এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

সূরা ফাতিহাঃ আয়াত ৫ (ব্যাখ্যা)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম-একটি ব্যাপক ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ন দোয়া, যা মানুষকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে । মানবসমাজের কোন ব্যক্তিই এর আওতার বাইরে নেই । কেননা, সরল-সঠিক পথ ব্যতীত দ্বীন-দুনিয়ার কোন কিছুতেই উন্নতি ও সাফল্য সম্ভব নয় । দুনিয়ার আবর্তন-বিবর্তনের মধ্যেও সিরাতে-মুস্তাকিমের প্রার্থনা পরশপাথরের মত কিন্তু মানুষ তা লক্ষ্য করে না । আয়াতের অর্থ হচ্ছেঃ “আমাদিগকে সরল পথ দেখিয়ে দিন”

সরল পথ কোনটি

Tafsir ayat.jpg
‘সোজা সরল রাস্তা’ সে পথকে বলে, যাতে কোন মোড় বা ঘোরপ্যাঁচ নেই । এর অর্থ হচ্ছে, ধর্মের সে রাস্তা যাতে ‘ইফরাত’ বা ‘তফরীত’ এর অবকাশ নেই । ইফরাতের অর্থ সীমা অতিক্রম করা এবং তফরীত অর্থ মর্জিমত কাট-ছাট করে নেওয়া ।

এরশাদ হয়েছেঃ

“সিরাতাল্লাজিনা আন আ’মতা আলাইহিম”

অর্থাৎ- যে সকল লোক আপনার অনুগ্রহ লাভ করেছে তাঁদের রাস্তা ।

কারা অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তি

যে সকল ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করেছে, তাঁদের পরিচয় অন্য একটি আয়াতে এভাবে বর্ননা করা হয়েছেঃ

"আল্লাজিনা আন’আমাল্লাহু আলাইহিম মিনান্নাবিয়্যিনা ওয়াস সিদিক্কিনা ওয়াশ শুহাদাই ওয়াস সলিহিন"
অর্থাৎ- যাদের প্রতি আল্লাহ পাক অনুগ্রহ করেছেন, তারা হচ্ছেন নবী, সিদ্দিক, শহীদ এবং সৎকর্মশীল সালেহীন ।

আল্লাহর দরবারে মকবুল উপরোক্ত লোকদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর নবীগণের । অতঃপর নবীগণের উম্মতের মধ্যে যারা সর্বাপেক্ষা বড় মরতবা ও মর্যাদার অধিকারী, তারা হলেন সিদ্দিক । যাদের মধ্যে রূহানী কামালিয়াত ও পরিপূর্নতা রয়েছে, সাধারণ ভাষায় তাঁদেরকে ‘আওলিয়া’ বলা হয় । আর যারা দ্বীনের প্রয়োজনে স্বীয় জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন, তাঁদেরকে বলা হয় শহীদ । আর সালেহীন হচ্ছেন-যারা ওয়াজিব, মুস্তাহাব প্রভৃতি সর্বক্ষেত্রে শরীয়তের পুরোপুরি অনুসরণ ও আমল্কারী, সাধারণ পরিভাষায় এদেরকে দ্বীনদার বলা হয় ।

সমগ্র সূরা ফাতিহার সারমর্ম হচ্ছে এ দোয়া –

“'হে আল্লাহ ! আমাদিগকে সরল পথ দান করুণ ।”

কেননা, সরল পথের সন্ধান লাভ করাই সবচাইতে বড় জ্ঞান ও সর্বাপেক্ষা বড় কামিয়াবি । বস্তত সরল পথের সন্ধানে ব্যর্থ হয়েই দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি ধ্বংস হয়েছে ।

আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা এবং তার প্রিয় বান্দাদের অনুসরণের মধ্যেই সরল পথ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা রয়েছে

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে অনুধাবনযোগ্য । আর এ ব্যাপারে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে জ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়ে যায় । তা হচ্ছে, সিরাতে-মুস্তাকীম নির্ধারন করার জন্য বস্তত সিরাতে রাসূল, সিরাতে কোরআন বলে দেওয়াই তো যথেষ্ঠ ছিল । উপরোক্ত দু’টি পথ চিহ্নিত করা যেমন সংক্ষিপ্ত ছিল, তেমনি ছিল সুস্পষ্ট । কেননা সমগ্র কোরানই তো সিরাতে মুস্তাকীমের বিস্তারিত বর্ননা । অপরদিকে রাসূল (সঃ) সমগ্র শিক্ষা হচ্ছে কোরানেরই বিস্তারিত বর্ননা । অথচ আলোচ্য এ ছোট্ট সূরাটির দু’টি আয়াতে সহজ এবং স্বচ্ছ দু’টি পন্থা বাদ দিয়ে প্রথমে ইতিবাচক এবং পরে নেতিবাচক পদ্ধতিতে সিরাতে-মুস্তাকীমকে চিহ্নিত করতে গিয়ে বলেছেন- যদি সিরাতে মুস্তাকীম চাও, তবে এ সমস্ত লোককে তালাশ করে তাঁদের পথ অবলম্বন কর । কেননা, রাসূল (সঃ) এ দুনিয়াতে চিরকাল অবস্থান করবেন না । তারপরে আর কোন নবী বা রসূলের আগমন হবে না । তাই তাঁদের মধ্যে নবীগণ ছাড়াই সিদ্দিক, শহীদান ও সালেহীনকেও অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয়েছে । কারন কিয়ামত পর্যন্ত এদের অস্তিত্ব দুনিয়াতে থাকবে ।

ফল কথা এই যে, সরল পথ অনুসন্ধানের জন্য আল্লাহ তা’আলা কিছু সংখ্যক মানুষের সন্ধান দিয়েছেন; কোন পুস্তকের হাওয়ালা দেন নি । এক হাদিসের রসুলুল্লাহ (সঃ) যখন সাহাবীগণকে জানিয়েছেন যে, আমার উম্মতও পূর্ববর্তী উম্মতগনের ন্যায় সত্তরটি দলে বিভক্ত হয়ে যাবে । তন্মধ্যে মাত্র একটি দলই পথে থাকবে । তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, সেটি কোন দল ? প্রত্যুত্তরে তিনি যা বলেছিলেন, তাতেও তিনি কিছু লোকের সন্ধান দিয়েছিলেন । এরশাদ করেছেন

“আমি এবং আমার সাহাবীগণ যে পথে রয়েছি সে পথই সত্য ও ন্যায়ের পথ ।”

বিশেষ ধরনের এ বর্ননা পদ্ধতিতে হয়তো সে দিকে ইশারা করা হয়েছে যে, মানুষের পূর্নাঙ্গ শিক্ষা-দীক্ষা কেবলমাত্র কিতাব ও বর্ননা দ্বারা সম্ভব হয় না, বরং দক্ষ ব্যক্তিগণের সাহচর্য ও সংশ্রবের মাধ্যমেই তা সম্ভব হতে পারে । বাস্তবপক্ষে মানুষের শিক্ষক এবং অভিভাবক মানুষই হতে পারে । কেবল কিতাব বা পুস্তক শিক্ষক ও অভিভাবক হতে পারে না ।

এ এমনই এক বাস্তব সত্য যে, দুনিয়ার যাবতীয় কাজকর্মেও এর নিদর্শন বিদ্যমান । শুধু পঁথিগত বিদ্যার দ্বারা কেউ না পারে কাপড় সেলাই করতে, না পারে আহার করতে । শুধু ডাক্তারি পুঁথিপত্র পাঠ করে কেউ ডাক্তার হতে পারে না । ইঞ্জিনিয়ারিং বইপত্র পাঠ করে কেউ ইঞ্জিনিয়ারও হতে পারে না । অনুরূপভাবে শুধু কোরআন-হাদিস পাঠ করাই কোন মানুষের পরিপূর্ন তা’লিম ও তরবিয়তের জন্য যথার্থ হতে পারে না । যে পর্যন্ত কোন বিজ্ঞ লোকের নিকট বাস্তবভাবে শিক্ষা গ্রহণ না করে, সে পর্যন্ত দ্বীনের তা’লীম অসম্পূর্ন থেকে যায় । কোরআন ও হাদিসের ব্যাপারে অনেকেই এ ভুল ধারনা পোষণ করে যে, কোরআনের অর্থ ও তফসির পাঠ করে কোরআন ও হাদিস সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হওয়া যায় । এটা সম্পূর্ন প্রকৃতি বিরুদ্ধ ধারনা । কেননা, যদি যদি কিতাব এ ব্যাপারে যথেষ্ট হতো তবে তবে নবী ও রাসূল প্রেরণের প্রয়োজন হত না ।কিতাবের সাথে রাসূলকে শিক্ষকরূপে পাঠানো হয়েছে ।

আর সরল পথ নির্ধারনের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক স্বীয় মকবুল বান্দাদের তালিকা প্রদানও এর প্রমাণ যে, শুধুমাত্র কিতাবের পাঠই পূর্ন তা’লীম ও তরবিয়তের জন্য যথেষ্ট নয় । বরং কোন কোণ বিজ্ঞ লোকের নিকট এর শিক্ষালাভ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে ।

বোঝা গেল, মানুষের প্রকৃত মুক্তি এবং কল্যাণপ্রাপ্তির জন্য দু’টি উপাদানের প্রয়োজন । প্রথম, আল্লাহর কিতাব- যাতে মানবজীবনের সকল দিকের পথ নির্দেশ রয়েছে এবং অপরটি হচ্ছে আল্লাহর প্রিয় বান্দা বা আল্লাহ ওয়ালাগণ । তাঁদের কাছ থেকে ফায়দা হাসিল করার মাপকাঠি হচ্ছে এই যে, আল্লাহর কিতাবের নিরিখে তাঁদেরকে পরীক্ষা করতে হবে । এপরীক্ষায় যারা টিকবে না তারা আল্লাহর প্রিয়পাত্র নয় বলেই যারা সঠিক অর্থে আল্লাহর প্রিয়পাত্র স্থির হয়, তাঁদের নিকট আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা লাভ করে তৎপ্রতি আমল করতে হবে ।

মতানৈক্যের কারন

একশ্রেণীর লোক শুধু আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ্‌র প্রিয়পাত্রগণ থেকে দূরে সরে গিয়েছে; তাঁদের তফসির ও শিক্ষাকে কোন গুরুত্বই দেয়নি । আবার কিছু লোক আল্লাহর প্রিয়পাত্রগণকেই সত্যের মাপকাঠি স্থির করে আল্লাহর কিতাব থেকে দূরে সরে পড়েছে । বলা বাহুল্য, এই দুই পথের পরিণতিই গোমরাহী । [1]

তথ্যসূত্র

  1. তাফসীরে মা'আরেফুল কোরআন