এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

হজ্জ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

আল্লাহ্ তায়ালা ইরশাদ করেন :

اِنَّ اَوَّلَ بَيْتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِىْ بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَّهُدًى لِّلْعٰلَمِيْنَ- فِيْهِ اَيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَّقَامُ اِبْرَاهِيْمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ اَمِنًا وَلِـلّٰهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَيْهِ سَبِيْلًا وَمَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعٰلَمِيْنَ-

অর্থ: নিশ্চয় মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা তো বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত, তা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী। তাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যেমন মাকামে ইবরাহীম। আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্জ করা তার অবশ্যই কর্তব্য। এবং কেউ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ্ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।

— সূরা আলে-ইমরান আয়াত: ৯৬-৯৭

وَاِذْ بَوَّاْنَا لِاِبْرَاهِيْمَ مَكَانَ الْبَيْتِ اَنْ لَّا تُشْرِكْ بِىْ شَيْئًا وَّطَهِّرْ بَيْتِىَ لِلطَّائِفِيْنَ وَالْقَائِمِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ- وَاَذِّنْ فِى النَّاسِ بِالْحَجِّ يَاْتُوْكَ رِجَالًا وَّعَلٰى كُلِّ ضَامِرٍ يَّاْتِيْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيْقٍ-

অর্থ: “এবং স্মরণ কর যখন আমি ইবরাহীমের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছিলাম সেই গৃহের স্থান; তখন বলেছিলাম, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না। এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখ তাদের জন্য যারা তাওয়াফ করে এবং যারা সালাতে দাঁড়ায়, রুকু করে ও সিজদা করে। মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা প্রচার কর। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে।”

— সূরা হজ্জ: আয়াত ২৬-২৭

وَاِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَاَمْنًا وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ اِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا اِلٰى اِبْرَاهِيْمَ وَاِسْمٰعِيْلَ اَنْ طَهِّرَا بَيْتِىَ لِلطَّائِفِيْنَ وَالْعٰكِفِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ-

অর্থ: আর সেই সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি কা’বাগৃহকে মানবজাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর এবং ইবরাহীম ও ইস্মাঈলকে আদেশ করেছিলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ’।

— সূরা বাকারা, আয়াতঃ ১২৫

وَاِذْ قَالَ اِبْرَاهِيْمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا بَلَدًا اٰمِنًا وَّارْزُقْ اَهْلَه‘ مِنَ الثَّمَرٰتِ مَنْ اٰمَنَ مِنْهُمْ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ قَالَ وَمَنْ كَفَرَ فَاُمَتِّعُه‘ قَلِيْلًا ثُمَّ اَضْطَرُّه‘ اِلٰى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيْرُ-

অর্থ: স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম বলেছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক। ঐ স্থানকে তুমি নিরাপদ শহর বানিয়ে দাও; এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাতে ঈমান আনে তাদেরকে ফলমূল থেকে রিযিক দাও।’ তিনি বললেন, যে কেউ কুফরী করবে তাকেও কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করবো এবং কত নিকৃষ্ট তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল!

— সূরা বাকারা; আয়াত-১২৬

وَاِذْ يَرْفَعُ اِبْرَاهِيْمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَاِسْمٰعِيْلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ-

অর্থ: স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি উত্তোলন করছিল, তখন তারা বলেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের এই কাজ গ্রহণ কর, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।

— সূরা বাকারা, আয়াতঃ ১২৭

رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا اُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَاَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا اِنَّكَ اَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ-

‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার একান্ত অনুগত কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত উম্মত সৃষ্টি কর। আমাদেরকে ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি শিখিয়ে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী, দয়ালু’।

— সূরা বাকারা, আয়াতঃ ১২৮


হজ্জ ও উমরাহ্ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস

১। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোজা রাখা ও বাইতুল্লাহর হজ্জ করা।

— বুখারী ও মুসলিম

২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘কোন আমল সবচাইতে উত্তম?’ তিনি বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান। আবার জিজ্ঞেস করা হল, এরপর কোন্ কাজটি সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হল, এরপর কোন্ কাজটি সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেন, “হজ্জে মাবরূর” অর্থাৎ ত্রুটিমুক্ত হজ্জ।

