হায়েজ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
  • হায়েজের নিম্নসীমা তিন দিন-রাত অর্থাৎ ৭২ ঘন্টা এবং দীর্ঘসীমা দশ দিন - রাত অর্থাৎ ২৪০ঘন্টা।

হায়েজের রক্ত কালো, লাল, হলুদ, নীল, সবুজ ও মেটে এ ছয় রং এর হতে পারে। অন্য রং হলে তা হায়েজ নয়। বরং তা এস্তেহাজা বা প্রদর রোগ। মেয়েদের নয় বছর বয়স হতে পঞ্চান্ন বছর বয়স পর্যন্ত ঋতুস্রাব (হায়েজ) হতে পারে। এ সময়ের আগে বা পরে ঋতুস্রাব দেখা দিলে তাকে এস্তেহাজা বা রক্ত প্রদর বলে গন্য করবে। তেমন ৭২ ঘন্টা হতে কম হলে উক্ত সময়কেও এস্তেহাজা বলে গন্য করবে। অর্থাৎ পুরো তিন দিন-রাত না হলে তা হায়েজ নয়। এমনভাবে দশ দিন-রাত বা ২৪০ ঘন্টার বেশী সময় অতিক্রম করলে ঐ অতিরিক্ত সময়কেও এস্তেহাজা হিসেবে গন্য করবে।

  • দু’হায়েজের মধ্যে পবিত্রতার নিম্নসীমা পনর দিন-রাত অর্থাৎ ৩৬০ঘন্টা এবং এর উর্ধ সীমার কোন ঠিক নেই।
  • মেয়ে লোকের সর্ব প্রথম যে কয় দিন ঋতুস্রাব থাকে সে কয় দিনই তার নিয়মিত ঋতুস্রাব বা হায়েজ বলে গন্য হবে।
  • মেয়েদের প্রতি মাসে চার/পাঁচ/ছয় দিন করে যে ঋতুস্রাব হয় কেবল মাত্র উহাকেই হায়েজ বলে গন্য করবে।
  • হায়েজ বন্ধ হলেই তার উপর নামাজ পড়া ফরজ। এ জন্য হায়েজ শেষে দেরী না করে গোছল করে নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু করবে।
  • অনেক মেয়ে লোকের তিন চার দিন বা ৫/৬ দিনে হায়েজ শেষ হয়ে গেলেও দশ দিন পর্যন্ত নামাজ না পড়ে মহা গোনাহে লিপ্ত হন। খবরদার এরূপ করবেন না।
  • তিন দিন ঋতুস্রাব হয়। কিছু দিন পর এমন মেয়ে লোকের ঋতুস্রাব চার দিন দেখা গেলে হায়েজকাল চার দিন গন্য করবে।

পরের মাসে যদি দশ দিনের কিছু বেশী হয় তবে চার দিন বাদে বাকী ছয় দিনকে এস্তেহাজা গণ্য করবে। এবং ঐ ছয় দিনের নামাজ কাজা করবে। যদি দশ দিনের কম হয় তবে উহাকে ঋতুস্রাব গণ্য করবে। দশ দিনের কম নিয়মিত ঋতুবতী মেয়েদের অবস্থার গননা এ হিসেবে করবে।

