এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

হযরত ইমাম কাসেম (রাঃ) এর শাহাদাত

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কারবালার ইতিহাস

















  • হযরত ইমাম কাসেম (রাঃ) এর শাহাদাত














আল্লাহ ! আল্লাহ ! এবার হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর সামনে যিনি এসে উপস্থিত, তিনি হলেন তার প্রিয় ভাতিজা হযরত ক্বাসিম (রাঃ), যাঁর সাথে তাঁর মেয়ে হযরত সখিনা আলাইহাস সালাম উনার বিবাহের আগাম ওয়াদা ছিল। হযরত ক্বাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন ঊনিশ বছরের নওজোয়ান। যখন তিনি তাঁর নওজোয়ান ভাতিজা তথা সখিনার হবু জামাতাকে সামনে দেখলেন, তখন তিনি কেঁদে দিলেন এবং বললেন, বাবা! আমি তোমাকে কিভাবে বিদায় দিতে পারি? তোমাকে কিভাবে আমি তীর খাওয়ার অনুমতি দিতে পারে ? তোমাকে কি আমি তলোয়ারের আঘাত খাওয়ার অনুমতি দিতে পারি? প্রিয় ভাতিজা! দেখ, আমার ভাইয়ের এটা একান্ত আশা ছিল যে, সখিনার বিবাহ যেন তোমার সাথে হয়। ওগো আমার প্রিয় ভাতিজা! তুমি মদীনা মুনাওওয়ারায় ফিরে গিয়ে আমার মেয়ে সখিনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমার ভাইয়ের আশা পূর্ণ করো। কিন্তু হযরত ক্বাসিম (রাঃ) বললেন, চাচাজান! আমার আব্বাজানের আরও একটি আশা ছিল, সেটা হলো, আমার আব্বাজান আমার গলায় একটা তাবিজ দিয়েছিলেন এবং ওসীয়ত করে গিয়েছেন যে,

বাবা! এ তাবিজটা তখনই খুলে দেখিও, যখন কোন বড় মুছীবতের সম্মুখীন হও এবং সেই মতে আমল করিও।

তাই আমি এ মুহূর্তে তাবিজটা খুলে দেখলাম। কারণ এর থেকে বড় মুছীবত আর কী হতে পারে! তাবিজ খুলে যা লিখা দেখলাম তাহলো-

ওহে আমার প্রিয় বৎস ক্বাসিম! এমন এক সময় আসবে, যখন আমার ভাই কারবালার মাঠে শত্রু পরিবেষ্টিত হবে। শত্রুরা উনার জানের পিপাসু হবে, বৎস! তুমি যদি সত্যিকার আমার ছেলে হও, তখন নিজ জানের কোন পরওয়া করো না। বরং নিজের জান চাচার জন্য উৎসর্গ করে দিও। কারণ, সেই সময় হুসাইনের জন্য যে জান কুরবানী দেবে, আল্লাহ তায়ালার দরবারে সে খুবই উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে।

তাই চাচাজান! আমাকেও আপনার হাতে বিদায় দিন। আমি আপনার পরে জীবিত থাকতে চাই না। আমাকে বিদায় দিন, আমি যাতে সহসা জান্নাতুল ফিরদাউসে পৌঁছে তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারি এবং আব্বাজানকে গিয়ে বলতে পারি, আব্বাজান! আমি আপনার আশা পূর্ণ করে এসেছি।’

হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) শেষ পর্যন্ত তাঁকেও বুকে জড়িয়ে ধরে যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে বিদায় দিলেন। হযরত ইমাম ক্বাসিম (রাঃ) ইয়াযীদী বাহিনীর বড় বড় যোদ্ধাকে টুকরো-টুকরো করে ফেললেন। ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে যে বাহাদুরী দেখিয়েছিলেন, তা দেখে ইয়াযীদী বাহিনীর জাদরেল সৈন্যরাও হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এ বাহাদুরও আঘাতের পর আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে পৌঁছে গেলেন । এভাবে হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর চারজন ভাতিজা শহীদ হন।

তথ্যসূত্র

  • কারবালা প্রান্তরে(লেখকঃ খতিবে পাকিস্তান হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শফী উকাড়বী(রহঃ))