— বুখারী ও মুসলিম

৩। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জিহাদকে আমরা মহিলাগণ সবচাইতে উত্তম কাজ বলে জানি, আমরা কি জিহাদে অংশগ্রহণ করবো না? তিনি বললেন, না বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হচ্ছে ‘হজ্জে মাবরূর’।

— মুসলিম

৪। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: রমযান মাসে উমরাহ্ আমার সাথে হজ্জ করার সমান।

— বুখারী, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ

৫। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এক উমরাহ্ অপর উমরাহ পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহ্সমূহের কাফ্ফারাস্বরূপ। কবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।

— বুখারী ও মুসলিম

৬। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মহিলারা মাহ্রাম (যার সাথে বিবাহ হারাম এমন আত্মীয়) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো সাথে সফর করবে না এবং মাহরাম ব্যক্তি নিকটে না থাকলে অন্য কোন পুরুষ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে না। এ-কথা শুনে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো অমুক অমুক সেনাদলের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা রাখি। কিন্তু আমার স্ত্রী হজ্জ করার সংকল্প করেছে। (এমতাবস্থায় আমি কী করবো?) তিনি বললেন, তোমার স্ত্রীর সাথে যাও।

— বুখারী ও মুসলিম

৭। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মক্কা থেকে মদীনায় ফেরার পথে) ‘রাওহা’ নামক স্থানে পৌঁছালে একদল সওয়ারির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তিনি তাদেরকে সালাম দিলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কারা? তারা বলল, আমরা মুসলিম। তারা জিজ্ঞেস করলো, আপনারা কারা? জবাবে সাহাবীগণ বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও (তাঁর সাহাবীবৃন্দ)। এ-কথা শুনে এক মহিলা ভীত হয়ে তার একটি বাচ্চার বাহু ধরে হাওদা থেকে বের করে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! এ বাচ্চার কি হজ্জ হবে? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ, হবে। তবে সওয়াব তুমি পাবে।

— মুসলিম ও আবু দাউদ

৮। হযরত আবদুল্লাহ ইব্নে আব্বাস (রাঃ) বলেন,

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন: আল্লাহ্ তায়ালা তার সম্মানিত ঘরের উদ্দেশে আগমনকারীদের জন্য প্রতিদিন একশত বিশটি রহমত নাজিল করেন: (তন্মধ্যে) ষাটটি তাওয়াফকারীদের জন্য, চল্লিশটি নামাজ আদায়কারীদের জন্য, আর বিশটি আল্লাহর ঘরের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধকারীদের জন্য।

— বায়হাকী, তারগিব

৯। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) তায়ালা আনহু বলেন,

হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরাহ্ বা জিহাদ করতে বের হয়েছে, অতঃপর পথে তার মৃত্যু হয়েছে, আল্লাহ্ তায়ালা তার জন্য গাজী, হাজী ও উমরাহ্কারীর সওয়াব লিখে দিবেন।

— বায়হাকী, মিশকাত শরীফ

১০। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বান্দাহ্কে জাহান্নাম থেকে আরাফার দিনের চেয়ে অধিক (সংখ্যায়) আর কোন দিন নাজাত দেন না।

— মুসলিম

১১। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,

যখন তোমরা কোন নবাগত হাজীর সঙ্গে সাক্ষাৎ কর, তখন তোমরা তাঁকে সালাম দাও, তার সাথে মুসাফাহা কর এবং গৃহে প্রবেশের পূর্বেই দোয়ার জন্য অনুরোধ কর। কেননা, সে গুনাহ্ থেকে পবিত্র হয়ে এসেছে।

— আহমদ, মিশকাত

১২। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

বিদায় হজ্জের বছরে খাসআম গোত্রের এক স্ত্রীলোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জ আদায় করা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহর ওপর ফরজ। আমার পিতার ওপর হজ্জ এমন সময় ফরজ হয়েছে যখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছেন এবং সওয়ারিতে বসে থাকতে অক্ষম। আমি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করলে তার হজ্জ কি আদায় হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ আদায় হবে।

— বুখারী ও মুসলিম

১৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন-

মানুষের মৃত্যু হলে তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তিনটি আমলের সওয়াব মৃত্যুর পরেও অব্যাহত থাকে।

