এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

হযরতের মূল পূর্বপুরুষগণ মোমেন

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর বিস্তারিত জীবনী





  • হযরতের মূল পূর্বপুরুষগণ মোমেন













হুযুর আকরাম (দঃ)-এর ঊর্ধ্বতন মূলধারার পূর্বপুরুষ নর-নারী সকলেই মোমেন ছিলেন-এ বিষয়ে সংক্ষেপে কয়েকটি প্রমাণ পেশ করা হচ্ছে।

প্রথম প্রমাণঃ

কোরআন মজিদের একটি আয়াতে আল্লাহ আয়ালা এরশাদ করেনঃ

হে রাসুল! সিজদাকারী মোমেনগণের মধ্যে আপনার আবর্তন আমি লক্ষ্য করেছি।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে-

আপনার পূর্ববর্তী সকল নর-নারী- যাদের মাধ্যমে আপনি আবর্তিত হয়ে এসেছেন- তাঁরা সকলেই ছিলেন সিজদাকারী মোমেন।

— তাফসীরে ইবনে আব্বাস

দ্বিতীয় প্রমাণঃ

নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেছেনঃ

আল্লাহ তায়ালা পর্যায়ক্রমে আমাকে পবিত্র ঔরস (মোমেন পুরুষ) হতে পবিত্র গর্ভের (মোমেন নারী) মাধ্যমে পাক-সাফ অবস্থায় স্থানান্তরিত করে পৃথিবীতে এনেছেন।

হাদীসখানা এত পরিষ্কার এবং এত শালীন ভাষায় উদ্ধৃত হয়েছে যে, যুগ যুগান্তরের শিরক ও কুফরীর অপবিত্রতা এবং চরিত্রগত ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে হুযুর (দঃ)-এর পূর্ব পুরুষগণের মুক্ত থাকার পরিষ্কার ইঙ্গিত তাতে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে। কোরআনের পরিভাষায় পবিত্র নর-নারী বলতে ঈমানদারকেই বুঝানো হয়েছে এবং খবীস বা অপবিত্র বলতে কাফের মোশরেকদেরকেই বুঝানো হয়েছে। (সূরা মোমেনুন ১৮ পারা)

তৃতীয় প্রমাণঃ

ইবনে মোহাম্মদ কলবীর বর্ণনা সূত্রে তাঁর পিতা মোহাম্মদ কলবী (রঃ) বলেনঃ

আমি নবী করিম (দঃ)-এর বংশধারার পূর্ববর্তী পাঁচশত মায়ের তালিকা প্রস্তুত করেছি। তাঁদের মধ্যে আমি চরিত্রহীনতা এবং জাহেলিয়াতের কিছুই পাইনি

— বেদায়া নেহায়া

জাহেলিয়াত অর্থ কুফরী ও শেরেকী। চরিত্রহীনতা অর্থ যিনা। সুতরাং হুযুরের ঊর্দ্ধতন মহিলারা ছিলেন শিরিক, কুফর ও চরিত্রহীনতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত- অর্থাৎ মোমেনা ও সতী-সাধ্বী নারী। সুতরাং উপরোক্ত তিনটি অকাট্য দলীলের দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, নবী করিম (দঃ)-এর পিতা মাতা মোমেন ছিলেন এবং মিল্লাতে ইব্রাহীমীর উপর তাঁদের মৃত্যু হয়েছিলো।

ইসলামের আবির্ভাবের পর দশম হিজরীতে যখন নবী করিম (দঃ) হজ্ব করতে মক্কা শরীফে আগমন করেন, তখন হাজুন নামক কবরস্থানে (বর্তমানে জান্নাতুল মায়াল্লা) আল্লাহ পাক তাঁর পিতা-মাতাকে এনে পুনর্জীবিত করে দ্বীনে মোহাম্মদী (দঃ) গ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। ইমাম সোহায়লী ও খতীবে বাগদাদী সূত্রে হযরত আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ সম্পর্কীয় হাদীসখানা বেদায়া-নেহায়া গ্রন্থে ইবনে কাসির এবং মাওয়াহেব গ্রন্থে ইমাম কাসতুলানী, ফতোয়ায়ে শামীতে আল্লামা ইবনে আবেদীন বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু ওহাবী আলেমগণ বলে থাকেন যে, এসব হাদীস নাকি জাল বা মাওযু। এ কারণেই উপরে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র উল্লেখ করা হলো। ওহাবীদের মতে হযরত আবদুল্লাহ ও বিবি আমেনা (রাঃ) নাকি কুফরী হালাতে ইনতিকাল করেছেন, নাউযুবিল্লাহ। তারা যুক্তি হিসেবে বলে থাকে যে, হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূল (দঃ)-এর জন্মের পূর্বে এবং বিবি আমেনা (রাঃ) হুযুরের ছয় বছর বয়সে ইনতিকাল করেছেন। তাই তাঁরা ইসলাম গ্রহণের যুগ পাননি। তাদের এই কুটযুক্তি উপরের তিনটি দলীলের দ্বারা অসার প্রমাণিত হয়েছে। তারা আরো একটি যুক্তি দেখায় যে, বিবি আমেনার (রাঃ) কবর যিয়ারত করতে চাইলে আল্লাহ আয়ালা নবী করিম (দঃ) কে অনুমতি দেন। কিন্তু মাগফিরাতের দোয়ার অনুমতি চাইলে প্রত্যাখ্যান করেন। সুতরাং তাদের মতে তিনি মোমেন ছিলেন না। আল্লামা মানাভী এর জবাব এভাবে দিয়েছেন- কবর যিয়ারতের অনুমতি প্রদানই প্রমাণ করে যে, বিবি আমেনা (রাঃ) মোমেন ছিলেন। আর তিনি নেককার ছিলেন বলেই ঐ সময় মাগফিরাতের প্রার্থনা নামঞ্জুর করা হয়। তবে নবী করিম (দঃ) উম্মতের শিক্ষার জন্য সবসময় মাতা-পিতার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতেন- যার বর্ণনা নিম্নে করা হবে।