  • কোন মেয়ে লোকের হায়েজের নিয়ম ঠিক নেই। যেমনঃ একমাসে চার দিন, পরের মাসে পাঁচ দিন, পর মাসে সাত দিন, তার পর মাসে দশ দিন এরূপ হতে থাকলে এ সকলকে হায়েজ হিসেবে গণ্য করবে। কোন মাসে যদি দশ দিনের বেশী হয় তবে তার আগের মাসে যে কয়দিন ছিল সেই কয়দিনকে হায়েজ গণ্য করে বাকী দিনগুলিকে এস্তেহাজা গণ্য করবে।
  • কোন মেয়েলোকের একটানা কয়েক মাস স্রাব চলতে থাকলে পূর্বের হায়েজে যে কয়দিন ঋতুস্রাব ছিল সে কয়দিন বাদে বাকী দিনগুলিকে এস্তেহাজা বলে গণ্য করবে। যদি প্রথম বারের হায়েজ হতেই একটানা কয়েক মাস চলতে থাকে তবে প্রথম দশ দিন বাদে বাকী সময়কে এস্তেহাজা হি সেবে গণ্য করবে।
  • ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর পনর দিন সুস্থ থাকার আগেই যদি আবার ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে তাকে এস্তেহাজা গণ্য করবে। যদি পনর দিন পর ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে তাকে হায়েজ হিসেবেই গণ্য করবে।
  • কোন মেয়েলোকের দুই তিন বার হায়েজ হওয়ার পর অবিরত স্রাব শুরু হলে যদি তার পূর্বের নিয়ম মনে না থাকে তবে দৃঢ় ধারনা অনুযায়ী হায়েজের সময় ঠিক করে নিয়ে বাকী দিনগুলিকে এস্তেহাজা গণ্য করে নিয়মিত নামাজ পড়বে। নামাজ শুরু করার পনর দিন পর থেকে হায়েজ গণ্য করে তার ধারনা অনুযায়ী হায়েজ পূর্ণ হলে তার পরের দিনগুলিকে এস্তেহাজা মনে করে নিয়মিত নামাজ পড়বে।
  • হায়েজ ব্যতীত অন্য সময় মেয়েদের স্ত্রী অঙ্গ দিয়ে সাদা স্রাব বের হলে তাকে শ্বেতপ্রদর বা ধাতুভাঙ্গা বলে। যদি মিলনের আকাংখার পরে এ বের হয় এবং বের হওয়ার পরে আকাংখা না থাকে তবে গোছল করা ফরজ। আর যদি ইচ্ছা-অনিচ্ছায় বের হয় তবে অজু করার আগে অঙ্গের মধ্যে তুলা দিয়ে অজু করে নামাজ পড়বে বা অন্য ইবাদত বন্দেগী করবে। গোসল করবে না।
মনে রাখুনঃ
  • হায়েজ নেফাছ অবস্থায় নামাজ পড়া ও রোজা রাখা হারাম।
  • নামাজ অবস্থায় ঋতুস্রাব প্রকাশ পেলে নামাজ ছেড়ে দেবে। উক্ত নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না।
  • রোজা অবস্থায় হায়েজ প্রকাশ পেলে রোজা ছেড়ে দেবে। পরে ঐ রোজার কাজা অবশ্যই আদায় করবে।
  • হায়েজ-নেফাছ অবস্থায় স্বামী সহবাস হারাম। কিন্তু একসাথে শোয়া, স্পর্শ ও চুম্বন জায়েজ আছে। তার হাতের রান্না করা এবং তার হাতে খাওয়াও জায়েজ।
  • হায়েজ অবস্থায় কোরআন শরীফ স্পর্শ করা এবং পড়া হারাম। কিন্তু দোয়া ও শেফার নিয়েতে পড়তে পারে। যেমন দোয়া কুনুত, আজানের দোয়া, আলহামদু লিল্লাহ, বিছমিল্লাহ ইত্যাদী।
  • হায়েজ অবস্থায় প্রতি নামাজের সময় অজু করে বসে তাছবীহ তাহলীল করা মুস্তাহাব।
  • হায়েজ নেফাছ হতে পাক হলে গোছল করা ফরজ।
  • হায়েজ দশ দিনে এবং নেফাছ চল্লিশ দিনে শেষ হলে গোছলের পূর্বে সহবাস করা জায়েজ আছে।
  • দশ দিনের পূর্বে হায়েজ এবং চল্লিশ দিনের পূর্বে নেফাছ বন্ধ হলে গোছল করে নামাজ পড়তে পারে এ সময় পর্যন্ত দেরী না করে সহবাস করা হারাম।
  • হায়েজ নেফাছ নিয়মিত সময়ের পূর্বে বন্ধ হলে নিয়মিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে সহবাস করবে না।
  • তিন দিনের পূর্বে হায়েজ হতে পাক হলে গোসল না করে কেবলমাত্র অজু করে নামাজ পড়বে। কারণ এ হায়েজ নয়।
  • এস্তেহাজা বা রক্ত প্রদরের হুকুম সুস্থ লোকের ন্যায়। সুস্থ অবস্থায় যেমন নামাজ, রোজা, এবাদাত বন্দেগী মাফ নেই তেমনি এস্তেহাজার সময়ও সেগুলি মাফ নেই। সেগুলি আদায় করবে।
  • হায়েজ নেফাছ অবস্থায় ছেলে মেয়েদের কোরআন শরীফ পড়াতে হলে এক এক শব্দ উচ্চারণ করে পড়াবে। পুরো আয়াত এক সাথে পাঠ করবে না।
  • এস্তেহাজা অবস্থায় প্রতি নামাজের অজুর পূর্বে অঙ্গের মধ্যে তুলা বা ন্যাকড়া দিয়ে রাখবে, যেন রস, রক্ত, বেরিয়ে না আসে। বেরিয়ে আসলে পুনরায় অজু করতে হবে।
  • মেয়েদের সর্ব প্রথম হায়েজ শুরু হলে ভয়ে ও লজ্জায় মা বা মুরুব্বীদের বলে না । ঠান্ডা পানি ব্যবহার করে ও ঠান্ডা লাগিয়ে রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, পেট ব্যথা হয়। এরপর প্রতি মাসে তা চলতে থাকে। প্রথম হতে সহ্যমত গরম পানি ব্যবহার করলে পেট ব্যথা বা অন্য রোগ পীড়া হয়না। মা-দাদীরা এ ব্যপারে মেয়েদের প্রথম হায়েজের আগে তাদের সতর্ক করে দিলে মানুষিক ব্যাধি ও বাধক ব্যথা হতে মুক্ত থাকবে।

তথ্যসূত্র

  • নামাজ প্রশিক্ষণ (লেখকঃ মাহবুবুর রহমান, প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ, প্রতাপনগর আবূবকর সিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা, সাতক্ষীরা)