(এক) সাদকায়ে জারিয়া (যেমন) মসজিদ, মাদ্রাসা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান,

(দুই) ইল্ম যার দ্বারা লোকেরা উপকৃত হয়, (যেমন শাগরিদ রেখে গিয়ে ইল্মে দ্বীনের চর্চা জারী রাখা বা কোন কিতাব লিখে যাওয়া)।

(তিন) নেককার সন্তান- যে তার পিতার জন্য দোয়া করে এবং সওয়াব পাঠাতে থাকে।

— কুরতবী, তাফসীরে মারেফুল কুরআন, মুসলিম

১৪। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জ কিংবা উমরাহ্ করার জন্য রাস্তায় বের হলো, তারপর রাস্তায় মারা গেল, সে কোন প্রকার প্রশ্ন ও হিসাবের সম্মুখীন হবে না। তাকে বলা হবে, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর।

— তাবরানী, আবু ই’য়ালা ও বায়হাকী

১৫। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

জুহায়না গোত্রের একজন স্ত্রীলোক এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, আমার মা হজ্জ করার মানত করেছিলেন, কিন্তু হজ্জ না করেই তিনি মারা যান। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে তুমি হজ্জ কর। তুমি এ ব্যাপারে কি মনে কর, যদি তোমার মা ঋণী হতো, তাহলে কি তুমি তা আদায় করতে না? আল্লাহর হক আদায় করে দাও। কেননা আল্লাহর হকই সবচেয়ে বেশি আদায়যোগ্য।

— বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ

১৬। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তার দুই ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে পা হেঁচড়ে যেতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, এই ব্যক্তির কী হয়েছে? লোকেরা বলল, সে পদব্রজে আল্লাহর ঘর (কাবা) জিয়ারত করতে যাওয়ার মানত করেছে। তিনি বললেন, এই ব্যক্তিকে শাস্তির মধ্যে নিক্ষেপ করা থেকে মহান আল্লাহপাক পবিত্র। তাকে বাহনে চড়ে যেতে বল।

— বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ

১৭। হযরত সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, আমি সিরিয়া পৌঁছে আবু দারদার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাকে পাইনি। বাড়িতে দারদার মাকে পেয়েছি। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এ বছর হজ্জে যাচ্ছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ, যাচ্ছি। তিনি বললেন, আমাদের কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, কোন মুসলমানের অনুপস্থিতিতে তার জন্য তার মুসলমান ভাই-এর দোয়া (আল্লাহর দরবারে) কবুল হয়। তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই সে তার কোন মুসলমান ভাই-এর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করে, তখনই সে নিযুক্ত ফেরেশতা বলে, (আমীন) আল্লাহ কবুল করুন, আর তোমার জন্যও অনুরূপ হোক (অর্থাৎ তুমি তোমার মুসলিম ভাই-এর জন্য যে কল্যাণ কামনা করে দোয়া করলে সে কল্যাণ তোমারও হোক।

— মুসলিম

১৮। হযরত আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা পরপর একত্রে হজ্জ ও উমরাহ কর। কেননা এ হজ্জ ও উমরাহ দারিদ্র ও গুনাহ্ দূর করে দেয়, যেমন হাপরের আগুনে লোহা ও সোনা-রুপার ময়লা দূর হয়। একটি কবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।

— তিরমিযী

১৯। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজ্জ করল এবং হজ্জ পালনকালে কোন ধরনের অশালীন কথা ও কাজে কিংবা কোন গোনাহর কাজে লিপ্ত হয়নি, সে যেন নবজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করল।

— বুখারী ও মুসলিম

আল্লাহু আকবার! আল্লাহ তায়ালার কত বিরাট করুণা ও অনুগ্রহ যে, হজ্জের জন্য তিনি বিপুল সওয়াব দান করে থাকেন এবং সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ করে দেন। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এবং তাবয়ীগণ অজস্র কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও অধিক সংখ্যায় হজ্জ সমাপন করতেন। কেউ কেউ তো প্রত্যেক বছরই হজ্জ পালন করতেন। ইমামে আযম আবু হানিফা (রহ.) পঞ্চান্নবার হজ্জ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র