সূরা বাকারা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
আয়াত সংখ্যাঃ
২৮৬
সূরা বাকারা অবতীর্ণঃ
মদীনায়
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
নং নাম
সূরা ফাতিহা
সূরা বাকারা
সূরা আল ইমরান
আন্ নিসা
আল মায়েদাহ
আল আন'আম
আল আরাফ
আল আনফাল
আত তওবা
১০ ইউনুস
১১ হুদ
১২ ইউসুফ
১৩ আর্ রাদ
১৪ ইবরাহীম
১৫ আল হিজর
১৬ আন্ নাহল
১৭ বনী ইসরাঈল
১৮ আল কাহফ
১৯ মারয়াম
২০ ত্বাহা
২১ আল আম্বিয়া
২২ আল হাজ্জ
২৩ আল মুমিনূন
২৪ আন্ নূর
২৫ আল-ফুরকান
২৬ আশ্-শু’আরা
২৭ আন নামল
২৮ আল কাসাস
২৯ আল আনকাবূত
৩০ আর রূম
৩১ লুকমান
৩২ আস সাজদাহ
৩৩ আল আহযাব
৩৪ আস সাবা
৩৫ ফাতের
৩৬ ইয়া-সীন
৩৭ আস্ সা-ফফা-ত
৩৮ সা-দ
৩৯ আয যুমার
৪০ আল মুমিন
৪১ হা-মীম আস সাজদাহ
৪২ আশ শূরা
৪৩ আয্ যুখরুফ
৪৪ আদ দুখান
৪৫ আল জাসিয়াহ
৪৬ আল আহক্বাফ
৪৭ মুহাম্মদ
৪৮ আল ফাতহ
৪৯ আল হুজুরাত
৫০ ক্বাফ
৫১ আয যারিয়াত
৫২ আত তূর
৫৩ আন নাজম
৫৪ আল ক্বামার
৫৫ আর রহমান
৫৬ আল ওয়াকি’আ
৫৭ আল হাদীদ
৫৮ আল মুজাদালাহ
৫৯ আল হাশর
৬০ আল মুমতাহিনা
৬১ আস সফ
৬২ আল জুমআ
৬৩ আল মুনাফিকুন
৬৪ আত তাগাবুন
৬৫ আত তালাক
৬৬ আত তাহরীম
৬৭ আল মুলক
৬৮ আল কলম
৬৯ আল হাককাহ
৭০ আল মাআরিজ
৭১ নূহ
৭২ আল জিন
৭৩ আল মুযযাম্মিল
৭৪ আল মুদ্দাস্সির
৭৫ আল কিয়ামাহ
৭৬ আদ্ দাহর
৭৭ আল মুরসালাত
৭৮ আন নাবা
৭৯ আন নাযি’আত
৮০ আবাসা
৮১ আত তাকবীর
৮২ আল ইনফিতার
৮৩ আল মুতাফফিফীন
৮৪ আল ইনশিকাক
৮৫ আল বুরূজ
৮৬ আত তারিক
৮৭ আল আ’লা
৮৮ আল গাশিয়াহ
৮৯ আল ফজর
৯০ আল বালাদ
৯১ আশ শামস
৯২ আল লাইল
৯৩ আদ দুহা
৯৪ আলাম নাশরাহ
৯৫ আত তীন
৯৬ আল আলাক
৯৭ আল কাদ্‌র
৯৮ আল বাইয়েনাহ
৯৯ আল যিলযাল
১০০ আল আদিয়াত
১০১ আল কারি’আহ
১০২ আত তাকাসুর
১০৩ আল আসর
১০৪ আল হুমাযা
১০৫ আল ফীল
১০৬ কুরাইশ
১০৭ আল মাউন
১০৮ আল কাউসার
১০৯ আল কাফিরূন
১১০ আন নসর
১১১ আল লাহাব
১১২ আল ইখলাস
১১৩ আল ফালাক
১১৪ আন নাস
আলিফ-লাম-মীম
সে-ই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কিতাব (ক্বোরআন) কোন সন্দেহের ক্ষেত্র নয়। তাতে হিদায়ত রয়েছে খোদাভীতিসম্পন্নদের জন্য ;
তারাই, যারা না দেখে ঈমান আনে নামায কায়েম রাখে এবং আমার দেয় জীবিকা থেকে আমার পথে ব্যয় করে
এবং তারাই, যারা ঈমান আনে এর উপর যা, হে মাহবুব! আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে আর পরলোকের উপর নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে।
সে সব লোক তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে হিদায়তের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং তারাই লক্ষ্যস্থলে পৌঁছবে।
নিশ্চয় তারা, তাদের অদৃষ্টে কুফর রয়েছে তাদের জন্য সমান – চাই আপনি তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করুন কিংবা না-ই করুন। তারা ঈমান আনার নয়।
আল্লাহ তাদের অন্তরগুলোর উপর এবং কানগুলোর উপর মোহর ছেপে দিয়েছেন। আর তাদের চোখের উপর কালো-ঠুলী (আবরণ) রয়েছে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।
এবং কিছু লোক বলে , ‘আমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান এনেছি’ এবং (আসলে) তারা ঈমানদার নয়।
ধোকা দিতে চায় আল্লাহ তা’আলা ও ঈমানদেরকে এবং প্রকৃতপক্ষে, তারা ধোকা দিচ্ছে না, কিন্তু নিজেদের আত্মাকেই এবং তাদের অনুভূতি নেই।
১০ তাদের অন্তরগুলোতেই ব্যাধি রয়েছে , অত:পর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বৃদ্ধি করে দিয়েছেন এবং তাদের জন্য অবধারিত রয়েছেকষ্টদায়ক শাস্তি, তাদের মিথ্যার পরিণামে।
১১ তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘পৃথিবীতে বিবাদ সৃষ্টি করোনা’ তখন তারা বলে, ‘আমরাই তো সংশোধনবাদী’
১২ শুনছো! তারাই বিবাদ সৃষ্টিকারী; কিন্তু তাদের সে অনুভূতি নেই।
১৩ এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘ঈমান আনো যেমন অপরাপর লোকেরা ঈমান এনেছে’ তখন তারা বলে, ‘ নির্বোধদের মতো কি আমরাও বিশ্বাস (ঈমান) স্থাপন করবো?’ শুনছো! তারাই হলো নির্বোধ; কিন্তু তারা তা জানে না।
১৪ এবং যখন ঈমানদারদের সাথে সাক্ষাৎ করে তখন বলে, ‘আমরা ঈনান এনেছি ।’ আর যখন নিভৃতে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, ‘আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি। আমরা তো এমনিতে তাদের সাথে ঠাট্টা-তামাশা করে থাকি ।’
১৫ আল্লাহ তাদের সাথে ঠাট্টা করেন ( যেমনি তাঁর জন্য শোভা পায়) এবং তাদেরকে অবকাশ দেন, যেন তারা তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকে ।
১৬ তারা এমন সব লোক, যারা হিদায়তের বিনিময়ে গোমরাহী ক্রয় করেছে । সুতরাং তাদের এ ব্যবসা কোন লাভ আনয়ন করেনি এবং তারা ব্যবসার (লাভজনক) পন্থা জানতোইনা ।
১৭ তাদের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে আগুন প্রজ্জ্বলিত করেছে; অত:পর যখন তা দ্বারা আশেপাশে সবকিছু আলোকিত হয়ে উঠলো, তখন আল্লাহ তাদের জ্যোতি অপসারণ করে নিলেন এবং তাদেরকে (এমনভাবে) অন্ধকাররাশিতে ছেড়ে দিলেন যে, তারা কিছুই দেখতে পায় না ।
১৮ বধির, বোবা ও অন্ধ । সুতরাং তারা ফিরে আসার নয় ।
১৯ কিংবা যেমন, আসমান থেকে বর্ষণরত বৃষ্টি, যাতে রয়েছে অন্ধকাররাশি, বজ্র ও বিদ্যুৎ-চমক; (তারা) নিজেদের কানে আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছে বজ্র-ধ্বনির কারনে, মৃত্যুর ভয়ে; এবং আল্লাহ কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করেই রয়েছেন ।
২০ বিদ্যুৎ-চমক এমনি মনে হয় যেন তাদের দৃষ্টি-শক্তি কেড়ে নিয়ে যাবে । যখনই সামান্য বিদ্যুতালোক (তাদের সম্মুখে) উদ্ভাসিত হলো তখন তাতে চলতে লাগলো এবং যখন অন্ধকারচ্ছন্ন হলো তখন তারা দাঁড়িয়ে রইলো । আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের কান ও চোখ নিয়ে যেতেন । নিঃসন্দেহে, আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন ।
২১ হে মানবকুল! (তোমরা) স্বীয় প্রতিপালকের ইবাদত করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন; এ আশা করে যে, তোমাদের পরহেযগারী অর্জিত হবে ।
২২ এবং যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে বিছানা এবং আসমানকে ইমারত করেছেন এবং আসমান থেকে পানি বর্ষন করেছেন । অতঃপর তা দ্বারা কিছু ফল সৃষ্টি (উৎপন্ন ) করেন তোমাদের আহারের জন্য । সুতরাং জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ দাঁড় করাবেনা ।
২৩ এবং যদি তোমাদের কোন সন্দেহ হয় তাতে, যা আমি স্বীয় ( এ খাস ) বান্দার উপর নাযিল করেছি, তবে এর অনুরুপ একটা সূরা তো নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ব্যতীত নিজেদের সকল সহায়তাকারীকে আহ্বান করো (সাহায্যের জন্য ) , যদি তোমরা সত্যবাদী হও !
