হযরত জিব্রাইল আমীন ও এক নুরানী তারকা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
শিক্ষনীয় ইসলামী ঘটনাসমূহ 1



  • হযরত জিব্রাইল আমীন ও এক নুরানী তারকা


























একবার হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসল্লাম হযরত জিব্রাইল আমীনকে জিজ্ঞেস করলেন, হে জিব্রাইল তোমার বয়স কত? হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম আরজ করলেন - আমার সঠিক জানা নেই, তবে এতটুকু জানি যে, চতুর্থ হেজাবে এক নুরানী তারকা সত্তর হাজার বছর পর পর চমকাতো। আমি সেটাকে বাহাত্তর হাজার বার চমকাতে দেখেছি। হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসল্লাম এটা শুনে ফরমালেন- আমার প্রতিপালকের ইজ্জতের কসম! আমিই সেই নূরানী তারকা

সবকঃ

আমাদের হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সৃষ্টিকুলের সবার আগে সৃষ্টি হয়েছেন এবং তাঁর পবিত্র নূর ঐ সময়ও ছিল যখন কোন ফিরিশতা, কোন মানুষ না ছিল, যমিন, আসমান বা অন্য কোন বস্তু।

হাদীসের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই

মূল হাদিসটি হলঃ-

وعن ابلى هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه و سلم سائل جبريل عليه السلام فقال يا جبريل كم عمرك من السنين فقال يا رسول الله مست اعلم غير ان فى الحجاب الرابع نجما يطلع في سبعين الف سنة مرة رايته اثنين و سبعين الف مرة فقال يا جبريل و عزة ربى جل جلا له انا ذالك الكوب-


হযরত আবু হুরায়রা(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় একদা রাসুল পাক (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞাস করলেন, তোমার বয়স কত? জিবরাঈল(আঃ) আরজ করলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! ( আমার বয়স সম্পর্কে) আমি জানি না, তবে চতুর্থ পর্দায় একটি নক্ষত্র প্রতি সত্তর হাজার বছর পর পর একবার উদিত হতো, তাকে আমি ৭২ হাজার বার দেখেছি।রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরমালেন, হে জিবরাঈল! আমার প্রতিপালকের ইজ্জতের কসম।আমিই ছিলাম সেই নক্ষত্র।

নোটঃ
  • ইমাম বুখারীঃ আত তাশরীফাতে ফি খাসায়েস ওয়াল মুজিজাতঃ২/২৫৪পৃঃ;
  • ইমাম বোরহান উদ্দীন হালবীঃ সিরাতে হালবিয়্যাহঃ ১/৪৯পৃঃ(ইমাম বুখারির সুত্রে);
  • আল্লামা ইসমাঈল হক্কীঃতাফসিরে রুহুল বয়ানঃ৩/৫৪৩পৃঃ, ৩য় খন্ডঃসুরা তওবা,আয়াতঃ১২৮;
  • আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানীঃযাওয়াহেরুল বিহারঃ৩/৩৩৯, নিজস্ব বর্ণনা অনুসারে কারও মতামত উল্লেখ ছাড়া হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বোরহান উদ্দীন

ইমাম বোরহান উদ্দীন হালবী আশ শাফেয়ী (রাহমাতুল্লাহি আলাইয়হি) একজন গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিস তার উপর কোন অভিযোগ নেই। মোল্লা আলী ক্বারী(রহঃ) শরহে শিফা ১/৩৭পৃষ্ঠা সহ অসংখ্য স্থানে ইমাম হালবীর মতামত গ্রহণ করেছেন। আল্লামা বোরহান উদ্দীন হালবী (রহঃ) তার কিতাবের ভূমিকায় বলেন--

সীরাত গ্রন্থ সমূহে সহীহ,সাক্বীম, দ্বঈফ, বালাগ, মুরসাল, মুনকাতা ও মু'দাল হাদিস সমূহ একত্রিত করা হয়, কিন্তু মওদ্বু বা জাল হাদিস নয়।


— সীরাতে হালবিয়্যাহঃ১/৭পৃঃ

  • দেওবন্দীদের অন্যতম আলেম রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী ও খলিল আহমদ সাহানপুরী " বারাহানে কাতেয়ার" অনেক পৃষ্ঠায় ইমাম হালবীর নামের পাশে রাহমাতুল্লাহি আলাইহি শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর থেকে দলীলও গ্রহণ করেছেন।

অপরদিকে নজম (তারকা/নক্ষত্র) রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অন্যতম নাম মোবারক, রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নুরানি সত্তাকে তারকা বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। যেমনঃ অনেক স্থানে কোরআনে পাকের সূরা "ওয়ান্নাজম" এর মধ্যে মজবুত যোগসূত্র পাওয়া যায়। কারণ, অনেক তাফসীরকারক উক্ত সুরাতে "আন নাজম" বলতে রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বুঝিয়েছেন, যেমনঃ ইমাম জাফর সাদেক(রহঃ) বলেন,

আন নাজম বলতে হযরত মুহাম্মদ (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে। ইজ হাও দ্বারা রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মি'রাজ রজনীতে আসমান হতে জমিনে অবতরণ কে বুঝানো হয়েছে।

নোট
  • ইমাম কুরতুবীঃজামিউল আহকামুল কোরআনঃ১৭/৮৩পৃঃ, কাহেরা, মিশর;
  • ইমাম বাগভীঃমুআলিমুত তানযিলঃ৭/৪০০পৃঃ;
  • ইমাম আলূসীঃতাফসীরে রুহুল মা'আনীঃ১৪/৪৪পৃঃ;
  • কাজী সানাউল্লাহ পানিপথীঃতাফসীরে মাযহারিঃ৯/১০৩পৃঃ;
  • ইমাম সাভীঃতাফসীরে সাভীঃ৪/১২৯পৃঃ;
  • ইমাম খাযেনঃতাফসীরে খাযেনঃ৪/২০৩পৃঃ;
  • আল্লামা ইসমাঈল হক্কীঃরুহুল বয়ানঃ৯/২০৮

তথ্যসূত্র