এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

হজরত আমজাদ আলী (রহঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

গাউসুল আজম বড়পীর হজরত মহিউদ্দীন আবদুল কাদির জিলানী (র.)-এর বংশধর হজরত শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ আমজাদ আলী (র.)। তিনি উচ্চস্তরের কামেল অলি আল্লাহ ও মোর্শেদে বরহক ছিলেন। ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে বড়পীর সাহেবের বংশধর এবং হজরত শাহ আমজাদ আলী (র.)-এর পূর্ব পুরুষ হজরত শাহ সৈয়্যেদ হাসান তেগ বোরহান (র.) ১০০ কামেলে মোকাম্মেল অলি আল্লাহ সঙ্গে করে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বঙ্গদেশে আগমন করেন। তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের অন্তর্গত মৌজে গির্দায় বসতি স্থাপন করেন। তারই পবিত্র উত্তরপুরুষ হজরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ আমজাদ আলী আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী (র.)।

হজরত আমজাদ আলী (র.) ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলিয়ে কামেল রাসূলনোমা আল্লামা হজরত শাহ সুফি সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী পীর কেবলা (র.)-এর অন্যতম প্রধান খলিফা। তিনি ১২৬৫ বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাস মোতাবেক ১০ মহররম ১২৭৭ হিজরি মঙ্গলবার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার অন্তর্গত বনবন্তচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হজরত কাজী সৈয়্যেদ এনায়েৎ উল্লাহ (র.)। হজরত আমজাদ আলী (র.)-এর পিতা এক সময় নবাব স্টেটের কাজী উল-কোবরা ছিলেন।

হজরত শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ আমজাদ আলী (র.) যখন একাকী পথ চলতেন, তখন তার মাথার ওপর একটি লাল বর্ণের আলো সঙ্গে সঙ্গে চলত। এ কথা তার পিতাকে জানানোর পর তিনি বলতেন, আমি সর্ব শক্তিমান আল্লাহর কাছে তোমার জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। আমার আশা তিনি আজ আমার প্রার্থনা মঞ্জুর করেছেন। ১০ বছর বয়স হলে তার পিতা ঢাকার প্রখ্যাত এক সুফি সাহেবের কাছে শিক্ষালাভের জন্য প্রেরণ করেন। কয়েক দিন পর তার পিতা হজরত কাজী সৈয়্যেদ এনায়েৎ উল্লাহ পরলোকগমন করেন। তার অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও মধুর আচরণের পরিচয় লাভ করে শিক্ষক বিস্মিত হন। ছাত্রদের মধ্যে তাকে তিনি সর্বাধিক স্নেহ করতেন। শ্রেণীতে সব সময় নিজের সামনে বসাতেন। তার বুদ্ধিমত্তার জন্য তিনি তাকে আদর করে শাহ্জাদা বলে ডাকতেন।

অতঃপর দ্বীনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করার জন্য হজরত শাহ সুফি সৈয়্যেদ আমজাদ আলীকে (র.) কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। তিনি সেখান থেকে সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একই মাদ্রাসায় মোদাররেস পদে যোগদান করেন। এ সময়েই তিনি দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন। তখন শায়খে তরিকত হজরত শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী (র.) কলকাতায় থাকতেন। তিনি যুগশ্রেষ্ঠ সুফি সাধক ছিলেন। নবী করিম (সা.)-এর সাক্ষাৎ লাভ করে তিনি ওয়াইসিয়া ফয়েজ লাভ করেন। ফলে তিনি আধ্যাত্মিকতার অতি উচ্চ শিখরে অবস্থান করেছিলেন।

একই সময় সিলেটের হজরত মাওলানা আকবর আলী (র.)ও কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার মোদাররেস ছিলেন। তার সঙ্গে হজরত আমজাদ আলী (র.)-এর বেশ আন্তরিকতা ছিল। হজরত আকবর আলী (র.)ও হজরত শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী (র.)-এর মুরিদ ছিলেন। হজরত আকবর আলী (র.) হজরত সৈয়্যেদ আমজাদ আলীকে (র.) হজরত ওয়াইসী পাক (র.)-এর মুরিদ হওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। তার কাছে হজরত ওয়াইসী পীর (র.)-এর গুণগান করলেন।

হজরত ওয়াইসী পীর কেবলা (র.)-এর ইচ্ছানুসারে এক বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হজরত আমজাদ আলী (র.) তার কাছে বায়াত গ্রহণ করেন। অতঃপর হজরত শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ আমজাদ আলীকে তিনি সাত তরিকায় জ্ঞানী করে তুললেন এবং তিনি তাকে খেলাফতও দান করলেন। পরে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আপন পীর-মোর্শেদের মাধ্যমে তিনি কদমিয়া তরিকার ইমামত লাভ করেন। অতঃপর পীর-মোর্শেদের নির্দেশক্রমে তিনি সত্য সন্ধানীদের বায়াত প্রদান এবং হেদায়েতের আলোতে উদ্ভাসিত করতে থাকেন।

হজরত ওয়াইসী পীর কেবলা (র.) তাকে অত্যন্ত স্নেহ ও মহব্বত করতেন। ওফাতের সময় তিনি বলেছিলেন, যদি কেউ আল্লাহ আল্লাহ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছতে চায়, তবে সে যেন শাহ্ আমজাদের কাছে তরিকত শিক্ষা করে। তার খোদা প্রদত্ত ক্ষমতার কারণেই হয়তো তিনি এ কথা বলেছিলেন। তার সঙ্গে দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা শামসুল উলামা আল্লামা হজরত শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ আহমদ আলী ওরফে হজরত জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (র.)-এর অতি প্রেম-ভালোবাসা, মহব্বত ও শ্রদ্ধা ছিল। হজরত শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ আমজাদ আলী (র.) এত উচ্চস্তরের কামেল পীর ছিলেন যে, তার কাছে যখন তরিকতের কোনো লোক বসতেন, এক বৈঠকেই তিনি তাকে সুলতানে আসগর অতিক্রম করে তরিকতের উচ্চস্তরে পৌঁছে দিতেন।

এ মহান অলি আল্লাহ ফার্সি ভাষায় তিনটি অমূল্য আধ্যাত্মিক কিতাব রচনা করেছেন। সেগুলো

১. কাশফুল আসরার,
২. জুলফিকারে হায়দরী ও
৩. বোরহানুল আরেফীন।

ইমামে তরিকত হজরত শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ আমজাদ আলী (র.) ১৩৩০ হিজরি, ১৩১৯ বঙ্গাব্দের ৩ আষাঢ় ১ শাবান মঙ্গলবার পৃথিবী ত্যাগ করেন। তখন তার বয়স ৫২ বছর ১১ মাস।

হজরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ আমজাদ আলী (র.) বৃহত্তর ঢাকার মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজিদখান থানার অন্তর্গত পাউসার শরিফে এক স্বর্গীয় সুন্দর, নিরিবিলি, মনোরম পরিবেশে থেকে সবাইকে অবিরামভাবে কদমিয়া তরিকার ফয়েজ-রহমত বিলি করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন জিয়ারতকারীরা ভক্তি-মহব্বত নিয়ে জিয়ারত করে থাকেন তার মাজার শরিফ। ভক্তি-মহব্বতসহ কেউ এ মহান অলির মাজার শরিফ জিয়ারত করলে তাৎক্ষণিক ফয়েজপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। তার মাজার শরিফে ফার্সি ভাষায় একটি বয়াত লিপিবদ্ধ রয়েছে। যার বাংলা অর্থ আমার কাছে কেউ স্বশরীরে এলে- আমি তার জন্য প্রাণ নিয়ে আসব।

আমজাদ আলী (র.) দুই স্ত্রী, ৫ পুত্র ও ৬ কন্যা রেখে যান। তার জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম খলিফায়ে আজম মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়্যেদ আবু মহম্মদ আজমল আলী (র.) এবং তার পৌত্রের নাম আলহাজ হজরত শাহ্ সুফি আবুল ফজল সৈয়্যেদ হাবীবুল্লাহ মাহফুজ আল-কদমী। তিনি বর্তমানে দরবার শরিফের সব কিছু তদারকি করছেন এবং গদিনশীন। তার ওফাৎ দিবস উপলক্ষে ১ শাবান বার্ষিক ফাতেহা শরিফ ২৯ মে থেকে ১ জুন উদযাপিত হবে।

তথ্যসূত্র

  • গদিনশীন পীর দরবারে শাহে কদমী-পাউসার শরিফ -
  • jugantor.com