বিঃ দ্রঃঃ

এখানে কারো কারো পক্ষ হতেও একটি প্রশ্নের সৃষ্টি হতে পারে। তাহলো- মায়ের মাগফিরাত প্রার্থনা নামঞ্জুর করার কারণ হলো- তিনি ছিলেন নেককার। তাহলে পরবর্তী সময়ে দেখা যায়- নবী করিম (দঃ) সবসময় নিজের জন্য এবং পিতা-মাতার জন্য মাগফিরাত কামনা করতেন। তাহলে কি নবীজী এবং তাঁর পিতা-মাতা বদকার বা গুনাহগার ছিলেন? নাউযুবিল্লাহ !

এ বিষয়টির জবাব তাফসীরে রুহুল বয়ান ২৬ পারা সূরা আল-ফাতাহ ২য় আয়াতের ব্যাখ্যায় এভাবে বলা হয়েছে- হে রাসুল, আপনার উছিলায় আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন- আল্লাহর এই বাণীর বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। কেননা তিনি তো ছিলেন বেগুনাহ। সুতরাং আয়াতে 'আপনার গুনাহ্'-এর অর্থ হবে 'আপনার উম্মতের গুনাহ্'।

আর 'মাগফিরাত'-এর তিনটি অর্থ রয়েছে। যথাঃ

(১) অপরাধ ক্ষমা করা
(২) অপরাধ থেকে হেফাযত করা
(৩) অপরাধের খেয়াল থেকে নিরাপদ রাখা।

প্রথম অর্থ হবে সাধারণ গুনাহগারদের বেলায়। দ্বিতীয় অর্থ হবে নেককার ও আল্লাহর অলী এবং নবীজীর পিতা-মাতা সাহাবীগণের বেলায়। তৃতীয় অর্থ হবে নবীগণের বেলায়।

উক্ত ব্যাখ্যার দ্বারা বুঝা গেলো- নবী করিম (দঃ) নিজের জন্য যে মাগফিরাত কামনা করতেন- তার অর্থ হবে- হে আল্লাহ, আমাকে সদাসর্বদা গুনাহ বা অপরাধের খেয়াল থেকে বাঁচিয়ে রাখিও। হুযুরের পিতা-মাতার জন্য মাগফিরাত কামনার অর্থ হবে- হে আল্লাহ, আমার পিতা-মাতাকে গুনাহ্ থেকে হেফাযতে রাখিও। আর সাধারণ উম্মতের জন্য মাগফিরাত কামনার অর্থ- হে আল্লাহ্ ! তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিও। (রুহুল বয়ান সূরা ফাতহ আয়াত-২)

এখন পরিষ্কার হয়ে গেলো- হুযুরের পিতা-মাতা নেককার ছিলেন এবং নবীজী তাদের গুনাহ হতে হেফাযতের জন্যই দোয়া করতেন এবং গুনাহ ও যাবতীয় অপরাধের খেয়াল থেকে নিজেকে নিষ্পাপ রাখার জন্য তিনি সর্বদা দোয়া করতেন (তাফসীরে রুহুল বয়ান)। একই শব্দের একাধিক অর্থ ও তার প্রয়োগ সম্পর্কে না জানার কারণে অনেকেই নানা মতানৈক্য সৃষ্টি করেন। সর্বোপরি জওয়াব হলো- উম্মতকে শিখানোর জন্যই হুযুর (দঃ) ঐভাবে দোয়া করতেন।

তথসূত্র

  • নূরনবী (লেখকঃ অধ্যক্ষ মাওলানা এম এ জলিল (রহঃ), এম এম, প্রাক্তন ডাইরেক্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)