২৪ অতঃপর যদি আনয়ন করতে না পারো, আর আমি চ্যালেন্জ করছি যে, কখনো আনতে পারবে না, তবে ভয় করো ঐ আগুনকে, যার ইন্ধন হচ্ছে মানুষ ও পাথর, ( যা ) তৈরী রাখা হয়েছে কাফিরদের জন্য ।
২৫ এবং সুসংবাদ দিন তাদেরকে, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে যে, তাদের জন্য বাগান (জান্নাত) রয়েছে, যার নিম্নদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান । যখন তাদেরকে ঐ বাগানগুলো থেকে কোন ফল খেতে দেয়া হবে তখনই তারা ( সেটার বাহ্যিক আকার দেখে বলবে, ‘ এতো সে-ই রিযক্ব, যা আমরা পূর্বে পেয়েছিলাম; এবং সে-ই ফল, যা ( বাহ্যিক আকৃতিগতভাবে ) পরষ্পর সাদৃশ্যময়, তাদেরকে দেয়া হবে এবং তাদের জন্য সে-ই বাগানগুলোতে ( জান্নাতসমূহ ) পবিত্র স্ত্রীগণ রয়েছে এবং তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে ।
২৬ নিশ্চয় আল্লাহ যে কোন জিনিষের দৃষ্ঠান্ত বর্ণনা করতে লজ্জাবোধ করেন না-মশা হোক কিংবা তদপেক্ষা বড় কিছু হোক। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে তারা তো জানে যে, এটা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে, সত্য । বাকী রইলো কাফিরগণ, তারা বলে, ’ এ ধরণের উপমায় আল্লাহর উদ্দেশ্য কি?’ আল্লাহ তা দ্বারা অনেককে গোমরাহ করেন এবং অনেককে হিদায়ত করেন, এবং তা দ্বারা তাদেরকেই পথভ্রষ্ট করেন, যারা অবাধ্য
২৭ তারাই, যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পাকাপোক্ত হবার পর এবং ছিন্ন করে ঐ সম্পর্ককে, যা জুড়ে রাখার জন্য খোদা তা’আলা নির্দেশ দিয়েছেন এবং যমীনকে ফ্যাসাদ ছড়িয়ে বেড়ায়; তারা ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ।
২৮ আশ্চর্য ! তোমরা কিরুপে আল্লাহকে অস্বীকারকারী হবে ? অথচ তোমরা মৃত ছিলে, তিনি তোমাদেরকে জীবিত করেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, পুনরায় তোমাদেরকে জীবিত করবেন; আবার তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করবে ।
২৯ তিনিই, যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন যা কিছু পৃথিবীতে রয়েছে; অতঃপর তিনি আসমানের দিকে ইসতাওয়া (ইচ্ছা ) করলেন; তখন ঠিক আসমান সৃষ্টি করলেন, তখন ঠিক সপ্ত- আসমান সৃষ্টি করলেন এবং তিনি সবকিছু জানেন ।
৩০ এবং ( স্মরণ করুন! ) যখন আপনার প্রতিপালক ফিরিশতাদেরকে বলেছিলেন, আমি পৃথিবীতে আপন প্রতিনিধি সৃষ্টিকারী ।’ ( তারা ) বললো, ’আপনি কি এমন কোন সৃষ্টিকে (প্রতিনিধি ) করবেন, যে তাতে ফ্যাসাদ ছড়াবে ও তাতে রক্তপাত ঘটাবে ? আর আমরা আপনার প্রশংসা পূর্বক আপনার ‘তসবীহ’ (স্তুতিগান) করি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি ।’ তিনি বললেন, আমার জানা আছে যা তোমরা জান না ।
৩১ এবং আল্লাহ তা’আলা আদমকে যাবতীয় (বস্তুর ) নাম শিক্ষা দিলেন অতঃপর সমুদয় ( বস্তু ) ফিরিশতাদের সামনে উপস্থাপন করে এরশাদ করলেন, ‘সত্যবাদী হলে এসব বস্তুর নাম বলো তো ।
৩২ ( তারা ) বললো, পবিত্রতা আপনারই, আমাদের কোন জ্ঞান নেই, কিন্তু ( ততটুকুই) যতটুকু আপনি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন । নিশ্চয়ই আপনিই জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময় ।’
৩৩ তিনি এরশাদ করলেন, ’হে আদম ! বলে দাও তাদেরকে সমুদয় ( বস্তুর ) নাম ।’ যখন তিনি (অর্থাৎ আদম ) তাদেরকে সমুদয় বস্তুর নাম বলে দিলেন এরশাদ করলেন, ‘আমি কি ( একথা ) বলছিলাম না যে, আমি জানি আসমানসমূহ এবং যমীনের সমস্ত গোপন ( অদৃশ্য ) বস্তু সম্পর্কে এবং আমি জানি যা কিছু তোমরা প্রকাশ করছো এবং যা কিছু তোমরা গোপন করছো ?
