এই সুন্নিপিডিয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা ও উন্নয়নে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করুন
বিকাশ নম্বর ০১৯৬০০৮৮২৩৪

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) * কারবালার ইতিহাস * পিস টিভি * মিলাদ * মাযহাব * ইলমে গায়েব * প্রশ্ন করুন

বই ডাউনলোড

হিজরি সনের গুরুত্ব

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
হিজরী সন

  • হিজরি সনের গুরুত্ব

মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী-

লোকেরা আপনাকে নবচন্দ্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আপনি বলুন, তা হলো মানুষের এবং হজের জন্য সময় নির্ধারণকারী।

— সূরা-বাকারা; আয়াত-১৮৯

এ আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, আল্লাহ তা’য়ালা বান্দাদের হিসাব-নিকাশের সুবিধার্থে পঞ্জিকা স্বরূপ চন্দ্রকে সৃষ্টি করেছেন। এজন্য, চন্দ্র মাস তথা হিজরী সনের গুরুত্ব অপরিসীম । মহান আল্লাহ চন্দ্র মাস সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলেন-

আমি রাত ও দিনকে করেছি দুটি নিদর্শন, রাত্রির নিদর্শনকে অপসারিত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকোজ্জ্বল করেছি যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করতে সক্ষম হও এবং রাতে তোমরা বর্ষ-সংখ্যাও হিসাব করতে পার এবং আমি সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করছি।

এ আয়াত থেকে উপলব্ধি করা যায় যে, আল্লাহ তা’য়ালা অনুগ্রহ স্বরূপ তাঁর বান্দাদের সাল গণনা ও অন্যান্য হিসাব-নিকাশের দিন-রাতকে সৃষ্টি করেছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর স্মৃতিচারণ

হিজরি সাল গণনা করা হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ফলে হিজরি সন ব্যবহার ও গণনার ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামও আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর সেই হিজরতের ঘটনা মুসলিম হৃদয়ে বার বার দোলা দেয়।

ইবাদত-বন্দেগী আদায় ইসলামের অধিকাংশ ইবাদত-বন্দেগী যেমন: রোজা, হজ, কোরবানি, শবে-কদর, শবে বরাত, আশুরা ইত্যাদি ইবাদত হিজরি সনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ফলে হিজরী সনের ব্যবহারের মাধ্যমে সঠিক সময়ে ইবাদত বন্দেগী পালন করে; মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন লাভ করা সম্ভব হয়। এজন্য হিজরী সন তথা চন্দ্র মাস গণনাকে ফরযে-কেফায়া হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যদি উম্মতের একজনও এর ব্যবহার না করে তাহলে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ গোনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

খোলাফায়ে রাশেদার অনুকরণ

হিজরি সন হলো হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর শাসন আমলে প্রতিষ্ঠিত একটি সুন্নাত। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার জন্য আদেশ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন-

তোমাদের উচিত আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা।

— মুশকিলুল আসার লিত তহাবী, হাদীস-৯৯৮

মুসলিম ঐতিহ্যের অনুকরণ হিজরী সন গণনা ইসলামী সংস্কৃতির অনুসরণ। এজন্য চন্দ্র মাস হিসেবে হিজরী সন গণনা করা মুসলমানদের জন্য কর্তব্য।

ইহুদী ও নাসারাদের বিরোধিতা

হিজরী সন ইসলামী ঐতিহ্যের বাস্তব নমুনা। যা অন্যান্য জাতির ঐতিহ্য বিরোধিতা করতে শেখায়, শেখায় নিজ ঐতিহ্যকে অনুসরণ, অনুকরণ করতে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামইরশাদ করেন-

সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে অন্যান্য জাতির সাথে সাদৃশ্যতা বজায় রাখে। তোমরা ইহুদী অথবা নাসারাদের সাথে সাদৃশ্য রাখবে না।

— জামে তিরমিযি, হাদীস-২৮৯৫

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ‘চন্দ্র মাস গণনা তথা হিজরি সন গণনা করা আল্লাহর বিধান ও মুসলিম ঐতিহ্য অনুসরণ। কাজেই একজন মুসলমান হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত ইংরেজি সনের পাশাপাশি হিজরিসনের অনুসরণ করা অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র

  • মাসিক তরজুমান (নিবন্ধ লেখকঃ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান)