হযরত আব্দুল্লাহ বিন হাসান (রাঃ) এর শাহাদাত

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কারবালার ইতিহাস
















  • হযরত আব্দুল্লাহ বিন হাসান (রাঃ) এর শাহাদাত















হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর সামনে তাঁর আপন ভাতিজা, হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) এর নয়নের মণি এবং হযরত ফাতিমাতুয্ যুহরা (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) এর দৌহিত্র উপস্থিত হলেন । তিনি যুদ্ধে গমনের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলেন । তিনি তাঁর(রাঃ) ভাতিজার প্রতি অশ্রুসজল নয়নে তাকালেন এবং বললেন, ‘তোমরা আমার সাথে এসেছিলে এ উদ্দেশ্যে যে, চাচার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ভক্ত ও মুরীদানদের বাড়িতে যাবে এবং কয়েকদিন আনন্দ-আহ্‌লাদ করবে । আমিও তোমাদেরকে তলোয়ার ও তীরের আঘাত খাওয়ার জন্য সঙ্গে আনিনি । শোন! ওরা আমার রক্তের পিপাসু, তোমাদের রক্তের জন্য লালায়িত নয় । তোমাকে আমি অনুমতি দিতে পারিনা । তুমি আশ্রয় শিবিরে ফিরে যাও এবং তোমার মা-বোনদের সাথে মদীনা মুনাওয়ারায় চলে যেও। কিন্তু ভাতিজা বার বার বলতে লাগলেন, চাচাজান! আমাকে আপনার হাতে বিদায় দিন এবং আপনার বর্তমানেই জিহাদের ময়দানে যাওয়ার অনুমতি দিন । আমি জান্নাতুল ফিরদাউসে পৌঁছার জন্য অস্থির । চাচাজান! দীর্ঘ তিন দিনের পিপাসায় খুবই কষ্ট পাচ্ছি । এখন মন চাইছে যে, যত তাড়াতাড়ি পারি জান্নাতুল ফিরদাউসে পৌঁছে আপন পিতা ও দাদাজানের হাতে হাউজে কাওছারের পানি পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করি । ভাতিজার জান-কুরবানীর জন্য এ রকম দৃঢ় সংকল্পবোধ দেখে তাঁকে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন; অতঃপর অশ্রুসজল নয়নে অনুমতি দিলেন ।

হযরত আলী (রাঃ)এর দৌহিত্র, হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)এর নয়নমণি হযরত আব্দুল্লাহ বিন হাসান (রাঃ) কারবালার মাঠে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত চমকাতে লাগলেন এবং ইয়াযীদী বাহিনীর সাথে মোকাবিলা করে অনেক ইয়াযীদী সৈন্যকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে নিজে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত শাহাদাত বরণ করেন ।

তথ্যসূত্র

  • কারবালা প্রান্তরে(লেখকঃ খতিবে পাকিস্তান হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শফী উকাড়বী(রহঃ))