৩৪ এবং (স্মরণ করুন ! ) যখন আমি ফিরিশতাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলাম, ‘তোমরা আদমকে সাজদা করো ।’ তখন সবাই সাজদা করো ।’ তখন সবাই সাজদা করেছিলো, ইবলীস ব্যতীত; সে অমান্যকারী হলো ও অহংকার করলো এবং কাফির হয়ে গেলো ।
৩৫ এবং আমি এরশাদ করলাম, হে আদম ! তুমি ও তোমার স্ত্রী এই জান্নাতে অবস্থান করো এবং খাও এখানে কোন বাধা-বিঘ্ন ব্যাতিরেকেই, যেখানে তোমাদের মন চায়; কিন্তু এই গাছের নিকটে যেওনা ! গেলে, ( তোমরা ) সীমা অতিক্রমকারীদের অন্তুর্ভূক্ত হয়ে যাবে ।’
৩৬ অতঃপর শয়তান জান্নাত থেকে তাদের পদস্খলন ঘটালো এবং যেখানে ছিলো সেখান থেকে তাঁদেরকে আলাদা করে দিলো । আর আমি এরশাদ করলাম, ‘(তোমরা ) নীচে নেমে যাও ! তোমরা পরষ্পর পরষ্পরের শত্রু; এবং তোমাদেরকে একটা ( নির্দ্ধারিত ) সময়সীমা পর্যন্ত পৃথিবীতে অবস্থান ও জীবিকা অবলম্বন করতে হবে ।’
৩৭ অতঃপর শিখে নিলেন আদম আপন প্রতিপালকের নিকট থেকে কিছু কলেমা ( বাণী ) । তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর তওবা কবুল করলেন । নিশ্চয় তিনিই অত্যন্ত তাওবা কবুলকারী , দয়ালু ।
৩৮ আমি এরশাদ করলাম, ‘তোমরা সবাই জান্নাত থেকে নেমে যাও! অতঃপর পরে যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হিদায়ত আসে, তবে যে ব্যক্তি আমার সেই হিদায়তের অনুসারী হবে, তার জন্য না কোন ভয়, ( এবং ) না কোন দুঃখ থাকবে
৩৯ আর সে সব লোক, যারা কুফর করবে এবং আমার নির্দশনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তারা হলো দোযখবাসী, তাদেরকে সেখানে সর্বদা থাকতে হবে ।
৪০ হে য়া’কুবের বংশধরগণ! ( তোমরা ) স্মরণ করো আমার ঐ অনুগ্রহকে, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং আমার অঙ্গীকার পূরণ করো । আমি ও তোমাদের অঙ্গীকার পূরণ করবো এবং বিশেষ করে, আমারই ভয় ( অন্তরে ) রাখো ।
৪১ এবং ( তোমরা ) ঈমান আনো সেটার উপর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সেটারই সমর্থকরুপে যা তোমাদের সাথে আছে এবং সর্বপ্রথম সেটার অস্বীকারকারী হয়ো না। আর আমার আয়াতগুলোর বিনিময়ে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না এবং শুধু আমাকেই ভয় করো ।
৪২ এবং সত্যের সাথে বাতিলকে মিশ্রিত করো না ও দেখে-জেনে সত্যকে গোপন করো না ।
৪৩ এবং নামায কায়েম রাখো ও যাকাত দাও এবং যারা রুকু’ করে তাদের সাথে রুকু’ করো ।
৪৪ তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দিচ্ছো এবং নিজেদের আত্মাগুলোকে ভুলে বসছো ? অথচ তোমরা কিতাব পড়ছো । তবু ও কি তোমাদের বিবেক নেই ?
৪৫ এবং ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো । এবং নিশ্চয় নামায অবশ্যই ভারী, কিন্তু তাদের জন্য ( নয় ), যারা আন্তরিকভাবে আমার প্রতি বিনীত হয়;
৪৬ যাদের অন্তরে এ দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, তাদেরকে আপন প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাত করতে হবে এবং তাঁরই দিকে যেতে হবে ।
৪৭ হে য়া’কূবের বংশধরগণ! স্মরণ করো, আমার সেই অনুগ্রহকে যা আমি তোমাদের উপর করেছি । আর এ কথাও যে, আমি এ সমগ্র যুগের উপর তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি ।
৪৮ এবং ভয় করো ঐ দিনকে, যেদিন কোন আত্মা অন্য কারো বিনিময় হতে পারবে না এবং না ( কাফিরদের পক্ষে ) কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে এবং না কোন কিছু নিয়ে (তার ) আত্মাকে মুক্তি দেয়া হবে এবং না তারা কোন প্রকার সাহায্য পাবে ।
৪৯ এবং (স্মরণ করো )! যখন আমি তোমাদেরকে ফিরআউনি সম্প্রদায় থেকে নিষ্কৃতি দান করেছি, যারা তোমাদেরকে মর্মান্তিক যন্ত্রণা দিতো; তোমাদের পুত্রদেরকে যবেহ করতো আর তোমাদের কন্যাদেরকে জীবিত রাখতো; এবং এর মধ্যে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক মহা ‘বালা’ ছিলো ( অথবা মহা পুরষ্কার )
৫০ এবং যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিধা-বিভক্ত (ফাঁক ) করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে রক্ষা করেছি । আর ফিরআউনি সম্প্রদায়কে তোমাদের চোখের সামনে ডুবিয়ে দিয়েছি ।
৫১ এবং যখন আমি মুসাকে চল্লিশ রাতের ওয়াদা দিয়েছিলাম। অতঃপর তার পশ্চাতে (প্রস্থানের পর) তোমরা গো-বৎসের পূজা আরম্ভ করে দিয়েছিলে এবং তোমরা অত্যাচারী ছিলে।
৫২ অতঃপর, এর (এ ঘটনা) পর আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার করো।
৫৩ এবং যখন আমি মুসাকে কিতাব দান করেছি আর হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী, যাতে তোমরা সঠিক পথে এসে যাও।
৫৪ এবং যখন মুসা স্বীয় সম্প্রদায়ের লোকদের বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা গো-বাছুর তৈরি করে নিজেদের আত্মার উপর অবিচার করেছো। সুতরাং তোমরা আপন সৃষ্টিকর্তার দিকে ফিরে এসো। অতঃপর তোমরা একে অপরকে হত্যা করো। এটাই তোমাদের স্রষ্টার নিকট তোমাদের জন্য শ্রেয়।’ অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনিই হলেন অত্যন্ত তাওবা কবুলকারী, দয়ালু।
৫৫ এবং যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মুসা! আমরা কখনো আপনার কথায় বিশ্বাস করবো না যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যভাবে দেখবো না;’ তখন তোমাদেরকে বজ্রাঘাত পেয়ে বসেছিলো আর তোমরা দেখতে পাচ্ছিলে।
৫৬ অতঃপর তোমাদেরকে মৃত্যুর পর আমি পুনর্জীবিত করেছি, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার করো।
৫৭ এবং আমি তোমাদের উপর মেঘকে ছায়া দানকারী করেছি এবং তোমাদের প্রতি ‘মান্ন্’ ও ‘সালওয়া’ অবতারণ করেছি। খাও, আমার প্রদত্ত পবিত্র (হালাল) বস্তুগুলো। এবং তারা আমার কোন ক্ষতি করেনি; হাঁ, তবে তারা নিজেদের আত্মারই ক্ষতি সাধন করছিলো।
৫৮ এবং যখন আমি বললাম, ‘এ লোকালয়ে প্রবেশ করো। অতঃপর তাতে যেখানে ইচ্ছা কোন প্রকার বাধা-বিপত্তি ছাড়াই আহার করো এবং ‘দরজা’ দিয়ে সাজদারত অবস্থায় প্রবেশ করো আর বলো ‘আমাদের গুনাহর ক্ষমা হোক!’ আমি (আল্লাহ্) তোমাদের অপরাধগুলো ক্ষমা করবো এবং অনতিবিলম্বে আমি নেককার লোকদের প্রতি (আমার) দান আরো বৃদ্ধি করবো।’
৫৯ অতঃপর যালিমগণ অন্য বাক্য বদলে দিলো, যা তাদেরকে বলা হয়েছিলো তা ব্যতীত; অতঃপর আমি আসমান থেকে তাদের উপর আযাব নাযিল করেছি প্রতিফল স্বরুপ তাদের আদেশ অমান্য করার।
৬০ এবং যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করলো তখন আমি বললাম, ‘এ পাথরের উপর তোমার লাঠি দ্বারা আঘাত করো।’ তৎক্ষণাৎ এর ভিতর থেকে বারটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ ঘাট (পান-স্থান) চিনে নিলো। (তোমরা) খাও এবং পান করো খোদা প্রদত্ত রিযক্ব এবং পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না।
৬১ এবং যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মুসা! একই (ধরনের) খাদ্যের উপর তো আমাদের কখনো ধৈর্য্য হবেনা। সুতরাং আপনি স্বীয় প্রতিপালকের নিকট দো’আ করুন যেন (তিনি) জমির উৎপন্ন দ্রব্য আমাদের জন্য উৎপাদন করেন-কিছু শাক-সব্জী, কাঁকুড়, গম, মসুর এবং পেঁয়াজ।’ (তিনি) বললেন, ‘(তোমরা) কি নিকৃষ্টতর বস্তুকে উৎকৃষ্টতর বস্তুর পরিবর্তে চাও? আচ্ছা! মিশর অথবা কোন এক শহরে অবতরণ করো! সেখানে তোমরা পাবে যা তোমরা চেয়েছো।’ এবং তাদের উপর অবধারিত করে দেয়া হল লাঞ্ছনা ও দারিদ্র এবং (তারা) আল্লাহর ক্রোধের প্রতি ধাবিত হল। এটা পরিণতি ছিলো এ কথারই যে, তারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করতো এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে শহীদ করতো; এটা পরিণতি ছিল তাদের অবাধ্যতাসমূহ ও সীমা লংঘন করার।
৬২ নিশ্চয় ঈমানদারগণ, (অনুরুপভাবে,) ইহুদী, খ্রিষ্টান ও তারকা-পূজারীদের মধ্যে যারা সত্য অন্তরে আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান এনেছে আর সৎকাজ করে, তাদের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে এবং তাদের জন্য না কোন ভয়-ভীতি আছে, না কোন প্রকার দুঃখ।
৬৩ এবং যখন আমি তোমাদের থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তোমাদের (মাথার) উপর ‘তুর’ (পাহাড়) উত্তোলন করেছিলাম; ‘গ্রহণ করো নাও যা কিছু আমি তোমাদেরকে প্রদান করেছি, শক্তভাবে এবং এর সারমর্মগুলো স্মরণ করো, এ আশায় যে, তোমাদের পরহাযগারী (খোদাভীতি) অর্জিত হবে!’
