হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর মর্মস্পর্শী ভাষণ এবং হুরের সপক্ষ ত্যাগ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
কারবালার ইতিহাস














  • হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর মর্মস্পর্শী ভাষণ এবং হুরের সপক্ষ ত্যাগ

















হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)এর আপন জনের মধ্যে ভাই ছিল, ভ্রাতুষ্পুত্র ছিল, ভাগিনা ছিল এবং ছেলে ছিল । তিনি কাউকে কিছু না বলে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে ইয়াযীদের সৈন্যদের সামনে গেলেন এবং বললেন,

তোমাদের মধ্যে আহলে রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাহায্যকারী কেউ আছো কি? এ সঙ্কটময় মুহূর্তে আওলাদে রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাহায্যকারী কেউ আছো কি? আহলে রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহায্য করে বেহেশ্তে গমনের ইচ্ছুক কেউ আছো কি ?

তাঁর এ আহবানে ইয়াযীদী বাহিনীর হুর বিন ইয়াযীদ রিয়াহীর অন্তরে বিপ্লব শুরু হয়ে গেল । সে ঘোড়ার উপর অস্বস্তি বোধ করতে লাগলো । তার এই অবস্থা দেখে তার এক সঙ্গী জিজ্ঞাসা করলো- হুর! কি হল? তোমার এই অবস্থা কেন? তোমাকে বড়ই ব্যতিব্যস্ত দেখাচ্ছে কেন ? আমি তোমাকে অনেক বড় বড় যুদ্ধ ময়দানে দেখেছি । কিন্তু কোন সময় তোমাকে আমি এ রকম অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখিনি । কিন্তু এখন তোমার এই অবস্থা কেন ? হুর বলল, কি বলবো, আমি আমার একদিকে বেহেশ্ত দেখছি আর এক দিকে দোযখ । মাঝখানে অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছি এবং কি করব তা চিন্তা করছি । একদিক আমাকে দোযখের দিকে টানছে আর একদিক বেহেশ্তের দিকে আহবান করছে । এটা বলার পর পরই তিনি ঘোড়াকে চাবুক মেরে এক নিমিষে ইয়াযীদী বাহিনী থেকে এ বলে বের হয়ে আসলেন, ‘যেতে হলে বেহেশ্তেই যাব।’ শত্রু বাহিনী থেকে বের হয়ে হুর জোর গলায় বললেন, দেখ, জাহান্নাম থেকে আল্লাহওয়ালা বের হচ্ছে ।

আসলে একজন বের হয়ে আসার দ্বারা হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) বাহিনীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন হল না । আর ইয়াযীদী বাহিনীরও হাজারের মধ্যে একজন চলে যাওয়ায় তেমন কোন ক্ষতি হলো না । কিন্তু আসল কথা হলো, হুর ছিল বেহেশ্তী কিন্তু অবস্থান করছিল দোযখীদের সাথে ।

হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) তাঁর আধ্যাত্মিক দূরদৃষ্টি দ্বারা অবলোকন করলেন যে, জান্নাতী দোযখীদের মধ্যে অবস্থান করছে । তাই ইমাম হুসাইন (রাঃ) ডাক দিলেন, তাঁর ডাকটা ছিল হুরের ইয়াযীদী বাহিনী থেকে বের হয়ে আসার একটা উপলক্ষ মাত্র । হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর দ্বারা তাঁর বেহেস্তের রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেল । হুর বের হয়ে সোজা হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)এর সামনে আসলেন এবং বলতে লাগলেন,

ওগো রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর আওলাদ! আপনি যে ডাক দিয়েছেন, ‘এ নাজুক সময়ে আওলাদে রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাহায্য করে বেহেশ্তে যাওয়ার মত কেউ আছে কিনা’ আমি সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ইয়াযীদ বাহিনী থেকে বের হয়ে এসেছি । তাই আমি যদি আজ আপনার সাহায্যার্থে জান কুরবান করি, তাহলে সত্যিই কি আপনার নানাজান (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর শাফায়াত নসীব হবে?

উনি বললেন, ইনশাআল্লাহ হবে । হুর বললেন, আপনি আমার জন্য দুয়া করুন, আল্লাহ তায়ালা যেন আমার বিগত দিনের পাপ মাফ করে দেন এবং আমার গড়িমসিকে ক্ষমা করে দেন । আমি আপনার পক্ষে জান কুরবান করার জন্য যাচ্ছি । এ বলে হুর কোমর থেকে তলোয়ার বের করে ইয়াযীদী বাহিনীর সামনে গেলেন । হুরকে দেখে ইয়াযীদী বাহিনীর সেনাপতি আমর বিন সা’দ সৈন্যদেরকে বললো, দেখ, হুর ছিল আমাদের বাহিনীর সেনাপ্রধান । সে এখন আমাদের শত্রুদের হাতে হাত মিলিয়েছে । সে আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে । তোমরা তাকে এমন শিক্ষা দাও, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে শিক্ষণীয় হয়ে থাকে । এরপর ইয়াযীদী বাহিনী চারিদিক থেকে আক্রমণ শুরু করলো । হযরত হুরও এমন জোরে আক্রমণ শুরু করে দিলেন যে, ইয়াযীদী বাহিনীর জন্য যেন খোদার গযব নাযিল হলো। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

তথ্যসূত্র

  • কারবালা প্রান্তরে(লেখকঃ খতিবে পাকিস্তান হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শফী উকাড়বী(রহঃ))