এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

হযরত আব্বাস (রাঃ) এর শাহাদাত

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কারবালার ইতিহাস



















  • হযরত আব্বাস (রাঃ) এর শাহাদাত












হযরত ইমাম (রাঃ) বোনের হাত ধরে জোর করে বোনকে নিয়ে তাঁবুতে প্রবেশ করলেন। সেখানে গিয়ে আর এক দৃশ্য দেখলেন, তাঁর ছয় মাসের দুগ্ধ পোষ্য সন্তান হযরত আলী আছগর তৃষ্ণায় ছটফট করছিল এবং তাঁর জিহ্বা বের হয়ে গিয়েছিল। ছেলের মা বললেন, বাচ্চার এই অবস্থা আমি আর সহ্য করতে পারছি না। মুখ দিয়ে তাঁর কোন আওয়াজ বের হচ্ছে না। যে কোন প্রকারে ওর জন্য একটু পানি সংগ্রহ করুন। হযরত আব্বাস (রাঃ) পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি এ কথা শুনে একেবারে ব্যাকুল হয়ে পড়লেন এবং বললেন, ভাইজান! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এই মুহূর্তে গিয়ে ফোরাত নদী থেকে পানি নিয়ে আসি এবং সেই পানি পান করিয়ে এ বাচ্চার তৃষ্ণা নিবারণ করি। হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) বললেন, ভাই! একটু সবর করো, সে জান্নাতুল ফিরদাউসে গিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করবে। কিন্তু হযরত আব্বাস (রাঃ) বললেন, ভাই! বড় পরিতাপের বিষয়। আমাদের বর্তমানে একটি মাছূম শিশু এভাবে তৃষ্ণায় মারা যাবে, তা কখনো হতে পারে না। আমরা কী সেই শেরে খোদার আওলাদ নই, যিনি খায়বারের বৃহৎ দরজা হাতের উপর তুলে নিয়েছিলেন? আমি কোন বাধা মানতে রাজী নই, এ মুহূর্তে পানি নিয়ে এসে এ মাছূম বাচ্চার তৃষ্ণা মিটাবো।

অতঃপর মশক নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে তিনি ফোরাত নদীর দিকে ধাবিত হলেন এবং ফোরাত নদীর কাছে গিয়ে অতিদ্রুত ঘোড়া থেকে অবতরণ করে মশক ভরে পানি নিলেন এবং মুখ বন্ধ করে কাঁধের উপর উঠালেন এবং নিজ হাতে এক অঞ্জলি পানি মুখের কাছে নিলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে তৃষ্ণার্ত ভাতিজার কথা মনে উদিত হলো। ভাতিজা যেন বললো, ‘চাচাজান! আপনার উচিত নয় যে, আমার আগে পানি পান করা। আপনি আলী আছগরের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানি নিতে এসেছেন, নিজের জন্য নয়। প্রথমে আপনার মাছূম ভাতিজার তৃষ্ণা নিবারণ করান। এর পরেই আপনি পান করুন।’ শেষ পর্যন্ত হাতে নেয়া পানি ফেলে দিলেন এবং ঘোড়াকে নদীর কিনারা থেকে যখন উপরে উঠালেন, তখন ইয়াযীদের যালিম বাহিনীরা তাঁকে ঘিরে ফেলল। তিনি এ অবরোধ ভেদ করে অগ্রসর হলেন। ওরা পুনরায় অবরোধ করলো। তিনি এটাও প্রতিহত করলেন। এভাবে অবরোধ প্রতিহত করে ইয়াযীদী বাহিনীর অনেককেই জাহান্নামে পাঠিয়ে তিনি অগ্রসর হচ্ছিলেন । কিন্তু তিনি ছিলেন একা আর ওরা ছিল চার হাজারেরও অধিক। ওরা পুনরায় চারিদিক থেকে ঘিরে বৃষ্টির মত তীর নিক্ষেপ করতে লাগল এবং তাঁর শরীর তীরের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গেল। এভাবে তীরের আঘাতে যখন তাঁর শরীর থেকে অনেক রক্ত বের হয়ে গেল, কাপুরুষ ইয়াযীদ বাহিনী বুঝতে পারলো যে, তিনি অনেক কাবু হয়ে গিয়েছেন। তাই নিকটবর্তী হয়ে পিছন দিক থেকে একজন তরবারীর আঘাতে তাঁর বাম হাত কেটে ফেলল। বাম হাত কেটে ফেলার ফলে মশক পড়ে যাচ্ছিল। শেরে খোদার আওলাদ তখনও সাহস হারাননি। তিনি মশক ডান কাঁধে নিয়ে নিলেন। সেই যালিমরা ডান হাতটাও কেটে ফেলল। মশক তখন পড়ে যাচ্ছিল, কিন্তু শেরে খোদার আওলাদ-এর হিম্মত দেখুন, তিনি দুই বাজু দিয়ে মশক আঁকড়িয়ে ধরলেন। এবার বাজুদ্বয়ও কেটে ফেলল কাফিররা। এখন এমন কিছু নেই যে ঘোড়ার লাগাম ধরবেন, এমন কোন হাত নেই যে তলোয়ার চালনা করবেন, এমন কিছু নেই যে মশক আঁকড়িয়ে ধরবেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি দাঁত দিয়ে মশকের মুখ কামড়িয়ে ধরলেন। যালিমরা তীর নিক্ষেপ করে মশক ফুটা করে দিল এবং পানি সব পড়ে গেল। এই অবস্থা দেখে তিনি দাঁতের কামড় থেকে মশক ছেড়ে দিলেন এবং বলতে লাগলেন, হে আলী আছগর! এ অবস্থায় আমি কিভাবে তোমার তৃষ্ণা নিবারণ করি? আমিতো তোমার তৃষ্ণা নিবারণে কামিয়াব হতে পারলাম না। তিনি ঘোড়ার উপর বসা অবস্থায় ছিলেন। ইয়াযীদী বাহিনীর সৈন্যরা তীরের আঘাতে উনাকে ঘোড়া থেকে মাটিতে ফেলে দিল এবং চারিদিক থেকে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করতে লাগলো। হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) দূর থেকে দেখলেন হযরত আব্বাস (রাঃ) ঘোড়া থেকে মাটিতে পড়ে গেছেন। তখন উনি গুমরিয়ে কেঁদে উঠলেন এবং বললেন, ‘আমার কোমর ভেঙ্গে গেল।’ তিনি একেবারে বেকারার হয়ে পড়লেন। তাঁর সকল সঙ্গীরা চলে গেলেন এবং তাঁর ডান হাত হযরত আব্বাসও চলে গেলেন। এখন হযরত হুসাইন (রাঃ) একেবারে একা হয়ে গেলেন। তিনি আত্মহারা হয়ে তাঁর ভাইয়ের লাশের কাছে ছুটে গেলেন। হযরত আব্বাস (রাঃ)-এর দুই বাহু কাটা ছিল, শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল এবং সেই যালিমরা তাঁর মাথা কেটে নিয়ে গিয়েছিল। লাশের কাছে পৌঁছে তিনি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, ভাই! তুমিতো আমাকে ছেড়ে চলে গেলে, তোমার সাথে অনেক কথা বলার ছিল। কিন্তু কিছুই বলতে পারলাম না।’ অতঃপর ভাইয়ের রক্ত রঞ্জিত লাশ সেখানে ফেলে কেঁদে কেঁদে ফিরে আসলেন।

তথ্যসূত্র

  • কারবালা প্রান্তরে(লেখকঃ খতিবে পাকিস্তান হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শফী উকাড়বী(রহঃ))