৬৪ অতঃপর এর পরে তোমরা ফিরে গেছো। তারপর যদি আল্লাহর কৃপা এবং তাঁর রহমত তোমাদের উপর না হতো, তবে তোমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে।
৬৫ এবং নিশ্চয় নিশ্চয় তোমাদের জানা আছে-তোমাদের মধ্যকার তারাই, যারা শনিবারে সীমা লংঘন করেছে। অতঃপর আমি তাদের উদ্দেশ্যে বললাম, ‘(তোমরা) হয়ে যাও ধিকৃত বানর!’
৬৬ অতঃপর আমি (ঐ বস্তির) এ ঘটনাকে এর পূর্ব এবং পরবর্তীদের জন্য (শিক্ষণীয়) দৃষ্টান্ত করেছি এবং পরহেযগারদের জন্য উপদেশ করেছি।
৬৭ এবং যখন মূসা আপন সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, ‘খোদা তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন-তোমরা একটা গরু যবেহ করো।’ (তারা) বললো, আপনি কি আমাদেরকে ঠাট্টার পাত্র বানাচ্ছেন?’ তিনি (হযরত মূসা) বললেন, ‘আল্লাহর শরণ (এ থেকে) যে, আমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হই!’
৬৮ (তারা) বললো, ‘আপন প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাদেরকে বলে দেন-গরুটা কেমন!’ তিনি (হযরত মূসা) বললেন, ‘তিনি (আল্লাহ) এরশাদ করেছেন-সেটা এমন এক গাভী, যা না বৃদ্ধ, না অল্প বয়স্কা; বরং উভয়ের মাঝামাঝি (বয়সের)। সুতরাং পালন করো, তোমাদের প্রতি যা করার নির্দেশ হচ্ছে।’
৬৯ (তারা) বললো, আপনি আপন প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করুন যেন (তিনি) আমাদেরকে বলে দেন-এর রং কিরুপ হবে।’ (হযরত মূসা) বললেন, ‘তিনি (আল্লাহপাক) এরশাদ করছেন- ‘তা একটা হলুদ বর্ণের গাভী, যার রং হবে গাঢ় উজ্জ্বল (চমকিত), (যা) দর্শকদেরকে আনন্দ দেয়।’
৭০ (তারা) বললো, ‘আপন প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সেই গাভীটা কেমন! নিশ্চয় গাভীগুলো সম্পর্কে আমাদের সন্দেহ হয়ে গেছে এবং আল্লাহ যদি চান, তবে আমরা দিশা পেয়ে যাবো।’
৭১ (হযরত মূসা) বললেন, ‘তিনি (আল্লাহ) এরশাদ করছেন, তা এমন একটা গাভী, যা দ্বারা কোন খিদমত লওয়া হয় না, না জমি কর্ষণে ব্যবহৃত হয়, না ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়, নিখুঁত-যাতে কোন প্রকার দাগ নেই।’ (তারা) বললো, ‘এখনই আপনি সঠিক বর্ণনা এনেছেন।’ অতঃপর তারা তা যবেহ করেছিলো এবং তারা যে যবেহ করবে তা বুঝা যাচ্ছিলোনা।
৭২ এবং যখন তোমরা একটা খুন সংঘটিত করেছিলে, তখন একে অন্যের প্রতি এর অপবাদ চাপিয়ে দিচ্ছিলে এবং আল্লাহর প্রকাশ করে দেয়ার ছিলো যা তোমরা গোপন করছিলে।
৭৩ অতঃপর আমি বললাম, ‘এ নিহত ব্যক্তির গায়ে সে গাভীর একটা টুকরো নিক্ষেপ করো।’ আল্লাহ এভাবেই মৃতকে জীবিত করবেন এবং তোমাদেরকে আপন (কুদরতের) নিদর্শনসমূহ দেখাচ্ছেন, যাতে তোমরা উপলব্ধি করতে পারো।
৭৪ অতঃপর, এরপর তোমাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেলো। তখন তা পাথরসমূহের ন্যায় হয়; বরং তদপেক্ষাও কঠিনতর এবং পাথরগুলোর মধ্যে তো কিছু এমনও আছে, যেগুলো থেকে নদীসমূহ প্রবাহিত হয় এবং কতেক এমনও রয়েছে, যেগুলো ফেটে যায়-তখন সেগুলো থেকে পানি নির্গত হয়; এবং কতেক এমনও আছে, যেগুলো আল্লাহর ভয়ে গড়িয়ে পড়ে। এবং আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্মগুলো সম্পর্কে অনবহিত নন।
৭৫ অতঃপর, হে মুসলমানগণ! তোমরা কি এ আশা পোষণ করো যে, এরা (ইহুদিগণ) তোমাদেরকে বিশ্বাস করবে? আর তাদের মধ্যকার একদল তো এমনই ছিলো যে, তারা আল্লাহর কালাম (বাণী) শ্রবণ করতো অতঃপর বুঝার পর সেটাকে জেনে শুনে বিকৃত করতো।
৭৬ এবং যখন মুসলমানদের সাথে মিলতো তখন বলতো, ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ আর যখন পরস্পর আলাদাভাবে মিলিত হয় তখন বলে, ‘সেই জ্ঞান, যা আল্লাহ পাক তোমাদের উপর খুলে দিয়েছেন তা কি মুসলমানদেরকে বলে দিচ্ছো? এতে করে (তারা) তোমাদের প্রতিপালকের দরবারে তোমাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করবে। তোমাদের কি বুঝ-শক্তি নেই।’
৭৭ তারা কি জানেনা যে, আল্লাহ জানেন যা কিছু তারা গোপন করে এবং যা কিছু তারা প্রকাশ(ঘোষণা) করে?
৭৮ এবং তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক রয়েছে, যারা কিতাব সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেনা, কিন্তু মৌখিকভাবে পড়তে জানে মাত্র কিংবা নিজেদের কিছু মনগড়া কথাবার্তা; আর তারা নিরেট কল্পনার মধ্যে রয়েছে।
৭৯ সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্যই যারা কিতাব নিজেদের হাতে রচনা করে, অতঃপর বলে বেড়ায়, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই;’ এ উদ্দেশ্যেই যে এর পরিবর্তে তারা স্বল্প মূল্যই অর্জন করবে। সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্যই, তাদের আপন হাতে কিতাব রচনার কারণে। আর দুর্ভোগ তাদের জন্যই, তাদের এ (অন্যায়) উপার্জনের দরুন।
৮০ এবং তারা (ইহুদিগণ) বললো, ‘আমাদেরকে তো আগুন স্পর্শ করবে না, কিন্তু মাত্র দিন কতেক’। (হে হাবীব!) আপনি বলে দিন, ‘তোমরা কি খোদার নিকট থেকে কোন অঙ্গীকার নিয়েছো? তবে তো আল্লাহ তা’আলা সে অঙ্গীকার কখনো ভঙ্গ করবেন না।, কিংবা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু উক্তি করে থাকো যা সম্পর্কে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই!’
৮১ হাঁ, কেন এমন হবেনা? যার পাপার্জন করেছে এবং তাদের পাপরাশি তাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছে-তারা দোযখবাসীদের অন্তর্ভুক্ত; স্থায়ীভাবে তাতেই থাকতে হবে।
৮২ যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতবাসী। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে।
৮৩ এবং যখন আমি বনী ইস্রাঈল থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম, ‘(তোমরা) আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। আর আত্মীয়-স্বজনের সাথে, এতীম ও মিসকীনদের সাথে এবং মানুষের সাথে সদালাপ করো, নামায কায়েম রাখো ও যাকাত প্রদান করো।’ অতঃপর তোমরা ফিরে গিয়েছিলে, কিন্তু তোমাদের মধ্যে থেকে অল্প সংখ্যক লোক; এবং তোমরা বিমুখ।
৮৪ এবং যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম (এ মর্মে) যে, আপন লোকদেরকে খুন করবেনা এবং আপন লোকদের বস্তিগুলো থেকে তাড়িয়ে দিবেনা। অতঃপর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে এবং তোমরা হলে সাক্ষী।
৮৫ অতঃপর, এই যে তোমরা! আপন লোকদেরকে হত্যা আরম্ভ করেছো এবং আপন লোকদের মধ্য থেকে একটা দলকে তাদের মাতৃভূমি থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছো, তাদের বিরুদ্ধে (তাদেরেই বিরুদ্ধ-পক্ষীয়দেরকে) সাহায্য করছো গুনাহ ও সীমা লংঘনে। আর যদি তারা বন্দী হয়ে তোমাদের নিকট আসে, তবে তোমরা বিনিময় (মুক্তিপণ) দিয়ে (তাদেরকে) মুক্ত করে নিয়ে থাকো এবং তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া তোমাদের উপর হারাম। তেবে কি খোদার কিছু সংখ্যক নির্দেশের উপর ঈমান আনছো এবং কিছু সংখ্যক নির্দেশেকে অস্বীকার করছো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এরুপ করে তার প্রতিফল কি? কিন্তু দুনিয়াতে অপমানিত হওয়াই এবং কিয়ামতে কঠিনতম শাস্তির দিকে ধাবিত করা হবে; এবং আল্লাহ তোমাদের কার্যাদি সম্পর্কে অনবহিত নন।
৮৬ এরাই হচ্ছে ঐসব লোক যারা পরকালের পরিবর্তে পার্থিব জীবন খরিদ করেছে। সুতরাং তাদের উপর থেকে না শাস্তি হ্রাস করা হবে এবং না তাদের সাহায্য করা হবে।
৮৭ এবং নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দান করেছি এবং তারপর একের পর এক রাসূল প্রেরণ করেছি এবং আমি (হযরত) মারয়ামের পুত্র (হযরত) ঈসাকে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ দান করেছি এবং পবিত্র ‘রুহ’ দ্বারা তাকে সাহায্য করেছি। তবে কি যখন কোন রসূল তোমাদের নিকট এমন কিছু নিয়ে আসেন, যা তোমাদের মন চায়না (মনঃপূত হয়না), (তখনই তোমরা) অহংকার করো? অতঃপর সেসব (নবীগণ)-এর মধ্যে থেকে একদলকে তোমরা অস্বীকার করছো এবং একদলকে শহীদ করছো?
৮৮ এবং ইহুদীগণ বললো, ‘আমাদের হৃদয়গুলোর উপর পর্দা (আচ্ছাদন) পড়েছে’; বরং আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর লা’নত (অভিশাপ) করেছেন তাদের কুফরের কারণে। সুতরাং তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই ঈমান আনে।
৮৯ এবং যখন তাঁদের নিকট আল্লাহ তায়ালার সেই কিতাব (কোরআন মজীদ) এসেছে, যা তাঁদের সাথে রয়েছে এমন কিতাব (তাওরীত)-এর সত্যায়ন করে এবং এর পূর্বে তারা সেই নবীর ‘ওসীলা’ ধরে কাফিরদের উপর বিজয় প্রার্থনা করতো; অতঃপর যখন তাশরীফ এনেছেন তাঁদের নিকট সেই পরিচিত সত্তা, তখন তাঁকে অস্বীকারকারী হয়ে বসেছে । অতএব, আল্লহর লা’নত (অভিসম্পাত) অস্বীকারকারীদের উপর ।
৯০ কতোই নিকৃষ্ট বিনিময়ে তারা আপন আত্মাগুলোকে খরিদ করেছে! (তা’হলো) আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবকে (তারা) অস্বীকার করেছে এ ঈর্ষায় যে, আল্লাহ আপন অনুগ্রহে স্বীয় যে বান্দার উপর ইচ্ছা করেন ‘ওহী’ নাযিল করেন। সুতরাং তারা ক্রোধের উপর ক্রোধের উপযোগী হয়েছে। আর কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনার শাস্তি রয়েছে।
৯১ আর যখন তাদের বলা হয় আল্লাহর নাযিলকৃতের (কিতাব) উপর ঈমান আনো, তখন বলে, ‘যা আমাদের উপর নাযিল হয়েছে, আমরা তার উপর ঈমান রাখি;’ বাকীগুলোকে তারা অস্বীকার করে; অথচ তা সত্য, তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়ন করে। (হে হাবীব!) আপনি বলে দিন, ‘অতঃপর তোমরা পূর্ববর্তী নবীগণকে কেন শহীদ করেছো, যদি তোমাদের আপন কিতাবের উপর ঈমান থাকতো?’
৯২ এবং নিশ্চয় মূসা তোমাদের নিকট স্পষ্ট নির্দশনসমূহ নিয়ে তাশরীফ এনেছেন। অতঃপর তোমরা এর পরে, গো-বাছুরকে উপাস্য করে নিয়েছো এবং তোমরা অত্যাচারী ছিলে।
৯৩ এবং (স্মরণ করো) যখন আমি তোমাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছি এবং ‘তুর পাহাড়’কে তোমাদের মাথার উপর উত্তোলন করেছিলাম। ‘গ্রহণ করো যা আমি তোমাদেরকে দিচ্ছি, দৃঢ়ভাবে এবং শুনো!’ (তারা) বললো, ‘আমরা শুনেছি এবং অমান্য করেছি।’ আর তাদের হৃদয়গুলোতে গো-বাছুর সিঞ্চিত হয়েছিলো তাদের কুফরের কারণে। (হে হাবীব!) আপনি বলে দিন, ‘তোমাদেরকে তোমাদের এ ঈমান কী নিকৃষ্ট নির্দেশ দিচ্ছে, যদি (তোমরা) ঈমান রাখো!’
