সাহাবা যুগে মিলাদুন্নবী মাহফিলের প্রমাণ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের উপস্থিতিতে সাহাবায়ে কেরাম মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠান করেছেন । নিম্নে কয়েকটি প্রমান উপস্থাপন করা হল-

প্রথমঃ

হযরত দারদা (রা) হতে বর্নিত আছে - তিনি বলেন আমি নবী করিম (দঃ) -এর সাথে মদিনার আবু আমের আনসারির গৃহে গমন করে দেখি- তিনি তাঁর সন্তানাদি এবং আত্বয়-স্বজনকে নবী করিম (দঃ) -এর জন্ম বৃত্তান্ত শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন আজই সেই দিন । এতদ্দশর্নে নবী করিম (দঃ) -এরশাদ করলেন : নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা তোমার উপর রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন এবং আল্লাহর ফেরেস্তাগনও তোমাদের সকলের জন্য মাগফিরাত কামনা করছেন ।

— দোররে মুনাজ্জাম - আব্দুল হক এলাহাবাদি

দ্বিতীয়ঃ

ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্নিত আছে

একদিন তিনি ( ইবনে আব্বাস ) কিছু লোক নিয়ে নিজগৃহে রাসুলে কারিম (দঃ) -এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করে আনন্দ উৎসব করছিলেন এবং তাঁর প্রশংসাবলী আলোচনা সহ দুরুদ ও ষালাম পেশ করেছিলেন । এমন ষময় নবী করিম (দঃ) তথায় উপস্থিত হয়ে এ আবস্থা দেখে বললেন : তোমাদের সকলের জণ্য আমার সাফায়াত অবধারিত হয়ে গেল

— ইবনে দাহইয়ার আত-তানভির ৬০৪ হিজরি

সুতরাং প্রমানীত হলো যে নবী পাকের মিলাদ শরিফ পাঠে রাসুলে পাকের সাফায়াত নসীব হবে ।

তৃতীয়

হযরত হাসসান বিন সাবের ( রা ) মিম্বারে দাঁড়িয়ে কবিতার মাধ্যমে মিলাদুন্নবী (দঃ) পাঠ করেছেন দির্ঘ কবিতার একাংশ নিম্ন উদ্ধৃত করা হলো ;

ইয়া রাসুল্লাহ ! আপনি সর্ব দোষত্রুটি হতে মুক্ত হয়ে জন্ম হয়েই জন্ম গ্রহন করেছেন । আপনার এই বর্তমান সুরত মনে হয় আপনার ইচ্ছা অনুযাযী সৃষ্টি হয়েছে । আল্লাহ তার প্রিয় নবীর নামে আযানে নিজের নামের সাথে সংযুক্ত করেছেন । এর প্রমান যখন মুয়াজ্জিন পান্জেগানা নামাজের জন্য " আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ " বলে আজান দেয় । আল্লাহ তায়ালা আপন নামের অংশ দিয়ে নবীজীর নাম রেখেছেন -তাঁকে অধিক মর্যাদাশীল করার লক্ষ্যে । এর প্রমান হচ্ছে আরসের অধিপতির নাম হচ্ছে " মাহমুদ" এবং ইনির নাম হলো"মুহাম্মদ "

— দিওয়ানে হাসসান

বিঃ দ্রঃ

আরবীতে মাহমুদ লিখতে পাঁচ হরফ যেমন মিম- হা -মিম - ওয়াও - দাল এবং মুহাম্মদ লিখতে যেমন মিম-হা-মিম - দাল ব্যবহৃত হয় । ব্যবধান মাত্র এক হরফের বিষয়টি খুবই ইঙ্গীতপুর্ন । একটিমাত্র 'ওয়াও' হরফের ব্যবধান ।

উক্ত মিলাদী কাসিদায় হযরত হাসসানের কয়েকটি আকিদা প্রমানীত হয়েছে । যেমন-

১। নবী করিম (দঃ) এর উপস্থিতিতে এই প্রশংসাসুচক কাসিদা পাঠ।
২। মিম্বারে দাঁড়িয়ে ( কিয়াম ) অবস্থায় হুজুরের জন্ম বৃত্তান্ত ও গুনাবলী বর্ননা করা ।
৩। নবী করীম (দঃ) সর্বত্রটি হতে মুক্ত।
৪। হুজুর (দঃ) -এর বর্তমান সুরত নবীজীর ইচ্ছানুযায়ী সৃষ্টি ।
৫। আজানের মত গুরুত্ব পুর্ন ইবাদতে আল্লাহর নামের পাশে নবীজীর নামে আল্লাহ কর্তৃক সংযোজন ।
৬।নবীজীর মুহাম্মদ নামের উৎস হচ্ছে আল্লাহর সিফাতি নাম - মাহমুদ ।

হযরত হাসসান বিন সাবের (রাঃ)এর এই মিলাদ পাঠ শুনে নবী করিম (দঃ) বলতেন

আল্লাহুম্মা আইদ্দাহু বে রূহিল কুদ্দুস

অর্থাৎ, হে আল্লাহ ! তুমি তাকে জিবরাইল মারফত সাহায্য করো

তাফছিরে খাজাইনুল ইরফান (আঃ) উল্লেখ আছে যারা নবী করিম (দঃ) -এর প্রশংসাগীতি করে , তাদের পিছনে জিবরাইল (আঃ) -এর গায়েবি মদদ থাকে [1]। মিলাদ ও কেয়ামের জন্য এটি একটী শক্ত ও উৎকৃষ্ট দলিল ।

তথ্যসূত্র

  • মিলাদ ও কিয়ামের বিধান (লেখকঃ অধ্যক্ষ এম এ জলিল (রহঃ))
  1. সুরা মূজাদালাহ