হযরত আবদুর রহমান ইব্ন আউফের ইসলাম গ্রহণের অভিনব কাহিনী

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 1





























  • হযরত আবদুর রহমান ইব্ন আউফের ইসলাম গ্রহণের অভিনব কাহিনী

ইব্ন আসাকির হুমায়েদ ইব্ন আবদুর রহমান থেকে রেওয়ায়েত করেন যে, আবদুর রহমান বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আবির্ভাবের বছরখানেক আগে ইয়ামন গেলাম। সেখানে আসকালান ইব্ন আওয়াকীন হিময়ারীর বাড়ি অবস্থান করলাম। তিনি ছিলেন একজন বৃদ্ধ মানুষ। যতবার আমি ইয়ামন গেছি ততবার তাঁর বাড়িতে উঠেছি। তিনি সবসময় আমাকে মক্কা, বায়তুল্লাহ্ এবং যমযম কূপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। এবং নবী হিসাবে কেউ আত্মপ্রকাশ করেচেন কি না খুব ব্যগ্র হয়ে খোঁজ-খবর করতেন। আমি তাঁকে ‘না’ বলে উত্তর দিতাম।”

এবার আমি তাঁর বাড়িতে গেলাম। দেখলাম, তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন। শ্রবণ শক্তিও কমে গেছে। আমি তাঁর কাছে গেলে, তাঁর সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনীরাও জমায়েত হলো। এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে আমাকে অবহিত করল। তিনি নিজের চোখের উপর একটি পট্টি দিলেন (সম্ভবত ব্যাথা- বেদনার কারণে) এবং বালিশে হেলান দিয়ে বসলেন। তারপর বললেন, হে কোরয়শী ভাই ! আমার কাছে তোমার বংশ পরিচয় দাও।

আমি বললাম, “আমি হলাম আবদুর রহমান ইব্ন আওফ ইব্ন আবদে মানাফ ইব্ন হারিছ ইব্ন যুহারা।” তিনি বললেন, যুহরার ভাই ছিল। এ বংশ পরিচয়ই যথেষ্ট। আমি কি তোমাকে এমন একটি সুসংবাদ দিয়ে খুশি করব না যা তোমার পক্ষে এ বাণিজ্য চেয়েও উত্তম ? বললাম, অবশ্যই। তিনি বললেন, আমি তোমাকে একটি অভাবিত বিস্ময়কর সংবাদ জানাচ্ছি এবং একটি পরম কাম্যবস্তুর সুসংবাদ প্রদান করছি। সেটি হলো এই যে, গত মাসে তোমাদের গোত্রে আল্লাহ্ একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁর কাছে কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাঁর জন্য সওযাব নির্ধারিত হয়েছে। তিনি মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ করেছেন এবং বাতিল প্রতিহত করছেন।

আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এ নবী কাদের মাঝ থেকে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি বললেন, অন্য কোন গোত্র থেকে নয় ; বনী হাশেম থেকে । তোমরা তাঁর মাতুল বংশ। হে আবদুর রহমান ! বেশিদিন এখানে অবস্থান করো না, তাড়াতাড়ি ফিরে যাও। তাঁকে সাহায্য করো। তাঁর সত্যতা ঘোষণা করো এবং তাঁর খিদমতে আমার এ কবিতাগুলো পেশ করোঃ

(মর্মার্থ) আমি আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছি যিনি মহান।

রাতের আর ভোরের আলো তিনিই প্রকাশ করেন।

(তাঁর নবী) কৌলীন্যে ও বীরত্বে তিনি কুরায়শ বংশীয়।

তিনি ঐ মহান ব্যক্তির সন্তান, যার যবহের বিনিময়ে (একশ উটের) ফিদয়া দেওয়া হয়েছে।

তিনি প্রেরিত। তিনি সত্যের আহবানকারী, ন্যায় ও কল্যানের পথপ্রদর্শক।

আমি আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেই যিনি মূসারও পরওয়ারদেগার

তিনি প্রেরিত। তিনি সত্যের আহবানকারী, ন্যায় ও কল্যাণের পর্থপ্রদর্শক।

আমি আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেই যিনি মূসারও পরওয়ারদেগার।

তিনি প্ররিত হয়েছেন বাতহায়।

(হে নবী) আপনি আমার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করুন।

আল্লাহ তো মানুষকে সাফল্যের দিকেই ডাকেন।

আবদুর রহমান বলেন, আমি কবিতাগুলো মুখস্থ করলাম। তারপর দ্রুত কাজ শেষ করে মক্কায় ফিরলাম। হযরত আবূ বকরের সাথে দেখা করে সব ঘটনা খুলে বললাম। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ্ তা’আলা মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ (সা)-কে মানব জাতির নবী করে প্রেরণ করেছেন। তুমি তাঁর কাছে যাও।’ আবদুর রহমান তাঁর কাছে গেলেন। তখন রাসূল (সা) খাদিজা (রা)-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। আবদুর রহমান বলেন, আমাকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন। বললেন, ‘বল, তোমার কি খবর !’ আমি একজন সচ্চরিত্র ব্যক্তির চেহারা দেখতে পাচ্ছি। আমি তাঁর মঙ্গলের আশা রাখি যাকে তুমি পিছনে রেখে এসেছ।”

আমি আরজ করলাম, আপনি কার কথা বলেছেন হে মুহাম্মদ ! রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তুমি আমার কাছে কোন আমানত এবং কারো পয়গাম নিয়ে এসেছ ? বল, কি সেই পয়গাম ?

আমি তখন জ্ঞানবৃদ্ধ হিময়ারীর কবিতা তাঁর কাছে নিবেদন করলাম এবং আমিও ইসলাম বকূল করলাম। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করলেন, ভাই হিময়ারী একজন বিশেষ স্তরের মুসলমান। বহু মানুষ আমার প্রতি ঈমান এনেছে,অথচ তারা আমায় দেখেনি। বহু মানুষ আমার সত্যতার ঘোষণা প্রদান করেছে, অথচ তারা আমার কাছে আসেনি। এরা আমার সত্যিকার ভাই। (খাসায়েসুল কোবরা)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)