৯৪ (হে হাবীব!) আপনি বলে দিন, ‘যদি পরকালীন নিবাস আল্লাহর নিকট শুধু তোমাদের জন্যই নির্দিষ্ট হয়, না অন্য কারো জন্য, তবে তো ভালো, মৃত্যু কামনা করো, যদি সত্যবাদী হও!’
৯৫ এবং অবশ্যই তারা কখনো এর কামনা করবে না সেই অপকর্মগুলোর কারণে, যেগুলো তারা পূর্বে করেছে এবং আল্লাহ ভালোভাবে জানেন অত্যাচারীদেরকে।
৯৬ এবং নিঃসন্দেহে, আপনি অবশ্যই তাদেরকে এমনই পাবেন যে, তারা সব লোকের চেয়েও অধিকাল জীবিত থাকার একান্ত কামনা রাখে এবং মুশরিকদের মধ্যে এক (দল)-এর কামনা হচ্ছে যেন হাজার বছর বেঁচে থাকে এবং তার এ দীর্ঘায়ু প্রদত্ত হওয়া তাকে আযাব থেকে মুক্তি দেবেনা। আর আল্লাহ তাদের কর্মকান্ড দেখছেন।
৯৭ (হে হাবীব!) যে কেউ জিব্রাঈলের শত্রু হয়, তবে সে (জিব্রাঈল) তো আপনারই হৃদয়ের উপর আল্লাহর নির্দেশে এ ক্বোরআন নাযিল করেছেন, পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর প্রত্যায়নকারী হিসেবে এবং সঠিক পথ-প্রদর্শন ও সুসংবাদ (হিসেবে) মুসলমানদের জন্য।
৯৮ যে কেউ শত্রু হয় আল্লাহর, তাঁর ফিরিশতাদের, তাঁর রাসূলগণের, জিব্রাঈলের এবং মীকাঈলের, তবে আল্লাহ কাফিরদের শত্রু।
৯৯ এবং নিঃসন্দেহে আমি তোমাদের প্রতি স্পষ্ট নির্দশনসমূহ নাযিল করেছি; এগুলোকে অস্বীকার করবে না কিন্তু ফাসিক লোকেরা।
১০০ এবং তবে কি যখনই কেউ কোন অঙ্গীকার করে (তখনই) তাদের মধ্যে থেকে একদল সেটাকে ছুঁড়ে মারে? বরং তাদের অধিকাংশেরই ঈমান নেই।
১০১ এবং যখন তাদের নিকট তাশরীফ আনলেন আল্লাহর নিকট থেকে একজন রসূল, তাদের কিতাবগুলোর সমর্থকরুপে, তখন কিতাবীদের একটা দল আল্লাহর কিতাবকে তাদের পৃষ্ঠ-পেছনে নিক্ষেপ করেছে, যেন তারা কোন জ্ঞানই রাখেনা।
১০২ এবং (তারা) তারই অনুসারী হয়েছে, যা শয়তান পাঠ করতো সুলায়মানের রাজত্বকালে; এবং সুলায়মান কুফর করেনি। হাঁ, কাফির হয়েছিলো শয়তান; (তারা) মানুষকে যাদু শিক্ষা দেয় এবং ঐ যাদু যা ‘বাবেল’ শহরে দু’জন ফিরিশতা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিলো। আর তারা দু’জন কাউকেও কিছু শিক্ষা দিতো না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা একথা বলে দিতো না, ‘আমরা তো নিছক পরীক্ষা। কাজেই, নিজ ঈমান হারিয়ে বসোনা!’ অতঃপর (তারা) তাদের নিকট তাই শিখতো, যা বিরোধ-বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতো পুরুষ এবং তার স্ত্রীর মধ্যে। এবং তা দ্বারা কারো ক্ষতি সাধন করতে পারতো না, কিন্তু আল্লাহরই নির্দেশে। এবং তারা তাই শিক্ষা করে, যা তাদের ক্ষতি সাধন করবে, উপকার করবে না এবং নিশ্চয় তাদের জানা আছে যে, যে ব্যক্তি এ সওদা ক্রয় করেছে পরকালে তার কোন অংশ নেই; এবং নিশ্চয় তা কতোই নিকৃষ্ট বস্তু, যার বিনিময়ে তারা নিজেদের আত্মাসমূহ বিক্রি করেছে! যদি কোন রকম তাদের জ্ঞান হতো!
১০৩ এবং যদি তারা ঈমান আনতো এবং সাবধানতা অবলম্বন করতো, তবে আল্লাহর নিকটস্থিত সাওয়াব অত্যধিক উত্তম যদি কোন প্রকারে তাদের জ্ঞান হতো!
১০৪ হে ঈমানদরগন! ‘রা-ইনা’ বলোনা এবং এভাবে আরয করো, ‘হুযূর, আমাদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি রাখুন!’ এবং প্রথম থেকেই মনোযোগ সহকারে শুনো। আর কাফিরদের জন্য বেদনাদায়ক শাস্তি অবধারিত।
১০৫ তারাই, যারা কাফির, কিতাবী কিংবা মুশরিক, তারা চায়না যে, তোমাদের উপর কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে এবং আল্লাহ স্বীয় রহমত দ্বারা বিশেষভাবে মনোনীত করেন যাকে চান; এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
১০৬ এবং আমি যখন কোন আয়াত রহিত করে দিই কিংবা বিস্মৃত করে দিই তখন এর চেয়ে উত্তম কিংবা এর মতো (কোন আয়াত) নিয়ে আসবো। তোমার কি খবর নেই যে, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন?
১০৭ তোমাদের কি খবর নেই যে, আল্লাহর জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের বাদশাহী এবং আল্লাহ ব্যতীত না আছে তোমাদের কোন অভিভাবক এবং না আছে কোন সাহায্যকারী।
১০৮ তোমরা কি এটাই চাও যে, তোমাদের রসূলকে সেরুপই প্রশ্ন করবে, যেরুপ মূসার সাথে পূর্বে সংঘটিত হয়েছিলো? আর যে ব্যক্তি ঈমানের পরিবর্তে কুফর গ্রহণ করে, সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
১০৯ বহু কিতাবী কামনা করেছে, ‘তারা যদি তোমাদেরকে (তোমাদের) ঈমান আনার পর কুফরের দিকে ফিরিয়ে দিতে পারতো!’ তাদের অন্তরগুলোর বিদ্বেষবশতঃ, এর পর যে, তাদের নিকট সত্য অতিমাত্রায় প্রকাশিত হয়েছিলো। সুতরাং তোমরা ছেড়ে দাও (ক্ষমা করে দাও) ও এড়িয়ে যাও যে পর্যন্ত আল্লাহ নিজ হুকুম প্রদান করেন। নিশ্চয়, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।
১১০ এবং নামায কায়েম রাখো ও যাকাত দাও। এবং নিজেদের আত্মাগুলোর জন্য যে উত্তম কাজ পূর্বে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকট পাবে। নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের কাজ প্রত্যক্ষ করছেন।
১১১ এবং কিতাবীরা বললো, ‘নিশ্চয় জান্নাতে যাবে না, কিন্তু সে-ই ব্যক্তি, যে ইহুদি কিংবা খ্রিষ্টান হবে।’ এটা তাদের কল্পনাপ্রসূত আশামাত্র। (হে হাবীব!) আপনি বলুন, ‘তোমরা পেশ করো স্বীয় প্রমাণ যদি সত্যবাদী হও!’
