হযরত জিবরীল (আঃ)-এর দ্বীন শিক্ষা দান

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
ইসলাম


  • হযরত জিবরীল (আঃ)-এর দ্বীন শিক্ষা দান

হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-একদিন রছূলুল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছল্লামের নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় সাদা ধবধবে পোষাক ও মিশমিশে কাল চুলওয়ালা একজন লোক আমাদের নিকট আসলেন। তার মধ্যে ভ্রমণের কোন চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না অথচ আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতেও পারছিল না। তিনি রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম এর কাছে এসে তাঁর দু’হাটুর সংগে দু’হাটু মিলিয়ে বসলেন এবং নিজের দু’হাত রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম এর দু’উরুর উপর রেখে বললেন - “হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইছলাম সম্পর্কে বলুন। রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বললেন- সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রছূল, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত দেবে, রমজান মাসের রোজা রাখবে, বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্ব করবে, যদি ছহি ছালামতে সেখানে পৌঁছিতে সক্ষম হয় - এ হলো ইছলাম। তিনি বললেন - ঠিক বলেছেন। তার কথায় আমরা এ কারনে আশ্চর্য বোধ করলাম যে, তিনি নিজে প্রশ্ন করছেন, আবার নিজেই তার উত্তরের সত্যতা সমর্থন করছেন। এরপর তিনি বললেন - ঈমান কাকে বলে, এ সম্পর্কে আমাকে বলুন! রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বললেন - তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতা, কেতাব সমূহ, নবী-রছূলগণ, কেয়ামতের হিসাব-নিকাশের উপর এবং ঈমান আনবে তকদীরের ভাল মন্দের উপর। তিনি বললেন - আপনি সত্য বলেছেন। এরপর তিনি বললেন - আমাকে ইহছান সম্পর্কে বলুন। রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বললেন - তুমি আল্লাহর ইবাদাত এমন ভাবে করবে, যেন তুমি তাকে দেখছো। যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তাহলে মনে রেখো নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। এরপর লোকটি চলে গেল। বেশ কিছু পর রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম আমাকে বললেন - ওমর! তুমি লোকটিকে চিনতে পারলে? আমি বললাম - আল্লাহ এবং তার রছূল ভালই জানেন। রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বললেন - তিনি হলেন জিবরীল। তোমাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্যে তিনি তোমাদের কাছে এসে ছিলেন।

— মুছলিম, হাদীছ নং-১

বোখারী শরীফে হযরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু হতে হাদীছে জিবরীল বর্ণিত হয়েছে। উক্ত হাদীছে রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু বলেছেন-

ইনি জিবরীল, লোকদের দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্যে তিনি এসেছিলেন।

— বুখারী, হাদীছ নং-৪৮। মেশকাত, হাদীছ নং-২

হাদীছে ১। ইছলাম ২। ঈমান ৩। ইহছান এই তিনটি বিষয়কে দ্বীন বলা হয়েছে। সুতরাং এ তিনটির সমষ্টিই হলো দ্বীন। এগুলি একে অপরের সংগে ওতপ্রোতভাবে মিলিত। যেমন ভাত রান্না করতে হাড়ি-পাতিল, চাল, পানি, আগুণ ও জ্বালানী অর্থাৎ কাঠ বা গ্যাস এ পাচটি জিনিষের যে কোন একটির অভাব হলে কোন অবস্থাতেই ভাত রান্না করা সম্ভব হয় না। তেমন ঈমান, ইসলাম ও ইহছান এ তিনটির যে কোন একটির অভাবে দ্বীন কায়েম করা সম্ভব হয় না।
আল্লাহ তাআ’লা কোরআন মাজীদে এরশাদ করেছেন -

(২০৮) হে মুমিনগণ! তোমরা ইছলামে পুরাপুরিভাবে প্রবেশ করো। আর তোমরা শয়তানের পথে চলো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।

— ছুরা বাকারাহ

এ আয়াতে আল্লাহ ঈমানদারদের ইছলামের আমলগুলি পুরাপুরিভাবে পালন করার জন্যে আদেশ করেছেন।

(৯৩) যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা এর পূর্বে (অর্থাৎ মদ হারাম হওয়ার পূর্বে যে মদ খেয়েছে সে জন্যে তাদের কোন গোনাহ হবে না, যদি তারা (অন্যান্য হারাম হতে) সংযত থাকে, ঈমান আনে এবং নেক আমল করে। এরপরও তারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ঈমান আনে এরপরও তারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও ইহছান করে। নিশ্চয় আল্লাহ ইহছান কারীদের ভালবাসেন।

— ছুরা মায়েদাহ

এ আয়াতে আল্লাহ্‌ তাআ’লা ঈমান ও ইহছান অবলম্বনকারীগণের পূর্বের সকল গোনাহ মাফ করার জন্যে ঈমান ও ইহছান অবলম্বন করাকে দ্বীনের অঙ্গ করেছেন।