটি স্বতন্ত্র পুস্তকে রূপ ধারণ করবে । এবার আমরা মাত্র কয়েকটি উদাহরণ দেখবো । ইনশাআল্লাহ্‌ ।

১ নং দলিলঃ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন

হযরত উমর (রাঃ) একবার ‘জাবিয়া’ নামক স্থানে বক্তব্য দিতে যেয়ে বললেন, হে লোক সকল, তোমাদের মধ্য থেকে যদি কেউ কুরআন করীম সম্পর্কে কিছু জানতে চায়, সে যেন উবাই ইবনে ক্যাব এর শরণাপন্ন হয় । আর কেউ যদি ফারায়েজ সম্পর্কে কিছু জানতে চায়, সে যেন যায়েদ ইবনে সাবিতের শরণাপন্ন হয় । আবার যদি কেউ ফিক্‌হ সম্পর্কে কিছু জানতে চায়, তবে সে যেন মু’আয বিন জাবালের কাছে যায় । আর কারো যদি সম্পদের প্রয়োজন হয়, সে যেন আমার কাছে আসে । কেননা আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাকে এর অভিভাবক রক্ষক ও বণ্টনকারী হিসেবে নিয়োজিত করেছেন ।[1]

২নং দলিলঃ

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে জারীর আত-তবারী (রঃ) এর গবেষণামূলক একটি কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, তিনি বলেন, (নবী পাক (সঃ) এর সাহাবাগনের মধ্যে) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাঃ) এর শাগরেদদের (ছাত্রদের) ন্যায় প্রসিদ্ধ শাগরেদ অন্য কোন ছাহাবীর ছিল না এবং তাঁর মতো অন্য কোন ছাহাবীর ফাতোয়া ও মাযহাব (ফিক্‌হী সমাধান) লিপিবদ্ধ হয়নি । ইবনে মাস’উদ (রাঃ) ফিকহী সমাধানের ক্ষেত্রে উমর (রাঃ) এর সাথে খুব কমই দ্বিমত পোষণ করতেন এবং কোন কোন ফাতোয়া হযরত উমর (রাঃ) এর মতের বিপরীত হলে, তিনি নিজে মত ত্যাগ করে হযরত উমর (রাঃ) এর মত ও মাযহাব গ্রহণ করতেন ।[2]

৩নং দলিলঃ

সহিহুল বুখারীতে রয়েছে হযরত হুযাইল ইবন শুরাহবীল (রঃ) এর সূত্রে একটি ঘটনা তাকলীদের সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করছে । একবার কিছু লোক হযরত আবূ মুসা আশ’আরী (রাঃ) কে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর সমাধান বলে দিলেন । সাথে এ কথাও বলে দিলেন এ বিষয়ে হযরত ইবনে মাস’উদ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করে নিও । কথা মতো তারা আবদুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাঃ) কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি যে সমাধান দিলেন, তা আবূ মুসা (রাঃ) এর ফতোয়ার সম্পূর্ন আলাদা । আবূ মুসা (রাঃ) কে যখন লোকেরা এ সম্পর্কে অবহিত করলো তিনি তখন জবাব দিলেন, “যতদিন পর্যন্ত তোমাদের মাঝে এই বিজ্ঞ আলেম (ইবনে মাস’উদ (রাঃ)) জীবিত থাকবনে, ততদিন পর্যন্ত আমাকে মাস’আলা জিজ্ঞেস করো না ।”[3]

৪নং দলিলঃ

এখানে প্রসঙ্গত হযরত জুন্দুব (রঃ) ও হযরত আ’মাশ (রঃ) এর কথা তুলে ধরা হলো হজরত (রঃ) বলেন, আমি অন্য কারো ফাতোয়া বা ফিকহী সমাধান পেয়ে ইবনে মাস’উদ (রাঃ) এর ফাতোয়া বা ফিকহী সমাধান ছাড়বো না ।[4]

৫ নং দলিলঃ

হযরত আ’মাশ (রঃ) (জালাইলুল কদর তাবে’ঈ ইব্রাহীম নাখাঈ (রঃ) সম্পর্কে বলেন

যদি কোন বিষয়ে হযরত উমর (রাঃ) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাঃ) একমত হতেন, তাহলে ইব্রাহীম নাখা’ঈ (রঃ) অন্য কারো মত তাঁদের মতের সমকক্ষ মনে করতেন না । তবে তাঁদের দু’জনের মধ্যে ইখতিলাফ বা মতপার্থক্য হলে, তিনি ইবনে মাস’উদ (রাঃ) এর মতকেই বেশী পছন্দ করতেন ।[2]

তথ্যসূত্র

  1. বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা, খ ৬, পৃ ২১০, হাদিস ৫২৮৭
  2. 2.0 2.1 ইবনুল কায়্যিম, ই’লামুল মু’আক্‌কি’ঈন, খ ১, পৃঃ ১৬
  3. বুখারী, আস সহীহ, হাদিস ৬৭৩৬
  4. আদওয়াউল বায়ান, খ ৭, পৃ ৮৯৫

কোরআন ও হাদিসের কষ্টিপাথরে মাজহাব (লেখকঃ মুফতি মাওলানা মুহাম্মাদ ওসমান গনি সালেহী)