১১২ হাঁ, কেন (এমন) নয়? যে ব্যক্তি আপন চেহারা ঝুঁকিয়েছে আল্লাহর জন্য এবং সে হয় সৎকর্মপরায়ন, তবে তার প্রতিদান তার প্রতিপালকের নিকট রয়েছে এবং তাদের না আছে কোন শংকা না আছে কোন দুঃখ।
১১৩ ইহুদিরা বললো, ‘খ্রিষ্টান কিছুই নয়।’ আর খ্রিষ্টান বললো, ‘ইহুদি কিছুই নয়।’ অথচ তারা কিতাব পাঠ করে। এভাবে মূর্খরা তাদের মত কথা বলেছে। সুতরাং আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত- দিবসে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন যে বিষয়ে তারা ঝগড়া করছে।
১১৪ এবং তার চেয়ে অধিক যালিম কে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে বাধা দেয় সেগুলোতে আল্লাহর নামের চর্চা হওয়া থেকে এবং সেগুলোর ধবংস সাধনে প্রয়াসী হয়? তাদের জন্য সঙ্গত ছিলো না যে, মসজিদসমূহে যাবে, কিন্তু ভয়-বিহবল হয়ে। তাদের জন্য রয়েছে পৃথিবীতে লাঞ্ছনা এবং তাদের জন্য পরকালে রয়েছে মহা শাস্তি।
১১৫ পূর্ব-পশ্চিম সব আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যেদিকে মুখ করো সেদিকেই ‘ওয়াজহুল্লাহ’ (খোদার রহমত তোমাদের দিকে নিবদ্ধ হয়)। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।
১১৬ এবং (তারা) বললো, আল্লাহ নিজের জন্য সন্তান রেখেছেন (গ্রহণ করেছেন) । পবিত্রতা তাঁরই; বরং তাঁরই মালিকাধীন যা কিছু আসমানসমূহ ও যমীনে রয়েছে। সবই তাঁর সামনে গর্দান অবনত করেছে।
১১৭ নতুন (নমুনা ছাড়া) সৃষ্টিকারী আসমানসমূহের ও যমীনের এবং যখন কোন কিছুর নির্দেশ দেন তখন তাকে এটাই বলেন, ‘হয়ে যাও!’ তা সাথে সাথে হয়ে যায়।
১১৮ এবং মূর্খরা বললো, ‘আল্লাহ আমাদের সাথে কেন কথা বলেন না? কিংবা যদি আমাদের কোন নিদর্শনও মিলতো!’ তাদের পূর্ববর্তীরাও এরুপই বলেছে-তাদের মতো কথা। এদের ও ওদের অন্তরগুলো একই ধরণের। নিশ্চয়ই আমি দৃঢ় বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শনাবলী স্পষ্টভাবে বিবৃত করেছি।
১১৯ নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে। আর আপনাকে জাহান্নামীদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না।
১২০ এবং কখনো আপনার উপর ইহুদী ও খ্রিষ্টানগণ সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করবেন না। (হে হাবীব!) আপনি বলে দিন, ‘আল্লাহর হিদায়তই প্রকৃত হিদায়ত।’ এবং (হে শ্রোতা, যেই হও!) যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর, তবে আল্লাহ থেকে কেউ না তোমার রক্ষাকারী হবে এবং না সাহায্যকারী।
১২১ যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা যেমনি উচিত, তা পাঠ করে। তারাই তার উপর ঈমান রাখে। আর যারা এটাকে অস্বীকার করে তারাই ক্ষতিগ্রস্থ।
১২২ হে য়া’কুবের বংশধরগণ! স্মরণ করো আমার ঐ অনুগ্রহকে, যা আমি তোমাদের উপর করেছি। আর ওটাও যে, আমি সে যুগের সকলের উপর তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছি।
১২৩ এবং ভয় করো সেদিনকে, যেদিন কোন প্রাণ অন্য প্রাণের বিনিময় হবেনা এবং না তাকে কিছু বিনিময় নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে এবং না কাফিরদেরকে কোন সুপারিশ উপকার করবে এবং না তাদেরকে সাহায্য করা হবে।
১২৪ এবং যখন ইব্রাহীমকে তাঁর প্রতিপালক কতিপয় কথা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন; অতঃপর তিনি সেগুলোকে পূর্ণ করে দেখিয়েছেন। (আল্লাহ) এরশাদ করেন, ‘আমি তোমাকে ইমাম সাব্যস্তকারী হই।’ (হযরত ইব্রাহীম) আরয করলেন, ‘এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও।’ (আল্লাহ) এরশাদ করলেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি অত্যাচারীদের ভাগ্যে জোটেনা।’
১২৫ এবং (স্মরণ করুন,) যখন আমি এ ঘরকে মানবজাতির জন্য আশ্রয়স্থল ও নিরাপদ স্থান করেছি এবং (বলেছিলাম,) ইব্রাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে নামাযের স্থানরুপে গ্রহণ করো!’ এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে তাগিদ দিয়েছিলাম, ‘আমার ঘরকে খুব পবিত্র করো- তাওয়াফকারী, ই’তিফাককারী এবং রুকু’ ও সাজদাকারীদের জন্য।’
১২৬ এবং যখন ইব্রাহীম আরয করলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! এ শহরকে নিরাপদ করে দাও! আর এর অধিবাসীদেরেকে বিভিন্ন ফল থেকে জীবিকা দান করো! যারা তাদের মধ্যে আল্লাহ এবং ও পরকালের উপর ঈমান আনবে।’ এরশাদ করলেন, ‘এবং যারা কাফির হবে তাদেরকেও এর সামান্য ভোগ করার জন্য দেবো। অতঃপর তাদেরকে দোযখের কঠিন শাস্তির দিকে (ধাবিত হতে) বাধ্য করবো এবং তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্থান ফিরে যাবার।’
১২৭ এবং যখন উঠাচ্ছিলো ইব্রাহীম এ ঘরের ভিত্তিগুলো এবং ইসমাঈল, এ প্রার্থনারত অবস্থায়- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে গ্রহণ করো। নিশ্চিয়ই তুমি শ্রোতা, জ্ঞাতা।’
১২৮ ‘হে প্রতিপালক আমাদের! এবং আমাদেরকে তোমারই সামনে গর্দান অবনতকারী এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে একটা উম্মতকে তোমারই অনুগত করো। আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের নিয়ম-কানুন বলে দাও এবং আমাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ সহকারে দৃষ্টিপাত করো। নিশ্চয়ই তুমিই অত্যন্ত তাওবা কবুলকারী, দয়ালু।’
১২৯ ‘হে প্রতিপালক আমাদের! এবং প্রেরণ করো তাদের মধ্যে থেকে একজন রসূল তাদেরই মধ্য থেকে, যিনি তোমার আয়াতসমূহ তাদের নিকট তেলোয়াত করবেন এবং তাদেরকে তোমার কিতাব ও পরিপক্ব জ্ঞান শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে অতি পবিত্র করবেন। নিশ্চয়, তুমিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
১৩০ এবং ইব্রাহীমের দ্বীন থেকে কে বিমুখ হবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যে অন্তরের (দিক দিয়ে) নির্বোধ? এবং নিশ্চয় নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে তাকে মনোনীত করে নিয়েছি; এবং নিশ্চয় সে পরকালে আমার খাস নৈকট্যের উপযোগীদের অন্তর্ভুক্ত।
১৩১ যখন তাকে তার প্রতিপালক বললেন, ‘গর্দান অবনত করো (আত্মসমর্পণ করো)!’ আরয করলো, ‘আমি গর্দান অবনত করেছি তাঁরই জন্য, যিনি সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক।’
১৩২ এবং সেই দ্বীন সম্পর্কে ওসীয়ত করেছিলো ইব্রাহীম স্বীয় পুত্রদেরকে এবং য়া’কুবও – ‘হে আমার পুত্রগণ! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দ্বীনকে মনোনীত করে নিয়েছেন। সুতরাং মৃত্যুবরণ করোনা, কিন্তু মুসলমান হয়ে।’
১৩৩ বরং তোমাদের মধ্য থেকে (তোমরা) নিজেরাই উপস্থিত ছিলে যখন য়া’কুবের নিকট মৃত্যু এসেছিলো; যখনই তিনি আপন পুত্রদেরকে বলেছিলেন, ‘আমার পর কার ইবাদত করবে?’ (তারা) আরয করলো, ‘আমরা ইবাদত করবো তাঁরই, যিনি খোদা হন আপনার এবং আপনার পিতামহ ইব্রাহীম, ইসমাঈল এবং ইসহাক্বের, একমাত্র খোদা; এবং আমরা তাঁরই সামনে গর্দান রেখেছি।’
১৩৪ এ এক উম্মত; যারা গত হয়েছে, তাদের জন্য রয়েছে যা তারা অর্জন করেছে এবং তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা অর্জন করবে; এবং তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদের কোন প্রশ্ন করা হবে না।
১৩৫ এবং কিতাবীরা বললো, ‘ইহুদী কিংবা খ্রিষ্টান হয়ে যাও, ঠিক পথ পাবে!’ (হে হাবীব!) আপনি বলুন, ‘বরং আমি তো ইব্রাহীমের দ্বীনকেই গ্রহণ করছি, যিনি সবরকমের বাতিল থেকে মুক্ত ছিলেন এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।’
১৩৬ এভাবে আরয করো, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং তারই উপর, যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, আর যা অবতরণ করা হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক্ব, য়া’কুব এবং তাঁরই বংশধরদের উপর। আর (তারই উপর,) যা দান করা হয়েছে মূসা ও ঈসাকে এবং দান করা হয়েছে অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। আমরা তাঁদের কারো উপর ঈমান আনার ক্ষেত্রে পার্থক্য করিনা এবং আমরা আল্লাহর সামনে গর্দান রেখেছি।
১৩৭ অতঃপর তারাও যদি ঈমান আনতো, যেমন তোমরা এনেছো, তবেই তো তারা হিদায়ত (সঠিক পথের দিশা) পেয়ে যেতো। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা নিরেট একগুঁয়েমীর মধ্যে রয়েছে। তবে হে মাহবূব! অদূর ভবিষ্যতে আল্লাহই তাদের দিক থেকে আপনার জন্য যথেষ্ট হবেন এবং তিনিই শ্রোতা, জ্ঞাতা।
১৩৮ আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি এবং আল্লাহর রং অপেক্ষা কার রং অধিক উত্তম? এবং আমরা তাঁরই ইবাদত করি।
১৩৯ (হে হাবীব!) আপনি বলুন, ‘আল্লাহ সম্পর্কে (আমাদের সাথে) কি (তোমরা) বির্তক করছো? অথচ তিনি আমাদেরও মালিক এবং তোমাদেরও; এবং আমাদের কর্ম আমাদের সাথে আর তোমাদের কর্ম তোমাদের সাথে; এবং আমরা শুধু তাঁরই;
১৪০ বরং তোমরা এটাই বলে থাকো যে, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক্ব, য়া’কুব এবং তাঁদের পুত্রগণ ইহুদী কিংবা খ্রিষ্টান ছিলেন। (হে হাবীব!) আপনি বলুন, ‘জ্ঞান কি তোমাদের বেশী, না আল্লাহর? তার চেয়ে অধিক অত্যাচারী কে, যার নিকট রয়েছে আল্লাহর সাক্ষ্য, আর সে তা গোপন করে? এবং খোদা তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অনবহিত নন।’
১৪১ সে একটা জনগোষ্ঠী, যারা গত হয়েছে। তাদের জন্য তাদের অর্জিত বস্তু আর তোমাদের জন্য তোমাদের অর্জিত বস্তু। আর তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে না।
নং নাম
সূরা ফাতিহা
সূরা বাকারা
সূরা আল ইমরান
আন্ নিসা
আল মায়েদাহ
আল আন'আম
আল আরাফ
আল আনফাল
আত তওবা
১০ ইউনুস
১১ হুদ
১২ ইউসুফ
১৩ আর্ রাদ
১৪ ইবরাহীম
১৫ আল হিজর
১৬ আন্ নাহল
১৭ বনী ইসরাঈল
১৮ আল কাহফ
১৯ মারয়াম
২০ ত্বাহা
২১ আল আম্বিয়া
২২ আল হাজ্জ
২৩ আল মুমিনূন
২৪ আন্ নূর
২৫ আল-ফুরকান
২৬ আশ্-শু’আরা
২৭ আন নামল
২৮ আল কাসাস
২৯ আল আনকাবূত
৩০ আর রূম
৩১ লুকমান
৩২ আস সাজদাহ
৩৩ আল আহযাব
৩৪ আস সাবা
৩৫ ফাতের
৩৬ ইয়া-সীন
৩৭ আস্ সা-ফফা-ত
৩৮ সা-দ
৩৯ আয যুমার
৪০ আল মুমিন
৪১ হা-মীম আস সাজদাহ
৪২ আশ শূরা
৪৩ আয্ যুখরুফ
৪৪ আদ দুখান
৪৫ আল জাসিয়াহ
৪৬ আল আহক্বাফ
৪৭ মুহাম্মদ
৪৮ আল ফাতহ
৪৯ আল হুজুরাত
৫০ ক্বাফ
৫১ আয যারিয়াত
৫২ আত তূর
৫৩ আন নাজম
৫৪ আল ক্বামার
৫৫ আর রহমান
৫৬ আল ওয়াকি’আ
৫৭ আল হাদীদ
৫৮ আল মুজাদালাহ
৫৯ আল হাশর
৬০ আল মুমতাহিনা
৬১ আস সফ
৬২ আল জুমআ
৬৩ আল মুনাফিকুন
৬৪ আত তাগাবুন
৬৫ আত তালাক
৬৬ আত তাহরীম
৬৭ আল মুলক
৬৮ আল কলম
৬৯ আল হাককাহ
৭০ আল মাআরিজ
৭১ নূহ
৭২ আল জিন
৭৩ আল মুযযাম্মিল
৭৪ আল মুদ্দাস্সির
৭৫ আল কিয়ামাহ
৭৬ আদ্ দাহর
৭৭ আল মুরসালাত
৭৮ আন নাবা
৭৯ আন নাযি’আত
৮০ আবাসা
৮১ আত তাকবীর
৮২ আল ইনফিতার
৮৩ আল মুতাফফিফীন
৮৪ আল ইনশিকাক
৮৫ আল বুরূজ
৮৬ আত তারিক
৮৭ আল আ’লা
৮৮ আল গাশিয়াহ
৮৯ আল ফজর
৯০ আল বালাদ
৯১ আশ শামস
৯২ আল লাইল
৯৩ আদ দুহা
৯৪ আলাম নাশরাহ
৯৫ আত তীন
৯৬ আল আলাক
৯৭ আল কাদ্‌র
৯৮ আল বাইয়েনাহ
৯৯ আল যিলযাল
১০০ আল আদিয়াত
১০১ আল কারি’আহ
১০২ আত তাকাসুর
১০৩ আল আসর
১০৪ আল হুমাযা
১০৫ আল ফীল
১০৬ কুরাইশ
১০৭ আল মাউন
১০৮ আল কাউসার
১০৯ আল কাফিরূন
১১০ আন নসর
১১১ আল লাহাব
১১২ আল ইখলাস
১১৩ আল ফালাক
১১৪ আন নাস